বরুড়ার বৈছাপুকুরিয়া-আড্ডা সড়ক

গাছ কাটার অনুমতি না মেলায় ২৫ কোটি টাকার কাজ বন্ধ

গাজীউল হক সোহাগ , বরুড়া থেকে ফিরে
Thumbnail image

৭১৩ টি গাছ কাটার অনুমতি না মেলায় ২৫ কোটি ৩২ লাখ ৭৫ হাজার ১৬ টাকার সড়ক উন্নয়ন কাজ বন্ধ রয়েছে। কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার বৈছাপুকুরিয়া- আড্ডা সড়কের দৈর্ঘ্য ১৫ কিলোমিটার। উন্নয়ন কাজ বন্ধ হওয়ার কারণে গত পাঁচ বছর ধরে ভোগান্তি নিয়ে মানুষ ওই পথ পাড়ি দিচ্ছে। ইতিমধ্যে চুক্তির মেয়াদও পার হয়ে গেছে। এই সড়কটি বরুড়ার দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ । বরুড়া উপজেলা সদরের যানজট কমাতে এই সড়কের অবদানও আছে।

বরুড়া উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বরুড়া উপজলার বৈছাপুকুরিয়া-আড্ডা সড়কের উন্নয়ন কাজের জন্য ২৫ কোটি ৪১ লাখ ১৪ হাজার ৬৭৯ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়। পরবর্তীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কুমিল্লা নগরের কান্দিরপাড় এলাকার এমসিএস-এমএইচই-জেভি ২৫ কোটি ৩২ লাখ ৩৭ হাজার ১৬ টাকায় ওই সড়কের উন্নয়ন কাজের জন্য চুক্তি করে। ২০২৪ সালের ২২ এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের ২৪ আগস্টের মধ্যে ওই কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু এ পর্যন্ত ৩০ শতাংশ কাজ হয়েছে। এর মধ্যে চার কিলোমিটার সড়কের কিছু উন্নয়ন কাজ হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ওই কাজ হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক শর্ত দিয়েছে কোন ধরনের গাছ না কেটে সড়ক করতে হবে। এ অবস্থায় উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের দপ্তরে গাছ কাটার আবেদন করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন সাড়া মেলেনি।

তাঁদের ভাষ্য, সড়কটি হওয়া দরকার। বছরের পর বছর ভোগান্তি নিয়ে মানুষ হেঁটে যাচ্ছে। এই সড়ক দিয়ে কোন যানবাহন এখন চলতে পারছে না। আগে সড়ক হোক। পরে আমরা সড়কের পাশে আবারও গাছ লাগাব।

সুলতানপুর এলাকার সবজি বিক্রেতা আমির হোসেন বলেন, গাছ রেখেও কাজ করুক। তাও সড়কের উন্নয়ন হোক। এই সড়ক আড্ডা পার হয়ে চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলা পর্যন্ত গিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সুলতানপুর বাজারের পশ্চিমপাশে সড়কে খানাখন্দ। কোথাও বড় আকারের গর্ত, কোথাও সড়কের পিচ ওঠে গেছে। সড়ক দেবে গেছে। ধনিশ্বর ও ফেনুয়া এলাকায় একই অবস্থা। বেকি, শাকপুর নতুন বাজার এলাকায়ও একই দশা।

বরুড়া উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ জাকির হোসেন বলেন, এই সড়কের প্রস্থ ১৬ ফুট। বিশ্বব্যাংক বলেছে সড়কের পাশের গাছ না কেটে উন্নয়ন কাজ করতে। এটা তো সম্ভব হচ্ছে না। এ জন্য আমরা ৭১৩ টি গাছ কাটার জন্য আবেদন করেছি। এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত আসেনি। ইতিমধ্যে চুক্তির মেয়াদও শেষ। কাজও বন্ধ রয়েছে। এক বছরে ৩০ শতাংশ কাজ হয়েছে।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত