নিজস্ব প্রতিবেদক

এ বছর কুমিল্লা গণিত ক্লাব শিক্ষক সম্মাননা পাচ্ছেন ১০ গুণী শিক্ষক। তাঁদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হলো:
ড. মাহমুদুল হাছান: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাছান। তিনি প্রকৌশল অনুষদের ডিন। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন ২০১১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্সে প্রথম ছিলেন। জাপানের সাইতামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক।
ড. জান্নাতুল ফেরদৌস: ২০১৬ সালের ১৭ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগ থেকে পাস করেন। জাপানের কিউশু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন করেন।
বায়োটেকনোলজি গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ইয়াং এশিয়ান বায়োটেকনোলজিস্ট পুরস্কার ২০২৬ অর্জন করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস। দ্য সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি জাপান (এসবিজে) তাঁকে সম্প্রতি এ সম্মাননা প্রদান করেছে।
গত ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর জাপানের হোক্কাইডো ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত ৭৮তম এসবিজে কনফারেন্সে ড. জান্নাতুল ফেরদৌসকে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। তাঁর পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষণার বিষয় ‘ইঞ্জিনিয়ারিং ন্যানোজেল ডিসপারশন ফর অ্যাডভান্সড ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেমস।’ উন্নত ও কার্যকর ওষুধ সরবরাহব্যবস্থা তৈরিতে ন্যানোজেল ডিসপারশন নিয়ে তাঁর গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
ড. জান্নাতুল ফেরদৌস কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে অন্যতম গবেষক। দেশে-বিদেশে অসংখ্য জার্নালে তাঁর লেখা রয়েছে। তাঁর স্বামী কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. কাউছার আহম্মেদ পাটওয়ারী।
গোলাম জিলানী: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। ২০০৬ সালের ২ এপ্রিল তিনি বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে যোগদান করেন। এর আগে তিনি ক্যান্টনমেন্ট কলেজে তিন বছর কর্মরত ছিলেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের রোবার স্কাউট লিডার। ২০২৫ সালে কুমিল্লা জেলার শ্রেষ্ঠ রোবার স্কাউট হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন।
ড. মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর হোসেন। তিনি বিসিএস ২৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা (বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার)। তিনি ২০০৮ সালের ১৮ নভেম্বর চৌমুহনী সরকারি সালেহ আহমেদ কলেজে যোগদান করেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে দশম ও মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। তিনি তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। দেশি-বিদেশি জার্নালে তাঁর লেখা রয়েছে। তিনি এনসিটিবির লেখক।
সেলিনা আক্তার রোজী: নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সেলিনা আক্তার রোজী। ১৯৬৮ সালের ১ জুন তাঁর জন্ম ঢাকায়, বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। ১৯৯১ সালের ২৮ মে তিনি সিলেটের জিন্দাবাজার অগ্রগামী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেন । ১৯৯৪ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ মে পর্যন্ত তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে ছিলেন। পাঁচ বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি চতুর্থ। তাঁর বাবার নাম আশরাফ উদ্দিন ও মায়ের নাম আয়েশা বেগম। সেলিনা আক্তার রোজীর স্বামী বিসিআইসির ব্যবস্থাপক ও ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম ছিলেন। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে ও মেয়ে দুইজনই ব্যাংকার। দুইজনই কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন। মেয়ে রাহনুমা নুরাইন ইসলাম কান্তার স্বামী কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. রাকিবুল হক পাভেল। নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে ২০২৪ সালের ৬ মে সেলিনা আক্তার রোজী যোগদান করেন। তিনি চলতি বছরের ২২ জুন থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন।
গোপাল দত্ত চৌধুরী: বীর মুক্তিযোদ্ধা মনমোহন দত্ত চৌধুরী ও কল্পনা দত্ত চৌধুরীর চার সন্তানের মধ্যে সবার বড় গোপাল দত্ত চৌধুরী। বর্তমানে তিনি কোটবাড়িতে অবস্থিত গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি সরকারি হাইস্কুলের ভৌতবিজ্ঞানের সিনিয়র শিক্ষক। ২০০৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর তিনি লক্ষীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। দুই বার কুমিল্লা জিলা স্কুল , বুড়িচং আনন্দ পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয় ও রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ শহীদস্মৃতি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে। বিজ্ঞানের একজন ভালো শিক্ষক হিসেবে তিনি পরিচিত। তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক ও বিএসসি অনার্স ও এমএসসি রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। নানা প্রতিকূলতাকে মাড়িয়ে তিনি এতটুকুন পথ পাড়ি দিয়েছেন।
মহিম চন্দ্র বিশ্বাস: কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় অবস্থিত ইস্পাহানী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের আইসিটি বিষয়ের সিনিয়র শিক্ষক। ২০০৩ সালের ১ এপ্রিল তিনি এ কলেজে যোগদান করেন। তাঁর সহধর্মিণী মালতী রাণী বিএম মুসলিম হাইস্কুলের আইসিটি শিক্ষক। তাঁদের দুই সন্তান।
সোনিয়া সরকার নিপা: কুমিল্লা নগরের বাগিচাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোনিয়া সরকার নিপা। তিনি ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর মুরাদনগর উপজেলার আমপাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। ২০১৯ সালের ২২ এপ্রিল বাগিচাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন সরকার ও শামসুন নাহার সরকারের মেয়ে তিনি। তাঁর স্বামী মোহাম্মদ সামসুজ্জামান। এক ছেলে ও এক মেয়ে তাঁর। হলদে পাখি গার্ল গাইডের প্রশিক্ষক তিনি। এছাড়া বিভাগীয় ওয়ারেন্ট গাইডার প্রশিক্ষক। এ পর্যন্ত ১৭ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। শিক্ষক পরিবারের সন্তান তিনি। তাঁর মা, খালা ও শ্বশুর শিক্ষকতা পেশায় ছিলেন ও আছেন। তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক তিনি।
রেজওয়ানা মজুমদার: রেজওয়ানা মজুমদার কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের রেয়াজ উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে প্রাণিবিজ্ঞানে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ। পুরাতন চৌধুরী পাড়ার প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান মজুমদার ও গুলশান আরা চৌধুরীর ছয় সন্তানের মধ্যে তিনি সবার ছোট। ২০০৯ সালের ৩০ এপ্রিল তিনি লুৎফুন নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দেন। ২০১৯ সালের ২ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি ওই স্কুলে ছিলেন। এরপর রেয়াজ উদ্দিনে যান। তিনি এক সন্তানের জননী। তাঁর স্বামী আনোয়ার পারভেজ সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার শিক্ষা অফিসার।
কানিজ ফাতেমা: ছোটরা মালেকা মমতাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কানিজ ফাতেমা। তাঁর জন্ম ১৯৮১ সালের ২৭ অক্টোবর। ২০০২ সালের ১৬ আগস্ট তাঁর বিয়ে হয়। তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি পেয়েছেন। ২০০৩ সালের ১৬ জুন তিনি চান্দিনা উপজেলার জামিরাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। এরপর মাধাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। পরে তিনি কুমিল্লা শহরের স্কুলে আসেন। তিনি মো. আবুল হাশেম ও মনোয়ারা বেগমের মেয়ে। তাঁর স্বামী কামরুল হাসান ছোটন ব্যবসায়ী। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের ছাত্রী ও ছেলে সোনার বাংলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে।

এ বছর কুমিল্লা গণিত ক্লাব শিক্ষক সম্মাননা পাচ্ছেন ১০ গুণী শিক্ষক। তাঁদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হলো:
ড. মাহমুদুল হাছান: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাছান। তিনি প্রকৌশল অনুষদের ডিন। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন ২০১১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্সে প্রথম ছিলেন। জাপানের সাইতামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক।
ড. জান্নাতুল ফেরদৌস: ২০১৬ সালের ১৭ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগ থেকে পাস করেন। জাপানের কিউশু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন করেন।
বায়োটেকনোলজি গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ইয়াং এশিয়ান বায়োটেকনোলজিস্ট পুরস্কার ২০২৬ অর্জন করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস। দ্য সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি জাপান (এসবিজে) তাঁকে সম্প্রতি এ সম্মাননা প্রদান করেছে।
গত ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর জাপানের হোক্কাইডো ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত ৭৮তম এসবিজে কনফারেন্সে ড. জান্নাতুল ফেরদৌসকে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। তাঁর পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষণার বিষয় ‘ইঞ্জিনিয়ারিং ন্যানোজেল ডিসপারশন ফর অ্যাডভান্সড ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেমস।’ উন্নত ও কার্যকর ওষুধ সরবরাহব্যবস্থা তৈরিতে ন্যানোজেল ডিসপারশন নিয়ে তাঁর গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
ড. জান্নাতুল ফেরদৌস কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে অন্যতম গবেষক। দেশে-বিদেশে অসংখ্য জার্নালে তাঁর লেখা রয়েছে। তাঁর স্বামী কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. কাউছার আহম্মেদ পাটওয়ারী।
গোলাম জিলানী: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। ২০০৬ সালের ২ এপ্রিল তিনি বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে যোগদান করেন। এর আগে তিনি ক্যান্টনমেন্ট কলেজে তিন বছর কর্মরত ছিলেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের রোবার স্কাউট লিডার। ২০২৫ সালে কুমিল্লা জেলার শ্রেষ্ঠ রোবার স্কাউট হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন।
ড. মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর হোসেন। তিনি বিসিএস ২৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা (বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার)। তিনি ২০০৮ সালের ১৮ নভেম্বর চৌমুহনী সরকারি সালেহ আহমেদ কলেজে যোগদান করেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে দশম ও মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। তিনি তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। দেশি-বিদেশি জার্নালে তাঁর লেখা রয়েছে। তিনি এনসিটিবির লেখক।
সেলিনা আক্তার রোজী: নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সেলিনা আক্তার রোজী। ১৯৬৮ সালের ১ জুন তাঁর জন্ম ঢাকায়, বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। ১৯৯১ সালের ২৮ মে তিনি সিলেটের জিন্দাবাজার অগ্রগামী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেন । ১৯৯৪ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ মে পর্যন্ত তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে ছিলেন। পাঁচ বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি চতুর্থ। তাঁর বাবার নাম আশরাফ উদ্দিন ও মায়ের নাম আয়েশা বেগম। সেলিনা আক্তার রোজীর স্বামী বিসিআইসির ব্যবস্থাপক ও ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম ছিলেন। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে ও মেয়ে দুইজনই ব্যাংকার। দুইজনই কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন। মেয়ে রাহনুমা নুরাইন ইসলাম কান্তার স্বামী কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. রাকিবুল হক পাভেল। নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে ২০২৪ সালের ৬ মে সেলিনা আক্তার রোজী যোগদান করেন। তিনি চলতি বছরের ২২ জুন থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন।
গোপাল দত্ত চৌধুরী: বীর মুক্তিযোদ্ধা মনমোহন দত্ত চৌধুরী ও কল্পনা দত্ত চৌধুরীর চার সন্তানের মধ্যে সবার বড় গোপাল দত্ত চৌধুরী। বর্তমানে তিনি কোটবাড়িতে অবস্থিত গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি সরকারি হাইস্কুলের ভৌতবিজ্ঞানের সিনিয়র শিক্ষক। ২০০৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর তিনি লক্ষীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। দুই বার কুমিল্লা জিলা স্কুল , বুড়িচং আনন্দ পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয় ও রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ শহীদস্মৃতি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে। বিজ্ঞানের একজন ভালো শিক্ষক হিসেবে তিনি পরিচিত। তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক ও বিএসসি অনার্স ও এমএসসি রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। নানা প্রতিকূলতাকে মাড়িয়ে তিনি এতটুকুন পথ পাড়ি দিয়েছেন।
মহিম চন্দ্র বিশ্বাস: কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় অবস্থিত ইস্পাহানী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের আইসিটি বিষয়ের সিনিয়র শিক্ষক। ২০০৩ সালের ১ এপ্রিল তিনি এ কলেজে যোগদান করেন। তাঁর সহধর্মিণী মালতী রাণী বিএম মুসলিম হাইস্কুলের আইসিটি শিক্ষক। তাঁদের দুই সন্তান।
সোনিয়া সরকার নিপা: কুমিল্লা নগরের বাগিচাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোনিয়া সরকার নিপা। তিনি ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর মুরাদনগর উপজেলার আমপাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। ২০১৯ সালের ২২ এপ্রিল বাগিচাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন সরকার ও শামসুন নাহার সরকারের মেয়ে তিনি। তাঁর স্বামী মোহাম্মদ সামসুজ্জামান। এক ছেলে ও এক মেয়ে তাঁর। হলদে পাখি গার্ল গাইডের প্রশিক্ষক তিনি। এছাড়া বিভাগীয় ওয়ারেন্ট গাইডার প্রশিক্ষক। এ পর্যন্ত ১৭ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। শিক্ষক পরিবারের সন্তান তিনি। তাঁর মা, খালা ও শ্বশুর শিক্ষকতা পেশায় ছিলেন ও আছেন। তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক তিনি।
রেজওয়ানা মজুমদার: রেজওয়ানা মজুমদার কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের রেয়াজ উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে প্রাণিবিজ্ঞানে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ। পুরাতন চৌধুরী পাড়ার প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান মজুমদার ও গুলশান আরা চৌধুরীর ছয় সন্তানের মধ্যে তিনি সবার ছোট। ২০০৯ সালের ৩০ এপ্রিল তিনি লুৎফুন নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দেন। ২০১৯ সালের ২ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি ওই স্কুলে ছিলেন। এরপর রেয়াজ উদ্দিনে যান। তিনি এক সন্তানের জননী। তাঁর স্বামী আনোয়ার পারভেজ সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার শিক্ষা অফিসার।
কানিজ ফাতেমা: ছোটরা মালেকা মমতাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কানিজ ফাতেমা। তাঁর জন্ম ১৯৮১ সালের ২৭ অক্টোবর। ২০০২ সালের ১৬ আগস্ট তাঁর বিয়ে হয়। তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি পেয়েছেন। ২০০৩ সালের ১৬ জুন তিনি চান্দিনা উপজেলার জামিরাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। এরপর মাধাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। পরে তিনি কুমিল্লা শহরের স্কুলে আসেন। তিনি মো. আবুল হাশেম ও মনোয়ারা বেগমের মেয়ে। তাঁর স্বামী কামরুল হাসান ছোটন ব্যবসায়ী। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের ছাত্রী ও ছেলে সোনার বাংলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে।