বাছাইয়ে আপত্তির পর এবার আপিলেও হেরেছেন ইয়াছিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
Thumbnail image

কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ উপজেলা, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ও কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের দায়ের করা আপিল নামঞ্জুর করেছেন নির্বাচন কমিশন। গতকাল বুধবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ওই আপিল শুনানি হয়।

মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন এর আগে গত ২ জানুয়ারি প্রার্থীতা বাছাইয়ের সময় আইনজীবী এনে মনিরুল হক চৌধুরীর মনোনয়নপত্র আটকানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করেন। কিন্তু নথিপত্র ও যুক্তিতর্কে নথি পর্যালোচনা করে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার ওই আদেশের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। গতকাল বুধবারও আপিলে হারেন ইয়াছিন। এর ফলে মনিরুল হক চৌধুরীর মনোনয়নপত্র আবারও বৈধতা পেল।

কুমিল্লার সরকারি কৌসুলি (পিপি) ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কুমিল্লার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মো. কাইয়ুম হক রিংকু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানতে চাইলে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, এ ধরনের আজগুবি ও গায়েবি অভিযোগ নির্বাচন কমিশন নাকচ করে দিয়েছেন। তারা আমার মনোনয়নপত্রের বৈধতা বহাল রেখেছেন। সেজন্য নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানাই। ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে কুমিল্লার জনগণ এসব ষড়যন্ত্রের সমুচিত জবাব দেবে ইনশাআল্লাহ।

মনিরুল হক চৌধুরীর আইনজীবী প্যানেলের অন্তত দুইজন সদস্য জানিয়েছেন, আপিলে তিনটি বিষয় উল্লেখ করে মনোনয়ন বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের আইনজীবী। অভিযোগগুলো হলো পূর্বাচল ফুয়েলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে মনিরুল হক চৌধুরী ঋণ নিয়ে তা হলফনামায় উল্লেখ করেননি। কুমিল্লা নগরের উত্তর চর্থার এলাকার মনির টাওয়ার নামক সম্পত্তির তথ্য গোপন ও নির্ভরশীল প্রতিনিধির বিষয়ে হলফনামায় তথ্য না দেওয়া।

এ প্রসঙ্গে মনিরুল হক চৌধুরীর আইনজীবী ব্যারিষ্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল গতকাল নির্বাচন কমিশনে ব্যাখ্যা দেন। তিনি কমিশনকে জানান, পূর্বাচল ফুয়েলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মনিরুল হক চৌধুরী নন, চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তাঁর স্ত্রী বেগম আজিজুন্নেসা। এ মর্মে ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত ডকুমেন্ট সরবরাহ করা হয়। মনির টাওয়ারের মালিকানা বিষয়ে জানান, এ সম্পত্তি তিনি পূর্বেই তাঁর সন্তানদের নামে লিখে দিয়েছেন। নির্ভরশীলদের তথ্য দেয়া বাধ্যতামূলক নয় বরং ঐচ্ছিক। সেজন্য এটি গৃহীত হবে না।

দুইপক্ষের দীর্ঘ শুনানির পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসির উদ্দিন আপিল নামঞ্জুর করে মনোনয়ন বৈধতা ঘোষণা করেন। মনিরুল হক চৌধুরীর আইনজীবী ব্যারিষ্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, সকল ডকুমেন্টস দীর্ঘ শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন মনিরুল হক চৌধুরীর মনোনয়ন বৈধতা বহাল রেখেছেন।

এ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হাঁস মার্কার মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত