লাকসাম প্রতিনিধি

লাকসাম উপজেলার মুদাফরগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন মাওলানা সাহেব বাজারের সরকারি খালটি আরসিসি পিলার দিয়ে ঢালাই করে ও খাল ভরাট করে দোকান নির্মাণ করছেন ব্যবসায়ীরা। খাল দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে ছোট-বড় শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। যে যেভাবে পেরেছেন দখল করেছেন।
এ তালিকায় রয়েছে রাজনীতিক, প্রভাবশালী ব্যক্তি, ব্যবসায়ী এমনকি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। খাল দখলের পর তার ওপর স্থাপনা নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এতে খালটি সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। আর খালটি সরু হয়ে যাওয়ায় বাজারের পানিনিষ্কাশন এবং ওই এলাকায় কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। উদ্ধারের প্রসঙ্গ তুললেই বারবার খাল দখলমুক্ত করার আশ্বাস দেয় প্রশাসন। আর বছরের পর বছর ধরে এ কাজের জন্য এক সংস্থা আরেক সংস্থার ওপর দায় চাপায়, কিন্তু খাল উদ্ধার হয় না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দায়িত্বে গাফিলতি, সঠিক তদারকি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে দখল হয়ে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় সম্পদ। অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে এই দখলদারদের লাগাম টানা দরকার বলে জানান তারা।
সরেজমিনে ঘুরে ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, মুদাফরগঞ্জ-চিতোষী আঞ্চলিক সড়কের পাশে উপজেলার মুদাফরগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন মাওলানা সাহেব নামে শত বছরের একটি বাজার আছে। সেই বাজারের মাঝ দিয়ে লাকসাম-চাঁদপুর রেলপথ এবং রয়েছে চিতোষী রেল স্টেশন। এই বাজারের সড়কের পশ্চিম পাশে বয়ে যাওয়া খালের আধা কিলোমিটার এলাকায় খালের দুপাড়ের আরসিসি পিলার দিয়ে ঢালাই করে নির্মাণ করছে শতাধিক দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।
সরকারি দপ্তরের দায়িত্বশীলদের নজরদারি না থাকার কারণেই খালের জায়গা দখল করে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। মাঝেমধ্যে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওই এলাকায় দেখা গেলেও উচ্ছেদ অভিযানের কোনো তৎপরতা দেখা যায় না। এভাবে বছরের পর বছর দখল হতে হতে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে কার্জন খালের সংযোগ খালটি। একসময় খালের প্রস্থ ৪০ ফুট ছিল। কিন্তু দুই পাড় থেকে দখল অব্যাহত থাকায় খালের প্রস্থ কোথাও ৫ ফুট আবার কোথাও ৮ ফুট আছে।
রেলওয়ের মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, গত বছর মার্কেটে আগুন লাগলে নেভানোর জন্য খালের পানি ওঠাতে পারেননি তাঁরা। এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক দখলদার বলেন, সবাই দখল করেই ব্যবসা করছেন। অন্যরা দখল করেছেন দেখে তিনিও একটি ছোট দোকান করেছেন। উচ্ছেদ করলে চলে যাবেন। এছাড়াও ইউনিয়ন ভ‚মি অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমঝোতা করেই আমাদের চলতে হয়।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) লাকসামের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শাহিন বলেন, যখন যে দলের সরকার আসে, তখন তাদের লোকজন খাল দখলে নেয়। আর খালের দুই পাড় দখল করে একের পর এক ভবন নির্মাণ করায় পানিনিষ্কাশন ওই এলাকায় কৃষিকাজ ব্যাহত হয় এবং হাট-বজার সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন নীরব দর্শকের ভ‚মিকা পালন করে।
মাওলানা সাহেব বাজারের ব্যবসায়ী ও ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি ওমর ফারুক বলেন, বিগত সরকারের সময় খালের জন্য বরাদ্দ এলেও কোনো কাজ করা হয়নি। বর্তমান আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেব যথাযথভাবে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম মহোদয় তিনি লাকসাম-মনোহরগঞ্জে কয়েকটি খাল খননের কাজ উদ্বোধন করছেন। আশা করি, এমপি মহোদয় মাওলানা সাহেব বাজার খালটি দখলমুক্ত করে খাল খননের আওতায় আনা হবে ইনশাআল্লাহ।
লাকসাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) কর্মকর্তা মিলন চাকমা বলেন, মুদাফরগঞ্জ মাওলানা সাহেব বাজার এলাকায় যে খালটি রয়েছে সেই খালটি দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী কি-না-খালের ম্যাপ, কাগজপত্র দেখে পাকাপাকিভাবে খালের মধ্যে দখলদারদের উচ্ছেদের চেষ্টা করা হবে। এছাড়াও জনস্বার্থ রক্ষা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণের লক্ষ্যে খাল ও জলাধার দখলমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

লাকসাম উপজেলার মুদাফরগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন মাওলানা সাহেব বাজারের সরকারি খালটি আরসিসি পিলার দিয়ে ঢালাই করে ও খাল ভরাট করে দোকান নির্মাণ করছেন ব্যবসায়ীরা। খাল দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে ছোট-বড় শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। যে যেভাবে পেরেছেন দখল করেছেন।
এ তালিকায় রয়েছে রাজনীতিক, প্রভাবশালী ব্যক্তি, ব্যবসায়ী এমনকি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। খাল দখলের পর তার ওপর স্থাপনা নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এতে খালটি সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। আর খালটি সরু হয়ে যাওয়ায় বাজারের পানিনিষ্কাশন এবং ওই এলাকায় কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। উদ্ধারের প্রসঙ্গ তুললেই বারবার খাল দখলমুক্ত করার আশ্বাস দেয় প্রশাসন। আর বছরের পর বছর ধরে এ কাজের জন্য এক সংস্থা আরেক সংস্থার ওপর দায় চাপায়, কিন্তু খাল উদ্ধার হয় না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দায়িত্বে গাফিলতি, সঠিক তদারকি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে দখল হয়ে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় সম্পদ। অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে এই দখলদারদের লাগাম টানা দরকার বলে জানান তারা।
সরেজমিনে ঘুরে ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, মুদাফরগঞ্জ-চিতোষী আঞ্চলিক সড়কের পাশে উপজেলার মুদাফরগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন মাওলানা সাহেব নামে শত বছরের একটি বাজার আছে। সেই বাজারের মাঝ দিয়ে লাকসাম-চাঁদপুর রেলপথ এবং রয়েছে চিতোষী রেল স্টেশন। এই বাজারের সড়কের পশ্চিম পাশে বয়ে যাওয়া খালের আধা কিলোমিটার এলাকায় খালের দুপাড়ের আরসিসি পিলার দিয়ে ঢালাই করে নির্মাণ করছে শতাধিক দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।
সরকারি দপ্তরের দায়িত্বশীলদের নজরদারি না থাকার কারণেই খালের জায়গা দখল করে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। মাঝেমধ্যে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওই এলাকায় দেখা গেলেও উচ্ছেদ অভিযানের কোনো তৎপরতা দেখা যায় না। এভাবে বছরের পর বছর দখল হতে হতে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে কার্জন খালের সংযোগ খালটি। একসময় খালের প্রস্থ ৪০ ফুট ছিল। কিন্তু দুই পাড় থেকে দখল অব্যাহত থাকায় খালের প্রস্থ কোথাও ৫ ফুট আবার কোথাও ৮ ফুট আছে।
রেলওয়ের মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, গত বছর মার্কেটে আগুন লাগলে নেভানোর জন্য খালের পানি ওঠাতে পারেননি তাঁরা। এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক দখলদার বলেন, সবাই দখল করেই ব্যবসা করছেন। অন্যরা দখল করেছেন দেখে তিনিও একটি ছোট দোকান করেছেন। উচ্ছেদ করলে চলে যাবেন। এছাড়াও ইউনিয়ন ভ‚মি অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমঝোতা করেই আমাদের চলতে হয়।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) লাকসামের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শাহিন বলেন, যখন যে দলের সরকার আসে, তখন তাদের লোকজন খাল দখলে নেয়। আর খালের দুই পাড় দখল করে একের পর এক ভবন নির্মাণ করায় পানিনিষ্কাশন ওই এলাকায় কৃষিকাজ ব্যাহত হয় এবং হাট-বজার সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন নীরব দর্শকের ভ‚মিকা পালন করে।
মাওলানা সাহেব বাজারের ব্যবসায়ী ও ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি ওমর ফারুক বলেন, বিগত সরকারের সময় খালের জন্য বরাদ্দ এলেও কোনো কাজ করা হয়নি। বর্তমান আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেব যথাযথভাবে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম মহোদয় তিনি লাকসাম-মনোহরগঞ্জে কয়েকটি খাল খননের কাজ উদ্বোধন করছেন। আশা করি, এমপি মহোদয় মাওলানা সাহেব বাজার খালটি দখলমুক্ত করে খাল খননের আওতায় আনা হবে ইনশাআল্লাহ।
লাকসাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) কর্মকর্তা মিলন চাকমা বলেন, মুদাফরগঞ্জ মাওলানা সাহেব বাজার এলাকায় যে খালটি রয়েছে সেই খালটি দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী কি-না-খালের ম্যাপ, কাগজপত্র দেখে পাকাপাকিভাবে খালের মধ্যে দখলদারদের উচ্ছেদের চেষ্টা করা হবে। এছাড়াও জনস্বার্থ রক্ষা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণের লক্ষ্যে খাল ও জলাধার দখলমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।