নিজস্ব প্রতিবেদক

কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী, স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম, স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন ও যুবদল নেতা আবু কাউছার হত্যার পর কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। কুমিল্লা জুড়ে খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, কিশোরগ্যাং, ডাকাতিসহ নানা অপরাধের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় একজন সমাজবিজ্ঞানী বলেছেন, একটা রাষ্ট্রের বাহিনী, পরিবার, সমাজ যদি সঠিকভাবে না চলে তাহলে অপরাধ বাড়ে। কুমিল্লার প্রশাসন আগের চেয়ে কতটুকু অপরাধ দমনে সচেষ্ট তা নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন আছে। অযোগ্য রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও পুলিশি ব্যর্থতার কারণে অপরাধ বাড়ে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে কুমিল্লা জেলায় খুন হয়েছেন ১০৩ জন, ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল ১৪৪টি। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে জেলায় ১১১টি খুন, ১৩৯টি ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আরও সাড়ে তিন মাসে এই অপরাধ আরও বাড়তে পারে।
গত নয়মাসে ২৩২টি নারী-শিশু নির্যাতন, ১৪টি অপহরণ, ৩৬টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। কুমিল্লায় চুরি ও ডাকাতি ফেব্রুয়ারি থেকে বেড়েছে।
কুমিল্লার ১৮টি থানায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৯ মাসে নানা অপরাধে জেলায় চার হাজার ৯৬৩টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ১৪টি খুন, ১৬টি ধর্ষণ, ১৭টি নারী ও শিশু নির্যাতনসহ ৪৯১টি; ফেব্রুয়ারিতে ১২টি খুন, ৮টি ধর্ষণ, ১৯টি নারী-শিশু নির্যাতনসহ ৪০৭টি; মার্চে ১১টি খুন, ৯টি ধর্ষণ, ১৮টি নারী-শিশু নির্যাতনসহ ৫১৭টি এবং এপ্রিলে ১০টি খুন, ২০টি ধর্ষণ, ২৮টি নারী-শিশু নির্যাতনসহ ৫৮৪টি অপরাধের ঘটনা ঘটেছে।
এপ্রিলে অপরাধের মধ্যে আলোচিত ছিল কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা। ২৫ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রাম থেকে বাসে মহাসড়কের কুমিল্লার ঝাগুরঝুলি এলাকায় নামার পর তিনি ছিনতাইকারীদের হাতে খুন হন। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছিনতাইকারী সোহাগ, এমরান, রাহাত, সুজনকে গ্রেপ্তার করে।
মে মাসে সর্বোচ্চ ১৭টি খুনের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া ১২টি ধর্ষণ, ২৪টি নারী-শিশু নির্যাতনসহ ৬১২টি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। জুনে সর্বোচ্চ ৪১টি নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এ মাসে ১০টি খুন, ২১টি ধর্ষণসহ ৫৭৭টি অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। জুলাইয়ে ১০টি খুন, ২২টি ধর্ষণ, ৩০টি নারী-শিশু নির্যাতনসহ ৫০৯টি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। আগস্টে ১১টি খুন, ১৭টি ধর্ষণ, ২১টি নারী-শিশু নির্যাতনসহ ৫৮৫টি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৭ আগস্ট রাতে দেবিদ্বার উপজেলা সদরে ফরিদা ইয়াসমিন নামে এক বৃদ্ধাকে হত্যার পর তাঁর লাশ টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলা হয়। পরদিন পাশের ডোবা থেকে পলিথিনে মোড়ানো লাশের খণ্ডগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ভাড়াটিয়া লাইলী আক্তার ও তাঁর সহযোগী আমির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সনাক কুমিল্লার সভাপতি নিখিল চন্দ্র রায় বলেন, পরিসংখ্যানের বাইরে আরও অপরাধ হচ্ছে। রাষ্ট্র, পুলিশ, সমাজ, রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজকে এককাট্টা হয়ে কাজ করতে হবে। পরিবারের অভিভাবকেরা সন্তানদেও দিকে নজর দিতে হবে।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, হত্যা-ধর্ষণসহ প্রতিটি ঘটনার রহস্য আমরা (পুলিশ) কম সময়ের মধ্যে বের করতে সক্ষম হয়েছি। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পাশাপাশি ডিবি, এসআরবিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে কাজ করছে। কিশোর গ্যাং, মাদকবিরোধীসহ টানা অভিযানে দুই সহস্রাধিক লোককে আটক করা হয়েছে। নানামুখী অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী, স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম, স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন ও যুবদল নেতা আবু কাউছার হত্যার পর কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। কুমিল্লা জুড়ে খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, কিশোরগ্যাং, ডাকাতিসহ নানা অপরাধের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় একজন সমাজবিজ্ঞানী বলেছেন, একটা রাষ্ট্রের বাহিনী, পরিবার, সমাজ যদি সঠিকভাবে না চলে তাহলে অপরাধ বাড়ে। কুমিল্লার প্রশাসন আগের চেয়ে কতটুকু অপরাধ দমনে সচেষ্ট তা নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন আছে। অযোগ্য রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও পুলিশি ব্যর্থতার কারণে অপরাধ বাড়ে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে কুমিল্লা জেলায় খুন হয়েছেন ১০৩ জন, ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল ১৪৪টি। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে জেলায় ১১১টি খুন, ১৩৯টি ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আরও সাড়ে তিন মাসে এই অপরাধ আরও বাড়তে পারে।
গত নয়মাসে ২৩২টি নারী-শিশু নির্যাতন, ১৪টি অপহরণ, ৩৬টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। কুমিল্লায় চুরি ও ডাকাতি ফেব্রুয়ারি থেকে বেড়েছে।
কুমিল্লার ১৮টি থানায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৯ মাসে নানা অপরাধে জেলায় চার হাজার ৯৬৩টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ১৪টি খুন, ১৬টি ধর্ষণ, ১৭টি নারী ও শিশু নির্যাতনসহ ৪৯১টি; ফেব্রুয়ারিতে ১২টি খুন, ৮টি ধর্ষণ, ১৯টি নারী-শিশু নির্যাতনসহ ৪০৭টি; মার্চে ১১টি খুন, ৯টি ধর্ষণ, ১৮টি নারী-শিশু নির্যাতনসহ ৫১৭টি এবং এপ্রিলে ১০টি খুন, ২০টি ধর্ষণ, ২৮টি নারী-শিশু নির্যাতনসহ ৫৮৪টি অপরাধের ঘটনা ঘটেছে।
এপ্রিলে অপরাধের মধ্যে আলোচিত ছিল কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা। ২৫ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রাম থেকে বাসে মহাসড়কের কুমিল্লার ঝাগুরঝুলি এলাকায় নামার পর তিনি ছিনতাইকারীদের হাতে খুন হন। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছিনতাইকারী সোহাগ, এমরান, রাহাত, সুজনকে গ্রেপ্তার করে।
মে মাসে সর্বোচ্চ ১৭টি খুনের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া ১২টি ধর্ষণ, ২৪টি নারী-শিশু নির্যাতনসহ ৬১২টি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। জুনে সর্বোচ্চ ৪১টি নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এ মাসে ১০টি খুন, ২১টি ধর্ষণসহ ৫৭৭টি অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। জুলাইয়ে ১০টি খুন, ২২টি ধর্ষণ, ৩০টি নারী-শিশু নির্যাতনসহ ৫০৯টি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। আগস্টে ১১টি খুন, ১৭টি ধর্ষণ, ২১টি নারী-শিশু নির্যাতনসহ ৫৮৫টি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৭ আগস্ট রাতে দেবিদ্বার উপজেলা সদরে ফরিদা ইয়াসমিন নামে এক বৃদ্ধাকে হত্যার পর তাঁর লাশ টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলা হয়। পরদিন পাশের ডোবা থেকে পলিথিনে মোড়ানো লাশের খণ্ডগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ভাড়াটিয়া লাইলী আক্তার ও তাঁর সহযোগী আমির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সনাক কুমিল্লার সভাপতি নিখিল চন্দ্র রায় বলেন, পরিসংখ্যানের বাইরে আরও অপরাধ হচ্ছে। রাষ্ট্র, পুলিশ, সমাজ, রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজকে এককাট্টা হয়ে কাজ করতে হবে। পরিবারের অভিভাবকেরা সন্তানদেও দিকে নজর দিতে হবে।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, হত্যা-ধর্ষণসহ প্রতিটি ঘটনার রহস্য আমরা (পুলিশ) কম সময়ের মধ্যে বের করতে সক্ষম হয়েছি। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পাশাপাশি ডিবি, এসআরবিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে কাজ করছে। কিশোর গ্যাং, মাদকবিরোধীসহ টানা অভিযানে দুই সহস্রাধিক লোককে আটক করা হয়েছে। নানামুখী অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।