বিশ্ব পর্যটন দিবস আজ

সম্ভাবনা সত্ত্বেও কুমিল্লায় গড়ে ওঠেনি পর্যটনকেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
Thumbnail image

প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রত্নতাত্ত্বিক দুর্লভ নিদর্শন থাকার পরেও কুমিল্লায় গড়ে ওঠেনি কোনো পর্যটনকেন্দ্র। লালমাই ও ময়নামতি পাহাড় নিয়ে পর্যটন নগর গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বহু রাজনীতিবিদ। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। এ অবস্থার মধ্য দিয়ে আজ রোববার পালিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস।

বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য বা স্লোগান হলো: ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’।

এবারের দিবসটির মূল লক্ষ্য হলো ভ্রমণ পরিকল্পনা, হোটেল বুকিং এবং গন্তব্য নির্বাচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা। একইসঙ্গে প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যটন খাতকে আরও আধুনিক, নিরাপদ এবং সবার জন্য সহজলভ্য করে তোলা। এবার প্রথমবারের মতো ১৩টি ক্যাটাগরিতে ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে পর্যটন শিল্পকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে লালমাই পাহাড়ের ৫০ একর জায়গা নিয়ে একটি বোটানিক্যাল গার্ডেন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ২০১০ সালে কুমিল্লায় পর্যটন মোটেল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেটিও অর্থের অভাবে নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।

কুমিল্লার অন্তত ১০ জন ব্যক্তি জানান, লালমাই পাহাড়ের চণ্ডীমূড়া থেকে কোটবাড়ীর শালবন বিহার পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ প্রত্নসম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে কোটবাড়ী এলাকায় শালবন বিহার, রূপবান মূড়া, কোটালি মূড়া, আনন্দবিহার, রািনর বাংলোসহ ২৩টি পুরাকীর্তি রয়েছে। একই এলাকায় ময়নামতি জাদুঘর, বার্ড, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বনকুটির ও লালমাই পাহাড়ে দর্শনীয় স্থান রয়েছে। লালমাই পাহাড় ও কোটবাড়ীতে দুটি পার্ক আছে। এ পাহাড়ের দক্ষিণ প্রান্তে চণ্ডীমূড়া মন্দির। পাহাড়ের টাল্লো টিলা থেকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এ ছাড়া সদর দক্ষিণ উপজেলার রাজেশপুরে রয়েছে ইকোপার্ক। নানা প্রজাতির গাছগাছালি থাকায় ওই পার্ক দর্শনার্থীদের দারুণভাবে মোহিত করে।

স্থানীয় লোকজন আরও জানান, কুমিল্লা শহরের ধর্মসাগর, রানির দিঘি, নানুয়ার দিঘি, আমির দিঘি, লাউয়া দিঘি ও গোমতী নদীর পাড় ঘিরে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠতে পারে। এ শহরেই রয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিচিহ্ন ও শচীন দেববর্মনের বাড়ি। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিবিজড়িত এখানকার আশ্রম ও কেটিসিসিএ এলাকা।

কোটবাড়িতে বর্তমানে ব্যক্তি মালিকানাধীন পর্যায়ে ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্ক, ডাইনো পার্ক, ব্লু ওয়াটার পার্ক, লালমাই লেক ল্যান্ড, গোমতী নদীর পাড়ের বেসরকারি বিনোদন কেন্দ্র হয়েছে। এগুলোতে নিরাপত্তার অভাব রয়েছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন বলেন, কুমিল্লায় বেড়াতে এলে একসঙ্গে বাঙািল সংস্কৃতির বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন দেখার ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ পাবেন ভ্রমণপিপাসুরা। ঢাকার কাছের জেলা হওয়ায় এখানে পর্যটনকেন্দ্র করা হলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাবে। বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের জন্য দেখার অনেক কিছু রয়েছে কুমিল্লায়। প্রাচীন আমল থেকেই কুমিল্লা একটি সমৃদ্ধ জনপদ। এ জনপদ ঘিরে পর্যটনকেন্দ্র হওয়া উচিত।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, কুমিল্লা নগরকে সুন্দর করার জন্য নানা ধরনের মহাপরিকল্পনা রয়েছে। নগরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ধর্মসাগর পাড়কে আরও আকর্ষণীয় করার জন্য সিটি করপোরেশন কাজ করে যাচ্ছে। পর্যটন শিল্পের বিকাশের জন্য আমরা কাজ করব।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত