আমার শহর ডেস্ক

নানা অব্যবস্থাপনা, রাজনৈতিক প্রভাবিত গভর্নিং বডি, আর্থিক সংকট, শিক্ষক সংকট এবং শিক্ষার মান অবনতির কারণে মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি কুমিল্লা মহিলা মহাবিদ্যালয়। প্রয়াত সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা চৌধুরী এ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা।
কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা নগরের ধর্মসাগরের দক্ষিণ পাড়ে লিজ মূলে বরাদ্দ জমি ও ভবনে ১৯৮৪ সালে স্থানীয় সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা চৌধুরীর উদ্যোগে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ১৯৯২ সাল থেকে এটি এমপিওভুক্ত হয়।
পরবর্তীতে ২০২০ সালে কুমিল্লা-৬ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দীন ধর্মপুরের নিজস্ব মালিকানাধীন ৫০ শতাংশ জমির উপর নতুন ক্যাম্পাস স্থানান্তর করেন। বর্তমানে কলেজে ছাত্রী সংখ্যা প্রায় ৫৫০ জন। এর বিপরীতে খণ্ডকালীন শিক্ষকসহ মোট শিক্ষক সংখ্যা মাত্র ২০ জন, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বর্তমানে কলেজে একটি মাত্র চার তলা ভবন আছে। একই ভবনে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শ্রেণীকক্ষের সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় পাঠদান প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটছে। এছাড়া একটি ভবনে স্থান সংকুলান না হওয়ায় বিষয়ভিত্তিক বিজ্ঞানাগার, আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব, সমৃদ্ধ পাঠাগার এবং ছাত্রী মিলনায়তনের (কমন রুম) জন্য পৃথক কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া যাচ্ছে না।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, গভর্নিং বডিতে রাজনৈতিক প্রভাব, বিগত সময়ে রাজনৈতিক ও দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ ,বিগত কমিটিগুলোর চরম অব্যবস্থাপনাকে এ অবস্থার মূল কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি অবকাঠামোগত দুর্বলতা, শিক্ষক সংকট, তহবিল সংকটের ফলে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের প্রদেয় ভাতাদি বকেয়া থাকা, পাঠাগারে বই না থাকা ,অবকাঠামো নির্মাণে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরট থেকে প্রাপ্য সুবিধাদি না পাওয়াকে এ অবস্থার পেছনে বড় কারণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি দায়িত্ব পাওয়া কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা পারভীন বলেন, "কলেজটির আর্থিক সক্ষমতার অবস্থা বর্তমানে তলাবিহীন ঝুড়ির মতো। পাশাপাশি, বিগত সময়ে নানান অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।"
কলেজটি বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি শিক্ষার মানের চরম অবনতিতে পড়েছে। আগে যেখানে দুই বর্ষ মিলে ছাত্রী সংখ্যা থাকত বছরে প্রায় ৮০০-১০০০ জন, সেখানে এখন ৫০০ জনে নেমে এসেছে। ফলাফলও দিনদিন অবনতির দিকে।
বিগত ২০২১ - ২০২৪ সালে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় কলেজটির পাশের হার ছিল যথাক্রমে ৯৬.৮২ শতাংশ, ৯২.৯০ শতাংশ, ৮৩.৮২ শতাংশ, ৮১.৩০ শতাংশ। কিন্তু গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ৩০৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাশ করেছে মাত্র ১৬৮ জন। অর্থাৎ পাশের হার নেমে এসেছে ৫৫.০০ শতাংশে, জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র চারজন শিক্ষার্থী। তবে এই রুগ্নদশা থেকে উত্তরণে কলেজের এডহক কমিটি সম্প্রতি বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
কলেজের এক ছাত্রীর অভিভাবক বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে ঐতিহ্যবাহী কলেজটির আজ এ অবস্থা। এ সকল অব্যবস্থাপনার ফলে এখানে সন্তানদের পড়ানোর মানসিকতা সচেতন অভিভাবকরা ক্রমেই হারাচ্ছেন। তাই মানোন্নয়নে দ্রæত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই কলেজের বর্তমান এডহক কমিটি বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষকদের সম্পৃক্ত করে একাডেমিক পরিবেশ উন্নয়নে নানা কমিটি গঠন করা হয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য নিজস্ব জমিতে নতুন ভবন ও স্থায়ী ক্যাম্পাসের সুবিধা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষক সংকট কাটাতে নতুন শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য সাংস্কৃতিক ক্লাব, কম্পিউটার ল্যাব কার্যক্রম ও বিজ্ঞানচর্চাসহ নানা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, মানসিক স্বাস্থ্য ও নেতৃত্ব গড়ে তুলতে বিশেষ কর্মসূচিও চালু হয়েছে। সুশিক্ষা নিশ্চিতে স্থানীয় অভিভাবকদের নিয়ে প্রতিনিধি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া দূরদূরান্তের ছাত্রীদের জন্য কুমিল্লা নগরের বাগিচাগাঁওয়ে কলেজের মালিকানাধীন জমিতে ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণেরও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
কলেজের বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, চৌয়ারা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক সরওয়ার জাহান ভূঁইয়া দোলন বলেন, কলেজের শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। সবার সহযোগিতায় আশা করি তা সম্ভব হবে।

নানা অব্যবস্থাপনা, রাজনৈতিক প্রভাবিত গভর্নিং বডি, আর্থিক সংকট, শিক্ষক সংকট এবং শিক্ষার মান অবনতির কারণে মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি কুমিল্লা মহিলা মহাবিদ্যালয়। প্রয়াত সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা চৌধুরী এ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা।
কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা নগরের ধর্মসাগরের দক্ষিণ পাড়ে লিজ মূলে বরাদ্দ জমি ও ভবনে ১৯৮৪ সালে স্থানীয় সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা চৌধুরীর উদ্যোগে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ১৯৯২ সাল থেকে এটি এমপিওভুক্ত হয়।
পরবর্তীতে ২০২০ সালে কুমিল্লা-৬ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দীন ধর্মপুরের নিজস্ব মালিকানাধীন ৫০ শতাংশ জমির উপর নতুন ক্যাম্পাস স্থানান্তর করেন। বর্তমানে কলেজে ছাত্রী সংখ্যা প্রায় ৫৫০ জন। এর বিপরীতে খণ্ডকালীন শিক্ষকসহ মোট শিক্ষক সংখ্যা মাত্র ২০ জন, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বর্তমানে কলেজে একটি মাত্র চার তলা ভবন আছে। একই ভবনে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শ্রেণীকক্ষের সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় পাঠদান প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটছে। এছাড়া একটি ভবনে স্থান সংকুলান না হওয়ায় বিষয়ভিত্তিক বিজ্ঞানাগার, আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব, সমৃদ্ধ পাঠাগার এবং ছাত্রী মিলনায়তনের (কমন রুম) জন্য পৃথক কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া যাচ্ছে না।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, গভর্নিং বডিতে রাজনৈতিক প্রভাব, বিগত সময়ে রাজনৈতিক ও দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ ,বিগত কমিটিগুলোর চরম অব্যবস্থাপনাকে এ অবস্থার মূল কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি অবকাঠামোগত দুর্বলতা, শিক্ষক সংকট, তহবিল সংকটের ফলে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের প্রদেয় ভাতাদি বকেয়া থাকা, পাঠাগারে বই না থাকা ,অবকাঠামো নির্মাণে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরট থেকে প্রাপ্য সুবিধাদি না পাওয়াকে এ অবস্থার পেছনে বড় কারণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি দায়িত্ব পাওয়া কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা পারভীন বলেন, "কলেজটির আর্থিক সক্ষমতার অবস্থা বর্তমানে তলাবিহীন ঝুড়ির মতো। পাশাপাশি, বিগত সময়ে নানান অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।"
কলেজটি বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি শিক্ষার মানের চরম অবনতিতে পড়েছে। আগে যেখানে দুই বর্ষ মিলে ছাত্রী সংখ্যা থাকত বছরে প্রায় ৮০০-১০০০ জন, সেখানে এখন ৫০০ জনে নেমে এসেছে। ফলাফলও দিনদিন অবনতির দিকে।
বিগত ২০২১ - ২০২৪ সালে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় কলেজটির পাশের হার ছিল যথাক্রমে ৯৬.৮২ শতাংশ, ৯২.৯০ শতাংশ, ৮৩.৮২ শতাংশ, ৮১.৩০ শতাংশ। কিন্তু গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ৩০৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাশ করেছে মাত্র ১৬৮ জন। অর্থাৎ পাশের হার নেমে এসেছে ৫৫.০০ শতাংশে, জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র চারজন শিক্ষার্থী। তবে এই রুগ্নদশা থেকে উত্তরণে কলেজের এডহক কমিটি সম্প্রতি বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
কলেজের এক ছাত্রীর অভিভাবক বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে ঐতিহ্যবাহী কলেজটির আজ এ অবস্থা। এ সকল অব্যবস্থাপনার ফলে এখানে সন্তানদের পড়ানোর মানসিকতা সচেতন অভিভাবকরা ক্রমেই হারাচ্ছেন। তাই মানোন্নয়নে দ্রæত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই কলেজের বর্তমান এডহক কমিটি বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষকদের সম্পৃক্ত করে একাডেমিক পরিবেশ উন্নয়নে নানা কমিটি গঠন করা হয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য নিজস্ব জমিতে নতুন ভবন ও স্থায়ী ক্যাম্পাসের সুবিধা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষক সংকট কাটাতে নতুন শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য সাংস্কৃতিক ক্লাব, কম্পিউটার ল্যাব কার্যক্রম ও বিজ্ঞানচর্চাসহ নানা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, মানসিক স্বাস্থ্য ও নেতৃত্ব গড়ে তুলতে বিশেষ কর্মসূচিও চালু হয়েছে। সুশিক্ষা নিশ্চিতে স্থানীয় অভিভাবকদের নিয়ে প্রতিনিধি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া দূরদূরান্তের ছাত্রীদের জন্য কুমিল্লা নগরের বাগিচাগাঁওয়ে কলেজের মালিকানাধীন জমিতে ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণেরও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
কলেজের বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, চৌয়ারা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক সরওয়ার জাহান ভূঁইয়া দোলন বলেন, কলেজের শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। সবার সহযোগিতায় আশা করি তা সম্ভব হবে।