আমার শহর ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, 'আজকের এই সংসদ বংলাদেশের জনগণের সংসদ। দেশের মানুষ এই সংসদের দিকে প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে।'
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংসদের স্পিকারের বক্তব্যের পর শুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, 'আজ থেকে স্পিকার আর কোনো দলের নন, তিনি পুরো সংসদের অভিভাবক। দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতান্ত্রিক মানুষ এই সংসদের দিকে প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। দেশ ও জনগণের স্বার্থে আমরা এই সংসদকে অর্থবহ করতে চাই।
তিনি আরো বলেন, 'গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। জনগণকে দুর্বল জনগোষ্ঠীতে পরিণত করা হয়েছিল এবং সংসদকে মানুষের অধিকার লুন্ঠনকারী-দের ক্লাবে পরিণত করা হয়েছিল।' প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বিগত দেড় দশকে যারা নিজেদের এমপি পরিচয় দিতেন, তারা কেউ জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছিলেন না। কিন্তু আজকের সংসদ জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংসদ। এটি বাংলাদেশের জনগণের সংসদ।'
তারেক রহমান বলেন, বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়, বরং সুনির্দিষ্ট যুক্তি ও বিতর্কের মাধ্যমে সংসদকে প্রাণবন্ত করে তুলতে চাই আমরা। এক্ষেত্রে স্পিকারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে সংসদ পরিচালনায় আমরা স্পিকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো।
বক্তব্যের শেষদিকে স্পিকারকে নতুন এই সংসদ বাংলাদেশের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদের নির্মমতা, অসংখ্য মানুষের কান্না এবং হাজারো প্রাণের আত্মত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে সত্যিকারের জনপ্রতিনিধিত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি এই মহান সংসদে সমগ্র দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে তার রাজনীতি দেশের মানুষ ও রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার রাজনীতি। বক্তব্যের শুরুতে তিনি, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে স্বাধীনতা রক্ষ্য ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিহত সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, গুম, বুন, আয়না ঘরের বন্দিশালাসহ বিভিন্নভাবে যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং যে-সব পরিবার তাদের স্বজন হারিয়েছেন, তাদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে অরণ করছে জাতি।
তারেক রহমান বলেন, কোনো নিপীড়ন-নির্যাতন দিয়েই দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে দমিয়ে রাখা যায়নি। সাহসী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমেই দেশে আবার গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি আজীবন আপসহীন লড়াই করেছেন। স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে কখনো আপস করেননি। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টি তিনি দেখে যেতে পারেননি
বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বক্তব্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তি বা দলের চেয়ে জনগণের স্বার্থই সবচেয়ে বড়-এটাই বিএনপির রাজনীতির মূল দর্শন। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় বিএনপি।
তিনি সংসদে উপস্থিত সব দলের সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দল বা মত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু ফ্যাসিবাদমুক্ত, স্বাধীন ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
বিগত সরকার জাতীয় সংসদকে অকার্যকর করে রেখেছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন এই সংসদকে যুক্তি-তর্ক, বিতর্ক ও জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হবে।
স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পতিত সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষের কারণে সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। কেউ কারাগারে, কেউ নিখোঁজ বা পলাতক অবস্থায় রয়েছেন।
এরপর সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ত্ব করার জন্য প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি উদ্বোন করেন, ১৯৭৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানও একইভাবে সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্বের জন্য সদস্য মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশের নাম প্রস্তাব করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, 'আজকের এই সংসদ বংলাদেশের জনগণের সংসদ। দেশের মানুষ এই সংসদের দিকে প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে।'
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংসদের স্পিকারের বক্তব্যের পর শুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, 'আজ থেকে স্পিকার আর কোনো দলের নন, তিনি পুরো সংসদের অভিভাবক। দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতান্ত্রিক মানুষ এই সংসদের দিকে প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। দেশ ও জনগণের স্বার্থে আমরা এই সংসদকে অর্থবহ করতে চাই।
তিনি আরো বলেন, 'গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। জনগণকে দুর্বল জনগোষ্ঠীতে পরিণত করা হয়েছিল এবং সংসদকে মানুষের অধিকার লুন্ঠনকারী-দের ক্লাবে পরিণত করা হয়েছিল।' প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বিগত দেড় দশকে যারা নিজেদের এমপি পরিচয় দিতেন, তারা কেউ জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছিলেন না। কিন্তু আজকের সংসদ জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংসদ। এটি বাংলাদেশের জনগণের সংসদ।'
তারেক রহমান বলেন, বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়, বরং সুনির্দিষ্ট যুক্তি ও বিতর্কের মাধ্যমে সংসদকে প্রাণবন্ত করে তুলতে চাই আমরা। এক্ষেত্রে স্পিকারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে সংসদ পরিচালনায় আমরা স্পিকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো।
বক্তব্যের শেষদিকে স্পিকারকে নতুন এই সংসদ বাংলাদেশের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদের নির্মমতা, অসংখ্য মানুষের কান্না এবং হাজারো প্রাণের আত্মত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে সত্যিকারের জনপ্রতিনিধিত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি এই মহান সংসদে সমগ্র দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে তার রাজনীতি দেশের মানুষ ও রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার রাজনীতি। বক্তব্যের শুরুতে তিনি, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে স্বাধীনতা রক্ষ্য ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিহত সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, গুম, বুন, আয়না ঘরের বন্দিশালাসহ বিভিন্নভাবে যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং যে-সব পরিবার তাদের স্বজন হারিয়েছেন, তাদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে অরণ করছে জাতি।
তারেক রহমান বলেন, কোনো নিপীড়ন-নির্যাতন দিয়েই দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে দমিয়ে রাখা যায়নি। সাহসী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমেই দেশে আবার গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি আজীবন আপসহীন লড়াই করেছেন। স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে কখনো আপস করেননি। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টি তিনি দেখে যেতে পারেননি
বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বক্তব্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তি বা দলের চেয়ে জনগণের স্বার্থই সবচেয়ে বড়-এটাই বিএনপির রাজনীতির মূল দর্শন। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় বিএনপি।
তিনি সংসদে উপস্থিত সব দলের সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দল বা মত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু ফ্যাসিবাদমুক্ত, স্বাধীন ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
বিগত সরকার জাতীয় সংসদকে অকার্যকর করে রেখেছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন এই সংসদকে যুক্তি-তর্ক, বিতর্ক ও জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হবে।
স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পতিত সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষের কারণে সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। কেউ কারাগারে, কেউ নিখোঁজ বা পলাতক অবস্থায় রয়েছেন।
এরপর সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ত্ব করার জন্য প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি উদ্বোন করেন, ১৯৭৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানও একইভাবে সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্বের জন্য সদস্য মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশের নাম প্রস্তাব করেছিলেন।