ফিফা বিশ্বকাপ

মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

আমার শহর স্পোর্টস ডেস্ক
Thumbnail image

পরিষ্কার ফেভারিট তকমা নিয়েই কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামে ফ্রান্স। ম্যাচেও সেটির প্রভাব ছিল স্পষ্ট। তারকাসমৃদ্ধ দলটির বিপক্ষে তেমন কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি আফকন চ্যাম্পিয়নরা। দারুণ জয়ে চলতি বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত করল দিদিয়ের দেশমের দল।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ‍যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন স্টেডিয়ামে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স। দুটি গোলই হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধে। ৬০ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপের গোলের ৬ মিনিট পর লিড দ্বিগুণ করেন উসমান দেম্বেলে। 

এবারের বিশ্বকাপে এ নিয়ে লিওনেল মেসির সমান আট গোলের দেখা পেলেন এমবাপে। বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ২০ গোল নিয়ে দুইয়ে তিনি। এক গোল নিয়ে তাঁর উপরে আছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। আর এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত পাঁচটি গোল পেলেন দেম্বেলে। 

এর আগে কাতার বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে এই মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়েই ফাইনালে উঠেছিল ফরাসিরা। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে সেই হারের শোধ নিতে পারেনি আফ্রিকার জায়ন্টরা। উল্টো আরও একবার ফ্রান্সের কাছে হেরে শেষ আটেই স্বপ্নভঙ হলো আটলাস লায়ন্সদের।

এদিন ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই প্রায় জাল খুঁজে নিচ্ছিলেন এমবাপে। তবে এ যাত্রায় প্রথমবার মরক্কো গোলকিপার ডানদিকে ঝাপিয়ে ফ্রান্স ফরোয়ার্ডের নিচু শট কর্নার করে দেন; সেই কর্নার থেকে দায়ো উপমেকানোর হেডে আরও একবার নিশ্চিতপ্রায় গোল ঠেকিয়ে দেন ইয়াসিন বোনু। 

১৮ মিনিটে দেম্বেলের হেডে বল চলে যায় পোস্টের উপরে দিয়ে। ২৫ মিনিটে বাম পাশ ধরে এমবাপে প্রতি আক্রমণে ওঠেন, বক্সে তাঁকে ফেলে দেন মরক্কোর ডিফেন্ডার সালাহ এদদিন, সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু স্পট কিকে পোস্টের ডান দিকের নিচের কোনা দিয়ে নেওয়া এমবাপের শট ঝাপিয়ে আটকে দেন বোনু।

এই গোল সেভ করার মধ্য দিয়ে একটি রেকর্ডও গড়লেন মরোক্কর গোলকিপার বোনু। বিশ্বকাপে তিনি মোট ৪টি পেনাল্টি শট ঠেকিয়েছেন, ১৯৬৬ সালের পর যা সর্বোচ্চ। 

৩৫ মিনিটে মাঝ মাঠে বুয়াদ্দির কাছ থেকে বল কেড়ে নেন দুয়ে, এরপর কয়েকজনকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে দারুণ শট নেন, কিন্তু মরক্কোর গোলকিপার অবিশ্বাস্যভাবে আরও একবার ফ্রান্সকে গোলবঞ্চিত রাখেন। 

এই অর্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ফ্রান্স ডিফেন্ডার লুকাস দিগনের দূরপাল্লার গতিময় শট ক্রসবারে লেগে বাইরে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য থেকে বিরতিতে যায় দুই দল। তবে শেষ দিকে বল পজিশন ফ্রান্সের চেয়ে বেশি ছিল মরক্কোর। যদিও তারা পরিষ্কার কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি প্রথম ৪৫ মিনিটে। 

তবে দ্বিতীয়ার্ধে জ্বলে ওঠে ফ্রান্স। ৬০ মিনিটে দুর্দান্ত এক কার্লিং শটে দলকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে নিজেই। বক্সের বাঁ কোণ থেকে বল নিয়ে ভেতরে ঢুকে ডান দিকের কোণে বল পাঠান তিনি। বুনো চেষ্টা করেও নাগাল পাননি।

এই গোলের পরপরই আসে দ্বিতীয় গোল। ৬৬ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে অনেকটা পথ একা এগিয়ে যান দেম্বেলে। শেষে বক্সের কাছ থেকে নিচু শটে গোল করেন তিনি। বুনো হাত ছোঁয়ালেও বল ঠেকাতে পারেননি।

এই দুই গোলের পরই মূলত ম্যাচের ফলাফল ঠিক হয়ে যায়। এরপর আর ম্যাচে ফেরার তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি মরক্কো। শেষ দিকে কিছু আক্রমণ করলেও তা কাজে আসেনি।

ম্যাচের শেষদিকে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন এমবাপ্পে। তবে তেমন গুরুতর সমস্যা মনে হয়নি, সতর্কতা হিসেবেই তাকে তুলে নেওয়া হয়।

এই জয়ে সেমিফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ হবে স্পেন অথবা বেলজিয়াম। আগামী মঙ্গলবার আর্লিংটনে হবে সেই ম্যাচ।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত