বিশ্ব শিক্ষক দিবস আজ
নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষকদের অবদানকে সম্মান জানানো এবং পেশাগত অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার লক্ষে গত ২০ বছর যাবৎ শিক্ষক সম্মাননা দিয়ে আসছে কুমিল্লা গণিত ক্লাব। এবারও কুমিল্লা গণিত ক্লাব প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ১০জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দিচ্ছে। আজ সোমবার সন্ধ্যায় ঘটা করে ওই সংবর্ধনা দেওয়া হবে। প্রতি বছর ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন করা হয়।
এ বছর বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য হলো- শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশা সুরক্ষার ৬০ বছর, মর্যাদা উন্নত করা এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।
কুমিল্লা গণিত ক্লাবের সমন্বয়ক গাজীউল হক সোহাগ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সঙ্গে কাজ করেছি। এরপর ২০০৭ সালের ১৩ জুলাই কুমিল্লা গণিত ক্লাব প্রতিষ্ঠা হয়। প্রয়াত অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান, অধ্যাপক কুন্ডু গোপীদাস ও অধ্যাপক ড. মো. আবু জাফর খান কুমিল্লা গণিত ক্লাবের সভাপতি ছিলেন। তাঁরা প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। গণিতের শিক্ষক প্রয়াত আবুল খায়ের ছিলেন সাধারণ সম্পাদক। ২০০৭ সাল থেকেই গণিত ক্লাব বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষকদের সম্মাননা দিয়ে আসছে। প্রতিবছর ৫ অক্টোবর দিবসটি পালন করা হয়। গণিত ক্লাব গণিত কর্মশালা করে। উপজেলা পর্যায়ে গণিত অলিম্পিয়াড করেছে। শিক্ষার্থীদের গণিতভীতি দূর করতে কাজ করে যাচ্ছে। ২০০৭ সালে সারাদেশের শ্রেষ্ঠ গণিত ক্লাবের পুরস্কার পায় কুমিল্লা গণিত ক্লাব। প্রয়াত অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী ওই পুরস্কার তুলে দেন।
তিনি বলেন, শিক্ষক সম্মাননা প্রতি বছর দেওয়া হয়। মূলত শিক্ষকদের সম্মান জানানোর জন্য এ উদ্যোগ। এর আগে মাদ্রাসা, কারিগরি, প্রাইভেট ও বেসরকারি স্কুল কলেজের শিক্ষকেরা এ সম্মাননা পেয়েছেন। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
জানা গেছে, ১৯৬৬ সালের শিক্ষকগণের মর্যাদা সংক্রান্ত ইউনেস্কো ও আইএলও-এর বিশেষ সুপারিশ গ্রহণের দিনটিকে স্মরণ করতে ১৯৯৪ সাল থেকে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস আসার পেছনে রয়েছে শিক্ষকদের অধিকার ও পেশাগত মর্যাদার এক দীর্ঘ আন্তর্জাতিক লড়াইয়ের ইতিহাস। শিক্ষকদের সম্মান জানাতে এবং তাদের কর্মপরিবেশ উন্নত করার লক্ষ্যে প্রতি বছর ৫ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে এই দিবসটি পালিত হয়।
শিক্ষক দিবস যেভাবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করল, তার প্রধান ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ঐতিহাসিক সুপারিশমালা: ১৯৬৬ সালের ৫ অক্টোবর ফ্রান্সের প্যারিসে একটি বিশেষ আন্তঃসরকার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (UNESCO) এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) যৌথভাবে শিক্ষকদের অধিকার, দায়িত্ব এবং কর্মপরিবেশ সংক্রান্ত একটি ঐতিহাসিক গাইডলাইন বা "শিক্ষকদের মর্যাদা সংক্রান্ত সুপারিশমালা" (Recommendation concerning the Status of Teachers) গ্রহণ করে। এতে বিশ্বব্যাপী শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, নিয়োগ এবং সুযোগ-সুবিধার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়।
১৯৯৪ সালে ইউনেস্কোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা: ১৯৬৬ সালের সেই ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং শিক্ষকদের অবদানকে বিশ্বমঞ্চে স্বীকৃতি দিতে ১৯৯৪ সালে ইউনেস্কো (UNESCO) ৫ অক্টোবরকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এর পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯৫ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী ১০০টিরও বেশি দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দিবসটি পালন করা শুরু হয়।
বিভিন্ন দেশে ভিন্ন তারিখের ইতিহাস: বিশ্ব শিক্ষক দিবস ৫ অক্টোবর হলেও, অনেক দেশে স্থানীয় ইতিহাস বা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অবদান অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন তারিখে শিক্ষক দিবস পালন করা হয়। যেমন: ভারত: ভারতে প্রতি বছর ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস পালিত হয়। দেশটির বিখ্যাত শিক্ষক, দার্শনিক ও দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ-এর জন্মদিনকে সম্মান জানাতে ১৯৬২ সাল থেকে এই দিনে শিক্ষক দিবস পালনের রেওয়াজ শুরু হয়। বাংলাদেশ: বাংলাদেশে আগে ১৯ জানুয়ারি জাতীয় শিক্ষক দিবস পালিত হলেও, ২০২৩ সাল থেকে বিশ্ব শিক্ষক দিবসের সাথে মিল রেখে ৫ অক্টোবর জাতীয়ভাবে শিক্ষক দিবস উদযাপন করা হচ্ছে। তুরস্ক: দেশটির প্রথম রাষ্ট্রপতি মুস্তফা কামাল আতাতুর্ককে 'প্রধান শিক্ষক' উপাধি দেওয়ার স্মরণে সেখানে ২৪ নভেম্বর শিক্ষক দিবস পালন করা হয়।
বিশ্বের শিক্ষা ও প্রগতির মূল কারিগর শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, তাদের পেশাগত অধিকার রক্ষা এবং নতুন সংকটের সমাধান খোঁজার লক্ষ্যেই এই দিবসটি প্রতি বছর বিশেষ গুরুত্বের সাথে পালিত হয়ে আসছে।

শিক্ষকদের অবদানকে সম্মান জানানো এবং পেশাগত অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার লক্ষে গত ২০ বছর যাবৎ শিক্ষক সম্মাননা দিয়ে আসছে কুমিল্লা গণিত ক্লাব। এবারও কুমিল্লা গণিত ক্লাব প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ১০জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দিচ্ছে। আজ সোমবার সন্ধ্যায় ঘটা করে ওই সংবর্ধনা দেওয়া হবে। প্রতি বছর ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন করা হয়।
এ বছর বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য হলো- শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশা সুরক্ষার ৬০ বছর, মর্যাদা উন্নত করা এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।
কুমিল্লা গণিত ক্লাবের সমন্বয়ক গাজীউল হক সোহাগ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সঙ্গে কাজ করেছি। এরপর ২০০৭ সালের ১৩ জুলাই কুমিল্লা গণিত ক্লাব প্রতিষ্ঠা হয়। প্রয়াত অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান, অধ্যাপক কুন্ডু গোপীদাস ও অধ্যাপক ড. মো. আবু জাফর খান কুমিল্লা গণিত ক্লাবের সভাপতি ছিলেন। তাঁরা প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। গণিতের শিক্ষক প্রয়াত আবুল খায়ের ছিলেন সাধারণ সম্পাদক। ২০০৭ সাল থেকেই গণিত ক্লাব বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষকদের সম্মাননা দিয়ে আসছে। প্রতিবছর ৫ অক্টোবর দিবসটি পালন করা হয়। গণিত ক্লাব গণিত কর্মশালা করে। উপজেলা পর্যায়ে গণিত অলিম্পিয়াড করেছে। শিক্ষার্থীদের গণিতভীতি দূর করতে কাজ করে যাচ্ছে। ২০০৭ সালে সারাদেশের শ্রেষ্ঠ গণিত ক্লাবের পুরস্কার পায় কুমিল্লা গণিত ক্লাব। প্রয়াত অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী ওই পুরস্কার তুলে দেন।
তিনি বলেন, শিক্ষক সম্মাননা প্রতি বছর দেওয়া হয়। মূলত শিক্ষকদের সম্মান জানানোর জন্য এ উদ্যোগ। এর আগে মাদ্রাসা, কারিগরি, প্রাইভেট ও বেসরকারি স্কুল কলেজের শিক্ষকেরা এ সম্মাননা পেয়েছেন। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
জানা গেছে, ১৯৬৬ সালের শিক্ষকগণের মর্যাদা সংক্রান্ত ইউনেস্কো ও আইএলও-এর বিশেষ সুপারিশ গ্রহণের দিনটিকে স্মরণ করতে ১৯৯৪ সাল থেকে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস আসার পেছনে রয়েছে শিক্ষকদের অধিকার ও পেশাগত মর্যাদার এক দীর্ঘ আন্তর্জাতিক লড়াইয়ের ইতিহাস। শিক্ষকদের সম্মান জানাতে এবং তাদের কর্মপরিবেশ উন্নত করার লক্ষ্যে প্রতি বছর ৫ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে এই দিবসটি পালিত হয়।
শিক্ষক দিবস যেভাবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করল, তার প্রধান ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ঐতিহাসিক সুপারিশমালা: ১৯৬৬ সালের ৫ অক্টোবর ফ্রান্সের প্যারিসে একটি বিশেষ আন্তঃসরকার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (UNESCO) এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) যৌথভাবে শিক্ষকদের অধিকার, দায়িত্ব এবং কর্মপরিবেশ সংক্রান্ত একটি ঐতিহাসিক গাইডলাইন বা "শিক্ষকদের মর্যাদা সংক্রান্ত সুপারিশমালা" (Recommendation concerning the Status of Teachers) গ্রহণ করে। এতে বিশ্বব্যাপী শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, নিয়োগ এবং সুযোগ-সুবিধার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়।
১৯৯৪ সালে ইউনেস্কোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা: ১৯৬৬ সালের সেই ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং শিক্ষকদের অবদানকে বিশ্বমঞ্চে স্বীকৃতি দিতে ১৯৯৪ সালে ইউনেস্কো (UNESCO) ৫ অক্টোবরকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এর পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯৫ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী ১০০টিরও বেশি দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দিবসটি পালন করা শুরু হয়।
বিভিন্ন দেশে ভিন্ন তারিখের ইতিহাস: বিশ্ব শিক্ষক দিবস ৫ অক্টোবর হলেও, অনেক দেশে স্থানীয় ইতিহাস বা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অবদান অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন তারিখে শিক্ষক দিবস পালন করা হয়। যেমন: ভারত: ভারতে প্রতি বছর ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস পালিত হয়। দেশটির বিখ্যাত শিক্ষক, দার্শনিক ও দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ-এর জন্মদিনকে সম্মান জানাতে ১৯৬২ সাল থেকে এই দিনে শিক্ষক দিবস পালনের রেওয়াজ শুরু হয়। বাংলাদেশ: বাংলাদেশে আগে ১৯ জানুয়ারি জাতীয় শিক্ষক দিবস পালিত হলেও, ২০২৩ সাল থেকে বিশ্ব শিক্ষক দিবসের সাথে মিল রেখে ৫ অক্টোবর জাতীয়ভাবে শিক্ষক দিবস উদযাপন করা হচ্ছে। তুরস্ক: দেশটির প্রথম রাষ্ট্রপতি মুস্তফা কামাল আতাতুর্ককে 'প্রধান শিক্ষক' উপাধি দেওয়ার স্মরণে সেখানে ২৪ নভেম্বর শিক্ষক দিবস পালন করা হয়।
বিশ্বের শিক্ষা ও প্রগতির মূল কারিগর শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, তাদের পেশাগত অধিকার রক্ষা এবং নতুন সংকটের সমাধান খোঁজার লক্ষ্যেই এই দিবসটি প্রতি বছর বিশেষ গুরুত্বের সাথে পালিত হয়ে আসছে।