গ্রামে-শহরে সমানতালে বিদ্যুতের লোডশেডিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
Thumbnail image

গ্রামে ও শহরে সমানতালে বিদ্যুতের লোডশেডিং চলছে। গত কয়েকদিন ধরা চলা লোডশেডিং বুধবার আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। তবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) কুমিল্লা বলছে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ যতটা বলা হচ্ছে, ততটা নয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমিল্লা জেলার ১৭টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় লোডশেডিং তীব্র আকার ধারণ করেছে। কোথাও কোথাও ১০ ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। এমনকি কুমিল্লা নগরীতেও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গতকাল বুধবার সকাল থেকে কুমিল্লা অঞ্চলের ছয় জেলায় গ্যাস সরবরাহ এক প্রকার বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুতের সঙ্গে গ্যাস সংকটে নাস্তানাবুদ অবস্থার মধ্যে পড়েছেন এখানকার কয়েকলাখ মানুষ।

এদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় একদিকে গরমের নিদারুণ কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে, অপরদিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন চরম আকার ধারণ করেছে। দিন-রাত সমানতালে লোডশেডিং হওয়ায় হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং জটিল রোগীদের অপারেশন করা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, সোমবার লোডশেডিংয়ের মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে, হাসপাতালে ভর্তি কোনো রোগীরই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এতে চিকিৎসক ও রোগী উভয়কেই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কুমিল্লা পল্লীবিদ্যুৎ-৩ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। মাস দুয়েক আগে পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো থাকলেও তখন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যেত। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সেই সরবরাহও অনিয়মিত হয়ে পড়েছে।

কুমিল্লা নগরীর নজরুল অ্যাভিনিউ এলাকার বাসিন্দা কলেজ শিক্ষক হুমায়ুন কবির বলেন, বাচ্চাটার ইনফ্লুয়েঞ্জা। এদিকে সকাল থেকে বিদ্যুৎ ও গ্যাস নেই। কী অবস্থার মধ্যে পড়েছি বলে বোঝানো যাবে না। বুধবার দুপুর পৌনে ১২টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত এ এলাকায় মাত্র ১৫ মিনিট বিদ্যুৎ ছিল।

নগরের ঠাকুরপাড়া এলাকার বাসিন্দা আর জে রাসেল বলেন, গ্যাস নেই, তাই ইনফ্রারেড চুলায় রান্না বসাই। রান্না চলাকালীন তিনবার লোডশেডিং হয়।

নাঙ্গলকোটের কাশিপুর গ্রামের বাসিন্দা শেখ ফরিদ বলেন, গ্রামে বিদ্যুৎ থাকেই না। বিদ্যুৎ থাকলে তো লোডশেডিংয়ের প্রসঙ্গ আসত!

কুমিল্লা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী শেখ ফিরোজ কবির বলেন, কুমিল্লা অঞ্চলের ছয় জেলায় দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৩০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত চাহিদা ছিল। আমরা ১১০০ মেগাওয়াট থেকে সামান্য বেশি বিদ্যুৎ পেয়েছি। ফিডারগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে লোডশেডিং করা হচ্ছে। এ কারণে মনে হচ্ছে লোডশেডিং বেশি। বাস্তবে ততটা লোডশেডিং নেই।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত