• কুমিল্লা সিটি করপোরেশন
  • কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
  • আদর্শ সদর
  • বরুড়া
  • লাকসাম
  • দাউদকান্দি
  • আরও
    • চৌদ্দগ্রাম
    • সদর দক্ষিণ
    • নাঙ্গলকোট
    • বুড়িচং
    • ব্রাহ্মণপাড়া
    • মনোহরগঞ্জ
    • লালমাই
    • চান্দিনা
    • মুরাদনগর
    • দেবীদ্বার
    • হোমনা
    • মেঘনা
    • তিতাস
  • সর্বশেষ
  • রাজনীতি
  • বাংলাদেশ
  • অপরাধ
  • বিশ্ব
  • বাণিজ্য
  • মতামত
  • খেলা
  • বিনোদন
  • চাকরি
  • জীবনযাপন
  • ইপেপার
  • ইপেপার
facebooktwittertiktokpinterestyoutubelinkedininstagramgoogle
স্বত্ব: ©️ আমার শহর

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. গাজীউল হক ভূঁইয়া ( সোহাগ)।

নাহার প্লাজা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০

ই-মেইল: [email protected]

ফোন: 01716197760

> খেলা

আধুনিক ফুটবলের তিন মহানায়ক

স্বর্গ রায়
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ১২: ০৭
logo

আধুনিক ফুটবলের তিন মহানায়ক

স্বর্গ রায়

প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ১২: ০৭
Photo

বিশ্বকাপ শুরুর আর মাত্র তিন সপ্তাহ। বর্তমান ক্রীড়াবিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং জনপ্রিয় আসর ‘ফিফা বিশ্বকাপ’। যাকে এক নামে সবাই চেনে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ হিসেবে। প্রতি চার বছর পর পর এই একটি টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে পুরো পৃথিবী যেন মেতে ওঠে ফুটবল উন্মাদনায়।

ফুটবলের এই সর্ববৃহৎ মহাযজ্ঞ অর্থাৎ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হতে চলেছে ১১ জুন এবং চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টটি ইতিহাসে প্রথম ৪৮টি দল নিয়ে আয়োজিত হতে যাচ্ছে, যেখানে সর্বমোট ১০৪টি ম্যাচ খেলা হবে।

আর এই ফিফা বিশ্বকাপে পৃথিবীর সেরা তারকারা একসঙ্গে মাঠে নামবেন। এবারের আসরটি শুধু নতুন প্রজন্মের উত্থানেরই নয়, বরং পুরনো কিংবদন্তিদের বিদায়ী লড়াইয়েরও। লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং নেইমার জুনিয়রের মতো মহাতারকাদের হয়তো এটিই শেষ বিশ্বকাপ।

ফুটবল বিশ্বের চেনা সমীকরণগুলো যখন একটু একটু করে বদলে যাচ্ছে, ঠিক তখনই আরও একবার একই বিন্দুতে এসে মিলছেন লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও নেইমার জুনিয়র। ২০২৬ সালের উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপ কেবল আরেকটি টুর্নামেন্ট নয়, ফুটবল ইতিহাসের দুই অবিসংবাদিত মহাতারকার জন্য এটিই হতে যাচ্ছে ‘দ্য লাস্ট ড্যান্স’ বা শেষ নৃত্য।

লিওনেল মেসি: লিওনেল আন্দ্রেস মেসি! যাকে এখন বর্তমান বিশ্বে সবাই চেনে মেসি নামে। তিনি একজন আর্জেন্টাইন পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড়। বর্তমানে তিনি মেজর লিগ সকার ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে খেলছেন এবং অধিনায়কত্ব করেন। তিনি এই দলটির হয়ে প্রতিটি ম্যাচ খেলছেন এবং গোলও করছেন। তিনি তাঁর বাম পায়ের জাদুর মাধ্যমে বিশ্বের কোটি ভক্তকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছেন। একই খেলার ধরন ও দৈহিক উচ্চতার কারণে মেসিকে প্রায়ই তাঁর স্বদেশি দিয়েগো ম্যারাডোনার সাথে তুলনা করা হয়। তিনি কৌশলে ট্যাকল এড়িয়ে যেতে পারেন। তাঁর ছোট ও শক্তিশালী পায়ের কারণে অতি অল্প সময়ে তিনি অধিক গতি অর্জন করতে পারেন। তাঁর দ্রæতগতির পা তাঁকে গতিশীল অবস্থায়ও ড্রিবলিং করার সক্ষমতা প্রদান করে। মেসি আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

আর্জেন্টিনা যদিও চ‚ড়ান্ত দল ঘোষণা নিয়ে কিছু জানায়নি, ধারণা করা হচ্ছে সেই সময়টি হতে যাচ্ছে ২৪ মে’র পর। আর এবারের আসরে মাঠে নামলেই ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার কীর্তি গড়বেন তিনি।

৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপে আরেকবার জাদু ছড়িয়ে ভক্তদের মুগ্ধ করবেন, এমনটাই প্রত্যাশা সবার। ২০২২ সালে কাতারের দোহায় যখন ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে আর্জেন্টিনা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলো, অনেকেই ভেবেছিলেন মেসির ক্যারিয়ারের গল্পটা ওখানেই শেষ। লিওনেল মেসি নিজেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, এরপর আর খেলা চালিয়ে যাওয়ার খুব একটা মানে হয় না। গত বছর মায়ামিকে এমএলএস কাপ জেতানো এই বার্সেলোনা কিংবদন্তি ২০২৪ সালেও আর্জেন্টিনাকে কোপা আমেরিকা জিতিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, ‘আমি ফুটবল খেলতে ভালোবাসি এবং যতদিন পারব, ততদিন খেলে যাব।’

মেসি পেশাদার ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি শিরোপাজয়ী খেলোয়াড়, তিনি ৪৭টি দলীয় ট্রফি জিতেছেন। লিওনেল মেসি টানা চারবারসহ মোট আটবার ব্যালন ডি'অর জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, যা ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর পাশাপাশি তিনি সর্বোচ্চ ছয়বার ইউরোপীয় সোনালী জুতো জয়েরও কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। তাঁর পেশাদার ফুটবল জীবনের প্রায় পুরোটাই কেটেছে বার্সেলোনায়।

পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারে মেসি এ পর্যন্ত ৯১০টিরও বেশি গোল করেছেন। ফুটবলের ইতিহাসে তিনিই একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে সর্বমোট ৪১১টি অ্যাসিস্ট করার বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারে লিওনেল মেসি ১,৩২০টিরও বেশি গোল অবদান রেখেছেন। গোল এবং অ্যাসিস্ট মিলিয়ে তিনি ইতিহাস ও বর্তমান ফুটবলে অনন্য উচ্চতায় অবস্থান করছেন।

বিশ্বকাপে মেসির বর্তমান গোল ১৩টি। গ্রæপ পর্বে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের মতো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিরো¯øাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ডটি ভেঙে দেওয়া তার জন্য অসম্ভব কিছু নয়।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো: বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বড় ফুটবল তারকা হলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। সবার কাছে তিনি সিআরসেভেন নামে পরিচিত। তিনি একজন পর্তুগিজ পেশাদার ফুটবলার।

বয়স তাঁর জন্য কেবলই একটা সংখ্যা। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে দেখলে এই কথাটা বারবার মাথায় আসতেই পারে। বয়সের প্রশ্ন উঠলেও তাঁর অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের গুণ ও গোল করার ক্ষমতা পর্তুগালকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতাতে সাহায্য করতে পারে বলে মনে করেন অনেকে। জাতীয় দলের প্রতি ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অবিচল নিষ্ঠার পর, তিনি কোচিং স্টাফদের কাছ থেকে এখনও পূর্ণ আস্থা পেয়ে চলেছেন।

৪১ পেরিয়ে গেছেন এবং এই বয়সে খেলতে যাচ্ছেন আরও একটা বিশ্বকাপ। রোনালদো ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন। পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ আগেই স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, রোনালদোকে ছাড়া বিশ্বকাপ ভাবছেন না তিনি। এর আগে জার্মানি ২০০৬, দক্ষিণ আফ্রিকা ২০১০, ব্রাজিল ২০১৪, রাশিয়া ২০১৮ এবং কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে খেলেছেন এই পর্তুগিজ মহাতারকা।

বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের পেশাদার ফুটবল লিগের শীর্ষ স্তর সৌদি পেশাদার লিগের ক্লাব আল নাসর এবং পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেন। তিনি মূলত গোল করতে খুব আগ্রহী এবং সবমিলিয়ে ১০০০ গোল করা তাঁর স্বপ্ন।

বয়সের বিচারে মেসির চেয়ে দুই বছরের বড় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তবে ৪১ বছর বয়সে এসেও আন্তর্জাতিক ফুটবল এবং আল নাসরের সঙ্গে সৌদি প্রো লিগের শিরোপা জয়ের দৌড়ে সমান ক্ষুধার্ত এই পর্তুগিজ উইঙ্গার। ২০০৬ সালে পর্তুগালকে সেমিফাইনালে তোলার পর থেকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তাঁর দল খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। ২০২২ সালেও সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে নকআউটের ম্যাচে তাকে সাইডবেঞ্চে বসে থাকতে হয়েছিল।

২২৬টি ম্যাচ খেলে পুরুষ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই পর্তুগিজ তারকা সম্প্রতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ‘আমি ৪১ বছরে পদার্পণ করতে যাচ্ছি এবং আমার মনে হয় এটাই (বিশ্বকাপ) শেষ করার সঠিক সময়।’

মজার ব্যাপার হলো, তাঁর সবচেয়ে বড় প্রতিদ্ব›দ্বী লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা) এবং গোলরক্ষক গিয়েরমো ওচোয়া (মেক্সিকো)-ও দলে ডাক পেলে তাদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন। এর আগে এই ত্রয়ী ২০০৬ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে টানা পাঁচটি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের রেকর্ডটি ভাগ করে নিয়েছিলেন।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো তাঁর ক্যারিয়ারে ক্লাব ও দেশের হয়ে মোট ৯৭১টি গোল করেছেন এবং ২৬১টি অ্যাসিস্ট করেছেন। এই অবিশ্বাস্য গোলগুলো তিনি ১৩১৭টি পেশাদার ম্যাচে করেছেন। যার মধ্যে পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে ১৪৩টি গোল এবং বিভিন্ন ক্লাবের (স্পোর্টিং সিপি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাস এবং আল-নাসর) হয়ে ৮২৮টি গোল। ১০০০-এর মাইলফলক ছুঁতে তাঁকে আরও ২৯টি গোল করতে হবে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পেশাদার ক্যারিয়ারে মোট গোল অবদান প্রায় ১,২৩২ টি। তিনি ১০০টি আন্তর্জাতিক গোল করা দ্বিতীয় পুরুষ ফুটবলার এবং প্রথম ইউরোপীয়।

আগের পাঁচটি বিশ্বকাপে রোনালদোর গোল সংখ্যা ৮। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা ৪৮ হওয়ায় ম্যাচও বাড়ছে, ফলে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।

সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে গণ্য রোনালদো পাঁচটি ব্যালন ডি’অর এবং চারটি ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুট অর্জন করেছেন, যা তার চিরপ্রতিদ্ব›দ্বী লিওনেল মেসির পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো তাঁর ক্যারিয়ারে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে মোট ৩৬টি প্রধান শিরোপা জিতেছেন।

অসাধারণ গুণমান এবং একগুচ্ছ অত্যন্ত অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ে সমৃদ্ধ একটি দল নিয়ে, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং তাঁর সতীর্থদের কাছে দেশের ভক্তদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রত্যাশা রয়েছে যে তারা অনেক দূর যাবে, পূর্বের সীমা ছাড়িয়ে যাবে এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরে গৌরব অর্জন করবে।

নেইমার জুনিয়র: নেইমার দা সিলভা সান্তোস জুনিয়র, সাধারণত সবাই তাঁকে নেইমার জুনিয়র বা ‘পোস্টার বয়’ নামে চেনেন। তিনি একজন ব্রাজিলীয় পেশাদার ফুটবলার, যিনি বর্তমানে তাঁর শৈশবের ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোস এফসি-তে খেলছেন এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে একজন ফরোয়ার্ড বা উইঙ্গার হিসেবে খেলেন। তাঁকে আধুনিক বিশ্বের উদীয়মান ফুটবলারদের মধ্যে অন্যতম মনে করা হয়।

নেইমার জুনিয়র সর্বাধিক পরিচিত তাঁর ত্বরণ, গতি, বল কাটানো, সম্পূর্ণতা এবং উভয় পায়ের ক্ষমতার জন্য। তাঁর ফুটবল খেলার ধরনের কারণে সমালোচকদের প্রশংসা ও মিডিয়া কাভারেজ পেয়েছেন এবং তাঁকে সাবেক ব্রাজিলীয় ফুটবলার পেলের সঙ্গে তুলনা করা হয়।

২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিল দল ঘোষণার সবচেয়ে বড় আলোচনার নাম ছিল একটাই, আর সেই নামটি ছিল নেইমার। শেষ পর্যন্ত ৩৪ বছর বয়সী এই তারকাকে দলে রেখেছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। আর এ আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণার পর, চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি নেইমার। সঙ্গী ব্রæনা বিয়ানকার্দি ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে মুহূর্তটি উদযাপনের আবেগঘন ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন এই তারকা। ব্রাজিলের সফলতম গোলস্কোরার বললেন, তখন লম্বা সময় কেঁদেছেন তিনি।

আর সেই ঘোষণার পরই উচ্ছ¡াসে ফেটে পড়েছে ব্রাজিলিয়ান সমর্থকেরা।

ব্রাজিলের হয়ে নেইমার জুনিয়রও এবারের বিশ্বকাপে ফিরছেন। নেইমারকে নিয়েই বিশ্বকাপে হেক্সা মিশনে (ষষ্ঠ শিরোপা) যাবে ব্রাজিল। চোটের সঙ্গে লড়াই করে ৩৪ বছর বয়সে সান্তোসে ফিরে ফর্মে আসা এই তারকার জন্য এটি হতে পারে চতুর্থ এবং সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ।

তিন বছর পর ব্রাজিল দলে ফিরেছেন নেইমার। অনেকের কাছে এটি আবেগের প্রত্যাবর্তন, শেষ বিশ্বকাপে দেশের জার্সিতে তাঁর শেষ নাচ। ব্রাজিলের সর্বকালের সেরা গোলদাতা নেইমারের দক্ষতা, ড্রিবলিং ও সৃজনশীলতা দেখতে মুখিয়ে আছে কোটি কোটি ভক্ত।

নেইমার গত ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর জাতীয় দলের হয়ে আর খেলেননি। ইনজুরি ও বিভিন্ন সমস্যার কারণে অনেকটা সময় মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছে ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে।

তবুও সমর্থকদের ভালোবাসার কমতি দেখা দেয়নি। কারণ, ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সৌন্দর্য, সাহসী ফুটবল আর জাদুকরী মুহূর্তের প্রতীক হিসেবেই দেখা হয় নেইমারকে।

নেইমার খুব কম বয়সেই ফুটবল খেলা আরম্ভ করেন। খুব অল্প সময়েই তিনি সান্তোস ফুটবল ক্লাব কর্তৃপক্ষের নজরে আসেন। ২০০৩ সালে সান্তোস ফুটবল ক্লাব খেলায় চুক্তিবদ্ধ করেন নেইমারকে। এবং তাকে যুব একাডেমিতে খেলানো হয়।

নেইমার জুনিয়রের মোট গোল সংখ্যা ৪৫০টিরও বেশি। ক্লাব ও দেশের হয়ে পেশাদার ক্যারিয়ারে তিনি ৭৬০টিরও বেশি ম্যাচে ৪৫০ থেকে ৪৬০টির মতো গোল করেছেন এবং ২৫৭-এর বেশি অ্যাসিস্ট বা গোলে সহায়তা করেছেন। পেশাদার ক্যারিয়ারে নেইমার জুনিয়র ৭০০টিরও বেশি গোলে অবদান রেখেছেন।

ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার জুনিয়র তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ক্লাব এবং জাতীয় দলের হয়ে মোট ৩৪টি ট্রফি বা শিরোপা জয় করেছেন। নেইমার ১৯ বছর বয়সে ২০১১ এবং ২০১২ সালে দক্ষিণ আমেরিকার বর্ষসেরা ফুটবলার নির্বাচিত হন। ২০১১ সালে নেইমার ফিফা ব্যালন ডি'অরের জন্য মনোনয়ন পান, তবে ১০ম স্থানে আসেন। তিনি ফিফা পুরস্কারও অর্জন করেন। ব্যক্তিগত অর্জনের মধ্যে তিনি সর্বোচ্চ ৬ বার ‘সাম্বা গোল্ড’ ট্রফি জয় করার পাশাপাশি ফিফা পুসকাস অ্যাওয়ার্ডও লাভ করেছেন। ২০১৫ সালের ফিফা ব্যালন ডি অরের জন্য তিনজনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পান নেইমার, যেখানে তিনি মেসি ও রোনালদোর পরে তৃতীয় হন। নেইমার জুনিয়র ব্রাজিল অনূর্ধ্ব ১৭, অনূর্ধ্ব ২০ এবং ব্রাজিল মূল দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০১২ সালে বার্সেলোনা ক্লাবে যোগ দেন। সেখান থেকে তিনি ২০১৭ সালে পিএসজিতে রেকর্ড দামে যোগ দেন।

আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হেক্সা জয়ের মিশন শুরু করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। গ্রæপ ‘সি’-তে ব্রাজিলের বাকি দুই প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড।

পেলে নেইমার সম্পর্কে বলেন, ‘একজন অসাধারণ খেলোয়াড়।’

অন্যদিকে রোনালদিনহো বলেন, ‘নেইমার হবে বিশ্বসেরা।’

ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহাযজ্ঞ হলো ফিফা বিশ্বকাপ। এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে ৪৮ দল। আগের যেকোনো বারের চেয়ে বড় পরিসরে হচ্ছে এবারের বিশ্বকাপ। ফুটবলপ্রেমিরা যেমন ত্রয়ী বা কিংবদন্তিদের পায়ের জাদুতে আনন্দিত হন, তেমনি তাদের ফুটবল দর্শন, নিখুঁত পাস, এবং গোল করার অবিশ্বাস্য দক্ষতা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্তকে মুগ্ধ ও আবেগাপ্লæত করে। এই ত্রয়ীদের রসায়ন শুধু ট্রফি জেতার জন্যই নয়, বরং মাঠের নান্দনিক বিনোদনের জন্যও চিরস্মরণীয়। এই তিন কিংবদন্তির বিদায়েও মন খারাপ হবে ফুটবল ভক্তদের। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে শেষবারের মতো হয়তো বিশ্বমঞ্চে দেখা যাবে এই তিন কিংবদন্তিকে। সব মিলিয়ে, আসন্ন বিশ্বকাপটি যে কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।

Thumbnail image

বিশ্বকাপ শুরুর আর মাত্র তিন সপ্তাহ। বর্তমান ক্রীড়াবিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং জনপ্রিয় আসর ‘ফিফা বিশ্বকাপ’। যাকে এক নামে সবাই চেনে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ হিসেবে। প্রতি চার বছর পর পর এই একটি টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে পুরো পৃথিবী যেন মেতে ওঠে ফুটবল উন্মাদনায়।

ফুটবলের এই সর্ববৃহৎ মহাযজ্ঞ অর্থাৎ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হতে চলেছে ১১ জুন এবং চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টটি ইতিহাসে প্রথম ৪৮টি দল নিয়ে আয়োজিত হতে যাচ্ছে, যেখানে সর্বমোট ১০৪টি ম্যাচ খেলা হবে।

আর এই ফিফা বিশ্বকাপে পৃথিবীর সেরা তারকারা একসঙ্গে মাঠে নামবেন। এবারের আসরটি শুধু নতুন প্রজন্মের উত্থানেরই নয়, বরং পুরনো কিংবদন্তিদের বিদায়ী লড়াইয়েরও। লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং নেইমার জুনিয়রের মতো মহাতারকাদের হয়তো এটিই শেষ বিশ্বকাপ।

ফুটবল বিশ্বের চেনা সমীকরণগুলো যখন একটু একটু করে বদলে যাচ্ছে, ঠিক তখনই আরও একবার একই বিন্দুতে এসে মিলছেন লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও নেইমার জুনিয়র। ২০২৬ সালের উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপ কেবল আরেকটি টুর্নামেন্ট নয়, ফুটবল ইতিহাসের দুই অবিসংবাদিত মহাতারকার জন্য এটিই হতে যাচ্ছে ‘দ্য লাস্ট ড্যান্স’ বা শেষ নৃত্য।

লিওনেল মেসি: লিওনেল আন্দ্রেস মেসি! যাকে এখন বর্তমান বিশ্বে সবাই চেনে মেসি নামে। তিনি একজন আর্জেন্টাইন পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড়। বর্তমানে তিনি মেজর লিগ সকার ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে খেলছেন এবং অধিনায়কত্ব করেন। তিনি এই দলটির হয়ে প্রতিটি ম্যাচ খেলছেন এবং গোলও করছেন। তিনি তাঁর বাম পায়ের জাদুর মাধ্যমে বিশ্বের কোটি ভক্তকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছেন। একই খেলার ধরন ও দৈহিক উচ্চতার কারণে মেসিকে প্রায়ই তাঁর স্বদেশি দিয়েগো ম্যারাডোনার সাথে তুলনা করা হয়। তিনি কৌশলে ট্যাকল এড়িয়ে যেতে পারেন। তাঁর ছোট ও শক্তিশালী পায়ের কারণে অতি অল্প সময়ে তিনি অধিক গতি অর্জন করতে পারেন। তাঁর দ্রæতগতির পা তাঁকে গতিশীল অবস্থায়ও ড্রিবলিং করার সক্ষমতা প্রদান করে। মেসি আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

আর্জেন্টিনা যদিও চ‚ড়ান্ত দল ঘোষণা নিয়ে কিছু জানায়নি, ধারণা করা হচ্ছে সেই সময়টি হতে যাচ্ছে ২৪ মে’র পর। আর এবারের আসরে মাঠে নামলেই ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার কীর্তি গড়বেন তিনি।

৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপে আরেকবার জাদু ছড়িয়ে ভক্তদের মুগ্ধ করবেন, এমনটাই প্রত্যাশা সবার। ২০২২ সালে কাতারের দোহায় যখন ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে আর্জেন্টিনা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলো, অনেকেই ভেবেছিলেন মেসির ক্যারিয়ারের গল্পটা ওখানেই শেষ। লিওনেল মেসি নিজেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, এরপর আর খেলা চালিয়ে যাওয়ার খুব একটা মানে হয় না। গত বছর মায়ামিকে এমএলএস কাপ জেতানো এই বার্সেলোনা কিংবদন্তি ২০২৪ সালেও আর্জেন্টিনাকে কোপা আমেরিকা জিতিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, ‘আমি ফুটবল খেলতে ভালোবাসি এবং যতদিন পারব, ততদিন খেলে যাব।’

মেসি পেশাদার ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি শিরোপাজয়ী খেলোয়াড়, তিনি ৪৭টি দলীয় ট্রফি জিতেছেন। লিওনেল মেসি টানা চারবারসহ মোট আটবার ব্যালন ডি'অর জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, যা ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর পাশাপাশি তিনি সর্বোচ্চ ছয়বার ইউরোপীয় সোনালী জুতো জয়েরও কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। তাঁর পেশাদার ফুটবল জীবনের প্রায় পুরোটাই কেটেছে বার্সেলোনায়।

পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারে মেসি এ পর্যন্ত ৯১০টিরও বেশি গোল করেছেন। ফুটবলের ইতিহাসে তিনিই একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে সর্বমোট ৪১১টি অ্যাসিস্ট করার বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারে লিওনেল মেসি ১,৩২০টিরও বেশি গোল অবদান রেখেছেন। গোল এবং অ্যাসিস্ট মিলিয়ে তিনি ইতিহাস ও বর্তমান ফুটবলে অনন্য উচ্চতায় অবস্থান করছেন।

বিশ্বকাপে মেসির বর্তমান গোল ১৩টি। গ্রæপ পর্বে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের মতো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিরো¯øাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ডটি ভেঙে দেওয়া তার জন্য অসম্ভব কিছু নয়।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো: বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বড় ফুটবল তারকা হলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। সবার কাছে তিনি সিআরসেভেন নামে পরিচিত। তিনি একজন পর্তুগিজ পেশাদার ফুটবলার।

বয়স তাঁর জন্য কেবলই একটা সংখ্যা। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে দেখলে এই কথাটা বারবার মাথায় আসতেই পারে। বয়সের প্রশ্ন উঠলেও তাঁর অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের গুণ ও গোল করার ক্ষমতা পর্তুগালকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতাতে সাহায্য করতে পারে বলে মনে করেন অনেকে। জাতীয় দলের প্রতি ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অবিচল নিষ্ঠার পর, তিনি কোচিং স্টাফদের কাছ থেকে এখনও পূর্ণ আস্থা পেয়ে চলেছেন।

৪১ পেরিয়ে গেছেন এবং এই বয়সে খেলতে যাচ্ছেন আরও একটা বিশ্বকাপ। রোনালদো ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন। পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ আগেই স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, রোনালদোকে ছাড়া বিশ্বকাপ ভাবছেন না তিনি। এর আগে জার্মানি ২০০৬, দক্ষিণ আফ্রিকা ২০১০, ব্রাজিল ২০১৪, রাশিয়া ২০১৮ এবং কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে খেলেছেন এই পর্তুগিজ মহাতারকা।

বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের পেশাদার ফুটবল লিগের শীর্ষ স্তর সৌদি পেশাদার লিগের ক্লাব আল নাসর এবং পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেন। তিনি মূলত গোল করতে খুব আগ্রহী এবং সবমিলিয়ে ১০০০ গোল করা তাঁর স্বপ্ন।

বয়সের বিচারে মেসির চেয়ে দুই বছরের বড় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তবে ৪১ বছর বয়সে এসেও আন্তর্জাতিক ফুটবল এবং আল নাসরের সঙ্গে সৌদি প্রো লিগের শিরোপা জয়ের দৌড়ে সমান ক্ষুধার্ত এই পর্তুগিজ উইঙ্গার। ২০০৬ সালে পর্তুগালকে সেমিফাইনালে তোলার পর থেকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তাঁর দল খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। ২০২২ সালেও সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে নকআউটের ম্যাচে তাকে সাইডবেঞ্চে বসে থাকতে হয়েছিল।

২২৬টি ম্যাচ খেলে পুরুষ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই পর্তুগিজ তারকা সম্প্রতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ‘আমি ৪১ বছরে পদার্পণ করতে যাচ্ছি এবং আমার মনে হয় এটাই (বিশ্বকাপ) শেষ করার সঠিক সময়।’

মজার ব্যাপার হলো, তাঁর সবচেয়ে বড় প্রতিদ্ব›দ্বী লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা) এবং গোলরক্ষক গিয়েরমো ওচোয়া (মেক্সিকো)-ও দলে ডাক পেলে তাদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন। এর আগে এই ত্রয়ী ২০০৬ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে টানা পাঁচটি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের রেকর্ডটি ভাগ করে নিয়েছিলেন।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো তাঁর ক্যারিয়ারে ক্লাব ও দেশের হয়ে মোট ৯৭১টি গোল করেছেন এবং ২৬১টি অ্যাসিস্ট করেছেন। এই অবিশ্বাস্য গোলগুলো তিনি ১৩১৭টি পেশাদার ম্যাচে করেছেন। যার মধ্যে পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে ১৪৩টি গোল এবং বিভিন্ন ক্লাবের (স্পোর্টিং সিপি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাস এবং আল-নাসর) হয়ে ৮২৮টি গোল। ১০০০-এর মাইলফলক ছুঁতে তাঁকে আরও ২৯টি গোল করতে হবে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পেশাদার ক্যারিয়ারে মোট গোল অবদান প্রায় ১,২৩২ টি। তিনি ১০০টি আন্তর্জাতিক গোল করা দ্বিতীয় পুরুষ ফুটবলার এবং প্রথম ইউরোপীয়।

আগের পাঁচটি বিশ্বকাপে রোনালদোর গোল সংখ্যা ৮। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা ৪৮ হওয়ায় ম্যাচও বাড়ছে, ফলে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।

সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে গণ্য রোনালদো পাঁচটি ব্যালন ডি’অর এবং চারটি ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুট অর্জন করেছেন, যা তার চিরপ্রতিদ্ব›দ্বী লিওনেল মেসির পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো তাঁর ক্যারিয়ারে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে মোট ৩৬টি প্রধান শিরোপা জিতেছেন।

অসাধারণ গুণমান এবং একগুচ্ছ অত্যন্ত অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ে সমৃদ্ধ একটি দল নিয়ে, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং তাঁর সতীর্থদের কাছে দেশের ভক্তদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রত্যাশা রয়েছে যে তারা অনেক দূর যাবে, পূর্বের সীমা ছাড়িয়ে যাবে এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরে গৌরব অর্জন করবে।

নেইমার জুনিয়র: নেইমার দা সিলভা সান্তোস জুনিয়র, সাধারণত সবাই তাঁকে নেইমার জুনিয়র বা ‘পোস্টার বয়’ নামে চেনেন। তিনি একজন ব্রাজিলীয় পেশাদার ফুটবলার, যিনি বর্তমানে তাঁর শৈশবের ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোস এফসি-তে খেলছেন এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে একজন ফরোয়ার্ড বা উইঙ্গার হিসেবে খেলেন। তাঁকে আধুনিক বিশ্বের উদীয়মান ফুটবলারদের মধ্যে অন্যতম মনে করা হয়।

নেইমার জুনিয়র সর্বাধিক পরিচিত তাঁর ত্বরণ, গতি, বল কাটানো, সম্পূর্ণতা এবং উভয় পায়ের ক্ষমতার জন্য। তাঁর ফুটবল খেলার ধরনের কারণে সমালোচকদের প্রশংসা ও মিডিয়া কাভারেজ পেয়েছেন এবং তাঁকে সাবেক ব্রাজিলীয় ফুটবলার পেলের সঙ্গে তুলনা করা হয়।

২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিল দল ঘোষণার সবচেয়ে বড় আলোচনার নাম ছিল একটাই, আর সেই নামটি ছিল নেইমার। শেষ পর্যন্ত ৩৪ বছর বয়সী এই তারকাকে দলে রেখেছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। আর এ আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণার পর, চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি নেইমার। সঙ্গী ব্রæনা বিয়ানকার্দি ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে মুহূর্তটি উদযাপনের আবেগঘন ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন এই তারকা। ব্রাজিলের সফলতম গোলস্কোরার বললেন, তখন লম্বা সময় কেঁদেছেন তিনি।

আর সেই ঘোষণার পরই উচ্ছ¡াসে ফেটে পড়েছে ব্রাজিলিয়ান সমর্থকেরা।

ব্রাজিলের হয়ে নেইমার জুনিয়রও এবারের বিশ্বকাপে ফিরছেন। নেইমারকে নিয়েই বিশ্বকাপে হেক্সা মিশনে (ষষ্ঠ শিরোপা) যাবে ব্রাজিল। চোটের সঙ্গে লড়াই করে ৩৪ বছর বয়সে সান্তোসে ফিরে ফর্মে আসা এই তারকার জন্য এটি হতে পারে চতুর্থ এবং সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ।

তিন বছর পর ব্রাজিল দলে ফিরেছেন নেইমার। অনেকের কাছে এটি আবেগের প্রত্যাবর্তন, শেষ বিশ্বকাপে দেশের জার্সিতে তাঁর শেষ নাচ। ব্রাজিলের সর্বকালের সেরা গোলদাতা নেইমারের দক্ষতা, ড্রিবলিং ও সৃজনশীলতা দেখতে মুখিয়ে আছে কোটি কোটি ভক্ত।

নেইমার গত ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর জাতীয় দলের হয়ে আর খেলেননি। ইনজুরি ও বিভিন্ন সমস্যার কারণে অনেকটা সময় মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছে ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে।

তবুও সমর্থকদের ভালোবাসার কমতি দেখা দেয়নি। কারণ, ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সৌন্দর্য, সাহসী ফুটবল আর জাদুকরী মুহূর্তের প্রতীক হিসেবেই দেখা হয় নেইমারকে।

নেইমার খুব কম বয়সেই ফুটবল খেলা আরম্ভ করেন। খুব অল্প সময়েই তিনি সান্তোস ফুটবল ক্লাব কর্তৃপক্ষের নজরে আসেন। ২০০৩ সালে সান্তোস ফুটবল ক্লাব খেলায় চুক্তিবদ্ধ করেন নেইমারকে। এবং তাকে যুব একাডেমিতে খেলানো হয়।

নেইমার জুনিয়রের মোট গোল সংখ্যা ৪৫০টিরও বেশি। ক্লাব ও দেশের হয়ে পেশাদার ক্যারিয়ারে তিনি ৭৬০টিরও বেশি ম্যাচে ৪৫০ থেকে ৪৬০টির মতো গোল করেছেন এবং ২৫৭-এর বেশি অ্যাসিস্ট বা গোলে সহায়তা করেছেন। পেশাদার ক্যারিয়ারে নেইমার জুনিয়র ৭০০টিরও বেশি গোলে অবদান রেখেছেন।

ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার জুনিয়র তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ক্লাব এবং জাতীয় দলের হয়ে মোট ৩৪টি ট্রফি বা শিরোপা জয় করেছেন। নেইমার ১৯ বছর বয়সে ২০১১ এবং ২০১২ সালে দক্ষিণ আমেরিকার বর্ষসেরা ফুটবলার নির্বাচিত হন। ২০১১ সালে নেইমার ফিফা ব্যালন ডি'অরের জন্য মনোনয়ন পান, তবে ১০ম স্থানে আসেন। তিনি ফিফা পুরস্কারও অর্জন করেন। ব্যক্তিগত অর্জনের মধ্যে তিনি সর্বোচ্চ ৬ বার ‘সাম্বা গোল্ড’ ট্রফি জয় করার পাশাপাশি ফিফা পুসকাস অ্যাওয়ার্ডও লাভ করেছেন। ২০১৫ সালের ফিফা ব্যালন ডি অরের জন্য তিনজনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পান নেইমার, যেখানে তিনি মেসি ও রোনালদোর পরে তৃতীয় হন। নেইমার জুনিয়র ব্রাজিল অনূর্ধ্ব ১৭, অনূর্ধ্ব ২০ এবং ব্রাজিল মূল দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০১২ সালে বার্সেলোনা ক্লাবে যোগ দেন। সেখান থেকে তিনি ২০১৭ সালে পিএসজিতে রেকর্ড দামে যোগ দেন।

আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হেক্সা জয়ের মিশন শুরু করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। গ্রæপ ‘সি’-তে ব্রাজিলের বাকি দুই প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড।

পেলে নেইমার সম্পর্কে বলেন, ‘একজন অসাধারণ খেলোয়াড়।’

অন্যদিকে রোনালদিনহো বলেন, ‘নেইমার হবে বিশ্বসেরা।’

ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহাযজ্ঞ হলো ফিফা বিশ্বকাপ। এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে ৪৮ দল। আগের যেকোনো বারের চেয়ে বড় পরিসরে হচ্ছে এবারের বিশ্বকাপ। ফুটবলপ্রেমিরা যেমন ত্রয়ী বা কিংবদন্তিদের পায়ের জাদুতে আনন্দিত হন, তেমনি তাদের ফুটবল দর্শন, নিখুঁত পাস, এবং গোল করার অবিশ্বাস্য দক্ষতা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্তকে মুগ্ধ ও আবেগাপ্লæত করে। এই ত্রয়ীদের রসায়ন শুধু ট্রফি জেতার জন্যই নয়, বরং মাঠের নান্দনিক বিনোদনের জন্যও চিরস্মরণীয়। এই তিন কিংবদন্তির বিদায়েও মন খারাপ হবে ফুটবল ভক্তদের। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে শেষবারের মতো হয়তো বিশ্বমঞ্চে দেখা যাবে এই তিন কিংবদন্তিকে। সব মিলিয়ে, আসন্ন বিশ্বকাপটি যে কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

১

আধুনিক ফুটবলের তিন মহানায়ক

২

মাঠের বাইরে যে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছিলেন মেসি

৩

টেস্ট ক্রিকেট র‌্যাঙ্কিংয়ের নতুন উচ্চতায় টাইগাররা

৪

পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করলো টাইগাররা

৫

বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেই কি ব্রাজিল ফুটবল বিশ্বকাপ জিতে

সম্পর্কিত

মাঠের বাইরে যে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছিলেন মেসি

মাঠের বাইরে যে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছিলেন মেসি

১ দিন আগে
টেস্ট ক্রিকেট র‌্যাঙ্কিংয়ের নতুন উচ্চতায় টাইগাররা

টেস্ট ক্রিকেট র‌্যাঙ্কিংয়ের নতুন উচ্চতায় টাইগাররা

১ দিন আগে
পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করলো টাইগাররা

পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করলো টাইগাররা

১ দিন আগে
বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেই কি ব্রাজিল ফুটবল বিশ্বকাপ জিতে

বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেই কি ব্রাজিল ফুটবল বিশ্বকাপ জিতে

২ দিন আগে