চরম জনদুর্ভোগ

ফুটপাত দখলে নীরব প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ

আবু সাঈদ, চান্দিনা
Thumbnail image

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা সদরে স্টেশন রোড নামক সড়কটিতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে পথচারী, যানবাহন চালক ও ক্রেতা-বিক্রেতারা। মধ্য বাজার চৌরাস্তার ডাব বাজার থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চান্দিনা বাস স্টেশন পর্যন্ত যাতায়াতের এই সড়কটির দূরত্ব মাত্র ১০০ মিটার। অথচ ওই স্বল্প দূরত্বের সড়কটি এখন জনসাধারণের বিরক্তির কারণ। বড় বড় গর্ত, খানাখন্দের কারণে এবং ফুটপাতগুলো অবৈধভাবে দখল হয়ে যাওয়ায় এই সড়কটি এখন প্রায় চলাচল অনুপযোগী। প্রায় ৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে উপজেলা সদর ও পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির প্রতি কোনো নজর নেই প্রশাসনের, উন্নয়নের পদক্ষেপ নেই পৌর কর্তৃপক্ষের। এই অদৃশ্য নীরবতা জনমনে বিভিন্ন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চলতি বর্ষা মৌসুমে এই সড়ক দিয়ে পায়ে হেঁটে যাতায়াত প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। স্থানে স্থানে গর্ত হয়ে গেছে সড়কটিতে। পানি জমে নর্দমার সৃষ্টি হয়। এছাড়া একমাত্র মাছ বাজারটি এই সড়কের মাঝামাঝি অবস্থিত। ফলে বেশিরভাগ সড়ক মাছ ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। রাস্তার দুই পাশে ফুটপাতগুলোতে ফলের দোকান, ডাব-নারকেলের দোকান, কলা বাজার, মাটির তৈরি পণ্যের পসরা সাজিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা পথচারীদের চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। সড়কটির অধিকাংশ স্থানে পাথর উঠে গিয়ে রড দৃশ্যমান হয়ে গেছে। এসব রডে আঘাত পেয়ে একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

এদিকে এই সড়কের পাশে ৩টি প্রাইভেট ক্লিনিকসহ বাজারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান। পার্শ্ববর্তী দেবীদ্বার উপজেলার সাথে সংযোগ স্থাপন করেছে সড়কটি। প্রতিদিন রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের জন্য হাজার হাজার মানুষ সড়কটি দিয়ে চলাচল করে। ফলে সড়কটি সংস্কার করে চলাচল উপযোগী করা অত্যন্ত জরুরি।

পার্শ্ববর্তী দেবীদ্বার উপজেলার বাসিন্দা পথচারী মোহাম্মদ আলী সুমন বলেন, চান্দিনা বাজারেই আমাদের কেনাকাটা ও যাতায়াত বেশি। স্টেশন রোড হয়েই চান্দিনা বাজারে আসতে হয়। এছাড়া উপজেলা গেট হয়ে আরেকটি সড়ক আছে। দুটি সড়কই ভাঙাচোরা। কাদা, ময়লায় পা ফেলা যায় না।

সড়কের পাশের একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ফুটপাতগুলোতে দোকান বসিয়ে প্রতিদিন অনেক টাকা আদায় করে বাজার ইজারাদারের লোকজন। এই কারণে তারা কোন অবৈধ দখলদার দোকানিকে উঠাতে চায় না। মাছ বাজারের ব্যবসায়ীরা প্রতি ডালা অনুযায়ী টাকা দেয়। এতে রাস্তার কি ক্ষতি হলো এটা তাদের দেখার বিষয় না। ওদের টাকা ঠিক থাকলেই হলো।

এদিকে পথচারীদের চলাচলের বিঘœ ঘটিয়ে কেন ফুটপাতে ব্যবসা করছে জানতে চাইলে একাধিক দোকানদার জানান, তারা দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এভাবেই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। নিয়মিত ইজারাদারকে টাকা দিয়ে বৈধভাবেই ব্যবসা করছে বলে দাবি তাদের।

এ ব্যাপারে চান্দিনা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হাসান জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চান্দিনার পালকি সিনামা হল এলাকা থেকে উপজেলা গেট হয়ে পুনরায় মহাসড়ক পর্যন্ত যে সড়কটি, সেটার সার্ভে ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন ডিজাইন এর কাজ চলছে। এটার সাথে ৪টি লিংক রোড আমরা সার্ভেতে যুক্ত করেছি। স্টেশন রোডটিও এই ডিজাইনের অন্তর্ভুক্ত আছে। ইস্টিমেইটের কাজ শেষ করতে আরও ১ মাস লাগতে পারে। এরপর বিশ^ ব্যাংকের অর্থায়নে আরইউটিডিপি প্রকল্পের আওতায় অনুমোদনের জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। আশা করছি সব কিছু ঠিক থাকলে এবছর ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শুরু করা যাবে।

এ ব্যাপারে চান্দিনা পৌরসভার প্রশাসক ও চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিাসার মোহাম্মদ আশরাফুল হক বলেন, আমরা একাধিকবার মোবইল কোর্ট করে অবৈধ ব্যবসায়ীদের সরিয়ে দিয়েছিলাম। তারা পুনরায় দখল করে ফেলে। সড়কটিতে জেলা পরিষদের কিছু জায়গা আছে, সেগুলো তারা পদক্ষেপ নিতে পারে।

বেহাল দশার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সড়কটির ওপরেই মাছ বাজার। প্রচুর পানি ব্যবসায়ীরা সড়কের উপরে ফেলতে থাকে। এই কারণে নর্দমা সৃষ্টি হয়। আমরা ইস্টিমেইট রেডি করছি। ঢাকা থেকে অনুমোদন আসলে দুই পাশে ড্রেন দিয়ে নতুন করে সড়কটি নির্মাণ করা হবে। আশা করি, মানুষের দুর্ভোগ কমে যাবে।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত