হাসপাতালে নেই জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন

পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত অন্তত ৩০

দেবীদ্বার প্রতিনিধি
Thumbnail image

দেবীদ্বার পৌর এলাকায় একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ৩০জন আহত হয়েছেন। কুকুরটিকে ধরতে চেষ্টা চালানো হলেও ধরা যাচ্ছে না। এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নেই জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন। যার কারণে চরম আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী।

পাগলা কুকুরটি পৌর এলাকার ভিভিন্ন গ্রামের নারী, শিশু, যুব-তরুণ যেখানে যাকে পাচ্ছে কামড়ে পালাচ্ছে। এলাকার লোকজনও দিনে রাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে দলে দলে কুকুরটিকে ধাওয়া করছে, কিন্তু কুকুরটির নাগাল কেউ পাচ্ছেন না।

আজ শুক্রবার সকাল থেকেই পৌর প্রশাসকের জনবল কুকুরটিকে আটকাতে মাঠে নামে। কিন্তু পাগলা কুকুরটি শনাক্ত না করতে পারায় দিনভর অধরাই থেকে গেল।

কুকুরটি দেবীদ্বার পৌর এলাকার বিজলিবাজার, ফতেহাবাদ, চাপানগড় ও ছোট আলমপুর এলাকায় তাণ্ডব চালায়।

কুকুরের কামড়ে আহতদের মধ্যে রসুলপুর গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম (২৬), দেবীদ্বার ওমান কাসেমের বাড়ির পাশের আব্দুল্লাহ (১৫), ফতেহাবাদ গ্রামের এনামুল হকের মেয়ে তাহমিনা(৩), জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে আযান (১২), দুলালের মেয়ে মরিয়ম (৪), বিজলি বাজার গ্রামের প্রয়াত আবুল হাসেমের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম(৬০), মিজানুর রহমানের মেয়ে জান্নাতের (৫) নাম জানা গেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার দিনে এবং রাতে আক্রান্তরা হলেন, বারেরা গ্রামের আশিকুর রহমানের ছেলে তানভির (৯), ছোট আলমপুরের ইলিয়াসের ছেলে ইয়াছিন (৬), নাজমুল হাসান নাহিদের ছেলে নৌফল হাসান (৭), ইলিয়াস হোসেনের ছেলে ইয়াছিন (৬) এবং একই এলাকার ফারুক হোসেনের ছেলে জাবেদ হোসেনকে (৯) কামড়ে আহত করে। এর আগের দিন বুধবার বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে আল আমিনের ছেলে আবিরকে (৫) এবং স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স কোয়ার্টারে বসবাসকারী সিনিয়র নার্স তাহমিনা আক্তার ও বিআরডিবি কর্মকর্তা আব্দুর রহিম দম্পতির ছেলে আব্দুল্লাহ সানিকেও (৮) কামড়ে আহত করে।

স্থানীয়রা জানান, লালচে-হালকা ডোরাকাটা রঙের একটি কুকুর গত দুদিন ধরে বেপরোয়া আচরণ করে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং সুযোগ পেলেই শিশুদের ওপর হামলা করছে।

আহত শিশুদের অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে জলাতঙ্ক ও সাপের বিষনাশক ভ্যাকসিনের সরবরাহ নেই। ফলে জরুরি মুহূর্তে বাইরে থেকে উচ্চমূল্যে ভ্যাকসিন কিনতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মহিবুস সালাম খান জানান, দীর্ঘদিন ধরে কুকুর ও সাপের কামড়ের ভ্যাকসিন হাসপাতালে সরবরাহ নেই। কিছু ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করেছি। রোগীদের সেবা চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন, পাগলা কুকুরটি ধরতে পৌরসভার একটি টিম সকাল থেকেই কাজ করে যাচ্ছে। কুকুরটি না চেনার কারণে ধরতে পারছে না, স্থানীয়রাও সাহস করে কুকুরটি আটকাতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভ্যাকসিন সরবরাহের বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত পাগলা কুকুরটি ধরার এবং হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত