নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষকতা পেশার বাইরে প্রতিষ্ঠান গড়ার অন্যতম উদ্যোক্তা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ। অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ে একে একে গড়ে তুলেছেন নানা ধরনের প্রতিষ্ঠান। ব্যক্তিগত উদ্যোগেও করেছেন দ্বীনি প্রতিষ্ঠান। তাঁর ও তাঁদের এইসব প্রতিষ্ঠানে হাজারো শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। যাঁরা এখান থেকে পড়ে বিভিন্ন পর্যায়ে স্বাবলম্বী। তিনি ছিলেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন কোর্স চালু করেন তিনি।
শিক্ষকতার বাইরে সাংগঠনিক কর্মযজ্ঞেও তিনি সফল এক ব্যক্তিত্ব। এজন্য বরিশাল শের-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা ভোট দিয়ে তাঁকে ভিপি (সহসভাপতি) বানিয়েছেন। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে বাপা কুমিল্লা অঞ্চলের সভাপতিও হন তিনি। বাংলাদেশ রক্ত পরিসঞ্চালন সোসাইটির সভাপতি ছিলেন তিনি। কুমিল্লার চিকিৎসকেরা তাঁকে বিএমএর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করেছেন। সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনেও তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। লেখালেখিতেও আছেন অহর্নিশ।
জানা গেছে, অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ ১৯৮৮ সালে সাতজন উদ্যোক্তা নিয়ে কুমিল্লায় প্রতিষ্ঠা করেন সিডিপ্যাথ হাসপাতাল, যা বর্তমানে ১০০ শয্যার অন্যতম বেসরকারি হাসপাতাল। ১৯৯১ সালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ চালু হওয়ার সময়ে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। ২০০৫ সালে প্রথমে চারজন ও আরও ১২ জনকে যুক্ত করে ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২৫ সালে ইস্টার্ন নার্সিং কলেজ করেন। ২০০৫ সালে কাপ্তান বাজারে নিজস্ব জায়গায় ছয়তলা বিশিষ্ট জমীরিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে হতদরিদ্র, এতিম ছেলেরা পড়াশোনা করে। সেখানে বিনামূল্যে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। এ বছর নিজ গ্রামের বাড়ি দেবীদ্বার উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ঝিনাইয়া গ্রামে জোনাব আলী মক্তব চালু করেন। সেখানে ভবন করে দেন তিনি। প্রতিমাসে হুজুর ও মক্তবের ব্যবস্থাপনার অর্থও যোগান দেন।
অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের জন্ম ১৯৫৬ সালের ১ জুলাই দেবীদ্বার উপজেলার ঝিনাইয়া গ্রামে। মোহাম্মদ জোনাব আলী ও জাহানারা বেগমের ১০ সন্তানের মধ্যে তিনি তৃতীয়। ছোটবেলায় পড়াশোনা করেছেন হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার গোবিন্দপুর সরকারি জুনিয়র হাইস্কুলে। ১৯৭১ সালে কুমিল্লা হাইস্কুল থেকে এসএসসি ও ১৯৭৪ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ১৯৮০ সালে বরিশাল শের-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। ২০০৪ সালে রয়েল কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স এন্ড সার্জন গøাসগো ইউকে থেকে এফআরসিপি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ ছিলেন। কুমিল্লা বিশ^বিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, বিএমএন্ডডিসির কাউন্সিলর, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য, বিএমএ কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বরিশাল শের-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজের ৬ষ্ঠ ব্যাচ এ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি তিনি। এ পর্যন্ত তিনি ১১টি বই প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ড, কানাডা, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, চীন ও মঙ্গোলিয়ায় তিনি সেমিনারে অংশ নেন। যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সৌদি আরব, আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ইরান ও রাশিয়া ভ্রমণ করেন। বর্তমানে তিনি বাপা ও বøাড ট্রান্সফিউশন সোসাইটি অব বাংলাদেশের উপদেষ্টা। আছেন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আজীবন সদস্যও। সাংস্কৃতিক কার্যক্রমেও তিনি জড়িত ছিলেন। কচিকাচার মেলার উপপরিচালক ছিলেন তিনি। কুমিল্লা গণিত ক্লাব থেকে পেয়েছেন আজীবন শিক্ষক সম্মাননা। ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের জার্নালের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তিনি। বিএমএ কুমিল্লা জার্নালের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তিনি।
অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের চার সন্তান। দুই মেয়ে চিকিৎসক, এক মেয়ে প্রকৌশলী ও এমবিএ সম্পন্ন করেছেন। একমাত্র ছেলে আমেরিকার মিলওয়াকি ইউনিভার্সিটিতে পদার্থবিজ্ঞানে এমএস করছেন। স্ত্রী রোকসানা বেগম কুমিল্লা শহরের প্রথম নারী গ্র্যাজুয়েট ডেন্টাল সার্জন।
মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ গত বছর কুমিল্লা হাইস্কুলে চালু করেছেন ডা. মোসলেহ উদ্দিন’স গোল্ড মেডেল। এতে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত কুমিল্লা হাইস্কুলের সর্বোচ্চ নম্বরধারী একজন ছেলে ও একজন মেয়েকে পুরস্কার দেওয়া হয়। গত বছর তিনি কুমিল্লা হাইস্কুলের সাবেক শিক্ষক ও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমানকে স্বর্ণ পদক দেন। এছাড়া একজন ছাত্রকে স্বর্ণ পদক দেন। এবারও একজন করে ছাত্র ছাত্রী পুরস্কার পাবে।
অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের দেখতে চান কুমিল্লা মেডিকেল কলেজসহ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজগুলোতে ক্যান্সার ইউনিট চালু হোক। এতে গরিব মানুষ উপকৃত হবে। অবসরে তিনি লেখালেখি করেন। সামাজিক আন্দোলনে কাজ করেন।
জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যক্তিগত এবং সামষ্টিক উদ্যোগে এইসব প্রতিষ্ঠানে জড়িত হওয়া। প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো থাকুক, এটাই চাই। এতে শিক্ষার্থীরা পড়ে এবং জনগণকে সেবা দেয়। এতেই তৃপ্তি লাগে।

শিক্ষকতা পেশার বাইরে প্রতিষ্ঠান গড়ার অন্যতম উদ্যোক্তা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ। অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ে একে একে গড়ে তুলেছেন নানা ধরনের প্রতিষ্ঠান। ব্যক্তিগত উদ্যোগেও করেছেন দ্বীনি প্রতিষ্ঠান। তাঁর ও তাঁদের এইসব প্রতিষ্ঠানে হাজারো শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। যাঁরা এখান থেকে পড়ে বিভিন্ন পর্যায়ে স্বাবলম্বী। তিনি ছিলেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন কোর্স চালু করেন তিনি।
শিক্ষকতার বাইরে সাংগঠনিক কর্মযজ্ঞেও তিনি সফল এক ব্যক্তিত্ব। এজন্য বরিশাল শের-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা ভোট দিয়ে তাঁকে ভিপি (সহসভাপতি) বানিয়েছেন। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে বাপা কুমিল্লা অঞ্চলের সভাপতিও হন তিনি। বাংলাদেশ রক্ত পরিসঞ্চালন সোসাইটির সভাপতি ছিলেন তিনি। কুমিল্লার চিকিৎসকেরা তাঁকে বিএমএর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করেছেন। সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনেও তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। লেখালেখিতেও আছেন অহর্নিশ।
জানা গেছে, অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ ১৯৮৮ সালে সাতজন উদ্যোক্তা নিয়ে কুমিল্লায় প্রতিষ্ঠা করেন সিডিপ্যাথ হাসপাতাল, যা বর্তমানে ১০০ শয্যার অন্যতম বেসরকারি হাসপাতাল। ১৯৯১ সালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ চালু হওয়ার সময়ে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। ২০০৫ সালে প্রথমে চারজন ও আরও ১২ জনকে যুক্ত করে ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২৫ সালে ইস্টার্ন নার্সিং কলেজ করেন। ২০০৫ সালে কাপ্তান বাজারে নিজস্ব জায়গায় ছয়তলা বিশিষ্ট জমীরিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে হতদরিদ্র, এতিম ছেলেরা পড়াশোনা করে। সেখানে বিনামূল্যে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। এ বছর নিজ গ্রামের বাড়ি দেবীদ্বার উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ঝিনাইয়া গ্রামে জোনাব আলী মক্তব চালু করেন। সেখানে ভবন করে দেন তিনি। প্রতিমাসে হুজুর ও মক্তবের ব্যবস্থাপনার অর্থও যোগান দেন।
অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের জন্ম ১৯৫৬ সালের ১ জুলাই দেবীদ্বার উপজেলার ঝিনাইয়া গ্রামে। মোহাম্মদ জোনাব আলী ও জাহানারা বেগমের ১০ সন্তানের মধ্যে তিনি তৃতীয়। ছোটবেলায় পড়াশোনা করেছেন হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার গোবিন্দপুর সরকারি জুনিয়র হাইস্কুলে। ১৯৭১ সালে কুমিল্লা হাইস্কুল থেকে এসএসসি ও ১৯৭৪ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ১৯৮০ সালে বরিশাল শের-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। ২০০৪ সালে রয়েল কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স এন্ড সার্জন গøাসগো ইউকে থেকে এফআরসিপি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ ছিলেন। কুমিল্লা বিশ^বিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, বিএমএন্ডডিসির কাউন্সিলর, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য, বিএমএ কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বরিশাল শের-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজের ৬ষ্ঠ ব্যাচ এ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি তিনি। এ পর্যন্ত তিনি ১১টি বই প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ড, কানাডা, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, চীন ও মঙ্গোলিয়ায় তিনি সেমিনারে অংশ নেন। যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সৌদি আরব, আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ইরান ও রাশিয়া ভ্রমণ করেন। বর্তমানে তিনি বাপা ও বøাড ট্রান্সফিউশন সোসাইটি অব বাংলাদেশের উপদেষ্টা। আছেন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আজীবন সদস্যও। সাংস্কৃতিক কার্যক্রমেও তিনি জড়িত ছিলেন। কচিকাচার মেলার উপপরিচালক ছিলেন তিনি। কুমিল্লা গণিত ক্লাব থেকে পেয়েছেন আজীবন শিক্ষক সম্মাননা। ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের জার্নালের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তিনি। বিএমএ কুমিল্লা জার্নালের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তিনি।
অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের চার সন্তান। দুই মেয়ে চিকিৎসক, এক মেয়ে প্রকৌশলী ও এমবিএ সম্পন্ন করেছেন। একমাত্র ছেলে আমেরিকার মিলওয়াকি ইউনিভার্সিটিতে পদার্থবিজ্ঞানে এমএস করছেন। স্ত্রী রোকসানা বেগম কুমিল্লা শহরের প্রথম নারী গ্র্যাজুয়েট ডেন্টাল সার্জন।
মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ গত বছর কুমিল্লা হাইস্কুলে চালু করেছেন ডা. মোসলেহ উদ্দিন’স গোল্ড মেডেল। এতে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত কুমিল্লা হাইস্কুলের সর্বোচ্চ নম্বরধারী একজন ছেলে ও একজন মেয়েকে পুরস্কার দেওয়া হয়। গত বছর তিনি কুমিল্লা হাইস্কুলের সাবেক শিক্ষক ও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমানকে স্বর্ণ পদক দেন। এছাড়া একজন ছাত্রকে স্বর্ণ পদক দেন। এবারও একজন করে ছাত্র ছাত্রী পুরস্কার পাবে।
অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের দেখতে চান কুমিল্লা মেডিকেল কলেজসহ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজগুলোতে ক্যান্সার ইউনিট চালু হোক। এতে গরিব মানুষ উপকৃত হবে। অবসরে তিনি লেখালেখি করেন। সামাজিক আন্দোলনে কাজ করেন।
জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যক্তিগত এবং সামষ্টিক উদ্যোগে এইসব প্রতিষ্ঠানে জড়িত হওয়া। প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো থাকুক, এটাই চাই। এতে শিক্ষার্থীরা পড়ে এবং জনগণকে সেবা দেয়। এতেই তৃপ্তি লাগে।