হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার ঐতিহ্য ঢেঁকি

আবু সাঈদ, চান্দিনা
Thumbnail image

যান্ত্রিকতার চাপে বিলুপ্তির পথে গ্রামীণ সংস্কৃতির প্রতীক ঢেঁকি। এক সময় জেলার চান্দিনা উপজেলার গ্রাম গুলোতে ঢেঁকির শব্দে মুখর থাকতো প্রতিটি বাড়ির উঠান ও রসুইঘর (অনেকের রান্না ঘরে থাকতো ঢেঁকি)। গ্রামের বধুরা এক পায়ে ঢেঁকিতে ভর দিয়ে ধান ভানা, হলুদ-মরিচ গুড়ো করা, চিড়া ও খই তৈরির কাজ করতেন। নবান্ন উৎসব, বিয়ে, ঈদ ও পূজায় ঢেঁকিতে ধান ভেনে আটা তৈরি করা হতো। ঢেঁকির ধুপধাপ শব্দে মুখরিত ছিল বাংলার জনপদ। তবে আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতার ছোঁয়ায় আজ চান্দিনার গ্রামগুলোতে ঢেঁকির ব্যবহার প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

উপজেলার হারং, চিলোড়া, বাড়েরা, মহিচাইল, পানিপাড়া ও মাইজখারসহ বিভিন্ন গ্রামে দেখা যায়, হাতে গোনা কয়েকটি বাড়িতে ঢেঁকি থাকলেও সেগুলো অব্যবহৃত। স্বয়ংক্রিয় রাইস মিল ও বৈদ্যুতিক গ্রাইন্ডারের সহজলভ্যতায় ঢেঁকি আজ অতীতের স্মৃতিতে পরিণত হচ্ছে।

মাইজখারের গ্রামের রাবেয়া বেগম জানান, ঢেঁকিতে ভানা চালের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ ছিল আলাদা। নতুন প্রজন্মের অনেকেই ঢেঁকি চোখে দেখেনি। তাদের মতে, ঢেঁকির সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ সংস্কৃতি ও সামাজিক বন্ধন।

পানিপাড়া গ্রামের আমেনা বেগম বলেন, একসময় আমার উঠোনে ঢেঁকি ছিলো। আমাদের বাড়ি সহ আশেপাশের অনেকেই এখানে চাল ভানতে আসতো। কিন্তু এখন বিভিন্ন মিলে সহজেই চাল গুড়ো করা যাওয়ায় ঢেঁকির ব্যবহার হয় না।

অধ্যাপক মাসুমুর রহমান বলেন, একসময় এই অঞ্চলে ঢেঁকির ব্যবহার ছিলো প্রচুর। সময়ের সাথে সাথে ঢেঁকি এখন বিলুপ্তির পথে। কিছু গ্রামে এখনো ঢেঁকির ব্যবহার থাকলেও বেশিরভাগ ঢেঁকি এখন ব্যবহারের অনুপযুক্ত।

সংস্কৃতিকর্মীরা মনে করেন, লোকজ ঐতিহ্য রক্ষায় স্থানীয় উদ্যোগ জরুরি। নচেৎ চান্দিনার গ্রামবাংলা থেকে ঢেঁকি একদিন পুরোপুরি হারিয়ে যাবে।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত