নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক চার নেতাই পেলেন সরকারি সুযোগ সুবিধা ও পদবি। তাঁরা হলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মো. মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি উদবাতুল বারী আবু ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম।
এখন পদ পেতে চান কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. আমিরুজ্জামান, কুমিল্লা শহর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সাজ্জাদুল কবীর ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রথম রাজনৈতিক প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু: কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রথম পূর্ণকালীন প্রশাসক হয়েছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু। তিনি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রথম রাজনৈতিক প্রশাসক। গত ১৪ মার্চ স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখার উপসচিব মো. রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪ এর ধারা ২৫ ক এর উপধারা (১) এর অনুবৃত্তিক্রমে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সিটি করপোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে এই নিয়োগ প্রদান করা হলো।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মো. ইউসুফ মোল্লা টিপুর জন্ম ১৯৭৬ সালের ২৮ নভেম্বর। তিনি আব্দুল গফুর মোল্লা ও মোসা. রহিমা বেগমের সন্তান। কুমিল্লা নগরের দক্ষিণ চর্থা এলাকায় তাঁর বাসা ও হোল্ডিং নম্বর। টিপু দুই কন্যা সন্তানের জনক। তাঁর বাবা চৌদ্দগ্রামের একটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু কুমিল্লা শহর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০২২ সালের ৩০ মে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য সচিব ছিলেন। ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হন। ২০২০ সালের মার্চ মাসে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সময় ইউসুফ মোল্লা টিপু কুমিল্লা নগর ও জেলায় ঝুঁকি নিয়ে করোনায় মৃত ব্যক্তিদের লাশ দাফন, সৎকার করেন। তিনি করোনা রোগীদের সেবায় কাজ করেন। তখন অন্তত ৫০০ ব্যক্তিকে মানবিক সংগঠন বিবেকের মাধ্যমে দল গঠন করে লাশ দাফন করেন। ওই সময়ে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজর কাড়েন। করোনার সময় কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার কালীরবাজার ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতা পারভেজ হোসেনকে সমিলে নিয়ে ড্রিল মেশিন দিয়ে হত্যা করেন আওয়ামী লীগের তৎকালীন চেয়ারম্যান সেকান্দর আলী ও তাঁর লোকজন। ওই সময়ে ইউসুফ মোল্লা টিপু ওই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ করেন। একই সঙ্গে তারেক রহমানের নির্দেশে ওই পরিবারকে আইনি ও আর্থিক সহায়তা দেন। তারেক রহমানের দেওয়া অর্থ কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতাদের নিয়ে পারভেজের বাড়ি পৌঁছে দেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি কুমিল্লা নগরে ফগার মেশিন ও স্প্রে মেশিন কিনে মশক নিধনে কাজ করেন। কুমিল্লা নগরে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতামূলক কাজ করেন। আওয়ামী লীগ শাসনামলে তিনি কারাবরণ করেন। তাঁর বাড়িতে জুলাই আন্দোলনে গুলি করা হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মো. ইউসুফ মোল্লা টিপুর রাজনৈতিক উত্থান কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা ( বর্তমানে বহিস্কৃত) মো. মনিরুল হক সাক্কুর হাত ধরে। সাক্কুর সঙ্গে ২০২২ সালের ১৫ জুনের কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে তাঁর মতবিরোধ দেখা দেয়। ওই নির্বাচনের সময় তিনি সাক্কুর থেকে আলাদা হয়ে যান। এরপর টিপু, সাক্কুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বর্তমান কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের বলয়ে যোগ দেন। ইয়াছিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন পাননি। তখন নেপথ্যে থেকে টিপু তাঁর অনুসারীদের দিয়ে নানা ধরনের কর্মসূচি করেন ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে লবিং করেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর ইয়াছিন মন্ত্রী হন। মন্ত্রীসভা গঠনের পর দেশের কয়েকটি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর টিপু কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হন।
কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন মোস্তাক মিয়া: কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক হয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া। গত ১৫ মার্চ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ওই তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা (নতুন প্রশাসক) প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করবেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এর মাধ্যমে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক ও উন্নয়নের কার্যক্রমে গতি আসবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকেরা জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪-এর ধারা ৩, এবং জেলা পরিষদ আইন ২০০০-এ সন্নিবেশিত ধারা ৮২ক(৩) অনুযায়ী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁরা বিধি মোতাবেক ভাতা পাবেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, মো. মোস্তাক মিয়া ১৯৭৯ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮২ সাল থেকে ৯০ সাল পর্যন্ত স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮৩ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক ও কুমিল্লা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮৪ সালের ২০ ডিসেম্বর কুমিল্লা টাউন হলে কাউন্সিলের মাধ্যমে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
১৯৯৩ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি (রিজভী আহমেদ ও ইলিয়াস আলী এবং ফজলুল হক মিলন ও নাজিম উদ্দীন আলম) কমিটির বৃহত্তর চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৪ সালে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক নির্বাচিত হয়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতির ইতি টানেন। ১৯৯৫ সালে কুমিল্লা শহর বিএনপির সদস্য সচিব নির্বাচিত হন। ২০০০ সালে কর্নেল আকবর হোসেনের কমিটিতে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হন ।
২০০৯ সালে ২৪ নভেম্বর কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের জাতীয় কাউন্সিলে সহসাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ) নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা কৃষকদলের সভাপতি ছিলেন।
কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হলেন উদবাতুল বারী আবু: কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু।
গত ১১ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার উপসচিব গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬- এর ধারা ৮(১) অনুযায়ী উদবাতুল বারী আবুকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছর মেয়াদে তিনি কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (গ্রেড-২ পদমর্যাদা) পদে দায়িত্ব পালন করবেন। ৪ জুলাই কুমিল্লা গণপূর্ত অধিদপ্তরের তৃতীয় তলায় কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অফিস চালু করা হয়। সেখানে তিনি অফিস করেন।
এর আগে, চলতি বছরের এপ্রিলে জাতীয় সংসদে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিলটি পাসের পর ২১ মে ২০২৬ সালে সরকার প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করে।
কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম: তিন বছরের জন্য কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান হলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম ভিপি।
স্থানীয় সরকার বিভাগের পানি সরবরাহ-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মোছা. আকতারুন নেছা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ৯ আগস্ট ওই তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ এর ধারা ৭ (১) অনুযায়ী কুমিল্লা নগরের ৪১৬ মুন্সেফ বাড়ি এলাকার আবদুর রহিম মাহমুদ ও জাহানারা মাহমুদের ছেলে আশিকুর রহমান মাহমুদ (ভিপি ওয়াসিম)কে কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে তিন বছর মেয়াদে নিয়োগ প্রদান করা হলো।
আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সর্বশেষ ভিপি (সহসভাপতি) ছিলেন। ১৯৯৮ সালে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে যৌথ প্যানেল দিয়ে ওয়াসিম ভিপি হন। তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি।
টিপু ছাড়া তিনজনই কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের বলয়ের।
কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম গতকাল রাতে আমার শহরকে বলেন, এখনও আমার অফিস ঠিক করা হয়নি। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসে হবে, নাকি অন্য কোথাও তা ঠিক হয়নি।
কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও শহর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সাজ্জাদুল কবীর বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদেরকে যেকোনো পদে দায়িত্ব দিলে আমরা সেটি পালন করব। দলের ত্যাগী নেতা হিসেবে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক চার নেতাই পেলেন সরকারি সুযোগ সুবিধা ও পদবি। তাঁরা হলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মো. মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি উদবাতুল বারী আবু ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম।
এখন পদ পেতে চান কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. আমিরুজ্জামান, কুমিল্লা শহর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সাজ্জাদুল কবীর ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রথম রাজনৈতিক প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু: কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রথম পূর্ণকালীন প্রশাসক হয়েছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু। তিনি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রথম রাজনৈতিক প্রশাসক। গত ১৪ মার্চ স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখার উপসচিব মো. রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪ এর ধারা ২৫ ক এর উপধারা (১) এর অনুবৃত্তিক্রমে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সিটি করপোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে এই নিয়োগ প্রদান করা হলো।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মো. ইউসুফ মোল্লা টিপুর জন্ম ১৯৭৬ সালের ২৮ নভেম্বর। তিনি আব্দুল গফুর মোল্লা ও মোসা. রহিমা বেগমের সন্তান। কুমিল্লা নগরের দক্ষিণ চর্থা এলাকায় তাঁর বাসা ও হোল্ডিং নম্বর। টিপু দুই কন্যা সন্তানের জনক। তাঁর বাবা চৌদ্দগ্রামের একটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু কুমিল্লা শহর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০২২ সালের ৩০ মে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য সচিব ছিলেন। ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হন। ২০২০ সালের মার্চ মাসে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সময় ইউসুফ মোল্লা টিপু কুমিল্লা নগর ও জেলায় ঝুঁকি নিয়ে করোনায় মৃত ব্যক্তিদের লাশ দাফন, সৎকার করেন। তিনি করোনা রোগীদের সেবায় কাজ করেন। তখন অন্তত ৫০০ ব্যক্তিকে মানবিক সংগঠন বিবেকের মাধ্যমে দল গঠন করে লাশ দাফন করেন। ওই সময়ে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজর কাড়েন। করোনার সময় কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার কালীরবাজার ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতা পারভেজ হোসেনকে সমিলে নিয়ে ড্রিল মেশিন দিয়ে হত্যা করেন আওয়ামী লীগের তৎকালীন চেয়ারম্যান সেকান্দর আলী ও তাঁর লোকজন। ওই সময়ে ইউসুফ মোল্লা টিপু ওই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ করেন। একই সঙ্গে তারেক রহমানের নির্দেশে ওই পরিবারকে আইনি ও আর্থিক সহায়তা দেন। তারেক রহমানের দেওয়া অর্থ কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতাদের নিয়ে পারভেজের বাড়ি পৌঁছে দেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি কুমিল্লা নগরে ফগার মেশিন ও স্প্রে মেশিন কিনে মশক নিধনে কাজ করেন। কুমিল্লা নগরে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতামূলক কাজ করেন। আওয়ামী লীগ শাসনামলে তিনি কারাবরণ করেন। তাঁর বাড়িতে জুলাই আন্দোলনে গুলি করা হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মো. ইউসুফ মোল্লা টিপুর রাজনৈতিক উত্থান কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা ( বর্তমানে বহিস্কৃত) মো. মনিরুল হক সাক্কুর হাত ধরে। সাক্কুর সঙ্গে ২০২২ সালের ১৫ জুনের কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে তাঁর মতবিরোধ দেখা দেয়। ওই নির্বাচনের সময় তিনি সাক্কুর থেকে আলাদা হয়ে যান। এরপর টিপু, সাক্কুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বর্তমান কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের বলয়ে যোগ দেন। ইয়াছিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন পাননি। তখন নেপথ্যে থেকে টিপু তাঁর অনুসারীদের দিয়ে নানা ধরনের কর্মসূচি করেন ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে লবিং করেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর ইয়াছিন মন্ত্রী হন। মন্ত্রীসভা গঠনের পর দেশের কয়েকটি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর টিপু কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হন।
কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন মোস্তাক মিয়া: কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক হয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া। গত ১৫ মার্চ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ওই তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা (নতুন প্রশাসক) প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করবেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এর মাধ্যমে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক ও উন্নয়নের কার্যক্রমে গতি আসবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকেরা জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪-এর ধারা ৩, এবং জেলা পরিষদ আইন ২০০০-এ সন্নিবেশিত ধারা ৮২ক(৩) অনুযায়ী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁরা বিধি মোতাবেক ভাতা পাবেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, মো. মোস্তাক মিয়া ১৯৭৯ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮২ সাল থেকে ৯০ সাল পর্যন্ত স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮৩ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক ও কুমিল্লা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮৪ সালের ২০ ডিসেম্বর কুমিল্লা টাউন হলে কাউন্সিলের মাধ্যমে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
১৯৯৩ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি (রিজভী আহমেদ ও ইলিয়াস আলী এবং ফজলুল হক মিলন ও নাজিম উদ্দীন আলম) কমিটির বৃহত্তর চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৪ সালে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক নির্বাচিত হয়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতির ইতি টানেন। ১৯৯৫ সালে কুমিল্লা শহর বিএনপির সদস্য সচিব নির্বাচিত হন। ২০০০ সালে কর্নেল আকবর হোসেনের কমিটিতে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হন ।
২০০৯ সালে ২৪ নভেম্বর কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের জাতীয় কাউন্সিলে সহসাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ) নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা কৃষকদলের সভাপতি ছিলেন।
কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হলেন উদবাতুল বারী আবু: কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু।
গত ১১ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার উপসচিব গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬- এর ধারা ৮(১) অনুযায়ী উদবাতুল বারী আবুকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছর মেয়াদে তিনি কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (গ্রেড-২ পদমর্যাদা) পদে দায়িত্ব পালন করবেন। ৪ জুলাই কুমিল্লা গণপূর্ত অধিদপ্তরের তৃতীয় তলায় কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অফিস চালু করা হয়। সেখানে তিনি অফিস করেন।
এর আগে, চলতি বছরের এপ্রিলে জাতীয় সংসদে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিলটি পাসের পর ২১ মে ২০২৬ সালে সরকার প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করে।
কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম: তিন বছরের জন্য কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান হলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম ভিপি।
স্থানীয় সরকার বিভাগের পানি সরবরাহ-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মোছা. আকতারুন নেছা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ৯ আগস্ট ওই তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ এর ধারা ৭ (১) অনুযায়ী কুমিল্লা নগরের ৪১৬ মুন্সেফ বাড়ি এলাকার আবদুর রহিম মাহমুদ ও জাহানারা মাহমুদের ছেলে আশিকুর রহমান মাহমুদ (ভিপি ওয়াসিম)কে কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে তিন বছর মেয়াদে নিয়োগ প্রদান করা হলো।
আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সর্বশেষ ভিপি (সহসভাপতি) ছিলেন। ১৯৯৮ সালে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে যৌথ প্যানেল দিয়ে ওয়াসিম ভিপি হন। তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি।
টিপু ছাড়া তিনজনই কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের বলয়ের।
কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম গতকাল রাতে আমার শহরকে বলেন, এখনও আমার অফিস ঠিক করা হয়নি। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসে হবে, নাকি অন্য কোথাও তা ঠিক হয়নি।
কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও শহর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সাজ্জাদুল কবীর বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদেরকে যেকোনো পদে দায়িত্ব দিলে আমরা সেটি পালন করব। দলের ত্যাগী নেতা হিসেবে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।