‘বিদ্যালয়ের সব শিক্ষকই আমার প্রিয়’
দেবীদ্বার প্রতিনিধি

১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১৭ পেয়েছে জাকিয়া সুলতানা ইভা। কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অংশ নেয় সে।
দেবীদ্বারের জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের বারুর গ্রামের মোহাম্মদ জামাল হোসেনের বড় মেয়ে ইভা। তার মা শাহিনুর আক্তার ও বাবা দুজনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। আজ মঙ্গলবার দুপুরে মাকে প্রিয় বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা করতে আসে ইভা। এ সময় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় তার।
সে বলে, ‘আমি কখনো বেশি একটা পড়িনি, মা-বাবাও লেখাপড়ার জন্য শাসন বা চাপ দেননি, তবে পরীক্ষার আগে যতুটুকু পড়েছি, মন দিয়ে পড়েছি। বিশেষ করে প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিনই শেষ করে ফেলতাম, কালকের জন্য জমিয়ে রাখিনি।’
ইভার ভাষ্য, ‘আমি এত ভালো ফল করব, এটা কোনো দিনও ভাবিনি। এর কৃতিত্ব প্রথমে আমার মা-বাবা ও আমার বিদ্যলয়ের শিক্ষকদের।
আসলে আমার আলাদা কোনো প্রিয় শিক্ষক নেই, বিদ্যালয়ের সব শিক্ষকই আমার প্রিয়। শিক্ষকরা যদি আমাকে সহযোগিতা না করতেন, আমি কখনো এত ভালো রেজাল্ট করতে পারতাম না।’
নিজের স্বপ্ন প্রসঙ্গে ইভা বলে, ‘আমার অনেক ইচ্ছা, আমি একজন ডাক্তার হব। জানি এটা অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জ, তবু আমাকে ডাক্তার হতেই হবে। ডাক্তার হয়ে প্রথমে আমি আমার গ্রামের মানুষের সেবা করব।
এক প্রশ্নের জবাবে ইভা বলে, ‘আমার কাছে আমার মা-ই সেরা, মা আমার দুষ্টুমি থেকে শুরু করে সব কিছুতেই সাপোর্ট দিতেন।’
ইভার মা শাহীনুর আক্তার বলেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি, যা আশা করেছিলাম তার চেয়ে বেশি হয়েছে। সে রাত-দিন অনেক কষ্ট করেছে। তার বাবাও অনেক কষ্ট করেছে। তার বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও অনেক পরিশ্রম করেছেন। সবার সহযোগিতায় সে ভালো ফল করেছে।’
শাহীনুর আক্তার আরো বলেন, ‘আমি তাকে কোনো দিনও পড়ার জন্য চাপ দিইনি। সব সময়ই বলতাম, ‘আম্মু পড়ালেখা করার চেয়ে আগে ভালো মানুষ হও। বেঁচে থাকলে কিছু না কিছু করতে পারবে, কিন্তু ভালো মানুষ হওয়া আগে জরুরি। সে তার সহাপাঠীদের অনেক সহযোগিতা করত, সন্ধ্যার পর ওর অনেক সহপাঠী আমার কাছে ফোন করেও ওর সঙ্গে লেখাপড়ার বিষয়ে কথা বলত। আমি কোনো দিনই বিরক্ত হয়নি, আমি বলেছি তুমি সবাইকে সহযোগিতা করবা।’
দেবীদ্বার মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘ইভা ক্লাসেও অনেক পরিশ্রম করেছে। আমি আগেই টের পেয়েছি, সে ভালো কিছু করবে। তার এই সাফল্যে আমরা বিদ্যালয়ের সব শিক্ষক অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তার মেধা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের এই স্বীকৃতি ভবিষ্যৎ পথচলায় আরো বড় সাফল্যের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠুক দোয়া করছি।’
চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ। এ বছর এই বোর্ডে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৮১৪ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৩ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং জিপিএ ৫ পেয়েছিল ৯ হাজার ৯০২ জন। সে হিসেবে এবার পাসের হার বেড়েছে এ বোর্ডে।

১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১৭ পেয়েছে জাকিয়া সুলতানা ইভা। কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অংশ নেয় সে।
দেবীদ্বারের জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের বারুর গ্রামের মোহাম্মদ জামাল হোসেনের বড় মেয়ে ইভা। তার মা শাহিনুর আক্তার ও বাবা দুজনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। আজ মঙ্গলবার দুপুরে মাকে প্রিয় বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা করতে আসে ইভা। এ সময় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় তার।
সে বলে, ‘আমি কখনো বেশি একটা পড়িনি, মা-বাবাও লেখাপড়ার জন্য শাসন বা চাপ দেননি, তবে পরীক্ষার আগে যতুটুকু পড়েছি, মন দিয়ে পড়েছি। বিশেষ করে প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিনই শেষ করে ফেলতাম, কালকের জন্য জমিয়ে রাখিনি।’
ইভার ভাষ্য, ‘আমি এত ভালো ফল করব, এটা কোনো দিনও ভাবিনি। এর কৃতিত্ব প্রথমে আমার মা-বাবা ও আমার বিদ্যলয়ের শিক্ষকদের।
আসলে আমার আলাদা কোনো প্রিয় শিক্ষক নেই, বিদ্যালয়ের সব শিক্ষকই আমার প্রিয়। শিক্ষকরা যদি আমাকে সহযোগিতা না করতেন, আমি কখনো এত ভালো রেজাল্ট করতে পারতাম না।’
নিজের স্বপ্ন প্রসঙ্গে ইভা বলে, ‘আমার অনেক ইচ্ছা, আমি একজন ডাক্তার হব। জানি এটা অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জ, তবু আমাকে ডাক্তার হতেই হবে। ডাক্তার হয়ে প্রথমে আমি আমার গ্রামের মানুষের সেবা করব।
এক প্রশ্নের জবাবে ইভা বলে, ‘আমার কাছে আমার মা-ই সেরা, মা আমার দুষ্টুমি থেকে শুরু করে সব কিছুতেই সাপোর্ট দিতেন।’
ইভার মা শাহীনুর আক্তার বলেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি, যা আশা করেছিলাম তার চেয়ে বেশি হয়েছে। সে রাত-দিন অনেক কষ্ট করেছে। তার বাবাও অনেক কষ্ট করেছে। তার বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও অনেক পরিশ্রম করেছেন। সবার সহযোগিতায় সে ভালো ফল করেছে।’
শাহীনুর আক্তার আরো বলেন, ‘আমি তাকে কোনো দিনও পড়ার জন্য চাপ দিইনি। সব সময়ই বলতাম, ‘আম্মু পড়ালেখা করার চেয়ে আগে ভালো মানুষ হও। বেঁচে থাকলে কিছু না কিছু করতে পারবে, কিন্তু ভালো মানুষ হওয়া আগে জরুরি। সে তার সহাপাঠীদের অনেক সহযোগিতা করত, সন্ধ্যার পর ওর অনেক সহপাঠী আমার কাছে ফোন করেও ওর সঙ্গে লেখাপড়ার বিষয়ে কথা বলত। আমি কোনো দিনই বিরক্ত হয়নি, আমি বলেছি তুমি সবাইকে সহযোগিতা করবা।’
দেবীদ্বার মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘ইভা ক্লাসেও অনেক পরিশ্রম করেছে। আমি আগেই টের পেয়েছি, সে ভালো কিছু করবে। তার এই সাফল্যে আমরা বিদ্যালয়ের সব শিক্ষক অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তার মেধা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের এই স্বীকৃতি ভবিষ্যৎ পথচলায় আরো বড় সাফল্যের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠুক দোয়া করছি।’
চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ। এ বছর এই বোর্ডে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৮১৪ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৩ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং জিপিএ ৫ পেয়েছিল ৯ হাজার ৯০২ জন। সে হিসেবে এবার পাসের হার বেড়েছে এ বোর্ডে।