আমার শহর আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিজিটাল বাণিজ্য থেকে শুরু করে অবৈধ বন উজাড়ের মতো একাধিক বিষয়ে ব্রাজিলের বাণিজ্য নীতিকে ‘অন্যায্য’ আখ্যা দিয়ে দেশটির বিভিন্ন পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ নতুন শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার মার্কিন শীর্ষ বাণিজ্য কর্মকর্তা জেমিশন গ্রির এই তথ্য নিশ্চিত করেন। খবর রয়টার্সের।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) জানিয়েছে, ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ৩০১’-এর আওতায় গত বছর থেকে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া একটি তদন্তের ফলাফল প্রকাশের পর এই নতুন শুল্কের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের আওতায় ইলেকট্রনিক পেমেন্ট পরিষেবা, অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি সুরক্ষা এবং ইথানল বাজারের মতো ক্ষেত্রগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ইউএসটিআর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তদন্তের আওতাধীন ক্ষেত্রগুলোতে ব্রাজিলের বর্তমান নীতি ও কর্মকাÐ অযৌক্তিক এবং তা মার্কিন বাণিজ্যের ওপর বাড়তি চাপ বা বাধা সৃষ্টি করছে, যা সেকশন ৩০১(বি) অনুযায়ী আইনত শাস্তিযোগ্য।
বাণিজ্য কর্মকর্তা জেমিশন গ্রির বলেন, ব্রাজিলের কিছু নির্দিষ্ট বাণিজ্য নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ও ব্যাপক উদ্বেগ নিরসনের লক্ষ্যেই তিনি এই ‘সেকশন ৩০১’ তদন্ত শুরু করেছিলেন। ব্রাজিলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইগনাসিও লুলা দা সিলভা এবং তার মন্ত্রিসভার সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনা হলেও, তদন্তে চিহ্নিত সমস্যাগুলোর সমাধানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের মধ্যে এখনও ‘বড় ধরনের মতপার্থক্য’ রয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রস্তাবিত এই ২৫ শতাংশ শুল্ক মূলত গত বছর ট্রাম্পের জারি করা ৫০ শতাংশ শুল্কের আংশিক স্থলাভিষিক্ত হবে।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোকে বিচারের মুখোমুখি করার শাস্তি হিসেবে গত বছর ব্রাজিলীয় পণ্যের ওপর ৪০ শতাংশ শুল্কসহ মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ওই শুল্ক বাতিল করে দেয়। ব্রাজিলের অনেক পণ্যের ওপর এই শুল্কের প্রস্তাব করা হলেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদানকে এর বাইরে রাখা হয়েছে।
ইউএসটিআরের তালিকা অনুযায়ী, গরুর মাংস, কফি, রেয়ার আর্থ, অন্যান্য ধাতু ও বিমানের যন্ত্রাংশ এই নতুন শুল্কের আওতাভুক্ত হবে না। এছাড়া ফলমূল, বাদাম, অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, ওষুধ তৈরির রাসায়নিক যৌগ, জৈব রাসায়নিক ও সারও এই শাস্তিমূলক শুল্কের বাইরে থাকবে।
পাশাপাশি, ১৯৬২ সালের ট্রেড এক্সপ্যানশন অ্যাক্টের ‘সেকশন ২৩২’ (জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত শুল্ক)-এর আওতাধীন পণ্যগুলো এই নতুন ২৫ শতাংশ শুল্কের মধ্যে পড়বে না। এর আগে থেকেই ব্রাজিলের ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার ওপর ৫০ শতাংশ এবং মোটরযান ও যন্ত্রাংশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর রয়েছে। প্রস্তাবিত এই শুল্কের বিষয়ে আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত মতামত জানাতে পারবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ও আগামী ৬ জুলাই এই বিষয়ে একটি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এই তদন্তের বিপরীতে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইউএসটিআরের সামনে আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত সময় রয়েছে।ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে চীনের পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপের জন্যও এই একই আইন ব্যবহার করেছিলেন।
বর্তমানে চীনের অতিরিক্ত শিল্প উৎপাদন ক্ষমতা এবং ৬০টি দেশে জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধকরণের বিষয় নিয়েও ইউএসটিআরের একাধিক তদন্ত চলছে। এছাড়া গত শুক্রবার ভিয়েতনামের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি নীতি নিয়েও নতুন একটি তদন্ত শুরু করেছে সংস্থাটি।

ডিজিটাল বাণিজ্য থেকে শুরু করে অবৈধ বন উজাড়ের মতো একাধিক বিষয়ে ব্রাজিলের বাণিজ্য নীতিকে ‘অন্যায্য’ আখ্যা দিয়ে দেশটির বিভিন্ন পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ নতুন শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার মার্কিন শীর্ষ বাণিজ্য কর্মকর্তা জেমিশন গ্রির এই তথ্য নিশ্চিত করেন। খবর রয়টার্সের।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) জানিয়েছে, ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ৩০১’-এর আওতায় গত বছর থেকে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া একটি তদন্তের ফলাফল প্রকাশের পর এই নতুন শুল্কের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের আওতায় ইলেকট্রনিক পেমেন্ট পরিষেবা, অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি সুরক্ষা এবং ইথানল বাজারের মতো ক্ষেত্রগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ইউএসটিআর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তদন্তের আওতাধীন ক্ষেত্রগুলোতে ব্রাজিলের বর্তমান নীতি ও কর্মকাÐ অযৌক্তিক এবং তা মার্কিন বাণিজ্যের ওপর বাড়তি চাপ বা বাধা সৃষ্টি করছে, যা সেকশন ৩০১(বি) অনুযায়ী আইনত শাস্তিযোগ্য।
বাণিজ্য কর্মকর্তা জেমিশন গ্রির বলেন, ব্রাজিলের কিছু নির্দিষ্ট বাণিজ্য নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ও ব্যাপক উদ্বেগ নিরসনের লক্ষ্যেই তিনি এই ‘সেকশন ৩০১’ তদন্ত শুরু করেছিলেন। ব্রাজিলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইগনাসিও লুলা দা সিলভা এবং তার মন্ত্রিসভার সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনা হলেও, তদন্তে চিহ্নিত সমস্যাগুলোর সমাধানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের মধ্যে এখনও ‘বড় ধরনের মতপার্থক্য’ রয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রস্তাবিত এই ২৫ শতাংশ শুল্ক মূলত গত বছর ট্রাম্পের জারি করা ৫০ শতাংশ শুল্কের আংশিক স্থলাভিষিক্ত হবে।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোকে বিচারের মুখোমুখি করার শাস্তি হিসেবে গত বছর ব্রাজিলীয় পণ্যের ওপর ৪০ শতাংশ শুল্কসহ মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ওই শুল্ক বাতিল করে দেয়। ব্রাজিলের অনেক পণ্যের ওপর এই শুল্কের প্রস্তাব করা হলেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদানকে এর বাইরে রাখা হয়েছে।
ইউএসটিআরের তালিকা অনুযায়ী, গরুর মাংস, কফি, রেয়ার আর্থ, অন্যান্য ধাতু ও বিমানের যন্ত্রাংশ এই নতুন শুল্কের আওতাভুক্ত হবে না। এছাড়া ফলমূল, বাদাম, অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, ওষুধ তৈরির রাসায়নিক যৌগ, জৈব রাসায়নিক ও সারও এই শাস্তিমূলক শুল্কের বাইরে থাকবে।
পাশাপাশি, ১৯৬২ সালের ট্রেড এক্সপ্যানশন অ্যাক্টের ‘সেকশন ২৩২’ (জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত শুল্ক)-এর আওতাধীন পণ্যগুলো এই নতুন ২৫ শতাংশ শুল্কের মধ্যে পড়বে না। এর আগে থেকেই ব্রাজিলের ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার ওপর ৫০ শতাংশ এবং মোটরযান ও যন্ত্রাংশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর রয়েছে। প্রস্তাবিত এই শুল্কের বিষয়ে আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত মতামত জানাতে পারবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ও আগামী ৬ জুলাই এই বিষয়ে একটি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এই তদন্তের বিপরীতে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইউএসটিআরের সামনে আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত সময় রয়েছে।ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে চীনের পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপের জন্যও এই একই আইন ব্যবহার করেছিলেন।
বর্তমানে চীনের অতিরিক্ত শিল্প উৎপাদন ক্ষমতা এবং ৬০টি দেশে জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধকরণের বিষয় নিয়েও ইউএসটিআরের একাধিক তদন্ত চলছে। এছাড়া গত শুক্রবার ভিয়েতনামের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি নীতি নিয়েও নতুন একটি তদন্ত শুরু করেছে সংস্থাটি।