আতকা শ্রেণিকক্ষে ঢুকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে টেবিলে বসে পড়লেন সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক
Thumbnail image

সপ্তম শ্রেণির বাংলা ক্লাস চলছে। শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন শিক্ষক। আতকা শ্রেণিকক্ষের দরজার সামনে দাঁড়ালেন কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। এরপর তিনি শ্রেণিকক্ষে থাকা শিক্ষকের অনুমতি নিলেন প্রবেশের জন্য। শ্রেণিকক্ষে ঢুকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে টেবিলে বসে পড়লেন সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। আজ সোমবার সকালে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের দিদার মডেল হাইস্কুলে এ ঘটনা ঘটে।

মনিরুল হক চৌধুরী সপ্তম শ্রেণির প্রথম বেঞ্চে ছাত্রদের সঙ্গে বসেন। এরপর তিনি অন্য শিক্ষার্থীদের মতো গভীর মনোযোগ দিয়ে ক্লাস লেকচার শুনেন। এ সময়ে এক ভিন্নধর্মী মুহূর্তের সাক্ষী হন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

দেশের চলমান হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনে অংশ নিতে এসে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী স্কুলটি পরিদর্শনে যান। আনুষ্ঠানিকতা শেষে হঠাৎই তিনি ঢুকে পড়েন একটি শ্রেণিকক্ষে।

তবে তিনি নিজে ছিলেন পুরোপুরি নিবিষ্ট, যেন সত্যিই একজন শিক্ষার্থী। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলা ওই ক্লাসে তিনি মনোযোগ দিয়ে পাঠ শোনেন। একপর্যায়ে শ্রেণির এক ছাত্রীর কাছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘কুলি-মজুর’ কবিতাটি আবৃত্তি শোনেন। ছাত্রীর আবৃত্তি মনোযোগ দিয়ে শোনার সময় তাঁর চোখেমুখে ফুটে ওঠে প্রশংসা ও সন্তুষ্টির ছাপ। ক্লাসের শেষ দিকে মনিরুল হক চৌধুরী দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। তিনি পড়াশোনার গুরুত্ব, নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকা এবং নিজেদের দক্ষতা গড়ে তোলার বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক কিছু কথা বলেন।

দিদার মডেল হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অর্চনা দেবনাথ বলেন, একজন সংসদ সদস্য হয়েও শিক্ষার্থীদের মাঝে এসে তাদের সঙ্গে একই বেঞ্চে বসে সময় দিয়ে পাঠ গ্রহণ করা নিঃসন্দেহে একটি ব্যতিক্রমী ও অনুপ্রেরণাদায়ক উদ্যোগ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেমন উৎসাহিত হবে, তেমনি শিক্ষকদের মাঝেও দায়িত্ববোধ ও আন্তরিকতা আরও বৃদ্ধি পাবে। এমন অংশগ্রহণমূলক উপস্থিতি শিক্ষাঙ্গনে একটি ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয়।

সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমি তাদের সাথে মিশে, তাদের সাথে ক্লাস করেছি। আমাদের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে হলে তাদের কাছে শিক্ষাকে আনন্দময় করে তুলতে হবে। শিক্ষা যদি তাদের কাছে উপভোগ্য হয়ে ওঠে, তাহলে তারা আর স্কুল ফাঁকি দেবে না বা পড়াশোনায় অমনোযোগী হবে না।’ তিনি আরও বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং দক্ষ, যোগ্য শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত করা অত্যন্ত জরুরি।

মনিরুল হক চৌধুরী আরও বলেন, শ্রেণিকক্ষে গিয়ে মনে হলো পঞ্চাশের দশকে আমার স্কুল জীবনের কথা। আমি এক অদ্ভুত নস্টালজিয়ায় পড়ি। এ এক অন্যরকম অনুভূতি।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত