নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লার কোটবাড়িতে অবস্থিত বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (বার্ড) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। এ উপলক্ষে সকালে ড. আখতার হামিদ খানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। বাদ জোহর বার্ড মসজিদে দোয়া হবে। আগামী ১৩ জুন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা হবে। এতে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি থাকবেন।
১৯৫৯ সালের ২৭ মে পাকিস্তান সরকার কুমিল্লায় পাকিস্তান একাডেমি ফর ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠা করে। ড. আখতার হামিদ খান কে তখন এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক করা হয়। পরবর্তীতে এই প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয় পাকিস্তান একাডেমি ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট। যা বর্তমানে বাংলাদেশ একাডেমি ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট (বার্ড) নামে পরিচিতি। অতীতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি বার্ডে প্রথমে কৃষক, রিকশাচালক ও মৃৎশিল্পীদের নিয়ে সমবায় সমিতি চালু করেন। এর মাধ্যমে পুঁজি গঠন করে নতুন নতুন কর্মসূচি নেওয়া হয়। কৃষি কাজে যন্ত্রপাতির ব্যবহার চালু করা হয়। বার্ডের উস্তাবিত এইসব কর্মসূচি রাষ্ট্রীয়ভাবে গ্রহণ করে প্রকল্প তৈরি করা হয়। এইসব প্রকল্প এখনও চলছে।
আখতার হামিদ খান সমবায়ের মাধ্যমে কৃষি আধুনিকায়নের লক্ষে উন্নত পদ্ধতির চাষাবাদ শুরু করেন। আদর্শ সদর উপজেলার বলরামপুর গ্রামে দিদার সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমিতি করেন। সেখানে রিকশাচা-লকদের দিয়ে সমিতি করেন। ওই সমিতির সদস্য পরবর্তীতে র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরষ্কার পান। সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুরে মৃৎশিল্পীদের জন্য সমবায় সমিতি করেন বিজয়পুরের মৃৎশিল্প থেকে উৎপাদিত মাটির সামগ্রী এখন বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। মূলত তিনি কুমিল্লা পদ্ধতির মাধ্যমে সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করেন। এতে স্থানীয় সরকারের ধারনা তৈরি করে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করা হয়। মহিলাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য মহিলা সমিতি গঠন করেন। ওই সমিতির সদস্য তাহেরা আবদুল্লাহও র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরষ্কার পেয়েছেন। তিনিও সবার আগে এই পুরষ্কার পান।
পল্লী উন্নয়ন, সমবায় আন্দোলন, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও প্রায়োগিক গবেষণায় কুমিল্লার কোটবাড়িতে অবস্থিত বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) ৬৭ বছর ধরে দেশে বিদেশে সুনাম অর্জন করেছে। পল্লী উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখায় বাংলাদেশ সরকার এই প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরষ্কার ও জাতীয় পল্লী উন্নয়ন পদকে ভূষিত করেছে । বার্ডের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত তিনজন পেয়েছিলেন র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরষ্কারও। বার্ডের পরিচিতি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও।
প্রতি বছর হাজার হাজার দর্শনার্থী এই নৈসর্গিক, মনোলোভা টিলাঘেরা ও গাছগাছালির অপূর্ব সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ক্যাম্পাস দেখতে আসেন। ১৯৫৯ সালের ২৭ মে বার্ড প্রতিষ্ঠা হয়। কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে পাহাড় ও টিলাঘেরা কোটবাড়ি এলাকার ১৫৬ একর জমির উপর বার্ড প্রতিষ্ঠা হয়। ময়নামতি পাহাড়ের অনুপম নৈসর্গিক দৃশ্যকে অটুট রেখে প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশে ও গ্রীক স্থাপত্যের আদলে ডাঙ এডিস ফার্মের নকশায় তৈরি হয় এখানকার ভবনগুলো। এখানকার এক ভবন থেকে অন্য ভবনে যেতে কোন রোদ লাগে না। বৃষ্টি ও পড়ে না। পুরো ক্যাম্পাসের স্থাপনাই সেভাবেই তৈরি করা হয়েছে। ভবনগুলোর ফাঁকে ফাঁকে রয়েছে নানা দুলর্ভ প্রজাতির ফুল ও ফলের গাছও।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে বার্ড একটি স্বায়ত্তশা-ি সত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পল্লী উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) আইন ২০১৭ অনুসারে একাডেমির কাজ হচ্ছে। বার্ডের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১৮ সদস্যবিশিষ্ট একটি পরিচালনা পর্ষদ আছে। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি। বার্ডের মহাপরিচালক হলেন প্রধান নির্বাহী। বর্তমানে বার্ডে একজন মহাপরিচালক, একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক, নয়জন পরিচালক ও ৫০ জন অনুষদ সদস্য আছে। বার্ড জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমÐলে প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও প্রায়োগিক গবেষণার ক্ষেত্রে ৬৬ বছর যাবৎ তার অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে একবিংশ শতাব্দীর চাহিদাকে বিবেচনায় রেখে তথ্য প্রযুক্তি সফল প্রয়োগে বাংলাদেশে পল্লী উন্নয়নের ক্ষেত্রে কার্যকর ভ‚মিকা রাখার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি আরও বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
বার্ড সূত্র জানায়, বাংলাদেশে বার্ড উদ্ভাবিত পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা বাস্তবায়ন করছে। খ্যাতনামা এ প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রশাসনিক জনবলের পদ রয়েছে ৩৬৫ জন। কর্মরত আছেন ২৭৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২১৯ জন, নারী ৫৬ জন। শুন্য ৯০টি পদ।
২০১৬ সালের জুন মাসে সরকার লালমাই-ময়নামতি এলাকার পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন নিয়ে ৫০ কোটি ৫৫ লাখ টাকার একটি প্রকল্প নেয়। এর মাধ্যমে লালমাই ও ময়নামতি পাহাড়ের পাদদেশের আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ ও বুড়িচং উপজেলার ১৩ হাজার ৫৯৭ টি পরিবার উপকৃত হচ্ছে। তাঁদের বার্ডের পক্ষ থেকে ২৯৩ টি সংগঠন করে। ৯ হাজার জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে জৈব সার, বীজ, ধান কাটা ও রোপনের যন্ত্র দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের অধীনে সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হয় সাড়ে সাত কোটি, কম সুদে দেওয়া হয় ১১ কোটি। প্রকল্পের ২৯ জন মাঠকর্মীর চাকরিও স্থায়ী হন প্রকল্প থেকে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে।
'বার্ডে রয়েছে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার। বার্ডের প্রতিষ্ঠাতা ড. আখতার হামিদ খানের নামেই নামকরণ করা হয়েছে বার্ড গ্রন্থাগারের। সেখানে বর্তমানে দেশি-বিদেশি অনেক দুর্লভ গ্রন্থসহ প্রায় ৭০ হাজার গ্রন্থ রয়েছে বলে জানা গেছে। এখানে সাতটি হোস্টেলে ৩৯১ জনের থাকার ব্যবস্থা আছে। নতুন করে আরও হোস্টেল হচ্ছে। বার্ডের ও বাইরের মানুষের দিকে লক্ষ রেখে ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠা হয় শিশু বিতান বার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়। কয়েকবছর আগে ওই প্রতিষ্ঠানেই চালু করা হয় ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান। ২০২০ সালে তিনতলা ভবন করে প্রতিষ্ঠা করা হয় বার্ড মডেল হাইস্কুল। এখানে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান হচ্ছে। শিগগিরই চালু হচ্ছে কলেজ শাখা।
বার্ডের যত পুরষ্কার: বার্ডের প্রতিষ্ঠাতা ড. আখতার হামিদ খান ১৯৬৩ সালে র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৭৮ সালে বার্ডের মহিলা কর্মসূচির কর্মী তাহেরা আবদুল্লাহ ও ১৯৮৮ সালে বার্ডের অধিভুক্ত সমবায় প্রতিষ্ঠান দিদার সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক পুলিশ সদস্য চা বিক্রেতা মো. ইয়াছিনও র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরষ্কার পেয়েছেন। ১৯৮৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার ও ২০২১ সালে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন পদকও পায় বার্ড।
বার্ডের মহাপরিচালক সাইফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বার্ড আখতার হামিদ খানের অনন্য সৃষ্টি। এখানে নানা ধরনের কাজ হচ্ছে। প্রতিষ্ঠার পর যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নানা ধরনের গবেষণা করছে। বার্ডের উদ্ভাবিত নানা কর্মসূচি রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রকল্প হিসেবে নেওয়া হয়।

কুমিল্লার কোটবাড়িতে অবস্থিত বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (বার্ড) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। এ উপলক্ষে সকালে ড. আখতার হামিদ খানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। বাদ জোহর বার্ড মসজিদে দোয়া হবে। আগামী ১৩ জুন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা হবে। এতে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি থাকবেন।
১৯৫৯ সালের ২৭ মে পাকিস্তান সরকার কুমিল্লায় পাকিস্তান একাডেমি ফর ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠা করে। ড. আখতার হামিদ খান কে তখন এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক করা হয়। পরবর্তীতে এই প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয় পাকিস্তান একাডেমি ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট। যা বর্তমানে বাংলাদেশ একাডেমি ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট (বার্ড) নামে পরিচিতি। অতীতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি বার্ডে প্রথমে কৃষক, রিকশাচালক ও মৃৎশিল্পীদের নিয়ে সমবায় সমিতি চালু করেন। এর মাধ্যমে পুঁজি গঠন করে নতুন নতুন কর্মসূচি নেওয়া হয়। কৃষি কাজে যন্ত্রপাতির ব্যবহার চালু করা হয়। বার্ডের উস্তাবিত এইসব কর্মসূচি রাষ্ট্রীয়ভাবে গ্রহণ করে প্রকল্প তৈরি করা হয়। এইসব প্রকল্প এখনও চলছে।
আখতার হামিদ খান সমবায়ের মাধ্যমে কৃষি আধুনিকায়নের লক্ষে উন্নত পদ্ধতির চাষাবাদ শুরু করেন। আদর্শ সদর উপজেলার বলরামপুর গ্রামে দিদার সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমিতি করেন। সেখানে রিকশাচা-লকদের দিয়ে সমিতি করেন। ওই সমিতির সদস্য পরবর্তীতে র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরষ্কার পান। সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুরে মৃৎশিল্পীদের জন্য সমবায় সমিতি করেন বিজয়পুরের মৃৎশিল্প থেকে উৎপাদিত মাটির সামগ্রী এখন বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। মূলত তিনি কুমিল্লা পদ্ধতির মাধ্যমে সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করেন। এতে স্থানীয় সরকারের ধারনা তৈরি করে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করা হয়। মহিলাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য মহিলা সমিতি গঠন করেন। ওই সমিতির সদস্য তাহেরা আবদুল্লাহও র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরষ্কার পেয়েছেন। তিনিও সবার আগে এই পুরষ্কার পান।
পল্লী উন্নয়ন, সমবায় আন্দোলন, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও প্রায়োগিক গবেষণায় কুমিল্লার কোটবাড়িতে অবস্থিত বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) ৬৭ বছর ধরে দেশে বিদেশে সুনাম অর্জন করেছে। পল্লী উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখায় বাংলাদেশ সরকার এই প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরষ্কার ও জাতীয় পল্লী উন্নয়ন পদকে ভূষিত করেছে । বার্ডের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত তিনজন পেয়েছিলেন র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরষ্কারও। বার্ডের পরিচিতি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও।
প্রতি বছর হাজার হাজার দর্শনার্থী এই নৈসর্গিক, মনোলোভা টিলাঘেরা ও গাছগাছালির অপূর্ব সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ক্যাম্পাস দেখতে আসেন। ১৯৫৯ সালের ২৭ মে বার্ড প্রতিষ্ঠা হয়। কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে পাহাড় ও টিলাঘেরা কোটবাড়ি এলাকার ১৫৬ একর জমির উপর বার্ড প্রতিষ্ঠা হয়। ময়নামতি পাহাড়ের অনুপম নৈসর্গিক দৃশ্যকে অটুট রেখে প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশে ও গ্রীক স্থাপত্যের আদলে ডাঙ এডিস ফার্মের নকশায় তৈরি হয় এখানকার ভবনগুলো। এখানকার এক ভবন থেকে অন্য ভবনে যেতে কোন রোদ লাগে না। বৃষ্টি ও পড়ে না। পুরো ক্যাম্পাসের স্থাপনাই সেভাবেই তৈরি করা হয়েছে। ভবনগুলোর ফাঁকে ফাঁকে রয়েছে নানা দুলর্ভ প্রজাতির ফুল ও ফলের গাছও।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে বার্ড একটি স্বায়ত্তশা-ি সত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পল্লী উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) আইন ২০১৭ অনুসারে একাডেমির কাজ হচ্ছে। বার্ডের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১৮ সদস্যবিশিষ্ট একটি পরিচালনা পর্ষদ আছে। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি। বার্ডের মহাপরিচালক হলেন প্রধান নির্বাহী। বর্তমানে বার্ডে একজন মহাপরিচালক, একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক, নয়জন পরিচালক ও ৫০ জন অনুষদ সদস্য আছে। বার্ড জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমÐলে প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও প্রায়োগিক গবেষণার ক্ষেত্রে ৬৬ বছর যাবৎ তার অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে একবিংশ শতাব্দীর চাহিদাকে বিবেচনায় রেখে তথ্য প্রযুক্তি সফল প্রয়োগে বাংলাদেশে পল্লী উন্নয়নের ক্ষেত্রে কার্যকর ভ‚মিকা রাখার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি আরও বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
বার্ড সূত্র জানায়, বাংলাদেশে বার্ড উদ্ভাবিত পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা বাস্তবায়ন করছে। খ্যাতনামা এ প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রশাসনিক জনবলের পদ রয়েছে ৩৬৫ জন। কর্মরত আছেন ২৭৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২১৯ জন, নারী ৫৬ জন। শুন্য ৯০টি পদ।
২০১৬ সালের জুন মাসে সরকার লালমাই-ময়নামতি এলাকার পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন নিয়ে ৫০ কোটি ৫৫ লাখ টাকার একটি প্রকল্প নেয়। এর মাধ্যমে লালমাই ও ময়নামতি পাহাড়ের পাদদেশের আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ ও বুড়িচং উপজেলার ১৩ হাজার ৫৯৭ টি পরিবার উপকৃত হচ্ছে। তাঁদের বার্ডের পক্ষ থেকে ২৯৩ টি সংগঠন করে। ৯ হাজার জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে জৈব সার, বীজ, ধান কাটা ও রোপনের যন্ত্র দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের অধীনে সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হয় সাড়ে সাত কোটি, কম সুদে দেওয়া হয় ১১ কোটি। প্রকল্পের ২৯ জন মাঠকর্মীর চাকরিও স্থায়ী হন প্রকল্প থেকে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে।
'বার্ডে রয়েছে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার। বার্ডের প্রতিষ্ঠাতা ড. আখতার হামিদ খানের নামেই নামকরণ করা হয়েছে বার্ড গ্রন্থাগারের। সেখানে বর্তমানে দেশি-বিদেশি অনেক দুর্লভ গ্রন্থসহ প্রায় ৭০ হাজার গ্রন্থ রয়েছে বলে জানা গেছে। এখানে সাতটি হোস্টেলে ৩৯১ জনের থাকার ব্যবস্থা আছে। নতুন করে আরও হোস্টেল হচ্ছে। বার্ডের ও বাইরের মানুষের দিকে লক্ষ রেখে ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠা হয় শিশু বিতান বার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়। কয়েকবছর আগে ওই প্রতিষ্ঠানেই চালু করা হয় ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান। ২০২০ সালে তিনতলা ভবন করে প্রতিষ্ঠা করা হয় বার্ড মডেল হাইস্কুল। এখানে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান হচ্ছে। শিগগিরই চালু হচ্ছে কলেজ শাখা।
বার্ডের যত পুরষ্কার: বার্ডের প্রতিষ্ঠাতা ড. আখতার হামিদ খান ১৯৬৩ সালে র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৭৮ সালে বার্ডের মহিলা কর্মসূচির কর্মী তাহেরা আবদুল্লাহ ও ১৯৮৮ সালে বার্ডের অধিভুক্ত সমবায় প্রতিষ্ঠান দিদার সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক পুলিশ সদস্য চা বিক্রেতা মো. ইয়াছিনও র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরষ্কার পেয়েছেন। ১৯৮৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার ও ২০২১ সালে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন পদকও পায় বার্ড।
বার্ডের মহাপরিচালক সাইফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বার্ড আখতার হামিদ খানের অনন্য সৃষ্টি। এখানে নানা ধরনের কাজ হচ্ছে। প্রতিষ্ঠার পর যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নানা ধরনের গবেষণা করছে। বার্ডের উদ্ভাবিত নানা কর্মসূচি রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রকল্প হিসেবে নেওয়া হয়।