ভাঙা সিঁড়ি ও ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারে বাড়ছে প্রাণহানির আশঙ্কা

চান্দিনায় পদচারি সেতু মরণফাঁদ

আবু সাঈদ, চান্দিনা
Thumbnail image

মহাসড়ক পার হতে গিয়ে শিক্ষার্থী ও পদচারিরা সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিনিয়ত মারা যেতেন। এ নিয়ে এলাকাবাসী মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করতো। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে সড়ক ও জনপথ বিভাগ পদচারি সেতু করে। এতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। কিন্তু এগুলোর ব্যবহার নেই। ‘সচেতন’ ভাবে মানুষ মহাসড়কের এপাশ থেকে ওপাশে দৌড়ে হেঁটে যান। ঝুঁকি নিয়ে তাঁরা পার হন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পথচারীদের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে পাঁচটি পদচারি সেতু।

সরেজমিনে চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড, বড় গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা, মাধাইয়া বাসস্ট্যান্ড, কুটুম্বপুর বাসস্ট্যান্ড এবং তীরচর-গোমতা ইসহাকিয়া উচ্চ বিদ্যালয় এলাকার ফুট ওভারব্রিজগুলো (পদচারি সেতু) ঘুরে দেখা যায়—ব্রিজগুলো কার্যত অব্যবহৃত বা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। কোথাও পথচারীরা ব্রিজ এড়িয়ে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন, আবার কোথাও সিঁড়িতে ধুলা-বালি জমে জং ধরেছে। অনেক জায়গায় ভাঙাচোরা অবস্থা তৈরি হওয়ায় সেগুলো এখন পথচারীদের জন্যই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

কুটুম্বপুর ও গোমতা এলাকায় ফাঁকা ব্রিজ, নিচে ‘মৃত্যুদৌড়’ : কুটুম্বপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৃথক পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর এলাকাবাসী মহাসড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে সেখানে একটি ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের পর থেকেই সেটি প্রায় ব্যবহারহীন। ব্যস্ত সময়েও ব্রিজটি থাকে জনশূন্য, অথচ নিচে দ্রুতগতির বাস-ট্রাকের ফাঁক গলে দৌড়ে রাস্তা পার হচ্ছেন পথচারীরা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ব্রিজ আছে, কিন্তু মানুষ ব্যবহার করে না। তাড়াহুড়া আর অসচেতনতার কারণে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটে।’

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল কাদের বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর পর এলাকাবাসী রাস্তায় নেমেছিল। এখন ব্রিজ আছে, কিন্তু অনেকে সময় বাঁচাতে ঝুঁকি নিয়েই রাস্তা পার হয়।’

একই চিত্র দেখা যায় তীরচর-গোমতা ইসহাকিয়া উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায়। ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর নবম শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া আক্তার ট্রাকচাপায় নিহত হলে ক্ষুব্ধ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে সেখানে ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হলেও বর্তমানে সেটিও প্রায় ব্যবহারহীন। ব্রিজের নিচে সড়ক বিভাজকের লোহার ব্যারিকেড ভেঙে পথচারীরা সেখান দিয়েই পারাপার করছেন।

মাধাইয়ায় জং ধরা সিঁড়ি, কাঠের তক্তায় চলাচল: মাধাইয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার ফুট ওভারব্রিজের অবস্থা সবচেয়ে উদ্বেগজনক। সিঁড়ির একাধিক ধাপ জং ধরে ভেঙে গর্ত তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা ভাঙা অংশে কাঠের তক্তা বসিয়ে অস্থায়ীভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন। তবে সেটিও নড়বড়ে হওয়ায় যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

পথচারী আবদুল মান্নান বলেন, ‘সিঁড়ির ধাপ ভেঙে ফাঁকা হয়ে গেছে। কাঠের তক্তা বসানো হলেও পা পিছলে পড়ার ভয় থাকে।’

স্কুলশিক্ষক জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার না হওয়ায় ব্রিজটি এখন নিজেই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। রাতে চলাচল করা আরও ঝুঁকিপূর্ণ।’

চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড ব্যারিকেড ভেঙে নিয়ন্ত্রণহীন পারাপার : চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড এলাকার ফুট ওভারব্রিজের নিচে সড়ক বিভাজকের লোহার ব্যারিকেড ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফলে পথচারিরা সহজেই বিভাজক ডিঙিয়ে চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন। এতে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।

বাসচালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘হঠাৎ সামনে মানুষ চলে আসে। বড় দুর্ঘটনা এড়াতে গিয়ে আমরাই বিপদে পড়ি।’

উপজেলা প্রশাসনের দাবি, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানানো হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশও নজরদারি বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের কুমিল্লা অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘যেসব ওভারব্রিজে ভাঙাচোরা বা জং ধরার সমস্যা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ব্যারিকেডও মেরামত করা হবে।’

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত