ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ড

আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে থানা ফটকে বিক্ষোভ

দেবীদ্বার প্রতিনিধি
Thumbnail image

কুমিল্লার দেবীদ্বারে চাঞ্চল্যকর ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে থানার প্রধান ফটকে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এরপর দেবীদ্বার থানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। পরবর্তীতে মিছিলটি নিউ মার্কেটের মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে এসে এক প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ৬ দিন পার হয়ে গেলেও খুনি লাইলী আক্তার ছাড়া অন্য কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। অধরা আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান তারা।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সিয়াম ইসলাম, জাতীয় যুব শক্তির নেতা আরশাদ বাবু, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জহিরুল ইসলাম, যুবদলের পৌর সাংগঠনিক সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা জাতীয় ছাত্র শক্তির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী নাছির, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব নাজমুল হাসান, হানিফ, রাসেল আহম্মেদ ও মিরাজুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, গত ৮ আগস্ট দেবীদ্বার পৌর এলাকার বাসিন্দা ফরিদা ইয়াসমিনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে ঘাতকরা। হত্যার পর পরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে লাশ খণ্ড-খণ্ড করে পলিথিনে মুড়িয়ে বাড়ির পেছনে ও ডোবায় ফেলে রাখা হয়। এমনকি ফরিদা ইয়াসমিনের চেহারা যাতে চেনা না যায়, সে জন্য ঘাতকরা তার মাথা ও মুখের চামড়া পর্যন্ত তুলে ফেলে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ২০২১ সালে পরকীয়া দৃশ্য দেখে ফেলায় নিজের পাঁচ বছরের কন্যা ফাহিমাকে গলা কেটে হত্যা করেছিল বাবা আমির হোসেন ও তার পরকীয়া প্রেমিকা লাইলী আক্তার। ওই ঘটনার ৭ দিন পর ফাহিমার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। র‌্যাবের তদন্তে রহস্য উদঘাটনের পর ফাহিমার বাবা আমির হোসেন, প্রেমিক লাইলী আক্তার, রবিউল আউয়াল, রেজাউল ইসলাম ইমন ও সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রায় সাড়ে চার বছর কারাভোগের পর মাত্র দুই মাস আগে তারা জামিনে মুক্ত হয়। শিশু ফাহিমা হত্যার বিচারকাজ শেষ হওয়ার আগেই জামিনে বেরিয়ে ফের ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে লাইলী আক্তারসহ সেই পুরনো চক্রটি। এই ঘটনায় খুনি লাইলী আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হলেও বাকিরা এখনো পলাতক।

এ ব্যাপারে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, এলাকাবাসী প্রধান আসামি লাইলীর ফাঁসির দাবিতে একটি মিছিল নিয়ে থানায় এসেছিল। তবে বিচারের বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার। পুলিশের কাজ আসামি গ্রেপ্তার ও ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা। ইতিমধ্যে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে এবং পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত