ভোটের রাজনীতিতে আলোচনায় ‘কুমিল্লা বিভাগ’

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫: ৪১
Thumbnail image

কুমিল্লা নামে বিভাগ ঘোষণা নিয়ে পানি কম ঘোলা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সচিবালয় বক্তব্য বিবৃতি দিয়ে বেশ উত্তাপ ছড়িয়েছে। কুমিল্লা নামের আগে যেহেতু ‘কু’ রয়েছে তাই এই নামে বিভাগ হবে না। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমনই বক্তব্য নিয়েও বিতর্ক হয়। রাজনীতির মাঠেও উত্তাপ ছড়ায়। তবে সব ছাপিয়ে এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘কুমিল্লা বিভাগ’।

নির্বাচনের পর এক মাসের মধ্যে কুমিল্লা নামে বিভাগ ঘোষণা হবে এমন বক্তব্য দেন সাবেক স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া। এরপর গত শুক্রবার নোয়াখালীতে এক নির্বাচনী সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নোয়াখালীকে বিভাগ করার ঘোষণা দেন। একই দিন রাতে তিনি কুমিল্লা টাউন হল মাঠের অপর সমাবেশে কুমিল্লা নামে বিভাগ করার কথাও জানান। এর আগে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও কুমিল্লার এক নির্বাচনী সমাবেশে বলেছেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এলে কুমিল্লা বিভাগ ঘোষণা দেবে।’

সূত্রমতে, কুমিল্লা নামে বিভাগ ঘোষণার দাবি দীর্ঘদিনের। ৯০ এর দশক থেকে কুমিল্লা বিভাগ আন্দোলন বেগবান হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরসহ ছয়টি জেলা নিয়ে কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া অনেকটা চূড়ান্ত হলেও শেষ বেলায় থমকে যায়।

২০২১ সালের ২১ অক্টোবর দুপুরে গণভবন থেকে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের নতুন ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দেশের নতুন দুটি বিভাগ করার বিষয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘কুমিল্লার নামের শুরুতে ‘কু’ আছে। তাই ‘কু’ নামে কোনো বিভাগ নয়, বিভাগের ব্যাপারে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একটি পদ্মা, আরেকটি মেঘনা। এই দুই নামে দুইটা বিভাগ করতে চাই।’ শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের পর পরবর্তীকালে কুমিল্লা বিভাগের কার্যক্রম আটকে যায়।

তবে একাধিক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কুমিল্লা বিভাগ ঘোষণার কার্যক্রম আবারও শুরু করে। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, ফেনী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নিয়ে ‘কুমিল্লা বিভাগ’ ঘোষণা শেষ সময়ে এসে আটকে যায়। নোয়াখালী কুমিল্লা বিভাগে থাকবে না বলে আপত্তি করে আন্দোলনে নামে।

এদিকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি থেকে আবারও কুমিল্লা বিভাগ ঘোষণার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। গত ২৫ জানুয়ারি রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী ফুলতলী মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে কুমিল্লা নামেই বিভাগ গঠন করা হবে। গত ২৮ জানুয়ারি এনসিপির মুখপাত্র ও সাবেক স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দেবিদ্বারে এক পথসভায় বলেছেন, কুমিল্লাকে বিভাগ করার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গেছে, এখন শুধু ঘোষণার অপেক্ষা।

নির্বাচনের এক মাসের মধ্যে কুমিল্লা বিভাগ ঘোষণা করা হবে। গত ৩০ জানুয়ারি দুপুরে নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নোয়াখালীকে বিভাগ করার ঘোষণা দেন। এদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে অপর সমাবেশে স্থানীয় নেতারা কুমিল্লা বিভাগের বিষয়ে দাবি জানালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘কুমিল্লা নামেই বিভাগ হবে। যেহেতু ঘোষণা দিয়েছি এটা পবিত্র দায়িত্ব। অন্য কেউ যদি সরকার গঠনও করে এটা আমরা করাতে বাধ্য করব।’

কুমিল্লার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং ইতিহাসবিষয়ক গবেষক ও সংগঠক আহসানুল কবীর জানান, একটি বিভাগ করার জন্য আয়তন, জনসংখ্যা, অর্থনীতি ও সরকারি-বেসরকারি স্থাপনার সবই আছে কুমিল্লায়। তাই কুমিল্লায় বিভাগ না হওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর ভাষ্য, বিএনপি নির্বাচিত হলে কুমিল্লা নামেই বিভাগ হবে।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত