কুমিল্লা-৭

চান্দিনায় দ্বিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা

আবু সাঈদ, চান্দিনা
Thumbnail image

সারাদেশেই জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা। শহর বন্দর গ্রাম সব জায়গায় এখন আলোচনার বিষয়বস্তু একটাই। কারা গঠন করবে আগামীর নতুন বাংলাদেশের সরকার। কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে জনগণ কাকে বেছে নিবে নিজেদের সরকার হিসেবে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশের ন্যায় নির্বাচনী আমেজে রয়েছে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনটিও। ভোটের মাঠে এই আসনে মোট ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে লড়ছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ড. রেদোয়ান আহমেদ, স্বতন্ত্র থেকে কলস প্রতীকে সদ্য বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন, ১০ দলীয় জোট থেকে দেয়ালঘড়ি প্রতীকে খেলাফত মজলিসের মাওলানা সোলায়মান খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে মুফতি এহতেশামুল হক কাসেমী ও ছড়ি প্রতীক নিয়ে সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট থেকে সজল কুমার কর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

তবে ভোটাররা মনে করছেন এই আসনে লড়াই হবে ধানের শীষ এবং কলসের। ইতিমধ্যে দুই দলের ব্যাপক গণসংযোগ ও প্রচার প্রচারণা শুরু হয়েছে। নির্বাচনী এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেদোয়ান আহমেদ ও তাঁর নেতাকর্মীরা প্রচার প্রচারণায় মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি ভোটারদের কাছে তুলে ধরছেন তার মন্ত্রী থাকাকালীন সময়ের ব্যাপক উন্নয়ন সেবামূলক কাজের খতিয়ান। অভিজ্ঞ এই নেতার বিপরীতে অন্য চার প্রার্থীই এই প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নিয়মিত উঠান বৈঠক, গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। নেতাকর্মীরা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম শাওন কলস প্রতীক নিয়ে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তার নেতাকর্মীরা চান্দিনার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচারণা চালাচ্ছেন। মানুষকে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

১০ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা সোলায়মান খানও প্রচারণায় সক্রিয় রয়েছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও খেলাফত মজলিসের নেতাকর্মীরা নিয়মিত দেয়ালঘড়ি প্রতীক নিয়ে পথসভা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি এহতেশামুল হক কাসেমীও প্রচারণায় সক্রিয় রয়েছেন। তবে সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী সজল কুমার করের কোন কর্মসূচি এখনো দেখা যায়নি।

নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে প্রার্থীরা তাদের কর্মীদের মনোবল চাঙা রাখতে নিয়মিত সভা-সমাবেশ করছেন। সব মিলিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চান্দিনায় এখন এক রোমাঞ্চকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিজ্ঞতা না কি নবীনের পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি—শেষ পর্যন্ত চান্দিনাবাসী কার গলায় জয়ের মালা পরায়, কে হবেন চান্দিনার প্রায় ৪ লাখ মানুষের প্রতিনিধি, তা-ই দেখার বিষয়।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত