• কুমিল্লা সিটি করপোরেশন
  • কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
  • আদর্শ সদর
  • বরুড়া
  • লাকসাম
  • দাউদকান্দি
  • আরও
    • চৌদ্দগ্রাম
    • সদর দক্ষিণ
    • নাঙ্গলকোট
    • বুড়িচং
    • ব্রাহ্মণপাড়া
    • মনোহরগঞ্জ
    • লালমাই
    • চান্দিনা
    • মুরাদনগর
    • দেবীদ্বার
    • হোমনা
    • মেঘনা
    • তিতাস
  • সর্বশেষ
  • রাজনীতি
  • বাংলাদেশ
  • অপরাধ
  • বিশ্ব
  • বাণিজ্য
  • মতামত
  • খেলা
  • বিনোদন
  • চাকরি
  • জীবনযাপন
  • ইপেপার
  • ইপেপার
facebooktwittertiktokpinterestyoutubelinkedininstagramgoogle
স্বত্ব: ©️ আমার শহর

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. গাজীউল হক ভূঁইয়া ( সোহাগ)।

নাহার প্লাজা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০

ই-মেইল: [email protected]

ফোন: 01716197760

> কুমিল্লা জেলা

বাঁশি বাজিয়ে ৫০ বছর ধরে চানাচুর বিক্রি আবুল কাশেমের

মোহাম্মদ শরীফ
প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২: ৩৮
logo

বাঁশি বাজিয়ে ৫০ বছর ধরে চানাচুর বিক্রি আবুল কাশেমের

মোহাম্মদ শরীফ

প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২: ৩৮
Photo

যৌবনকালে জীবনের দুঃখ ভুলতে হাতে তুলে নিয়েছিলেন বাঁশের বাঁশি। রাতের আঁধারে পুকুর পাড়ে বসে মনের সুখে সুর তুলতেন। সেই বাঁশি এখনো সঙ্গী ৬৭ বছর বয়সী আবুল কাশেমের। তাঁর পেশা চানাচুর বিক্রি। রঙিন গাড়িতে করে মজাদার মসলার চানাচুর বিক্রি করেন তিনি। দোকানের নাম সোনার বাংলা বাঁশরী চানাচুর।

প্রতিদিন সন্ধ্যার পর বসেন নগরের কান্দিরপাড় পূবালী চত্বর মোড়ে। আবুল কাশেমের চানাচুর খেতে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। দোকানে রয়েছে বেশ কয়েকটি বাঁশের বাঁশি। চানাচুর বিক্রির পাশাপাশি মনের সুখে বাজান সেই বাঁশি। সেই বাঁশির সুরে উঠে আসে গ্রাম বাংলার চিত্র, কখনো বেদনা, কিংবা সুফি সাধকের নাম। মুগ্ধ হয়ে সেই সুর শুনেন মসলার চানাচুর খেতে আসা মানুষজন। তবে বয়স হয়ে যাওয়ার আগের মতো বাঁশির সুর টানতে পারেন না, আক্ষেপ করে বলেন আবুল কাশেম।

৫০ বছর যাবৎ এই চানাচুর বিক্রি করেন আবুল কাশেম। থাকেন নগরের ঠাকুরপাড়া ভাড়া বাড়িতে। তার তিন মেয়ে এক ছেলের সংসারে একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি তিনি। মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন। ছেলে মালয়েশিয়া । বিয়ে করে আলাদা সংসারে থাকেন। এখনো পেটের দায়ে চানাচুর নিয়ে বের তিনি।

আবুল কাশেম বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের আমলেও বিক্রি করেছি, এরশাদের আমলেও বিক্রি করেছি, খালেদা জিয়ার আমলে বিক্রি করেছি, শেখ হাসিনার আমলেও বিক্রি করেছি, এখন তারেক রহমানের আমল; এখনো বিক্রি করছি। সারা জীবন ব্যবসা করেছি আর সংসার চালিয়েছি। মাথাগোঁজার ঠাঁইও করতে পারিনি। তবে ছেলে মেয়েদের বড় করতে পেরেছি, মেয়েদের বিয়ে দিয়েছি।

১৭ বছর বয়স থেকে এই মসলার চানাচুর ব্যবসা শুরু করেন তিনি। এক পয়সা দুই পয়সা করে তখন বিক্রি করতেন। অন্য দোকানির চেয়ে কিছুটা বেশি মূল্যে বিক্রি করতেন। কারণ তাঁর চানাচুরে ব্যবহার করতেন দামি মসলা। এখন বিক্রি করেন ১০, ২০ ও ৩০ টাকা করে। মজাদার চানাচুর তৈরিতে তিনি এলাচ, লং, দারুচিনি, জায়ফল , যত্রিক, জিরা, গুয়ামুরি, ছয় রকেমের মরিচ দিয়ে একটি মসলা তৈরি করেন। সাথে পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, শসা, লবণ, সেদ্ধ বুট, বাদামের সাথে চানাচুর মিশ্রণে তৈরি করা হয় এই সুস্বাদু মসলার চানাচুর। একটি স্টিলের থালায় হাতে মিশ্রণ করা চানাচুর কাগজের ঠোঙায় করে দেওয়া ভোজন রসিকদের।

কী দুঃখ থেকে বাঁশি বাজানো বেছে নিয়েছিলেন

আবুল কাশেম বলেন, ‘যৌবনে সকল বন্ধুরা পড়ালেখা করতে পেরেছে। নানা চাকরি কিংবা কাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন। অভাবের কারণে পড়ালেখা করতে পারেননি তিনি। সেই যুদ্ধে হেরে গিয়েছিলেন। অভাবের কারণে ভাত ছাড়া তাদের পরিবার এক সপ্তাহ কাটিয়েছিল। তারপর মাটি কাটার কাজ করে ভাতের জোগাড় করেছিলেন। অভাব দূর করতে না পারার দুঃখ আর নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে না পারার হতাশা থেকে বাঁশের বাঁশিকে সঙ্গী করেছিলেন আবুল কাশেম। তিনি বলেন, আমার বাবাও শিক্ষিত, দাদাও শিক্ষিত। আমার ভাগ্যে নাই, অভাবের জন্য পড়াশোনা করতে পারি নাই।

দোকানের নাম কেন সোনার বাংলা বাঁশরী চানাচুর

আবুল কাশেম বলেন, ‘আমার বাঁশি বাজানোর কারণে অনেকে আমাকে চিনতেন। দোকানের ফাঁকে ফাঁকে আমি বাজাতাম। এছাড়া অবসর সময়ে বাসায় বা নদীর পাড়, পুকুর পাড়ে বসে বাঁশি বাজাতাম। সেই থেকে সবাই আমাকে বাঁশি বাজাইন্না বলে ডাকতো। তাই দোকানের নাম দিয়ে দিয়েছি সোনার বাংলা বাঁশরী চানাচুর। জীবনে চলার পথে তিন বার সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন আবুল কাশেম। এতে তার দুই হাতের হাড় ভেঙে যায়। শরীরের নানা জায়গায় আঘাত পান। সেই ক্ষত নিয়ে এখনো জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

নগরের ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, আমরা ভিক্টোরিয়া কলেজে পড়াকালীনও এই চানাচুর খেয়েছি। আগে যেমন স্বাদ ছিল, এখনো সেই স্বাদ রয়েছে।

জাহিদুল ইসলাম লিঙ্কন বলেন, আমি প্রায় নানা কাজে কান্দিরপাড় আসি। রাতে ফেরার পথে চাচা থেকে চানাচুর খেয়ে যাই। এই চানাচুরটা ভাল রাগে। আলাদা একটা স্বাদ আছে। ওনার বাঁশির সুর শুনলাম। এটা ব্যতিক্রম, মুগ্ধ হই ওনার বাঁশি শুনলে।

Thumbnail image

যৌবনকালে জীবনের দুঃখ ভুলতে হাতে তুলে নিয়েছিলেন বাঁশের বাঁশি। রাতের আঁধারে পুকুর পাড়ে বসে মনের সুখে সুর তুলতেন। সেই বাঁশি এখনো সঙ্গী ৬৭ বছর বয়সী আবুল কাশেমের। তাঁর পেশা চানাচুর বিক্রি। রঙিন গাড়িতে করে মজাদার মসলার চানাচুর বিক্রি করেন তিনি। দোকানের নাম সোনার বাংলা বাঁশরী চানাচুর।

প্রতিদিন সন্ধ্যার পর বসেন নগরের কান্দিরপাড় পূবালী চত্বর মোড়ে। আবুল কাশেমের চানাচুর খেতে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। দোকানে রয়েছে বেশ কয়েকটি বাঁশের বাঁশি। চানাচুর বিক্রির পাশাপাশি মনের সুখে বাজান সেই বাঁশি। সেই বাঁশির সুরে উঠে আসে গ্রাম বাংলার চিত্র, কখনো বেদনা, কিংবা সুফি সাধকের নাম। মুগ্ধ হয়ে সেই সুর শুনেন মসলার চানাচুর খেতে আসা মানুষজন। তবে বয়স হয়ে যাওয়ার আগের মতো বাঁশির সুর টানতে পারেন না, আক্ষেপ করে বলেন আবুল কাশেম।

৫০ বছর যাবৎ এই চানাচুর বিক্রি করেন আবুল কাশেম। থাকেন নগরের ঠাকুরপাড়া ভাড়া বাড়িতে। তার তিন মেয়ে এক ছেলের সংসারে একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি তিনি। মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন। ছেলে মালয়েশিয়া । বিয়ে করে আলাদা সংসারে থাকেন। এখনো পেটের দায়ে চানাচুর নিয়ে বের তিনি।

আবুল কাশেম বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের আমলেও বিক্রি করেছি, এরশাদের আমলেও বিক্রি করেছি, খালেদা জিয়ার আমলে বিক্রি করেছি, শেখ হাসিনার আমলেও বিক্রি করেছি, এখন তারেক রহমানের আমল; এখনো বিক্রি করছি। সারা জীবন ব্যবসা করেছি আর সংসার চালিয়েছি। মাথাগোঁজার ঠাঁইও করতে পারিনি। তবে ছেলে মেয়েদের বড় করতে পেরেছি, মেয়েদের বিয়ে দিয়েছি।

১৭ বছর বয়স থেকে এই মসলার চানাচুর ব্যবসা শুরু করেন তিনি। এক পয়সা দুই পয়সা করে তখন বিক্রি করতেন। অন্য দোকানির চেয়ে কিছুটা বেশি মূল্যে বিক্রি করতেন। কারণ তাঁর চানাচুরে ব্যবহার করতেন দামি মসলা। এখন বিক্রি করেন ১০, ২০ ও ৩০ টাকা করে। মজাদার চানাচুর তৈরিতে তিনি এলাচ, লং, দারুচিনি, জায়ফল , যত্রিক, জিরা, গুয়ামুরি, ছয় রকেমের মরিচ দিয়ে একটি মসলা তৈরি করেন। সাথে পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, শসা, লবণ, সেদ্ধ বুট, বাদামের সাথে চানাচুর মিশ্রণে তৈরি করা হয় এই সুস্বাদু মসলার চানাচুর। একটি স্টিলের থালায় হাতে মিশ্রণ করা চানাচুর কাগজের ঠোঙায় করে দেওয়া ভোজন রসিকদের।

কী দুঃখ থেকে বাঁশি বাজানো বেছে নিয়েছিলেন

আবুল কাশেম বলেন, ‘যৌবনে সকল বন্ধুরা পড়ালেখা করতে পেরেছে। নানা চাকরি কিংবা কাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন। অভাবের কারণে পড়ালেখা করতে পারেননি তিনি। সেই যুদ্ধে হেরে গিয়েছিলেন। অভাবের কারণে ভাত ছাড়া তাদের পরিবার এক সপ্তাহ কাটিয়েছিল। তারপর মাটি কাটার কাজ করে ভাতের জোগাড় করেছিলেন। অভাব দূর করতে না পারার দুঃখ আর নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে না পারার হতাশা থেকে বাঁশের বাঁশিকে সঙ্গী করেছিলেন আবুল কাশেম। তিনি বলেন, আমার বাবাও শিক্ষিত, দাদাও শিক্ষিত। আমার ভাগ্যে নাই, অভাবের জন্য পড়াশোনা করতে পারি নাই।

দোকানের নাম কেন সোনার বাংলা বাঁশরী চানাচুর

আবুল কাশেম বলেন, ‘আমার বাঁশি বাজানোর কারণে অনেকে আমাকে চিনতেন। দোকানের ফাঁকে ফাঁকে আমি বাজাতাম। এছাড়া অবসর সময়ে বাসায় বা নদীর পাড়, পুকুর পাড়ে বসে বাঁশি বাজাতাম। সেই থেকে সবাই আমাকে বাঁশি বাজাইন্না বলে ডাকতো। তাই দোকানের নাম দিয়ে দিয়েছি সোনার বাংলা বাঁশরী চানাচুর। জীবনে চলার পথে তিন বার সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন আবুল কাশেম। এতে তার দুই হাতের হাড় ভেঙে যায়। শরীরের নানা জায়গায় আঘাত পান। সেই ক্ষত নিয়ে এখনো জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

নগরের ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, আমরা ভিক্টোরিয়া কলেজে পড়াকালীনও এই চানাচুর খেয়েছি। আগে যেমন স্বাদ ছিল, এখনো সেই স্বাদ রয়েছে।

জাহিদুল ইসলাম লিঙ্কন বলেন, আমি প্রায় নানা কাজে কান্দিরপাড় আসি। রাতে ফেরার পথে চাচা থেকে চানাচুর খেয়ে যাই। এই চানাচুরটা ভাল রাগে। আলাদা একটা স্বাদ আছে। ওনার বাঁশির সুর শুনলাম। এটা ব্যতিক্রম, মুগ্ধ হই ওনার বাঁশি শুনলে।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

১

মানুষের জীবন বদলে দেয় শিক্ষকেরা

২

চান্দিনায় শিক্ষক দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

৩

কুমিল্লায় সিএনজি পাম্পের ক্যাসকেড রুমে আগুন

৪

তিতাসে সাত গুণী শিক্ষককে সংবর্ধনা প্রদান

৫

সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্রাহ্মণপাড়ার যুবক নিহত

সম্পর্কিত

মানুষের জীবন বদলে দেয় শিক্ষকেরা

মানুষের জীবন বদলে দেয় শিক্ষকেরা

৫ ঘণ্টা আগে
চান্দিনায় শিক্ষক দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

চান্দিনায় শিক্ষক দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

৬ ঘণ্টা আগে
কুমিল্লায় সিএনজি পাম্পের ক্যাসকেড রুমে আগুন

কুমিল্লায় সিএনজি পাম্পের ক্যাসকেড রুমে আগুন

৬ ঘণ্টা আগে
তিতাসে সাত গুণী শিক্ষককে সংবর্ধনা প্রদান

তিতাসে সাত গুণী শিক্ষককে সংবর্ধনা প্রদান

৬ ঘণ্টা আগে