সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ
নিজস্ব প্রতিবেদক

জামায়াত নেতাদের মালিকানাধীন সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিনের আত্মহত্যার পেছনে কলেজের এনাটমি বিভাগের প্রধান ডা. মনিরা জহিরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নানা শ্রেণির মানুষ। কলেজ ছাড়াও মনিরার পরিবারের সদস্যরাও তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির, কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এ কলেজের অন্যতম উদ্যোক্তা।
সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ, বাদুরতলা এলাকাবাসী, মনিরার স্বজন ও জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে গত তিনদিন কথা বলে জানা গেছে, মনিরা জহির সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের অন্যতম উদ্যোক্তা প্রয়াত চিকিৎসক ডা. মো. জহিরুল হকের মেয়ে। মনিরা ওই কলেজের শিক্ষকের বাইরে একজন পরিচালকও। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল সেন্টারেরও অংশীদার। মনিরার আচার আচরণ উগ্র। নওশিনের উপর তিনি নানা কারণে বিরক্ত ছিলেন। সব বিষয়ে নওশিন পাস করলেও মনিরার বিষয়ে প্রতিবারই ফেল করেন। এ অবস্থায় হতাশা থেকে নওশিন ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রচার করা হয়।
এ ঘটনার পর ডা. মনিরার এক চাচাতো বোন ইমু লায়লা ফেসবুকে লেখেন, ‘সারাজীবন সম্পদই কামাইলেন! সেই সম্পদের গরমে সন্তানরা কিছুদিন পরপর সংবাদপত্রের শিরোনাম হচ্ছে! একজন ভুয়া র্যাব কর্মকর্তা সেজে চাঁদাবাজি করে ধরা খায়, কেউ অন্যের বউ ভাগাইয়া পরিবারশুদ্দু জেল খাটে! নতুন যোগ-আত্মহত্যার প্ররোচনার দায়ে এখন সংবাদ শিরোনাম! মর্যাল অব দ্যা স্টোরি: অন্যের হক মারার শাস্তি নিজে না হলেও সন্তানরা ভোগ করবেই আল্লাহর বিচার এই দুনিয়ায়।’
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ডা. মনিরা জহির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। কলেজের পরিচালক এ দাপট দিয়ে তিনি কাউকে পাত্তা দেন না।
কলেজের অন্তত তিনজন শিক্ষার্থী বলেন, ডা. মনিরা জহিরের ভয়ে আমরা তটস্থ। আমরা এখানে টাকা দিয়ে পড়ি। একবার ফেল করলে পরের বার ওই শিক্ষকের উচিত ছিল নওশিনকে এগিয়ে দেওয়া। কিন্তু তা না করে তিনি নওশিনকে তাচ্ছিল্য করতেন। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।
তবে ঘটনার পর থেকে কয়েকবার ডা. মনিরা জহিরের মুঠোফোনে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফজলুল হক লিটন গতকাল দুপুরে আমার শহরকে বলেন, পাঁচবার নয়, চারবার এনাটমি বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছিলেন নওশিন। কেন এতবার পরীক্ষা দিতে হলো এ নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
এদিকে কুমিল্লার সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিনের আত্মহননের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। গত শনিবার কমিটি গঠন হওয়ার পরই তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
খতিয়ে দেখা হচ্ছে অর্পিতার একাডেমিক নথি ও পরীক্ষার ফল। গত রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত কমিটি কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থান করে। এ সময় তারা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বক্তব্য নেন এবং ছাত্রীর একাডেমিক কাগজপত্র ও পরীক্ষার ফল জব্দ করেন।
কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফজলুল হক লিটন বলেন, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের কমিটির পাশাপাশি কলেজের নিজস্ব তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও কাজ করছে। দুই কমিটি আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমীন, সদস্য হিসেবে আছেন অধ্যাপক ডা. জোবায়দা সুলতানা ও উপপরিচালক ডা. মুহাম্মদ আবদুল কাদের। কলেজের নিজস্ব কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. জহিরুল আলম।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে কলেজের মহিলা হোস্টেল থেকে অর্পিতার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
ওই ছাত্রীর ভাই শাহরিয়ার আরমান দাবি করেন, অর্পিতা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক নিপীড়নের শিকার হচ্ছিলেন। অর্পিতা বারবার অ্যানাটমি বিভাগের শিক্ষকের কাছে সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন। প্রথম বর্ষ থেকে তাঁকে মানসিক চাপ দেওয়া হতো। পাঁচবার পরীক্ষা দেওয়ার পরও পাস করতে পারেননি। শেষ বর্ষের সহপাঠীদের সঙ্গে থাকলেও তাঁকে প্রথম বর্ষের ক্লাস ও পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হতো। অর্পিতার মৃত্যুর ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের ঝড় তুলেছে। নেটিজেনরা ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমীন বলেন, আমরা অর্পিতা নওশিনের আত্মহননের ঘটনা অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছি। এখনই কিছু বলা সম্ভব না। কমিটি সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত এবং সুপারিশ উপস্থাপন করবে।
কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফজলুল হক লিটন বলেন, এ নিয়ে তদন্ত চলছে। এর বেশি কিছু বলতে পারব না।

জামায়াত নেতাদের মালিকানাধীন সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিনের আত্মহত্যার পেছনে কলেজের এনাটমি বিভাগের প্রধান ডা. মনিরা জহিরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নানা শ্রেণির মানুষ। কলেজ ছাড়াও মনিরার পরিবারের সদস্যরাও তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির, কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এ কলেজের অন্যতম উদ্যোক্তা।
সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ, বাদুরতলা এলাকাবাসী, মনিরার স্বজন ও জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে গত তিনদিন কথা বলে জানা গেছে, মনিরা জহির সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের অন্যতম উদ্যোক্তা প্রয়াত চিকিৎসক ডা. মো. জহিরুল হকের মেয়ে। মনিরা ওই কলেজের শিক্ষকের বাইরে একজন পরিচালকও। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল সেন্টারেরও অংশীদার। মনিরার আচার আচরণ উগ্র। নওশিনের উপর তিনি নানা কারণে বিরক্ত ছিলেন। সব বিষয়ে নওশিন পাস করলেও মনিরার বিষয়ে প্রতিবারই ফেল করেন। এ অবস্থায় হতাশা থেকে নওশিন ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রচার করা হয়।
এ ঘটনার পর ডা. মনিরার এক চাচাতো বোন ইমু লায়লা ফেসবুকে লেখেন, ‘সারাজীবন সম্পদই কামাইলেন! সেই সম্পদের গরমে সন্তানরা কিছুদিন পরপর সংবাদপত্রের শিরোনাম হচ্ছে! একজন ভুয়া র্যাব কর্মকর্তা সেজে চাঁদাবাজি করে ধরা খায়, কেউ অন্যের বউ ভাগাইয়া পরিবারশুদ্দু জেল খাটে! নতুন যোগ-আত্মহত্যার প্ররোচনার দায়ে এখন সংবাদ শিরোনাম! মর্যাল অব দ্যা স্টোরি: অন্যের হক মারার শাস্তি নিজে না হলেও সন্তানরা ভোগ করবেই আল্লাহর বিচার এই দুনিয়ায়।’
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ডা. মনিরা জহির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। কলেজের পরিচালক এ দাপট দিয়ে তিনি কাউকে পাত্তা দেন না।
কলেজের অন্তত তিনজন শিক্ষার্থী বলেন, ডা. মনিরা জহিরের ভয়ে আমরা তটস্থ। আমরা এখানে টাকা দিয়ে পড়ি। একবার ফেল করলে পরের বার ওই শিক্ষকের উচিত ছিল নওশিনকে এগিয়ে দেওয়া। কিন্তু তা না করে তিনি নওশিনকে তাচ্ছিল্য করতেন। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।
তবে ঘটনার পর থেকে কয়েকবার ডা. মনিরা জহিরের মুঠোফোনে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফজলুল হক লিটন গতকাল দুপুরে আমার শহরকে বলেন, পাঁচবার নয়, চারবার এনাটমি বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছিলেন নওশিন। কেন এতবার পরীক্ষা দিতে হলো এ নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
এদিকে কুমিল্লার সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিনের আত্মহননের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। গত শনিবার কমিটি গঠন হওয়ার পরই তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
খতিয়ে দেখা হচ্ছে অর্পিতার একাডেমিক নথি ও পরীক্ষার ফল। গত রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত কমিটি কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থান করে। এ সময় তারা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বক্তব্য নেন এবং ছাত্রীর একাডেমিক কাগজপত্র ও পরীক্ষার ফল জব্দ করেন।
কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফজলুল হক লিটন বলেন, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের কমিটির পাশাপাশি কলেজের নিজস্ব তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও কাজ করছে। দুই কমিটি আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমীন, সদস্য হিসেবে আছেন অধ্যাপক ডা. জোবায়দা সুলতানা ও উপপরিচালক ডা. মুহাম্মদ আবদুল কাদের। কলেজের নিজস্ব কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. জহিরুল আলম।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে কলেজের মহিলা হোস্টেল থেকে অর্পিতার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
ওই ছাত্রীর ভাই শাহরিয়ার আরমান দাবি করেন, অর্পিতা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক নিপীড়নের শিকার হচ্ছিলেন। অর্পিতা বারবার অ্যানাটমি বিভাগের শিক্ষকের কাছে সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন। প্রথম বর্ষ থেকে তাঁকে মানসিক চাপ দেওয়া হতো। পাঁচবার পরীক্ষা দেওয়ার পরও পাস করতে পারেননি। শেষ বর্ষের সহপাঠীদের সঙ্গে থাকলেও তাঁকে প্রথম বর্ষের ক্লাস ও পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হতো। অর্পিতার মৃত্যুর ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের ঝড় তুলেছে। নেটিজেনরা ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমীন বলেন, আমরা অর্পিতা নওশিনের আত্মহননের ঘটনা অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছি। এখনই কিছু বলা সম্ভব না। কমিটি সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত এবং সুপারিশ উপস্থাপন করবে।
কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফজলুল হক লিটন বলেন, এ নিয়ে তদন্ত চলছে। এর বেশি কিছু বলতে পারব না।