কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী গফুর ভূঁইয়ার রিট খারিজ , কাঁদছেন নাঙ্গলকোটের বিএনপির নেতাকর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
Thumbnail image

কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই ) আসনে প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে বিএনপির মনোনীত মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়ার রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে তিনি এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। এর আগে ঋণখেলাপির অভিযোগে কুমিল্লা-৪ ( দেবীদ্বার) আসনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর রিট খারিজ হয়। এতে করে কুমিল্লার দুইটি আসনে বিএনপির প্রার্থী নেই এখন পর্যন্ত।

আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে গত রোববার নির্বাচন ভবনে আপিল শুনানি শেষে তার প্রার্থিতা বাতিলের রায় দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। অভিযোগকারীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন লিপু, অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী। ইসির পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী।

গত ২০ জানুয়ারি দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে নির্বাচন কমিশন প্রার্থিতা বাতিল করায় হাইকোর্টে রিট করেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়া।

আবদুল গফুর ভূঁইয়ার প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে আপিল করেছিলেন বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের (মুক্তিজোট) প্রার্থী কাজি নুরে আলম সিদ্দিকি। এরপর গত ১৮ জানুয়ারি বিকালে নির্বাচন কমিশন উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আবদুল গফুর ভূঁইয়ার প্রার্থিতা বাতিল করে।

এদিকে নাঙ্গলকোটের বিএনপির নেতাকর্মীরা মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়ার প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় কাঁদছেন। তাঁরা আজ উচ্চ আদালতের আদেশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। আদেশ পাওয়ার পর পুরো নাঙ্গলকোটে বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মীরা কাঁদছেন। তাঁরা এতোদিন ‘নিজের খাই গফুর ভাই’ শ্লোগান দিয়ে নিজেরাই নির্বাচনী খরচ যোগাতেন।

নাঙ্গলকোট উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. মাজহারুল ইসলাম ছুপু বলেন, প্রিয় নেতার জন্য কর্মীরা কাঁদছেন। এতোদিনের সাজানো গোছানো মাঠ।

এর আগে গতকাল (২১ জানুয়ারি) কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর রিট খারিজ করেন হাইকোর্ট।

গত ১৭ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন (ইসি) মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রাথমিক বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করলেও ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেন একই আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ।

হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ ছিল, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এনসিপি প্রার্থীর আবেদন মঞ্জুর করে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করে। ইসির এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। আবেদনে তিনি ইসির ওই সিদ্ধান্তের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়েছিলেন, কিন্তু উচ্চ আদালত তার সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত