কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

নিয়ম বহির্ভূতভাবে ডিন নিয়োগ দেওয়ায় আমি এ পদে যোগদান করব না: অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
Thumbnail image

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি অনুষদে নতুন ডিন নিয়োগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আজ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে গত ৭ মে ঢাকায় সিন্ডিকেটের সভায় ডিন নিয়োগ বিষয়ে আলোচনা হয়। সেখানে নতুন ডিন নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত দুইজন সিন্ডিকেট সদস্য জানিয়েছেন, সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত হয় এক রকম। পরবর্তীতে মাইনরস লেখা হয় আরেক রকম।

জানতে চাইলে সিন্ডিকেটের সদস্য ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, সিন্ডিকেটে নতুন ডিন নিয়োগের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

আজকের অফিস আদেশে বলা হয়, বিজ্ঞান, কলা ও মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান, প্রকৌশল, ব্যবসায় শিক্ষা ও আইন অনুষদের ডিনগণের নিয়োগের মেয়াদ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৬ (সংশোধিত আইন-২০১৩) অনুযায়ী শেষ হওয়ায় এবং গত ৭ মে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ১০৯তম সভায় ডিন নিয়োগের বিষয়ে গৃহীত সিদ্ধান্তক্রমে আইন বিশেষজ্ঞের মতামত না আসা পর্যন্ত নিম্নে বর্ণিত অধ্যাপকগণকে ডিন হিসেবে দায়িত্ব প্রদানের জন্য কর্তৃপক্ষ নির্দেশ প্রদান করেছেন।

দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিনরা হলেন- বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন হিসেবে ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামীমুল ইসলাম, প্রকৌশল অনুষদের ডিন হিসেবে আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. তোফায়েল আহমেদ, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন হিসেবে ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ মকছেদুর রহমান এবং আইন অনুষদের ডিন হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউট্যাবের অন্তত চারজন সদস্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনকে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন করতেই সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অমান্য করা হয়েছে। আনোয়ার ডিন হওয়ার জন্য উদগ্রীব ছিলেন।

অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, সিন্ডিকেটে ডিন নিয়োগের বিষয়ে আইন বিশেষজ্ঞের মতামত না আসায় ও মতামত না পাওয়া পর্যন্ত এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মতামত এলে পুনরায় আইন অনুযায়ী দুই বছরের জন্য ডিন নিয়োগ দেওয়া হবে।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউট্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এম এম শরীফুল করীম বলেন, ওরা (বর্তমান প্রশাসন) আমাকে বিতর্কিত করার জন্য ডিন নিয়োগ দিয়েছে। সিন্ডিকেট যেখানে ডিন নিয়োগের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত দেয়নি, এ অবস্থায় আমি ডিন পদে যোগদান করব না। এটা নিয়ে আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে চিঠি দেব।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক একজন সভাপতি বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইনে আছে সিন্ডিকেট থেকে অনুমোদন হওয়ার পর উপাচার্য ডিন নিয়োগ দেবেন। কিন্তু সিন্ডিকেট কিছু জটিলতা থাকায় আইন উপদেষ্টার মতামত নিয়ে পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় সেটি উপস্থাপন করার জন্য সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু উপাচার্য সেটি লঙ্ঘন করেছেন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন বিভাগের জৈষ্ঠতম অধ্যাপকদের মধ্য থেকে ডিন হবে। কোনো বিভাগে অধ্যাপক না থাকলে জৈষ্ঠতম সহযোগী অধ্যাপক ডিন হবেন। রেওয়াজ অনুযায়ী, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে ডিন হওয়ার কথা ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. এমদাদুল হক অথবা একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন। এক্ষেত্রে উপাচার্য নিয়মের ব্যতয় ঘটিয়েছেন।

ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আহসান উল্যাহ ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ছিলেন। এবারও ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগ থেকে অধ্যাপক ড. শেখ মকছেদুর রহমানকে ডিন দেওয়া হয়। পরপর একই বিভাগ থেকে ডিন করা যায় না।

প্রকৌশল অনুষদে ডিন হওয়ার কথা কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাছানের কিন্তু ডিন করা হয় ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. তোফায়েল আহমেদকে। এর আগে ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাইফুর রহমান ডিন ছিলেন। পরপর একই বিভাগ থেকে ডিন করা হয়।

সিন্ডিকেটের সভায় উপস্থিত অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক বলেন, সিন্ডিকেটে ডিন নিয়োগ বন্ধ রাখার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়। এক্ষেত্রে আইন উপদেষ্টার মতামত নিয়ে পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপনের জন্য বলা হয়। কোনো অনুষদে ডিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কোনো কারণে না দিতে পারলে পুরানোরাই বহাল থাকে। নতুনদের নিয়োগ পাওয়ার আগ পর্যন্ত।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত