সাজিদুর রহমান

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, সম্মাননা প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রোববার বিকেল সাড়ে তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আহত ৩৫ জন শিক্ষার্থী, পাঁচজন সাংবাদিক, আন্দোলনে সহায়তাকারী আটজন স্থানীয় ব্যক্তি এবং অংশগ্রহণকারী আরও ২১ জন শিক্ষার্থীকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
'প্রতিরোধ দিবস' উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস। প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্য রাখেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোশারফ হোসেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ ও কয়েকজন জুলাই যোদ্ধা।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যখনই কোনো জাতি অন্যায়, বৈষম্য বা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, তখনই ছাত্রসমাজ আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিল। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ৯০-এর আন্দোলনে ছাত্রসমাজের অগ্রণী ভূমিকা ছিল। আজকের তরুণরাই আগামী দিনের নীতিনির্ধারক। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গর্ব করে বলতে পারবে, এই দেশ ন্যায়ের, এই দেশ মানবতার।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ১১ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। এই দিনে শিক্ষার্থীরা সাহস, আত্মত্যাগ ও দৃঢ়তার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রতিরোধের প্রকৃত শিক্ষা হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসী হওয়া, সত্যের পথে অবিচল থাকা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সিন্ডিকেট সভাতেই ১১ জুলাইকে 'প্রতিরোধ দিবস' হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করেছি। আমি বিশ্বাস করি, যুগ যুগ ধরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এই দিনটিকে ধারণ করবে। যে প্রজন্মকে আমরা কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যস্ত বলে মনে করতাম, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তারা প্রমাণ করেছে, সময় এলে তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারে।
মুখ্য আলোচক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেন, প্রতিরোধ দিবসের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, প্রশাসনের সদস্য, শ্রমিক, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীসহ সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে আমি আন্তরিক সম্মান জানাই। এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল ছাত্রসমাজের অদম্য সাহস ও ঐক্য। মায়েরা সন্তানের নিরাপত্তায় সামনে দাঁড়িয়েছেন, ভাইয়েরা ছাত্রীদের সুরক্ষায় মানবপ্রাচীর গড়ে তুলেছেন। পারস্পরিক দায়িত্ববোধ, আস্থা ও সম্প্রীতির এই ঐক্যই প্রতিরোধের প্রকৃত শক্তি এবং সফলতার মূল ভিত্তি।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অতিথি, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং আয়োজন সফল করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সূচনালগ্নে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত পুলিশি হামলার প্রতিবাদ ও তাদের ঐতিহাসিক প্রতিরোধকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিন্ডিকেটের ১১০তম সভায় ১১ জুলাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে 'প্রতিরোধ দিবস' হিসেবে ঘোষণা করে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, সম্মাননা প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রোববার বিকেল সাড়ে তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আহত ৩৫ জন শিক্ষার্থী, পাঁচজন সাংবাদিক, আন্দোলনে সহায়তাকারী আটজন স্থানীয় ব্যক্তি এবং অংশগ্রহণকারী আরও ২১ জন শিক্ষার্থীকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
'প্রতিরোধ দিবস' উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস। প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্য রাখেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোশারফ হোসেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ ও কয়েকজন জুলাই যোদ্ধা।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যখনই কোনো জাতি অন্যায়, বৈষম্য বা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, তখনই ছাত্রসমাজ আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিল। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ৯০-এর আন্দোলনে ছাত্রসমাজের অগ্রণী ভূমিকা ছিল। আজকের তরুণরাই আগামী দিনের নীতিনির্ধারক। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গর্ব করে বলতে পারবে, এই দেশ ন্যায়ের, এই দেশ মানবতার।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ১১ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। এই দিনে শিক্ষার্থীরা সাহস, আত্মত্যাগ ও দৃঢ়তার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রতিরোধের প্রকৃত শিক্ষা হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসী হওয়া, সত্যের পথে অবিচল থাকা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সিন্ডিকেট সভাতেই ১১ জুলাইকে 'প্রতিরোধ দিবস' হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করেছি। আমি বিশ্বাস করি, যুগ যুগ ধরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এই দিনটিকে ধারণ করবে। যে প্রজন্মকে আমরা কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যস্ত বলে মনে করতাম, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তারা প্রমাণ করেছে, সময় এলে তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারে।
মুখ্য আলোচক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেন, প্রতিরোধ দিবসের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, প্রশাসনের সদস্য, শ্রমিক, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীসহ সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে আমি আন্তরিক সম্মান জানাই। এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল ছাত্রসমাজের অদম্য সাহস ও ঐক্য। মায়েরা সন্তানের নিরাপত্তায় সামনে দাঁড়িয়েছেন, ভাইয়েরা ছাত্রীদের সুরক্ষায় মানবপ্রাচীর গড়ে তুলেছেন। পারস্পরিক দায়িত্ববোধ, আস্থা ও সম্প্রীতির এই ঐক্যই প্রতিরোধের প্রকৃত শক্তি এবং সফলতার মূল ভিত্তি।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অতিথি, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং আয়োজন সফল করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সূচনালগ্নে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত পুলিশি হামলার প্রতিবাদ ও তাদের ঐতিহাসিক প্রতিরোধকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিন্ডিকেটের ১১০তম সভায় ১১ জুলাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে 'প্রতিরোধ দিবস' হিসেবে ঘোষণা করে।