নিজস্ব প্রতিবেদক

মঞ্চকে বিদায় জানাবেন আজ বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব মো. হাসিম আপ্পু। পঞ্চাশের দশক থেকে তিনি নাটকে অভিনয় করে আসছেন। ৮৫ বছর বয়সে তিনি এখনো নাটক নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। যাত্রিক নাট্য গোষ্ঠীর ৫২ বছর পদার্পন উপলক্ষে নাটক সুবচন নির্বাসনে আজ মঞ্চস্থ হবে কবি নজরুল ইনস্টিটিউট কেন্দ্রে সন্ধ্যা সাতটায়। এতে অভিনয় করবেন হাসিম আপ্পু। আজই তাঁর শেষ অভিনয়। নিজের গড়া নাট্য সংগঠনে শেষ অভিনয় করবেন তিনি। তাঁকে ঘটা করে আজ বিদায় জানানো হবে।
জানতে চাইলে নাট্যব্যক্তিত্ব মো. হাসিম আপ্পু বলেন, পঞ্চাশের দশক থেকে নাটকে অভিনয় করছি। এখন আমার বয়স ৮৫। আজ নাটককে বিদায় জানাব।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মো. হাসিম আপ্পু ১৯৪১ সনের ২৩ জানুয়ারি ভারতের উত্তর প্রদেশের লক্ষ্মৌ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম সৈয়দ মোস্তফা হোসেন। মায়ের নাম মনোয়ারা জাহান।
মো. হাসিম আপ্পু চার বোনের একমাত্র ভাই। ভারত বিভক্তির পরের বছর তথা ১৯৪৮ সালে তাঁর গোটা পরিবার কুমিল্লা শহরের বাগিচাগাঁও-এ চলে আসে। এবং স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।
১৯৫৭ সালে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে মো. হাসিম আপ্পু নাট্যজগতে প্রবেশ করেন ‘বিরোধ’ নাটকে নায়িকা চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। ১৯৬০-৬১ সালে তিনি ভার্নাল থিয়েটারের সাথে জড়িত হন। এ থিয়েটারের ব্যানারে তিনি ইতিহাসভিত্তিক নাটক ‘টিপু সুলতান’, ‘মহারাজ নন্দকুমার’ ও ‘সম্রাট শাহজাহান’ নাটকে ইংরেজ চরিত্রে অভিনয় করেন। কে এম নিজাম প্রতিষ্ঠিত মোগলটুলীর এ্যাপোলো নাট্য সংসদের উদ্যোগে বেশ কিছু নাটকে নায়কের চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর তিনি বেদনার তৃপ্তি ‘অগ্নিদাহ’, ‘ডিভোর্স’, ‘ডাক্তার শুভঙ্কর’, ‘শেষফল’, ‘চারদিকে যুদ্ধ’ ‘এবাড়ি ওবাড়ি’ সহ বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেন।
‘মাতৃভ‚মির ডাক' নাটকে তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার অভিনয় করেন। ১৯৭৫ সালের ২৩ জুন গ্রæপ থিয়েটার চিন্তা-ভাবনায় কুমিল্লায় গঠিত হয় যাত্রিক নাট্যগোষ্ঠী। এর নয়জন প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যের মধ্যে তিনি একজন। তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠাকালীন সহ-সভাপতি। বর্তমানে সভাপতি। এ নাট্যগোষ্ঠীর ব্যানারে প্রথম নাটক ‘সুবচন নির্বাসনে’তে তিনি ‘বস্’ এর চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর এ নাটগোষ্ঠীর ব্যানারে 'ভ‚মিকম্পের পরে', 'ওরা কদম আলী' সহ শতাধিক নাটকে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে অভিনয় করেন। যাত্রিক শুধু কুমিল্লায় নয়, চাঁদপুর, ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, বরিশাল, দিনাজপুর, রংপুরসহ বিভিন্ন জেলায় দু’শতাধিক নাটক মঞ্চস্থ করেছে- এর প্রতিটিতেই সাবলীল অভিনয় করেছেন মো. হাসিম আপ্পু।
১৯৬৮ সনের ১৮ আগস্ট তিনি ঠাকুরপাড়ায় ইঞ্জিনিয়ার কাজী মোসলেহ উদ্দিনের মেয়ে রওশন আরা বেগমকে বিয়ে করেন। কুমিল্লা সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এ পরিবারটির সুনাম রয়েছে। মো. হাসিম আপ্পু ৩ মেয়ে ও ১ ছেলের জনক।
বাংলাদেশে যে সব জেলা গর্ব করার মত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধারণ করে তার মধ্যে কুমিল্লা অগ্রগণ্য। বৃহত্তর কুমিল্লা যেমন একদিকে বিশ্বখ্যাত শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের গুরুদের জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে সংস্কৃতির অন্যান্য ক্ষেত্রেও অনেক নামজাদা ব্যক্তিত্বের আবাসভ‚মি ছিল এই কুমিল্লা। নিরবিচ্ছিন্ন চর্চার ফলেই কুমিল্লা সংস্কৃতির অন্যতম পীঠস্থানে পরিণত হয়েছিল।
সেই ধারাবাহিকতায় ২৩ জুন ১৯৭৫ সালে ৯ জন নাট্যপ্রেমী কর্মীর হাত ধরে যাত্রা শুরু করে যাত্রিক নাট্য গোষ্ঠী। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠাতা ৭ জন আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। আজও ছায়া দিয়ে রেখেছেন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. হাসিম আপ্পু ও গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। হাসিম আপ্পু যাত্রিক নাট্য গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।

মঞ্চকে বিদায় জানাবেন আজ বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব মো. হাসিম আপ্পু। পঞ্চাশের দশক থেকে তিনি নাটকে অভিনয় করে আসছেন। ৮৫ বছর বয়সে তিনি এখনো নাটক নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। যাত্রিক নাট্য গোষ্ঠীর ৫২ বছর পদার্পন উপলক্ষে নাটক সুবচন নির্বাসনে আজ মঞ্চস্থ হবে কবি নজরুল ইনস্টিটিউট কেন্দ্রে সন্ধ্যা সাতটায়। এতে অভিনয় করবেন হাসিম আপ্পু। আজই তাঁর শেষ অভিনয়। নিজের গড়া নাট্য সংগঠনে শেষ অভিনয় করবেন তিনি। তাঁকে ঘটা করে আজ বিদায় জানানো হবে।
জানতে চাইলে নাট্যব্যক্তিত্ব মো. হাসিম আপ্পু বলেন, পঞ্চাশের দশক থেকে নাটকে অভিনয় করছি। এখন আমার বয়স ৮৫। আজ নাটককে বিদায় জানাব।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মো. হাসিম আপ্পু ১৯৪১ সনের ২৩ জানুয়ারি ভারতের উত্তর প্রদেশের লক্ষ্মৌ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম সৈয়দ মোস্তফা হোসেন। মায়ের নাম মনোয়ারা জাহান।
মো. হাসিম আপ্পু চার বোনের একমাত্র ভাই। ভারত বিভক্তির পরের বছর তথা ১৯৪৮ সালে তাঁর গোটা পরিবার কুমিল্লা শহরের বাগিচাগাঁও-এ চলে আসে। এবং স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।
১৯৫৭ সালে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে মো. হাসিম আপ্পু নাট্যজগতে প্রবেশ করেন ‘বিরোধ’ নাটকে নায়িকা চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। ১৯৬০-৬১ সালে তিনি ভার্নাল থিয়েটারের সাথে জড়িত হন। এ থিয়েটারের ব্যানারে তিনি ইতিহাসভিত্তিক নাটক ‘টিপু সুলতান’, ‘মহারাজ নন্দকুমার’ ও ‘সম্রাট শাহজাহান’ নাটকে ইংরেজ চরিত্রে অভিনয় করেন। কে এম নিজাম প্রতিষ্ঠিত মোগলটুলীর এ্যাপোলো নাট্য সংসদের উদ্যোগে বেশ কিছু নাটকে নায়কের চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর তিনি বেদনার তৃপ্তি ‘অগ্নিদাহ’, ‘ডিভোর্স’, ‘ডাক্তার শুভঙ্কর’, ‘শেষফল’, ‘চারদিকে যুদ্ধ’ ‘এবাড়ি ওবাড়ি’ সহ বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেন।
‘মাতৃভ‚মির ডাক' নাটকে তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার অভিনয় করেন। ১৯৭৫ সালের ২৩ জুন গ্রæপ থিয়েটার চিন্তা-ভাবনায় কুমিল্লায় গঠিত হয় যাত্রিক নাট্যগোষ্ঠী। এর নয়জন প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যের মধ্যে তিনি একজন। তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠাকালীন সহ-সভাপতি। বর্তমানে সভাপতি। এ নাট্যগোষ্ঠীর ব্যানারে প্রথম নাটক ‘সুবচন নির্বাসনে’তে তিনি ‘বস্’ এর চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর এ নাটগোষ্ঠীর ব্যানারে 'ভ‚মিকম্পের পরে', 'ওরা কদম আলী' সহ শতাধিক নাটকে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে অভিনয় করেন। যাত্রিক শুধু কুমিল্লায় নয়, চাঁদপুর, ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, বরিশাল, দিনাজপুর, রংপুরসহ বিভিন্ন জেলায় দু’শতাধিক নাটক মঞ্চস্থ করেছে- এর প্রতিটিতেই সাবলীল অভিনয় করেছেন মো. হাসিম আপ্পু।
১৯৬৮ সনের ১৮ আগস্ট তিনি ঠাকুরপাড়ায় ইঞ্জিনিয়ার কাজী মোসলেহ উদ্দিনের মেয়ে রওশন আরা বেগমকে বিয়ে করেন। কুমিল্লা সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এ পরিবারটির সুনাম রয়েছে। মো. হাসিম আপ্পু ৩ মেয়ে ও ১ ছেলের জনক।
বাংলাদেশে যে সব জেলা গর্ব করার মত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধারণ করে তার মধ্যে কুমিল্লা অগ্রগণ্য। বৃহত্তর কুমিল্লা যেমন একদিকে বিশ্বখ্যাত শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের গুরুদের জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে সংস্কৃতির অন্যান্য ক্ষেত্রেও অনেক নামজাদা ব্যক্তিত্বের আবাসভ‚মি ছিল এই কুমিল্লা। নিরবিচ্ছিন্ন চর্চার ফলেই কুমিল্লা সংস্কৃতির অন্যতম পীঠস্থানে পরিণত হয়েছিল।
সেই ধারাবাহিকতায় ২৩ জুন ১৯৭৫ সালে ৯ জন নাট্যপ্রেমী কর্মীর হাত ধরে যাত্রা শুরু করে যাত্রিক নাট্য গোষ্ঠী। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠাতা ৭ জন আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। আজও ছায়া দিয়ে রেখেছেন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. হাসিম আপ্পু ও গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। হাসিম আপ্পু যাত্রিক নাট্য গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।