কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ‘জেসিডি’ লেখা নিয়ে হাতাহাতি, দুই শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১১: ৫২
Thumbnail image

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম হলের দেয়ালে ‘জেসিডি’ লেখা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হল প্রশাসন। গত শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হলের ৪০৭ নম্বর কক্ষের বাইরে ‘জেসিডি’, ‘৪০৭’, ‘কি? খাবি? খুব আতাও’সহ বিভিন্ন লেখা লেখেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। এসব লেখার প্রতিবাদ করেন ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী মামুনুর রশীদ। বিষয়টি নিয়ে হলের মেসেঞ্জার গ্রুপে তার সঙ্গে আইন বিভাগের ফয়সাল, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের আকাশ রাজবংশী এবং ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সোহাগ চৌধুরীর বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ পরস্পরকে ‘ছাত্রলীগ’ ও ‘গুপ্ত’ ট্যাগ দিয়ে মন্তব্য করেন।

এর জেরে ৫০৮ নম্বর কক্ষে গিয়ে মামুনুর রশীদকে মারধরের অভিযোগ ওঠে সোহাগ চৌধুরী, ফয়সাল ও আকাশ রাজবংশীর বিরুদ্ধে। মামুনের অভিযোগ, ইংরেজি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শনব দেবনাথ ও মারুফ আহমেদও তাকে মারধরে অংশ নেন।

তবে অভিযুক্তরা মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, তারা মামুনের সঙ্গে কথা বলতে তার কক্ষে গিয়েছিলেন। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মামুন তাদের ধাক্কা দেন। পরে তিনি ফুলের টব ও দা নিয়ে হামলার চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তবে হল প্রভোস্টের উপস্থিতিতে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য নেওয়ার পর দা নিয়ে হামলার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে শনব দেবনাথ ও মারুফ আহমেদ দাবি করেন, প্রথম দফার মারামারির সময় তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।

পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষকে নিয়ে হল প্রভোস্টের কক্ষে বৈঠক চলাকালে বাইরে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ইংরেজি বিভাগের শনব দেবনাথ ও মারুফ আহমেদের সঙ্গে অর্থনীতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইলিয়াস হোসেন শুভ ও হুমায়ুন রশিদের হাতাহাতি হয়। এতে মারুফ আহমেদের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইলিয়াস হোসেন শুভ ও হুমায়ুন রশিদকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারের পর তাদের বিছানাপত্র কক্ষ থেকে বাইরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইংরেজি বিভাগের শনব দেবনাথ, ব্যবস্থাপনা বিভাগের রাফসান সামি এবং মার্কেটিং বিভাগের সাদেক সাকেরের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হল প্রশাসন। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে হাউজ টিউটর মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম চৌধুরীকে এবং সদস্যসচিব সহকারী রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ময়নাল হোসেনকে। অপর দুই সদস্য হলেন হাউজ টিউটর খন্দকার ওয়ালীউল্লাহ ও জহিরুল ইসলাম বাবর। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক মো. হারুন বলেন, ‘হলের দেয়ালে ‘জেসিডি’ লেখা নিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সমাধানের জন্য তাদের নিয়ে প্রভোস্ট কক্ষে বসেছিলাম। কিন্তু উভয় পক্ষের বক্তব্যে অসঙ্গতি থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান সম্ভব হয়নি। বিষয়টি প্রক্টর অফিসে পাঠানো হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আলোচনা চলাকালে প্রভোস্ট কক্ষের বাইরে হঠাৎ মারামারি শুরু হয়। এতে একজন শিক্ষার্থী আহত হন এবং তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুই শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত