কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ

ছেলে পরীক্ষার্থী, তবুও পরীক্ষা নীতিমালা লঙঘন করে কাজ করছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
Thumbnail image

কুমিল্লা শিক্ষাবার্ডের এইচএসসি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬ অনুযায়ী কোন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সন্তান পরীক্ষা দিলে তিনি পরীক্ষা সংক্রান্ত কোন দায়িত্বে থাকতে পারবেন না। কিন্তু কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ ও বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজে জড়িত আছেন। তিনি কক্ষ পরিদর্শকদের মাইকে নাম ডেকে খাতা ও প্রশ্ন বিতরণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ শনিবার সকালে বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বোর্ডের কর্মকর্তারা তাঁকে কলেজ ত্যাগ করার অনুরোধ করেন। পরে তিনি কলেজ ত্যাগ করেন।

এর আগে গত ২ জুলাই বৃহস্পতিবার বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষার দিনও তিনি একই কাজ করেন।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ কলেজের শিক্ষকেরা। তাঁরা বলেছেন, তিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। আমরা তো তাঁকে কিছু বলতে পারছি না।

জানা গেছে, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ ও বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলমের ছেলে এ বছর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। ভিক্টোরিয়া কলেজের বিজ্ঞান শাখার পরীক্ষা কেন্দ্র সরকারি মহিলা কলেজে। এ কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম। ছেলে পরীক্ষা দিচ্ছে, বাবা পরীক্ষাকেন্দ্রে থাকবে- এটা পরীক্ষা নীতিমালা লঙঘনের শামিল। এ অবস্থায় খবর পেয়ে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিযন্ত্রক ও উপ পরীক্ষা নিযন্ত্রক ( উচ্চ মাধ্যমিক) তাঁকে পরীক্ষাকেন্দ্র ত্যাগ করার অনুরোধ করেন। পরে তিনি পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যান।

এ কে এম জহিরুল আলম গত ২ জুলাই ও আজ শনিবার দুইদিনই পরীক্ষাকেন্দ্রে যান। এতে কলেজের শিক্ষকেরা অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

পরীক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মালেক বলেন, তিনি পরীক্ষা শুরুর আগে চলে গেছেন। উনি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমরা তো কিছু বলতে পারি না।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম বলেন, আমি তো পরীক্ষা শুরুর আগে চলে এসেছি। সকাল ১০ টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত থাকি না। ১০ টার আগে থাকি। শিক্ষকদের খাতা দিই। কিন্তু আপনি তো এটা করতে পারেন না, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার এটা জানা ছিল না।

কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো, শফিকুল ইসলাম আমার শহরকে বলেন, খবর পাওয়ার পর আমরা উনাকে কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যেতে বলেছি। পরে তিনি চলে যান।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত