জারুল-সোনালু-কৃষ্ণচূড়ায় রঙিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
সাজিদুর রহমান, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ লীলাভূমি লাল মাটির কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। ঋতুচক্রের আবর্তে এই ক্যাম্পাস একেক সময় ধারণ করে একেক রূপ। তবে গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরে যখন চারদিকে রোদের প্রখরতা বাড়ে, তখনই যেন প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ অলঙ্কারে সাজতে শুরু করে ৫০ একরের এই প্রাঙ্গণ। হরেক রকমের বুনো আর শৌখিন ফুলের সমারোহে ক্যাম্পাস হয়ে ওঠে এক মায়াবী ক্যানভাস, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে দর্শনার্থীদের মনেও ছড়ায় অনাবিল মুগ্ধতা।
সবুজের সমারোহ আর লাল মাটির এই আঙিনায় গ্রীষ্মের তপ্ত হাওয়ায় যখন আগুনের হলকা ওড়ে, কিংবা হঠাৎ কালো মেঘে ছেয়ে যায় আকাশ, পড়ে মুষলধারে বৃষ্টি-ঠিক তখনই ডালপালা মেলে রঙিন উৎসব শুরু করে ঋতুরাজের প্রিয় ফুলগুলো। কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আভা, সোনালুর হলুদ বরণ আর জারুলের বেগুনি স্নিগ্ধতা যেন পুরো ক্যাম্পাসকে এক অপার্থিব সৌন্দর্যে রূপান্তর করেছে। ক্যাসিয়া জাভানিকা থেকে শুরু করে হলের দেয়ালে ঝুলে থাকা বাগানবিলাস সব মিলিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এখন এক রঙিন পুষ্পপুরী, যেখানে প্রকৃতির প্রতিটি কোণ সেজেছে নতুন যৌবনে। মনে হয় রঙিন শাড়িতে সেজে থাকা কোনো রূপবতী!

ক্যাসিয়া জাভানিকার মায়াবী অভ্যর্থনা
ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করতেই যে কারোরই চোখ আটকে যাবে লালচে গোলাপি আর সাদা বর্ণের এক মায়াবী ফুল গাছে। এটি 'ক্যাসিয়া জাভানিকা'। এর ছড়ানো-ছিটানো ডালপালা আর উপচে পড়া ফুলগুলো দেখলে মনে হয়, প্রকৃতি যেন এক বিশাল ছাতা মেলে ধরে আগত শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছে। এর মোহময় সৌরভ তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার মনকেই এক নিমেষে প্রফুল্ল করে তোলে।
কৃষ্ণচূড়ার লাল গালিচা ও বাঙালির চেতনা
জাভানিকার মায়া কাটিয়ে একটু সামনে এগুলেই চোখে পড়ে বাঙালির চেতনার রঙে রাঙানো কৃষ্ণচূড়া। কৃষ্ণচূড়ার এই রক্তরাঙা ফুলগুলো আপনাকে তার দিকে তাকাতে বাধ্য করবেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ও গোলচত্বর থেকে শুরু করে শহীদ মিনার পর্যন্ত পুরো সড়ক এখন কৃষ্ণচূড়ার দখলে। গাছের নিচে ঝরে পড়া রক্তিম পাপড়িগুলো দেখে মনে হয়, প্রকৃতি যেন কোনো অতিথিকে বরণ করে নিতে ‘লাল গালিচা’ বিছিয়ে রেখেছে। এই রক্তিম আভা গ্রীষ্মের সব ক্লানিকে ম্লান করে দিয়ে পুরো ক্যাম্পাসকে এক নবযৌবন দান করেছে।
জারুলের বেগুনি আবেশ ও সোনালুর হলুদ ঢেউ
মুক্তমঞ্চ থেকে ক্যাফেটেরিয়া পর্যন্ত সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা জারুল গাছগুলো এখন বেগুনি ফুলে ছেয়ে গেছে। বাতাসের তালে তালে যখন এই বেগুনি পাপড়িগুলো দোল খায়, তখন শিক্ষার্থীদের আড্ডা আর প্রেয়সীর খোঁপায় জারুল গুঁজে দেওয়ার দৃশ্যগুলো যেন কোনো সিনেমার ফ্রেমকেও হার মানায়।

কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে আকাশ-বাতাসকে মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছে হলুদাভ সোনালু। কেউ কেউ এই ফুলতে অমলতাস নামেও চিনে। থোকায় থোকায় কানের ধুলের মতো জুলছে এই হলুদ রঙের সোনালু ফুল। থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা এই সোনালু ফুল দেখলে মনে পড়ে যায় হুমায়ূন আহমেদের ‘হিমু’কে কিংবা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেওয়া ‘অমলতাস’ নামটিকে। বিশেষ করে ইংরেজি বিভাগের ‘ফরেস্ট অব আর্ডেন’-এর ঠিক পেছনে সোনালুর এই হলুদাভ উপস্থিতি প্রকৃতিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
সীমানা প্রাচীরে বাগানবিলাসের রঙের আল্পনা
ক্যাম্পাসের প্রতিটি বাঁকেই যেন লুকিয়ে আছে আলাদা একেকটি বিস্ময়। বিভিন্ন হলের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে এবার নজর কাড়ছে রঙিন বাগানবিলাস। নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী হলের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে সুনীতি-শান্তি হলের সীমানা প্রাচীর হয়ে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল ও কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রবেশদ্বার পর্যন্ত বিস্তৃত এই ফুলের সমারোহ। শুধু তাই নয়, বিজয়-২৪ হলের পেছনের গেটেও দেখা মেলে এই দৃষ্টিনন্দন বাগানবিলাসের।

ক্যাম্পাসের ইট-পাথরের দেয়ালগুলোকে ঢেকে দিয়ে বাগানবিলাস যেন প্রকৃতির এক জীবন্ত আল্পনা এঁকেছে। লাল, গোলাপি আর বেগুনি রঙের এই ফুলগুলো যখন দেয়াল বেয়ে নিচের দিকে ঝুলে থাকে, তখন মনে হয় কোনো দক্ষ শিল্পী সযত্নে ক্যাম্পাসটাকে সাজিয়ে রেখেছেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থী তো বটেই, ক্যাম্পাসে আসা দর্শনার্থীদেরও বাড়তি আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এই বাগানবিলাস। হলের গেট দিয়ে প্রবেশ বা বের হওয়ার সময় এই রঙিন স্নিগ্ধতা মুহূর্তেই মন ভালো করে দেয়। যান্ত্রিক দেয়ালগুলোও যেন এই ফুলের ছোঁয়ায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি কোণকে করে তুলেছে আরও বেশি নান্দনিক ও ছবি তোলার মতো মনোমুগ্ধকর।
প্রকৃতির এই রঙিন রূপ কেবল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং ক্লাস-পরীক্ষার চাপে থাকা শিক্ষার্থীদের মনে জোগায় একটু প্রশান্তি। যান্ত্রিকতার ভিড়ে লাল মাটির এই ৫০ একর যেন এক জীবন্ত নন্দনকানন। ফুলের এই বর্ণিল উৎসব মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতি তার আপন মহিমায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে কতটা নিপুণভাবে সাজিয়ে রেখেছে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ লীলাভূমি লাল মাটির কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। ঋতুচক্রের আবর্তে এই ক্যাম্পাস একেক সময় ধারণ করে একেক রূপ। তবে গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরে যখন চারদিকে রোদের প্রখরতা বাড়ে, তখনই যেন প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ অলঙ্কারে সাজতে শুরু করে ৫০ একরের এই প্রাঙ্গণ। হরেক রকমের বুনো আর শৌখিন ফুলের সমারোহে ক্যাম্পাস হয়ে ওঠে এক মায়াবী ক্যানভাস, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে দর্শনার্থীদের মনেও ছড়ায় অনাবিল মুগ্ধতা।
সবুজের সমারোহ আর লাল মাটির এই আঙিনায় গ্রীষ্মের তপ্ত হাওয়ায় যখন আগুনের হলকা ওড়ে, কিংবা হঠাৎ কালো মেঘে ছেয়ে যায় আকাশ, পড়ে মুষলধারে বৃষ্টি-ঠিক তখনই ডালপালা মেলে রঙিন উৎসব শুরু করে ঋতুরাজের প্রিয় ফুলগুলো। কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আভা, সোনালুর হলুদ বরণ আর জারুলের বেগুনি স্নিগ্ধতা যেন পুরো ক্যাম্পাসকে এক অপার্থিব সৌন্দর্যে রূপান্তর করেছে। ক্যাসিয়া জাভানিকা থেকে শুরু করে হলের দেয়ালে ঝুলে থাকা বাগানবিলাস সব মিলিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এখন এক রঙিন পুষ্পপুরী, যেখানে প্রকৃতির প্রতিটি কোণ সেজেছে নতুন যৌবনে। মনে হয় রঙিন শাড়িতে সেজে থাকা কোনো রূপবতী!

ক্যাসিয়া জাভানিকার মায়াবী অভ্যর্থনা
ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করতেই যে কারোরই চোখ আটকে যাবে লালচে গোলাপি আর সাদা বর্ণের এক মায়াবী ফুল গাছে। এটি 'ক্যাসিয়া জাভানিকা'। এর ছড়ানো-ছিটানো ডালপালা আর উপচে পড়া ফুলগুলো দেখলে মনে হয়, প্রকৃতি যেন এক বিশাল ছাতা মেলে ধরে আগত শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছে। এর মোহময় সৌরভ তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার মনকেই এক নিমেষে প্রফুল্ল করে তোলে।
কৃষ্ণচূড়ার লাল গালিচা ও বাঙালির চেতনা
জাভানিকার মায়া কাটিয়ে একটু সামনে এগুলেই চোখে পড়ে বাঙালির চেতনার রঙে রাঙানো কৃষ্ণচূড়া। কৃষ্ণচূড়ার এই রক্তরাঙা ফুলগুলো আপনাকে তার দিকে তাকাতে বাধ্য করবেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ও গোলচত্বর থেকে শুরু করে শহীদ মিনার পর্যন্ত পুরো সড়ক এখন কৃষ্ণচূড়ার দখলে। গাছের নিচে ঝরে পড়া রক্তিম পাপড়িগুলো দেখে মনে হয়, প্রকৃতি যেন কোনো অতিথিকে বরণ করে নিতে ‘লাল গালিচা’ বিছিয়ে রেখেছে। এই রক্তিম আভা গ্রীষ্মের সব ক্লানিকে ম্লান করে দিয়ে পুরো ক্যাম্পাসকে এক নবযৌবন দান করেছে।
জারুলের বেগুনি আবেশ ও সোনালুর হলুদ ঢেউ
মুক্তমঞ্চ থেকে ক্যাফেটেরিয়া পর্যন্ত সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা জারুল গাছগুলো এখন বেগুনি ফুলে ছেয়ে গেছে। বাতাসের তালে তালে যখন এই বেগুনি পাপড়িগুলো দোল খায়, তখন শিক্ষার্থীদের আড্ডা আর প্রেয়সীর খোঁপায় জারুল গুঁজে দেওয়ার দৃশ্যগুলো যেন কোনো সিনেমার ফ্রেমকেও হার মানায়।

কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে আকাশ-বাতাসকে মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছে হলুদাভ সোনালু। কেউ কেউ এই ফুলতে অমলতাস নামেও চিনে। থোকায় থোকায় কানের ধুলের মতো জুলছে এই হলুদ রঙের সোনালু ফুল। থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা এই সোনালু ফুল দেখলে মনে পড়ে যায় হুমায়ূন আহমেদের ‘হিমু’কে কিংবা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেওয়া ‘অমলতাস’ নামটিকে। বিশেষ করে ইংরেজি বিভাগের ‘ফরেস্ট অব আর্ডেন’-এর ঠিক পেছনে সোনালুর এই হলুদাভ উপস্থিতি প্রকৃতিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
সীমানা প্রাচীরে বাগানবিলাসের রঙের আল্পনা
ক্যাম্পাসের প্রতিটি বাঁকেই যেন লুকিয়ে আছে আলাদা একেকটি বিস্ময়। বিভিন্ন হলের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে এবার নজর কাড়ছে রঙিন বাগানবিলাস। নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী হলের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে সুনীতি-শান্তি হলের সীমানা প্রাচীর হয়ে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল ও কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রবেশদ্বার পর্যন্ত বিস্তৃত এই ফুলের সমারোহ। শুধু তাই নয়, বিজয়-২৪ হলের পেছনের গেটেও দেখা মেলে এই দৃষ্টিনন্দন বাগানবিলাসের।

ক্যাম্পাসের ইট-পাথরের দেয়ালগুলোকে ঢেকে দিয়ে বাগানবিলাস যেন প্রকৃতির এক জীবন্ত আল্পনা এঁকেছে। লাল, গোলাপি আর বেগুনি রঙের এই ফুলগুলো যখন দেয়াল বেয়ে নিচের দিকে ঝুলে থাকে, তখন মনে হয় কোনো দক্ষ শিল্পী সযত্নে ক্যাম্পাসটাকে সাজিয়ে রেখেছেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থী তো বটেই, ক্যাম্পাসে আসা দর্শনার্থীদেরও বাড়তি আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এই বাগানবিলাস। হলের গেট দিয়ে প্রবেশ বা বের হওয়ার সময় এই রঙিন স্নিগ্ধতা মুহূর্তেই মন ভালো করে দেয়। যান্ত্রিক দেয়ালগুলোও যেন এই ফুলের ছোঁয়ায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি কোণকে করে তুলেছে আরও বেশি নান্দনিক ও ছবি তোলার মতো মনোমুগ্ধকর।
প্রকৃতির এই রঙিন রূপ কেবল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং ক্লাস-পরীক্ষার চাপে থাকা শিক্ষার্থীদের মনে জোগায় একটু প্রশান্তি। যান্ত্রিকতার ভিড়ে লাল মাটির এই ৫০ একর যেন এক জীবন্ত নন্দনকানন। ফুলের এই বর্ণিল উৎসব মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতি তার আপন মহিমায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে কতটা নিপুণভাবে সাজিয়ে রেখেছে।