স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের অশ্রুসিক্ত দুই ঘণ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রায় দুই ঘণ্টার স্মরণ সভা ও দোয়ার অনুষ্ঠান। সেখানে প্রয়াতের স্মৃতিচারণ করেন তাঁর স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা। এই পুরো সময়টা জুড়ে প্রয়াতকে স্মরণ করে সবাই অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। সেখানে তাঁর ছোট মেয়ে লুমানিস সায়গাল রাশা বলেন, বাবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজ সেবাকে বেশি সময় দিয়েছেন। তাঁর কাছে গিয়ে কেউ খালি হাতে ফিরেননি। তিনি ছাদ বাগান করেছেন। সেখানে বসে রাতে চাঁদের আলো দেখতেন। এখনও সেই ছাদে জ্যোৎস্না নামে। কিন্তু বাবা নেই। আমরা কেউ ছাদে যেতাম না, জোসনায় মন ভেজাতাম না, তা নিয়ে বাবা অভিমান করতেন। বাবার প্রতিষ্ঠিত কলেজে শিক্ষকতা করি। একদিন বৃষ্টিতে সব ডুবে গেছে। বাবাকে বললাম- সব ডুবে গেছে, কলেজে কীভাবে যাব? বাবা বললেন- নিজেকে সভাপতির মেয়ে মনে করে কাজে ফাঁকি দিও না। আমার অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যেতে পারলে তুমি কেন পারবে না? বাবা আমাদের সুপার হিরো ছিলেন। এখন তাকে হারিয়ে বুঝি কি হারিয়েছি।
পাশের মসজিদের ইমাম মো.তারেক বলেন, তিনি বাবার বন্ধু ছিলেন। আমি তাঁর কোলে পিঠে বড় হয়েছি। একদিন এসে বললেন-যেন পাসপোর্ট তৈরি করি। আমাকে তিনি হজে পাঠালেন। তিনি নীরবে দান করতেন। আরেকদিন আমার বাবার মারা যাওয়ার পর আনমনা হয়ে বসে আছি। তিনি কারণ জানতে চাইলেন। আমি বাবার কথা তুলতে তিনি বললেন- আমিই তোমার বাবা। তিনি মৃত্যুর আগে প্রায় বলতেন-আমার মৃত্যুর পর কে খাটিয়া কাঁধে নেবে।
কুমিল্লা কৃষি ও কারিগরি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আনিসুর রহমান আখন্দের স্মরণসভায় তাঁরা এসব কথা বলেন। আজ বৃহস্পতিবার কুমিল্লা কৃষি ও কারিগরি কলেজ মিলনায়তনে এই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। এমন বক্তব্য শুনে অতিথি ও শিক্ষার্থীরা সবাই চোখ মোচেন।
বক্তারা বলেন, কর্মগুণে বেঁচে থাকবেন মোহাম্মদ আনিসুর রহমান আখন্দ। তিনি শুধু কৃষি কলেজই নয়, আরও দুটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। দাতারা কখনও মারা যান না, তারা কাজের মাধ্যমে বেঁচে থাকেন। শত-শত ছেলেমেয়ের কর্মসংস্থানে ভূমিকা রেখেছেন। তিনি মানুষের কল্যাণে অকাতরে পরিশ্রম করে গেছেন। এমন মানুষ বাংলাদেশে বিরল।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা কৃষি ও কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ পরমানন্দ গোস্বামী।
বক্তব্য রাখেন সুজন কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান, বাপা কুমিল্লার সভাপতি বদরুল হুদা জেনু, কলেজের সভাপতি অধ্যক্ষ মোফাজ্জল হায়দার মজুমদার, প্রয়াতের বড় মেয়ে হুমায়রা আসগাল দিশা, অধ্যাপক নিখিল চন্দ্র দে, জিলা স্কুল ১৯৭২ ব্যাচের সহপাঠী তোফাজ্জল হোসেন, আবদুস সালাম ও খলিলুর রহমান প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, গত ৪ ডিসেম্বর মারা যান মোহাম্মদ আনিসুর রহমান আখন্দ। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করার পর ভারত থেকে ফিশারিজের ওপর ডিপ্লোমা করেন। তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি সুশাসনের জন্য নাগরিক কুমিল্লা মহানগরের সভাপতি, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য, রোটারি ক্লাব অব ময়নামতির সেকেন্ড প্রেসিডেন্ট, প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। কুমিল্লায় ব্রয়লার মুরগির ব্যবসা সম্প্রসারণ, লেয়ার মুরগির ডিম ও স্থানীয় পর্যায়ে মাছের রেণু উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা কৃষি ও কারিগরি কলেজের অনেকেই সুপ্রতিষ্ঠিত।

প্রায় দুই ঘণ্টার স্মরণ সভা ও দোয়ার অনুষ্ঠান। সেখানে প্রয়াতের স্মৃতিচারণ করেন তাঁর স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা। এই পুরো সময়টা জুড়ে প্রয়াতকে স্মরণ করে সবাই অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। সেখানে তাঁর ছোট মেয়ে লুমানিস সায়গাল রাশা বলেন, বাবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজ সেবাকে বেশি সময় দিয়েছেন। তাঁর কাছে গিয়ে কেউ খালি হাতে ফিরেননি। তিনি ছাদ বাগান করেছেন। সেখানে বসে রাতে চাঁদের আলো দেখতেন। এখনও সেই ছাদে জ্যোৎস্না নামে। কিন্তু বাবা নেই। আমরা কেউ ছাদে যেতাম না, জোসনায় মন ভেজাতাম না, তা নিয়ে বাবা অভিমান করতেন। বাবার প্রতিষ্ঠিত কলেজে শিক্ষকতা করি। একদিন বৃষ্টিতে সব ডুবে গেছে। বাবাকে বললাম- সব ডুবে গেছে, কলেজে কীভাবে যাব? বাবা বললেন- নিজেকে সভাপতির মেয়ে মনে করে কাজে ফাঁকি দিও না। আমার অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যেতে পারলে তুমি কেন পারবে না? বাবা আমাদের সুপার হিরো ছিলেন। এখন তাকে হারিয়ে বুঝি কি হারিয়েছি।
পাশের মসজিদের ইমাম মো.তারেক বলেন, তিনি বাবার বন্ধু ছিলেন। আমি তাঁর কোলে পিঠে বড় হয়েছি। একদিন এসে বললেন-যেন পাসপোর্ট তৈরি করি। আমাকে তিনি হজে পাঠালেন। তিনি নীরবে দান করতেন। আরেকদিন আমার বাবার মারা যাওয়ার পর আনমনা হয়ে বসে আছি। তিনি কারণ জানতে চাইলেন। আমি বাবার কথা তুলতে তিনি বললেন- আমিই তোমার বাবা। তিনি মৃত্যুর আগে প্রায় বলতেন-আমার মৃত্যুর পর কে খাটিয়া কাঁধে নেবে।
কুমিল্লা কৃষি ও কারিগরি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আনিসুর রহমান আখন্দের স্মরণসভায় তাঁরা এসব কথা বলেন। আজ বৃহস্পতিবার কুমিল্লা কৃষি ও কারিগরি কলেজ মিলনায়তনে এই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। এমন বক্তব্য শুনে অতিথি ও শিক্ষার্থীরা সবাই চোখ মোচেন।
বক্তারা বলেন, কর্মগুণে বেঁচে থাকবেন মোহাম্মদ আনিসুর রহমান আখন্দ। তিনি শুধু কৃষি কলেজই নয়, আরও দুটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। দাতারা কখনও মারা যান না, তারা কাজের মাধ্যমে বেঁচে থাকেন। শত-শত ছেলেমেয়ের কর্মসংস্থানে ভূমিকা রেখেছেন। তিনি মানুষের কল্যাণে অকাতরে পরিশ্রম করে গেছেন। এমন মানুষ বাংলাদেশে বিরল।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা কৃষি ও কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ পরমানন্দ গোস্বামী।
বক্তব্য রাখেন সুজন কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান, বাপা কুমিল্লার সভাপতি বদরুল হুদা জেনু, কলেজের সভাপতি অধ্যক্ষ মোফাজ্জল হায়দার মজুমদার, প্রয়াতের বড় মেয়ে হুমায়রা আসগাল দিশা, অধ্যাপক নিখিল চন্দ্র দে, জিলা স্কুল ১৯৭২ ব্যাচের সহপাঠী তোফাজ্জল হোসেন, আবদুস সালাম ও খলিলুর রহমান প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, গত ৪ ডিসেম্বর মারা যান মোহাম্মদ আনিসুর রহমান আখন্দ। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করার পর ভারত থেকে ফিশারিজের ওপর ডিপ্লোমা করেন। তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি সুশাসনের জন্য নাগরিক কুমিল্লা মহানগরের সভাপতি, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য, রোটারি ক্লাব অব ময়নামতির সেকেন্ড প্রেসিডেন্ট, প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। কুমিল্লায় ব্রয়লার মুরগির ব্যবসা সম্প্রসারণ, লেয়ার মুরগির ডিম ও স্থানীয় পর্যায়ে মাছের রেণু উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা কৃষি ও কারিগরি কলেজের অনেকেই সুপ্রতিষ্ঠিত।