তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ

পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে সেইদিন কোনও গেটকিপার ছিল না

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৬, ১২: ২৪
Thumbnail image

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় জেলা প্রশাসন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

গতকাল ওই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। ১১ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে ঘটনার কারণ উদঘাটন করা হয়। একই সঙ্গে আটটি সুপারিশ করা হয়। তদন্ত কমিটি ২০ জনের সাক্ষ্য নেয় এই ঘটনায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পদুয়ার বাজার লেভেলক্রসিংয়ে সেইদিন (২১ মার্চ রাত তিনটার দিকে) চার গেটকিপার (স্থানীয়ভাবে গেটম্যান বলা হয়) হেলাল, মেহেদী হাসান, কাউসার ও নাজমুল ছিলেন না। এছাড়া বিজয়পুর লেভেলক্রসিংয়ের দুই গেটকিপার ট্রেন পাস হওয়ার সময় কোন তথ্য দেয়নি। লালমাই রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টারও দায়িত্বে অবহেলা করেছেন। ট্রেনের লোকোমাস্টার দুজন ট্রেনের গতি না কমিয়ে লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেন চালান। এছাড়া মামুন স্পেশাল বাসের চালক গতি না কমিয়ে রেল লাইনে উঠে পড়েন। সড়ক বিভাগের নির্মাণ কাজ ও বাস চালকের দায়িত্বে অবহেলা প্রতীয়মান হয়েছে।

গতকাল রোববার জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী এ তথ্য জানিয়েছেন।

এডিএম মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী জানান, তদন্তে অন্তত ৬টি বিষয়ে ব্যত্যয় উঠে এসেছে। এজন্য বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ও বিভাগ দায়ী বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে মোট ৮টি সুপারিশ করেছে কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদনটি জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

সুপারিশগুলো হলো- গেটকিপারদের নজরদারির আওতায় আনা, গেটকিপারদের প্রতি মাসে ডোপ টেস্ট করা (ডোপ টেস্টে প্রমাণিত হলে চাকরিচ্যুত করা), রেলক্রসিংগুলোতে ওয়ার্নিং রাখা (দুই বছর ধরে বিদ্যুতের লাইন না থাকায় ওয়ার্নিং বন্ধ), সড়ক ও জনপথ বিভাগ নির্মাণ কাজের জন্য টিনের বেড়া দেওয়ায় চালক ট্রেনকে দেখতে না পাওয়ায় এ ঘটনা ঘটে।

এ কারণে রেলওয়ে ও সড়ক বিভাগের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে, বাসটি রেলওয়ে ওভারপাস ব্যবহার না করে নিচ দিয়ে যাওয়ায় এ সুর্যটনা ঘটে। এক্ষেত্রে বাসের গাফলতি রয়েছে, রেলক্রসিংয়ে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে, দীর্ঘমেয়াদী অটোমেটিক গেট চালু করা ও গেটকিপারদের কক্ষের পরিবেশ সুন্দর করা।

গত ২১ মার্চ ঈদুল ফিতরের দিন গভীররাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিং-এ দুর্ঘটনার পর জেলা প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটিতে প্রধান ছিলেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী, সহকারী পরিচালক বিআরটিএ ফারুক আলম, ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল মমিন, ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন, রেলওয়ের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা আসিফ খান চৌধুরী।

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিংয়ে চলন্ত ট্রেন ও বাসের সংঘর্ষে ১২ জন বাসযাত্রী নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত হয় অন্তত আরও ২৪ জন। ঘটনার পর এক বাস যাত্রীর করা মামলায় এ পর্যন্ত তিনজন গেটম্যানকে মেস্তার করেছে র‍্যাব ও পুলিশ। চার গেটকিপারের মধ্যে মেহেদী হাসান পলাতক রয়েছেন।

এডিএম বলেন, ২১ মার্চ রাতে হেলাল ও মেহেদীর স্কুলে কাউসার ও নাজমুল দায়িত্ব পালন করে। এজন্য হেলাল ও মেহেদী তাঁদের এক হাজার টাকা দেয়। টাকা নেওয়ার পরও কাউসার ও নাজমুল দায়িত্বে ছিলেন না। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত