পাভেল রহমান, নাঙ্গলকোট

নাঙ্গলকোটের বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ আলিয়ারায় গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে প্রতিপক্ষের গুলি ও হাত পায়ের রগ কেটে দুজনকে হত্যা করার ঘটনায় গতকাল শনিবার বিকেল পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহত আবুল খায়েরের ছেলে ব্রুনাই প্রবাসী আনোয়ার হোসেন নয়নের (৪০) লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং প্রয়াত হাজী সালামত উল্লাহর ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য ছালেহ আহম্মদের (৬৭) লাশ ফেনী সদর হাসপাতালে রয়েছে।
গত শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহতরা হলেন, সোহাগ, কামাল, আব্দুর রাজ্জাক, ইয়াছিন, জাহিদুল ইসলাম, আলাউদ্দিন, আবদুর রব, মামুন ভূঁইয়া, রোকম আলী, মনির আহম্মদ, নিজাম উদ্দিন, মহিন উদ্দিন, খোরশেদ ও নেছার উদ্দিন। এর মধ্যে আশঙ্কাজনক ৭ জনকে নাঙ্গলকোট সরকারি হাসপাতাল থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
এ ঘটনায় এ পর্যন্ত পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি হলেন আলিয়ারা গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে আমিনুল ইসলাম। তাঁকে ১৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দুই গোষ্ঠীর লোকজন আত্মগোপনে রয়েছেন। আজ রোববার লাশ দাফনের পর আবারো দুই গোষ্ঠীর মধ্যে যে কোনো মুহূর্তে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। বর্তমানে এলাকায় সেনাবাহিনী, নাঙ্গলকোট থানা পুলিশসহ অতিরিক্ত পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের আলিয়ার গ্রামে গত ৭০ বছর ধরে সাবেক ইউপি সদস্য আলা উদ্দিন ও ছালেহ আহাম্মদ গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এর জের ধরে গত বছরের ৩ আগস্ট ছালেহ আহম্মদ মেম্বার গোষ্ঠীর হামলায় আলা উদ্দিন মেম্বার খুন হন। এ ঘটনার জেরে ছালেহ আহম্মদ গোষ্ঠীর বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগসহ হামলা হয়। যার ফলে প্রায় ৬০-৭০টি পরিবারের শতশত লোকজন গ্রাম ছাড়া হয়ে পড়েন। দীর্ঘ ৫ মাস পর গত ৯ জানুয়ারি ছালেহ আহাম্মদ মেম্বার গোষ্ঠীর কিছু লোকজন আলিয়ারা গ্রামে তাবু টাঙিয়ে বসবাস শুরু করেন। এরপর থেকে প্রয়াত আলা উদ্দিন মেম্বারের লোকজন তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। এক পর্যায়ে আলা উদ্দিন মেম্বারের লোকজন ছালেহ আহম্মদ গোষ্ঠীর লোকজনকে গ্রামের রাস্তার উঠতে নিষেধ করে । শুক্রবার সকালে ছালেহ আহম্মদ গোষ্ঠীর লোকজন গ্রামের রাস্তার দিকে গেলে আগ থেকে ক্ষিপ্ত থাকা আলা উদ্দিন মেম্বারের প্রায় ২শ লোক আগ্নেয়াস্ত্র বোমা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ৮টি বাড়ি ঘর ভাঙচুর করে ও ছালেহ আহম্মদ মেম্বারের হাত ও পায়ের রগ কেটে গুলি করে এবং আনোয়ার হোসেন নয়নকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এরপর তাঁদেরকে উদ্ধার করে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফেনী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়াও আরো ৭ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে কুমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
নিহত ছালেহ আহম্মেদ মেম্বারের ছেলে আহত মামুন বলেন, আমরা আলাদ্দিন মেম্বার হত্যাকাণ্ডের জেরে প্রায় ৫ মাস বাড়ি ছাড়া হয়ে পড়ি। গত ৯ জানুয়ারি থেকে আমাদের কিছু লোক বাড়িতে উঠলে আলাউদ্দিন মেম্বারের লোকজন তাদেরকে বিভিন্ন হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে। শুক্রবার সকালে আমরা আনোয়ার হোসেন নয়নের বাড়িতে নাশতা খাচ্ছিলাম। এমতাবস্থায় আলাউদ্দিন গোষ্ঠীর সায়দুল হক তোতা, শেখ আহম্মদ, আলাউদ্দিন, নেজাম উদ্দিন, তৌহিদ, জিয়াউল, শামছুলসহ এলাকার আরো দুই গোষ্ঠী একত্রিত হয়ে দেশীয় আস্ত্র-শস্ত্র দিয়ে আমাদের লোকজনের ওপর চালায়। তারা গুলি করে এবং চাইনিজ কুড়াল ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আমার বাবাকেসহ ২ জনকে হত্যা করে। এর আগে আমি অবৈধ অস্ত্র গুলো উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।
নিহত নয়নের ছেলে ফয়সাল আহম্মদ বলেন, আমার আব্বু ব্রুনাই থেকে ৩ মাসের ছুটি নিয়ে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর গোষ্ঠীগত মীমাংসা করার জন্য দেশে আসে। কিন্তু তারা গুলি করে আমার আব্বুকে মেরে ফেলে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় আলাউদ্দিন মেম্বার গোষ্ঠীর সিরাজ মিয়ার ছেলে আমিনুল ইসলামকে (৬০) পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাকে ১৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলা হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুষ্কৃতকারীদের ব্যবহৃত ছররা গুলির কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। আতশবাজি সদৃশ চকলেট বোমাসহ বিভিন্ন আলামত পেয়েছি। রক্তাক্ত কাপড়চোপড় পেয়েছি। সেগুলো জব্দ করেছি। ২৪ ঘণ্টা টহল জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ সুপারের নির্দেশে পুলিশ লাইন থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লাশ দুটি ময়নাতদন্ত শেষে একটি লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং অন্য একটি লাশ ফেনী সদর হাসপাতালে রয়েছে। পরিবারের লোকজন লাশ আনলে আজ রোববার সকাল ১১টার দিকে গ্রামের বাড়িতে তাদের জানাজা হবে। ভিকটিমের পরিবারের কাছ থেকে অভিযোগ সাপেক্ষে মামলা নেওয়া হবে। এঘটনায় পুলিশ টহল জোরদার করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সেনাবাহিনীও কাজ করছে। পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবি পুলিশও কাজ করছে।

নাঙ্গলকোটের বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ আলিয়ারায় গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে প্রতিপক্ষের গুলি ও হাত পায়ের রগ কেটে দুজনকে হত্যা করার ঘটনায় গতকাল শনিবার বিকেল পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহত আবুল খায়েরের ছেলে ব্রুনাই প্রবাসী আনোয়ার হোসেন নয়নের (৪০) লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং প্রয়াত হাজী সালামত উল্লাহর ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য ছালেহ আহম্মদের (৬৭) লাশ ফেনী সদর হাসপাতালে রয়েছে।
গত শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহতরা হলেন, সোহাগ, কামাল, আব্দুর রাজ্জাক, ইয়াছিন, জাহিদুল ইসলাম, আলাউদ্দিন, আবদুর রব, মামুন ভূঁইয়া, রোকম আলী, মনির আহম্মদ, নিজাম উদ্দিন, মহিন উদ্দিন, খোরশেদ ও নেছার উদ্দিন। এর মধ্যে আশঙ্কাজনক ৭ জনকে নাঙ্গলকোট সরকারি হাসপাতাল থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
এ ঘটনায় এ পর্যন্ত পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি হলেন আলিয়ারা গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে আমিনুল ইসলাম। তাঁকে ১৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দুই গোষ্ঠীর লোকজন আত্মগোপনে রয়েছেন। আজ রোববার লাশ দাফনের পর আবারো দুই গোষ্ঠীর মধ্যে যে কোনো মুহূর্তে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। বর্তমানে এলাকায় সেনাবাহিনী, নাঙ্গলকোট থানা পুলিশসহ অতিরিক্ত পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের আলিয়ার গ্রামে গত ৭০ বছর ধরে সাবেক ইউপি সদস্য আলা উদ্দিন ও ছালেহ আহাম্মদ গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এর জের ধরে গত বছরের ৩ আগস্ট ছালেহ আহম্মদ মেম্বার গোষ্ঠীর হামলায় আলা উদ্দিন মেম্বার খুন হন। এ ঘটনার জেরে ছালেহ আহম্মদ গোষ্ঠীর বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগসহ হামলা হয়। যার ফলে প্রায় ৬০-৭০টি পরিবারের শতশত লোকজন গ্রাম ছাড়া হয়ে পড়েন। দীর্ঘ ৫ মাস পর গত ৯ জানুয়ারি ছালেহ আহাম্মদ মেম্বার গোষ্ঠীর কিছু লোকজন আলিয়ারা গ্রামে তাবু টাঙিয়ে বসবাস শুরু করেন। এরপর থেকে প্রয়াত আলা উদ্দিন মেম্বারের লোকজন তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। এক পর্যায়ে আলা উদ্দিন মেম্বারের লোকজন ছালেহ আহম্মদ গোষ্ঠীর লোকজনকে গ্রামের রাস্তার উঠতে নিষেধ করে । শুক্রবার সকালে ছালেহ আহম্মদ গোষ্ঠীর লোকজন গ্রামের রাস্তার দিকে গেলে আগ থেকে ক্ষিপ্ত থাকা আলা উদ্দিন মেম্বারের প্রায় ২শ লোক আগ্নেয়াস্ত্র বোমা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ৮টি বাড়ি ঘর ভাঙচুর করে ও ছালেহ আহম্মদ মেম্বারের হাত ও পায়ের রগ কেটে গুলি করে এবং আনোয়ার হোসেন নয়নকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এরপর তাঁদেরকে উদ্ধার করে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফেনী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়াও আরো ৭ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে কুমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
নিহত ছালেহ আহম্মেদ মেম্বারের ছেলে আহত মামুন বলেন, আমরা আলাদ্দিন মেম্বার হত্যাকাণ্ডের জেরে প্রায় ৫ মাস বাড়ি ছাড়া হয়ে পড়ি। গত ৯ জানুয়ারি থেকে আমাদের কিছু লোক বাড়িতে উঠলে আলাউদ্দিন মেম্বারের লোকজন তাদেরকে বিভিন্ন হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে। শুক্রবার সকালে আমরা আনোয়ার হোসেন নয়নের বাড়িতে নাশতা খাচ্ছিলাম। এমতাবস্থায় আলাউদ্দিন গোষ্ঠীর সায়দুল হক তোতা, শেখ আহম্মদ, আলাউদ্দিন, নেজাম উদ্দিন, তৌহিদ, জিয়াউল, শামছুলসহ এলাকার আরো দুই গোষ্ঠী একত্রিত হয়ে দেশীয় আস্ত্র-শস্ত্র দিয়ে আমাদের লোকজনের ওপর চালায়। তারা গুলি করে এবং চাইনিজ কুড়াল ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আমার বাবাকেসহ ২ জনকে হত্যা করে। এর আগে আমি অবৈধ অস্ত্র গুলো উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।
নিহত নয়নের ছেলে ফয়সাল আহম্মদ বলেন, আমার আব্বু ব্রুনাই থেকে ৩ মাসের ছুটি নিয়ে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর গোষ্ঠীগত মীমাংসা করার জন্য দেশে আসে। কিন্তু তারা গুলি করে আমার আব্বুকে মেরে ফেলে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় আলাউদ্দিন মেম্বার গোষ্ঠীর সিরাজ মিয়ার ছেলে আমিনুল ইসলামকে (৬০) পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাকে ১৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলা হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুষ্কৃতকারীদের ব্যবহৃত ছররা গুলির কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। আতশবাজি সদৃশ চকলেট বোমাসহ বিভিন্ন আলামত পেয়েছি। রক্তাক্ত কাপড়চোপড় পেয়েছি। সেগুলো জব্দ করেছি। ২৪ ঘণ্টা টহল জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ সুপারের নির্দেশে পুলিশ লাইন থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লাশ দুটি ময়নাতদন্ত শেষে একটি লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং অন্য একটি লাশ ফেনী সদর হাসপাতালে রয়েছে। পরিবারের লোকজন লাশ আনলে আজ রোববার সকাল ১১টার দিকে গ্রামের বাড়িতে তাদের জানাজা হবে। ভিকটিমের পরিবারের কাছ থেকে অভিযোগ সাপেক্ষে মামলা নেওয়া হবে। এঘটনায় পুলিশ টহল জোরদার করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সেনাবাহিনীও কাজ করছে। পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবি পুলিশও কাজ করছে।