অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে হিট ওয়েভের সংখ্যা ও তীব্রতা বাড়বে। আমাদের দেশও এ ঝুঁকিতে আছে। ওয়েদার রিপোর্টও তাই বলছে। এ অসহনীয় গরমে আমাদের বড় দায়িত্ব নিজের প্রতি এবং আশপা-ে শর মানুষের প্রতি যত্নবান হওয়া। বিশেষ করে প্রতিবেশী বয়স্ক মানুষটি যেন তৃষ্ণায় অসুস্থ হয়ে না যান, শিশুরা যেন অসুস্থ না হয়ে পড়ে। একটু নতজনা, একটু পানি, একটু ছায়া এতটুকু মানবতা আজ খুবই জরুরি। কেননা প্রকৃতির প্রতিকূলতা আমরা থামাতে পারি না, কিন্তু সচেতনতা দিয়ে প্রাণ রক্ষায় সহযোগিতা, সহমর্মিতা প্রকাশ করতে পারি।
হিট ওয়েভ কি ও কেন বিপদজ্জনক:
দিনের ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি থাকলে, এমনকি তা একটানা কয়েকদিন চললে এ সময়কে হিট ওয়েভ বলে। দিনের তাপমাত্রা যদি তিনদিন বা তার বেশি সময় ধরে স্বাভাবিক গড়ের তুলনায় কমপক্ষে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকে তাহলে সেটাকে হিট ওয়েভ বলে গণ্য করা হয়। আমাদের শরীরের তাপমাত্রা প্রায় ৩৭ডিগ্রি সেলসিয়াস। গরমের মধ্যে শরীরের ঘামের মাধ্যমে তাপ বের করে নিজেকে ঠান্ডা রাখে। যদি চারপাশের তাপমাত্রা খুব বেশি হয়, বিশেষ করে বাতাসের আদ্রতা যখন বেড়ে যায় তখন ঘাম সহজে শুকোয় না, ফলে শরীরের ভিতরে
তাপ আটকে যায়। এর ফলাফলে-
১. হিট স্ট্রোক (তাপাঘাত)
২. হিট এক্সহসন (তাপ ক্লান্তি)
৩. ডিহাইড্রেশন (পানি শূন্যতা)
৪. হৃৎপিণ্ডের অতিরিক্ত চাপ
৫. কিডনির ক্ষতি
৬. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এমনকি মৃত্যু। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবর্তী এবং যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়বেটিস, হার্টের রোগ আছে তাঁরা বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়েন।
হিট স্ট্রোকের (তাপাঘাত) লক্ষণ: শরীরের তাপমাত্রা ৪০০ সেলসিয়াসের বেশি হয়, শরীরের চামড়া শুকনো দেখায়, একটু বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে চিন্তায়, আচরণে খিচুনি হয়। শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। মনে রাখতে হবে -হিট স্ট্রোক একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সী। এর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা জরুরী।
হিট এক্সসনের (তাপক্লান্তি) লক্ষণ: প্রচন্ড ঘাম, দুর্বলতা ও মাথা ঘোরা, ত্বক ফ্যাকাশে এবং ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব দেখা দেয়।
আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে হিট ওয়েভের প্রভাব: গত পাঁচ বছরে গরমকালে হিট ওয়েভের সংখ্যা এবং তীব্রতা দুটিই বেড়েছে। এতে কৃষিকাজে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে জনজীবনে, বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের, যেমন-রিকশাচালক, অন্যান্য শ্রমিকেরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
হিট ওয়েভ ঘরের ভেতরে যা করবেন: পর্দা দিয়ে জানালায় রোদ আটকান। এসি ঠিকঠাক চলছে কিনা দেখুন। এসি না থাকলে বরফের সামনে বরফের বাটি রাখুন। দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার পানি পান করুন। শসা, তরমুজ, বাঙ্গি, ডাবের পানি বেশি খান, ঠান্ডা পানিতে গোসল করুন। রান্না কম করুন, চুলার আগুনে যেন ঘরের তাপমাত্রা না বাড়ে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। হালকা খাবার খান।
হিট ওয়েভে ঘরের বাইরে গেলে। সূর্য ওঠার আগে বা সূর্য ডোবার পর ঘর থেকে বের হোন। অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়াই উত্তম।
ঢিলেঢালা হালকা রঙের কাপড় পরিধান করুন। মাথা ঢাকার জন্য ক্যাপ বা ছাতা ব্যবহার করুন। সানস্ক্রিন ও চশমা ব্যবহার করুন। প্রতি ঘন্টা পর পর পানি পান করুন। সুযোগ পেলেই ছায়ায় বিশ্রাম নিন। কাজের মাঝে শরীরের অবস্থার দিকে খেয়াল রাখুন।
হিট স্ট্রোক সন্দেহ হলে করণীয়: তৎক্ষণাৎ ছায়ায় বা শীতল স্থানে নিয়ে যান। জামাকাপড় ঠিক করে দিন। ঠান্ডা পানি দিয়ে শরীর মুছে দিন।
যদি আক্রান্ত ব্যক্তি সচেতন থাকে তবে অল্প অল্প করে ঠান্ডা পানি পান করান। দ্রুত হাসপাতালে নিন। হিট স্ট্রোকে বিলম্ব করলে রোগী মারা যেতে পারে।
অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ: সাবেক অধ্যক্ষ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে হিট ওয়েভের সংখ্যা ও তীব্রতা বাড়বে। আমাদের দেশও এ ঝুঁকিতে আছে। ওয়েদার রিপোর্টও তাই বলছে। এ অসহনীয় গরমে আমাদের বড় দায়িত্ব নিজের প্রতি এবং আশপা-ে শর মানুষের প্রতি যত্নবান হওয়া। বিশেষ করে প্রতিবেশী বয়স্ক মানুষটি যেন তৃষ্ণায় অসুস্থ হয়ে না যান, শিশুরা যেন অসুস্থ না হয়ে পড়ে। একটু নতজনা, একটু পানি, একটু ছায়া এতটুকু মানবতা আজ খুবই জরুরি। কেননা প্রকৃতির প্রতিকূলতা আমরা থামাতে পারি না, কিন্তু সচেতনতা দিয়ে প্রাণ রক্ষায় সহযোগিতা, সহমর্মিতা প্রকাশ করতে পারি।
হিট ওয়েভ কি ও কেন বিপদজ্জনক:
দিনের ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি থাকলে, এমনকি তা একটানা কয়েকদিন চললে এ সময়কে হিট ওয়েভ বলে। দিনের তাপমাত্রা যদি তিনদিন বা তার বেশি সময় ধরে স্বাভাবিক গড়ের তুলনায় কমপক্ষে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকে তাহলে সেটাকে হিট ওয়েভ বলে গণ্য করা হয়। আমাদের শরীরের তাপমাত্রা প্রায় ৩৭ডিগ্রি সেলসিয়াস। গরমের মধ্যে শরীরের ঘামের মাধ্যমে তাপ বের করে নিজেকে ঠান্ডা রাখে। যদি চারপাশের তাপমাত্রা খুব বেশি হয়, বিশেষ করে বাতাসের আদ্রতা যখন বেড়ে যায় তখন ঘাম সহজে শুকোয় না, ফলে শরীরের ভিতরে
তাপ আটকে যায়। এর ফলাফলে-
১. হিট স্ট্রোক (তাপাঘাত)
২. হিট এক্সহসন (তাপ ক্লান্তি)
৩. ডিহাইড্রেশন (পানি শূন্যতা)
৪. হৃৎপিণ্ডের অতিরিক্ত চাপ
৫. কিডনির ক্ষতি
৬. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এমনকি মৃত্যু। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবর্তী এবং যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়বেটিস, হার্টের রোগ আছে তাঁরা বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়েন।
হিট স্ট্রোকের (তাপাঘাত) লক্ষণ: শরীরের তাপমাত্রা ৪০০ সেলসিয়াসের বেশি হয়, শরীরের চামড়া শুকনো দেখায়, একটু বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে চিন্তায়, আচরণে খিচুনি হয়। শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। মনে রাখতে হবে -হিট স্ট্রোক একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সী। এর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা জরুরী।
হিট এক্সসনের (তাপক্লান্তি) লক্ষণ: প্রচন্ড ঘাম, দুর্বলতা ও মাথা ঘোরা, ত্বক ফ্যাকাশে এবং ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব দেখা দেয়।
আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে হিট ওয়েভের প্রভাব: গত পাঁচ বছরে গরমকালে হিট ওয়েভের সংখ্যা এবং তীব্রতা দুটিই বেড়েছে। এতে কৃষিকাজে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে জনজীবনে, বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের, যেমন-রিকশাচালক, অন্যান্য শ্রমিকেরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
হিট ওয়েভ ঘরের ভেতরে যা করবেন: পর্দা দিয়ে জানালায় রোদ আটকান। এসি ঠিকঠাক চলছে কিনা দেখুন। এসি না থাকলে বরফের সামনে বরফের বাটি রাখুন। দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার পানি পান করুন। শসা, তরমুজ, বাঙ্গি, ডাবের পানি বেশি খান, ঠান্ডা পানিতে গোসল করুন। রান্না কম করুন, চুলার আগুনে যেন ঘরের তাপমাত্রা না বাড়ে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। হালকা খাবার খান।
হিট ওয়েভে ঘরের বাইরে গেলে। সূর্য ওঠার আগে বা সূর্য ডোবার পর ঘর থেকে বের হোন। অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়াই উত্তম।
ঢিলেঢালা হালকা রঙের কাপড় পরিধান করুন। মাথা ঢাকার জন্য ক্যাপ বা ছাতা ব্যবহার করুন। সানস্ক্রিন ও চশমা ব্যবহার করুন। প্রতি ঘন্টা পর পর পানি পান করুন। সুযোগ পেলেই ছায়ায় বিশ্রাম নিন। কাজের মাঝে শরীরের অবস্থার দিকে খেয়াল রাখুন।
হিট স্ট্রোক সন্দেহ হলে করণীয়: তৎক্ষণাৎ ছায়ায় বা শীতল স্থানে নিয়ে যান। জামাকাপড় ঠিক করে দিন। ঠান্ডা পানি দিয়ে শরীর মুছে দিন।
যদি আক্রান্ত ব্যক্তি সচেতন থাকে তবে অল্প অল্প করে ঠান্ডা পানি পান করান। দ্রুত হাসপাতালে নিন। হিট স্ট্রোকে বিলম্ব করলে রোগী মারা যেতে পারে।
অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ: সাবেক অধ্যক্ষ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ