শৌখিন শিকারিদের পলো দিয়ে মাছ ধরার উৎসব

পাভেল রহমান, নাঙ্গলকোট
Thumbnail image

শৌখিন মাছ শিকারিদের পলো দিয়ে মাছ ধরা এতদিন নদী, খাল ও বিলে দেখা যেত। এবার দেখা গেছে টিকিট কেটে পুকুরে পলো দিয়ে মাছ ধরার উৎসব।

ব্যতিক্রমধর্মী এ মাছ ধরার উৎসব, আজ রোববার দুপুরে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের নিমুড়ী গ্রামের একটি পুকুরে এ চিত্র দেখা যায়। মাছ শিকারিদের পুকুরে থেকে পলো দিয়ে মাছ ধরা দেখতে পুকুরের চারপাশে কয়েকশ উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এ সময় পুকুর সংলগ্ন লাকসাম-বাঙ্গড্ডা-চৌদ্দগ্রাম সড়কে যানজট লেগে যায়। মাছ শিকারিরা পুকুর থেকে রুই, কাতল, বোয়াল, পাঙাশ, সিলভারকার্প, কমন কার্প, গ্রাসকার্প, শৈল, কালিবাউসসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ অনায়াসে ধরে থলেসহ বস্তায় ভরতে দেখা যায়। সর্ব্বোচ্চ ৮ কেজি ওজনের সিলভারকার্প ধরা হয়।

জানা যায়, উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের নিমুড়ী গ্রামের জালাল, নাবালক, ইদ্রিছ, কাশেম, ইউনুছ তাদের বিশাল পুকুরটি একই গ্রামের সাইফুল এবং নোমানের নিকট মাছ চাষের জন্য লিজ প্রদান করেন। সাইফুল এবং নোমান পুকুরের সব মাছ পার্শ্ববর্তী কাদবা গ্রামের মনছুরের নিকট বিক্রি করেন। মনছুর পলো দলের সর্দার কুমিল্লার ক্যান্টনমেন্টের নবী মালের নিকট সম্পূর্ণ পুকুর ২ লাখ ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। নবী মাছ শিকারি প্রতি পলোওলার (হলিয়া) নিকট ১২০০ টাকায় প্রতি টিকিট বিক্রি করেন। পলোওয়ালারা কুমিল্লার ক্যান্টনমেন্ট, লালমাইয়ের বাগমারা, বাংলাবাজার, ভুশ্চি, সদরদক্ষিণ উপজেলার চৌয়ারা, কাশিনগর এবং নাঙ্গলকোটের কাদবা এবং বাঙ্গড্ডাসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পলো দিয়ে মাছ শিকার করতে পুকুরে ভিড় করেন।

পলোওয়ালারা দুপুর ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত পুকুরে পলো দিয়ে মাছ শিকার করেন। লালমাই উপজেলার হাজাতখোলা থেকে আসা ইউছুপ জানান, ১২০০ টাকার টিকিটে পলো দিয়ে মাছ শিকার করতে এসেছেন। তিনি রুই, কাতল, বিগহেডসহ ছোট বড় প্রায় ২০ কেজি ওজনের মাছ পান বলে জানান। আরেক মাছ শিকারি কাশিনগরের শাহপুর গ্রামের আবদুর রহিম বলেন, ১২০০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে পলো দিয়ে মাছ শিকার করতে এসেছি। মাছ খুব একটা পাননি বলে তিনি জানান।

মনছুর বলেন, পলো দলের সর্দার নবী মালের নিকট ২ লাখ ৬০ হাজার টাকায় সম্পূর্ণ পুকুরের মাছ বিক্রি করলেও সে আমাকে ২ লাখ ১৬ হাজার টাকা প্রদান করেছে। এতে আমার ৪৪ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। পলো দলের লোকজন একসঙ্গে অনেকজন পুকুরে নেমে যাওয়ায় ঠিক কতজন একসঙ্গে নেমেছে সঠিক হিসাব নেই। তবে তাদের সংখ্যা প্রায় ৩০০ জন হবে।

পুকুরে পলো দিয়ে মাছ ধরা দেখতে আসা কাদবা গ্রামের রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব মাঈন উদ্দিন বলেন, দলবেঁধে পুকুরে পলো দিয়ে মাছ ধরা এবার প্রথম দেখলাম। এটা একটি ব্যতিক্রমধর্মী মাছ ধরার উৎসব।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত