ফিফা বিশ্বকাপ
আমার শহর স্পোর্টস ডেস্ক

২০১৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এই ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরেই বিদায় নিতে হয়েছিল ইংল্যান্ডকে। তবে আজ সেটার পুনরাবৃত্তি করতে পারল না ক্রোয়াটরা। লুকা মদরিচের দলের বিপক্ষে দাপট দেখাল ইংলিশরা। ডালাসে গোল উৎসবের ম্যাচে ৪-২ ব্যবধানে জিতল হ্যারি কেইনের দল।
বিশ্বকাপে মোট ১০ গোল করে কিংবদন্তিদের পাশে নাম লিখিয়েছেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন।
গতকাল বুধবার রাতে বিশ্বকাপের ‘এল’ গ্রুপের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধে দুই দলই ছিল ২-২ সমতায়। পরের অর্ধে আরও দুই গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে হতাশায় ডুবায় থ্রি লায়ন্সরা।
গোটা ম্যাচেই ইংল্যান্ড নান্দনিক ফুটবল উপহার দিয়েছে। জোড়া গোল করেছেন কেইন। একবার করে জালের দেখা পেয়েছেন জুড বেলিংহাম ও মার্কাস রাশফোর্ড। ক্রোয়েশিয়ার হয়ে দুটি গোল শোধ দেন মার্তিন বাতুরিনা ও পিটার মুসা।
দ্বিতীয়ার্ধে থ্রি লায়ন্সদের আক্রমণের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে একাধিক নিশ্চিত গোল ঠেকিয়েছেন ম্যাচে চার গোল হজম করা ক্রোশিয়ান গোলকিপার ডমিনিক লিভাকোভিচ। ম্যাচে সাতটি সেভ করেছেন তিনি। তারপরও পরাজিত দলেই নাম উঠেছে তাঁর।
যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে এদিন ম্যাচের নবম মিনিটে নিজেদের বক্সে মাদুয়েকে ফাউল করেন লুকা মডরিচ। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিকে হ্যারি কেইনকে বা দিকে ঝাপিয়ে আটকেও দেন ক্রোয়েশিয়ান গোলকিপার ডমিনিক লিভাকোভিচ। যদিও ইংলিশ স্ট্রাইকার শট নেওয়ার আগে বক্সে ঢুকে পড়েন ক্রোয়েশিয়ান ডিফেন্ডার ভার্দিওল। যে কারণে আরেকবার পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। দ্বিতীয়বার পেনাল্টি নিতে এসে একই দিকে নেওয়া শটে লক্ষ্যভেদ করেন কেইন।
১৫ মিনিটে বক্সে ভালো জায়গায় বল পেয়ে যান ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডান ইভান পেরেসিচ। তবে শট নেওয়ার আগে তাঁকে অস্বস্তিতে রাখেন রিস জেমস। এরপর দৌড়ে এসে টোকায় বল ক্লিয়ার করেন বেলিংহাম। রক্ষণ সামলোনোর খানিক পর মধ্যমাঠ দিয়ে আক্রমণে ওঠেন ইংলিশ মিডফিল্ডার, তবে প্রতিপক্ষের বিপদসীমায় ঢুকেও শট নিতে পারেননি তিনি।
পিছিয়ে পড়ে গোল শোধ দিতে মরিয়া হয়ে ওঠে ক্রোয়েশিয়া। তবে দলটির বেশিরভাগ আক্রমণ ইংল্যান্ডের রক্ষণদেয়াল টপকাতে পারেনি। ৩২ মিনিটে ডান দিক দিয়ে উপরে ওঠেন মাদুয়েকে। তবে এই উইঙ্গারের ক্রসে শট নিতে গিয়ে মাটিতে পড়ে যান বেলিংহাম। লিড দ্বিগুণের ভালো সুযোগ হারায় ইংল্যান্ড।
৩৬ মিনিটে কয়েকজনকে কাটিয়ে আক্রমণে উঠে পিটার সুচিচকে বল বাড়ান মার্তিন বাতুরিনা। বক্সে থেকে ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার শট না নিয়ে কাটব্যাক দেন বাতুরিনাকেই। এরপর দারুণ এক গতিময় শটে গোলকিপার পিকফোর্ডের মাথার উপর দিয়ে জালে বল জড়ান বাতুরিনা। ফিস্ট করার চেষ্টা করেও বল রুখতে পারেননি এভারটনে খেলা ৩২ বছর বয়সি ইংলিশ গোলকিপার।
সমতায় ফেরার আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি ক্রোয়েশিযার। ৬ মিনিট পর কর্নার থেকে দারুণ হেডে বল জালে জড়ান কেইন। তাতে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে গ্যারি লিনেকারের ১০ গোলের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেন তিনি। ম্যাচে তাঁর জোড়া গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধের বিরতিতে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিল ইংল্যান্ড।
তবে আরও একবার পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফেরে ক্রোয়াটরা। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে মারিও পাসালিচের বাড়ানো লং বলে ব্যাক হেড নেন পেরেসিচ। সেখান থেকে সাইড ভলিতে গোলকিপার পিকফোর্ডকে পরাস্ত করেন পিটার মুসা। ২-২ গোলের সমতায় বিরতি যায় দুই দল।
কিক অফের পর থেকে উত্তাপ ছড়ানো ম্যাচের রোমাঞ্চের ডালপালা মেলে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই। ম্যাচে তৃতীয়বারের মতো লিড নেয় ইংল্যান্ড। ৪৭ মিনিটে আক্রমণের সুর বেধে দেন ডেকলান রাইস। সেই বল ধরে ডান প্রান্ত দিয়ে উঠে গোলে আড়াআড়ি শট নেন বেলিংহাম। দূরের পোস্টে লেগে জাল খুঁজে নেয় বল।
৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পরের মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়াতে পারত ইংল্যান্ড। কিন্তু তাদের দুটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। প্রথমে বেলিংহামের শট কর্নার করে দেন গোলকিপার। পরে কর্নার থেকে নিকো ও’রাইলির হেড কাঁপায় পাশের জাল।
ক্রোয়েশিয়ান গোলকিপার লিভাকোভিচ দারুণ সেভে আরও একবার বাাঁচান দলকে। ৫২ মিনিটে রাইসের দূরপাল্লার জোড়ালো শট ফিস্ট করে কর্নার করে দেন ফেনারব্যাচের এই গোলকিপার।
৫৫ মিনিটে পরপর দুটি সেভ করেন লিভাকোভিচ। কর্নার থেকে আসা বলে প্রথমে নিকো ও’রাইলির হেড ফিরিয়ে দেন, ফিরতি বলে অ্যান্থনি গর্ডনের হেডও রুখে দেন। দুই মিনিট পর অবিশ্বাস্যভাবে কেইনের আরও একটি নিচু ও গতিময় শট আটকে দেন তিনি।
৮৫ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে বুকায়ো সাকার নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে বক্সে ডিফেন্ডারকে বোকা বানান রাশফোর্ড। এরপর লিভাকোভিচকে পরাস্ত করে তার নেওয়া বাঁকানো শটটি যখন জাল ছুঁল, ক্রোয়েশিয়ার ফেরার সব পথও তখন বন্ধ হয়ে গেল। শেষ পর্যন্ত ৪-২ ব্যবধানে হেরেই মাঠ ছাড়ে ২০১৮ বিশ্বকাপের ফাইনালিস্টরা।
ম্যাচে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান ক্রোয়েশিয়া গোলকিপার লিভাকোভিচ। নয়তো ইংল্যান্ড আরো বড় ব্যবধানে জিততে পারত।

২০১৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এই ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরেই বিদায় নিতে হয়েছিল ইংল্যান্ডকে। তবে আজ সেটার পুনরাবৃত্তি করতে পারল না ক্রোয়াটরা। লুকা মদরিচের দলের বিপক্ষে দাপট দেখাল ইংলিশরা। ডালাসে গোল উৎসবের ম্যাচে ৪-২ ব্যবধানে জিতল হ্যারি কেইনের দল।
বিশ্বকাপে মোট ১০ গোল করে কিংবদন্তিদের পাশে নাম লিখিয়েছেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন।
গতকাল বুধবার রাতে বিশ্বকাপের ‘এল’ গ্রুপের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধে দুই দলই ছিল ২-২ সমতায়। পরের অর্ধে আরও দুই গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে হতাশায় ডুবায় থ্রি লায়ন্সরা।
গোটা ম্যাচেই ইংল্যান্ড নান্দনিক ফুটবল উপহার দিয়েছে। জোড়া গোল করেছেন কেইন। একবার করে জালের দেখা পেয়েছেন জুড বেলিংহাম ও মার্কাস রাশফোর্ড। ক্রোয়েশিয়ার হয়ে দুটি গোল শোধ দেন মার্তিন বাতুরিনা ও পিটার মুসা।
দ্বিতীয়ার্ধে থ্রি লায়ন্সদের আক্রমণের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে একাধিক নিশ্চিত গোল ঠেকিয়েছেন ম্যাচে চার গোল হজম করা ক্রোশিয়ান গোলকিপার ডমিনিক লিভাকোভিচ। ম্যাচে সাতটি সেভ করেছেন তিনি। তারপরও পরাজিত দলেই নাম উঠেছে তাঁর।
যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে এদিন ম্যাচের নবম মিনিটে নিজেদের বক্সে মাদুয়েকে ফাউল করেন লুকা মডরিচ। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিকে হ্যারি কেইনকে বা দিকে ঝাপিয়ে আটকেও দেন ক্রোয়েশিয়ান গোলকিপার ডমিনিক লিভাকোভিচ। যদিও ইংলিশ স্ট্রাইকার শট নেওয়ার আগে বক্সে ঢুকে পড়েন ক্রোয়েশিয়ান ডিফেন্ডার ভার্দিওল। যে কারণে আরেকবার পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। দ্বিতীয়বার পেনাল্টি নিতে এসে একই দিকে নেওয়া শটে লক্ষ্যভেদ করেন কেইন।
১৫ মিনিটে বক্সে ভালো জায়গায় বল পেয়ে যান ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডান ইভান পেরেসিচ। তবে শট নেওয়ার আগে তাঁকে অস্বস্তিতে রাখেন রিস জেমস। এরপর দৌড়ে এসে টোকায় বল ক্লিয়ার করেন বেলিংহাম। রক্ষণ সামলোনোর খানিক পর মধ্যমাঠ দিয়ে আক্রমণে ওঠেন ইংলিশ মিডফিল্ডার, তবে প্রতিপক্ষের বিপদসীমায় ঢুকেও শট নিতে পারেননি তিনি।
পিছিয়ে পড়ে গোল শোধ দিতে মরিয়া হয়ে ওঠে ক্রোয়েশিয়া। তবে দলটির বেশিরভাগ আক্রমণ ইংল্যান্ডের রক্ষণদেয়াল টপকাতে পারেনি। ৩২ মিনিটে ডান দিক দিয়ে উপরে ওঠেন মাদুয়েকে। তবে এই উইঙ্গারের ক্রসে শট নিতে গিয়ে মাটিতে পড়ে যান বেলিংহাম। লিড দ্বিগুণের ভালো সুযোগ হারায় ইংল্যান্ড।
৩৬ মিনিটে কয়েকজনকে কাটিয়ে আক্রমণে উঠে পিটার সুচিচকে বল বাড়ান মার্তিন বাতুরিনা। বক্সে থেকে ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার শট না নিয়ে কাটব্যাক দেন বাতুরিনাকেই। এরপর দারুণ এক গতিময় শটে গোলকিপার পিকফোর্ডের মাথার উপর দিয়ে জালে বল জড়ান বাতুরিনা। ফিস্ট করার চেষ্টা করেও বল রুখতে পারেননি এভারটনে খেলা ৩২ বছর বয়সি ইংলিশ গোলকিপার।
সমতায় ফেরার আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি ক্রোয়েশিযার। ৬ মিনিট পর কর্নার থেকে দারুণ হেডে বল জালে জড়ান কেইন। তাতে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে গ্যারি লিনেকারের ১০ গোলের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেন তিনি। ম্যাচে তাঁর জোড়া গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধের বিরতিতে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিল ইংল্যান্ড।
তবে আরও একবার পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফেরে ক্রোয়াটরা। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে মারিও পাসালিচের বাড়ানো লং বলে ব্যাক হেড নেন পেরেসিচ। সেখান থেকে সাইড ভলিতে গোলকিপার পিকফোর্ডকে পরাস্ত করেন পিটার মুসা। ২-২ গোলের সমতায় বিরতি যায় দুই দল।
কিক অফের পর থেকে উত্তাপ ছড়ানো ম্যাচের রোমাঞ্চের ডালপালা মেলে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই। ম্যাচে তৃতীয়বারের মতো লিড নেয় ইংল্যান্ড। ৪৭ মিনিটে আক্রমণের সুর বেধে দেন ডেকলান রাইস। সেই বল ধরে ডান প্রান্ত দিয়ে উঠে গোলে আড়াআড়ি শট নেন বেলিংহাম। দূরের পোস্টে লেগে জাল খুঁজে নেয় বল।
৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পরের মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়াতে পারত ইংল্যান্ড। কিন্তু তাদের দুটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। প্রথমে বেলিংহামের শট কর্নার করে দেন গোলকিপার। পরে কর্নার থেকে নিকো ও’রাইলির হেড কাঁপায় পাশের জাল।
ক্রোয়েশিয়ান গোলকিপার লিভাকোভিচ দারুণ সেভে আরও একবার বাাঁচান দলকে। ৫২ মিনিটে রাইসের দূরপাল্লার জোড়ালো শট ফিস্ট করে কর্নার করে দেন ফেনারব্যাচের এই গোলকিপার।
৫৫ মিনিটে পরপর দুটি সেভ করেন লিভাকোভিচ। কর্নার থেকে আসা বলে প্রথমে নিকো ও’রাইলির হেড ফিরিয়ে দেন, ফিরতি বলে অ্যান্থনি গর্ডনের হেডও রুখে দেন। দুই মিনিট পর অবিশ্বাস্যভাবে কেইনের আরও একটি নিচু ও গতিময় শট আটকে দেন তিনি।
৮৫ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে বুকায়ো সাকার নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে বক্সে ডিফেন্ডারকে বোকা বানান রাশফোর্ড। এরপর লিভাকোভিচকে পরাস্ত করে তার নেওয়া বাঁকানো শটটি যখন জাল ছুঁল, ক্রোয়েশিয়ার ফেরার সব পথও তখন বন্ধ হয়ে গেল। শেষ পর্যন্ত ৪-২ ব্যবধানে হেরেই মাঠ ছাড়ে ২০১৮ বিশ্বকাপের ফাইনালিস্টরা।
ম্যাচে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান ক্রোয়েশিয়া গোলকিপার লিভাকোভিচ। নয়তো ইংল্যান্ড আরো বড় ব্যবধানে জিততে পারত।