আমার শহর ডেস্ক

উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে যখন মানুষের পকেটে চাপ বাড়ছে, তখন যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি সব খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার শঙ্কা তুলে ধরলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তার ভাষ্য, ‘‘আসলে জ্বালানি সংকটটা অতিরিক্ত সংকট। একটা দুর্যোগ। এই যে সমস্যার কথাগুলো আমি বললাম, এর ওপরে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। এটা এখন জ্বালানি সংকটের মাধ্যমে হচ্ছে। শুধু জ্বালানি সংকট নয়, সমস্ত কমোডিটি খাদ্যদ্রব্যের ওপর প্রভাব পড়বে। সবকিছুর ওপর প্রভাব পড়বে, টোটাল সাপ্লাই চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সবকিছুতে আগামী দিনে দ্রব্যমূল্য বাড়বে-এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।’’
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে রোবাবার একটি জাতীয় পর্যায়ের মাল্টিস্টেকহোল্ডার পরামর্শ সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী। সমস্যার কথা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘একটা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি। এখানে আমরা ফায়ার ফাইটিং করতেছি। ইকোনমিকে স্যালভেজ করার যুদ্ধ চলছে। ইকোনমিকে স্যালভেজ করার চেষ্টা করছি। গ্র্যাজুয়েশনের (এলডিসি) প্রশ্ন তো আসছে না। ইকোনমির সব মানদণ্ড নিম্নগামী। আমরা যখন ফাইট করি, তখন তো গ্র্যাজুয়েশনের প্রশ্ন আসছে না। তার উপরে এখন মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে যে সমস্যাটা চলছে, এর ইমপ্যাক্ট অনেক বড়। বাংলাদেশের সরকারি তহবিলের রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এগুলো আমরা ফায়ার ফাইটিং করতেছি প্রত্যেক দিন।’’
তিনি বলেন, ‘‘তারপরে বাংলাদেশের যে দায়-দেনা হয়েছে, এটার ম্যানেজমেন্ট একটা বড় ধরনের সমস্যা। আমরা আগামী দিনে যে ফাইন্যান্সিংগুলো করব, এখানে কস্ট অব ফাইন্যান্সিং অনেক বেশি থাকবে। এবং সবকিছু মিলিয়ে যে ক্যাপাসিটি বিল্ডিংয়ের মাধ্যমে আমরা সেখানে যেতে পারব, সেগুলো বিএনপির ইশতেহারে সব বলা আছে। এগুলো সম্পাদন করলে ক্যাপাসিটি বিল্ডিংয়ের যে কথাটি আছে, সেটি হয়ে যাবে। যখন আমরা রেডি হব, তখনই গ্র্যাজুয়েশনের দিকে যাব। এই মুহূর্তে গ্র্যাজুয়েশনে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’’ বাংলাদেশ যে এখনই ‘এলডিসি গ্রাজুয়েশনের জন্য প্রস্তুত না’, সে কথা বারবার তুলে ধরেন তিনি।
সেজন্য সময় বাড়ানো প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা ডেট এক্সটেনশন চাচ্ছি। এক্সটেনশন যখন হবে, ওই তিন বছরের মধ্যে আমাদের রেডিনেসের যে বিষয়গুলো আছে, এগুলো বিএনপির ইশতেহারে সব বলা আছে। বিএনপির ইশতেহারের সাথে রেডিনেস অ্যালাইনমেন্ট হয়ে গেছে। কারণ আমরা তো এগুলোকে মাথায় রেখেই ইশতেহার করেছি। সুতরাং আমরা মনে করি এগুলো সমাপ্ত করতে পারলে আমরা রেডি হব এবং তখন আমরা গ্র্যাজুয়েশন নেব।
এখন যে ইকুয়েটোরিয়াল রিপোর্টটা যাবে, ওয়াশিংটনে যাবে, ব্রাসেলসে যাবে, বাংলাদেশের কেইসটা খুব স্ট্রং, যেটা আমি বললাম। এই পরিপ্রেক্ষিতে গ্র্যাজুয়েশনের কোনো সুযোগ নেই।’’
যুদ্ধের প্রভাবে দাম বাড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এর ফলে সাপ্লাই চেইন ডিজরাপ্টেড হবে। এটা কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, এটা গ্লোবাল বিষয়। আমেরিকায় তেলের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে, শ্রীলঙ্কায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। আমরা কিন্তু এখনো বাড়াইনি। না বাড়িয়ে কতক্ষণ আপনি থাকবেন? যেহেতু আমরা নির্বাচিত সরকার আমরা চেষ্টা করছি জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি না করার জন্য। কিন্তু একটা সময় এই চাপটা নিতে পারবে না সরকার। এবং চাপ যদি নিতে না পারে, সরকারি তহবিলের এভাবে রক্তক্ষরণ হতে থাকলে আল্টিমেটলি জনগণেরই ক্ষতি হবে।’’
পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান, বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ইউএনওএইচআরএলএলএস এর আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রাবাব ফাতিমা এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি সভায় উপস্থিত ছিলেন।

উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে যখন মানুষের পকেটে চাপ বাড়ছে, তখন যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি সব খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার শঙ্কা তুলে ধরলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তার ভাষ্য, ‘‘আসলে জ্বালানি সংকটটা অতিরিক্ত সংকট। একটা দুর্যোগ। এই যে সমস্যার কথাগুলো আমি বললাম, এর ওপরে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। এটা এখন জ্বালানি সংকটের মাধ্যমে হচ্ছে। শুধু জ্বালানি সংকট নয়, সমস্ত কমোডিটি খাদ্যদ্রব্যের ওপর প্রভাব পড়বে। সবকিছুর ওপর প্রভাব পড়বে, টোটাল সাপ্লাই চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সবকিছুতে আগামী দিনে দ্রব্যমূল্য বাড়বে-এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।’’
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে রোবাবার একটি জাতীয় পর্যায়ের মাল্টিস্টেকহোল্ডার পরামর্শ সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী। সমস্যার কথা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘একটা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি। এখানে আমরা ফায়ার ফাইটিং করতেছি। ইকোনমিকে স্যালভেজ করার যুদ্ধ চলছে। ইকোনমিকে স্যালভেজ করার চেষ্টা করছি। গ্র্যাজুয়েশনের (এলডিসি) প্রশ্ন তো আসছে না। ইকোনমির সব মানদণ্ড নিম্নগামী। আমরা যখন ফাইট করি, তখন তো গ্র্যাজুয়েশনের প্রশ্ন আসছে না। তার উপরে এখন মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে যে সমস্যাটা চলছে, এর ইমপ্যাক্ট অনেক বড়। বাংলাদেশের সরকারি তহবিলের রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এগুলো আমরা ফায়ার ফাইটিং করতেছি প্রত্যেক দিন।’’
তিনি বলেন, ‘‘তারপরে বাংলাদেশের যে দায়-দেনা হয়েছে, এটার ম্যানেজমেন্ট একটা বড় ধরনের সমস্যা। আমরা আগামী দিনে যে ফাইন্যান্সিংগুলো করব, এখানে কস্ট অব ফাইন্যান্সিং অনেক বেশি থাকবে। এবং সবকিছু মিলিয়ে যে ক্যাপাসিটি বিল্ডিংয়ের মাধ্যমে আমরা সেখানে যেতে পারব, সেগুলো বিএনপির ইশতেহারে সব বলা আছে। এগুলো সম্পাদন করলে ক্যাপাসিটি বিল্ডিংয়ের যে কথাটি আছে, সেটি হয়ে যাবে। যখন আমরা রেডি হব, তখনই গ্র্যাজুয়েশনের দিকে যাব। এই মুহূর্তে গ্র্যাজুয়েশনে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’’ বাংলাদেশ যে এখনই ‘এলডিসি গ্রাজুয়েশনের জন্য প্রস্তুত না’, সে কথা বারবার তুলে ধরেন তিনি।
সেজন্য সময় বাড়ানো প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা ডেট এক্সটেনশন চাচ্ছি। এক্সটেনশন যখন হবে, ওই তিন বছরের মধ্যে আমাদের রেডিনেসের যে বিষয়গুলো আছে, এগুলো বিএনপির ইশতেহারে সব বলা আছে। বিএনপির ইশতেহারের সাথে রেডিনেস অ্যালাইনমেন্ট হয়ে গেছে। কারণ আমরা তো এগুলোকে মাথায় রেখেই ইশতেহার করেছি। সুতরাং আমরা মনে করি এগুলো সমাপ্ত করতে পারলে আমরা রেডি হব এবং তখন আমরা গ্র্যাজুয়েশন নেব।
এখন যে ইকুয়েটোরিয়াল রিপোর্টটা যাবে, ওয়াশিংটনে যাবে, ব্রাসেলসে যাবে, বাংলাদেশের কেইসটা খুব স্ট্রং, যেটা আমি বললাম। এই পরিপ্রেক্ষিতে গ্র্যাজুয়েশনের কোনো সুযোগ নেই।’’
যুদ্ধের প্রভাবে দাম বাড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এর ফলে সাপ্লাই চেইন ডিজরাপ্টেড হবে। এটা কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, এটা গ্লোবাল বিষয়। আমেরিকায় তেলের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে, শ্রীলঙ্কায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। আমরা কিন্তু এখনো বাড়াইনি। না বাড়িয়ে কতক্ষণ আপনি থাকবেন? যেহেতু আমরা নির্বাচিত সরকার আমরা চেষ্টা করছি জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি না করার জন্য। কিন্তু একটা সময় এই চাপটা নিতে পারবে না সরকার। এবং চাপ যদি নিতে না পারে, সরকারি তহবিলের এভাবে রক্তক্ষরণ হতে থাকলে আল্টিমেটলি জনগণেরই ক্ষতি হবে।’’
পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান, বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ইউএনওএইচআরএলএলএস এর আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রাবাব ফাতিমা এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি সভায় উপস্থিত ছিলেন।