ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ
নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লার ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ভারতীয় নাগরিক আদনান আলতাফ কলেজ সংলগ্ন বিসমিল্লাহ হোটেলে সোমবার রাতে খাবার খেতে যান। এ সময় তিনি হোটেলে মুঠোফোন রেখে আসেন। পরে তিনি কলেজের শান্তি সুনীতি ছাত্রীনিবাসে তাঁর মায়ের সঙ্গে দেখা করতে যান। এ সময় তাঁর মা নিঘাত বেগম মুঠোফোন কোথায় জানতে চান? তখন আদনান জানায়, হোটেলে মুঠোফোন রেখে আসছে। তাঁর মা দ্রুত তাঁকে মুঠোফোন নিয়ে ছাত্রাবাসে যেতে বলেন। মুঠোফোন আনতে গিয়ে আর ফেরেননি আদনান। গত বুধবার ছিল তাঁর তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা। এদিন সকাল সাড়ে সাতটায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের পশ্চিম সিং এলাকায় একটি পুকুরে তাঁর লাশ ভাসতে দেখা যায়। সহপাঠীরা যখন পরীক্ষার হলে আদনান তখন পুকুরের পানিতে ভাসছে। বেলা ১১টায় তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। আদনানের আর পরীক্ষা দেওয়া হলো না।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজে গিয়ে ভারতের জম্মু-কাশ্মীর, মেঘালয়, মহারাষ্ট্র, কেরেলা, আসাম, মনিপুর, পশ্চিমবঙ্গ, গুজরাটের অন্তত ২১জন ছাত্রী ও ২৪জন ছাত্র, কলেজের শিক্ষক, পরিচালকদের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তাঁরা আদনান আলতাফ সম্পর্কে নানা ধরনের তথ্য দেন। পরে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে কর্মরত ভারতীয় হাইকমিশনারের সেকেন্ড সেক্রেটারি কনস্যুলার ও শিক্ষা মৃন্ময় কুমার সিং (এম কে সিং) সন্ধ্যায় ওই হোটেল ও পুকুর পরিদর্শন করেন।

আদনান আলতাফের মা নিঘাত বেগম ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের শান্তি সুনীতি হলে থাকতেন। ছেলে আদনান আলতাফ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। ওই কারণে তিনি কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ছাত্রীনিবাসের একটি কক্ষে থাকতেন। আদনান আলতাফ ছেলেদের ছাত্রাবাসে থাকতেন। ছেলের অসুস্থতার কারণে মা তাঁকে চোখে চোখে রাখতেন। গতকাল বুধবার ছিল আদনানের তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা। এ পরীক্ষা উপলক্ষে আদনানের মা জম্মু-কাশ্মীর থেকে কুমিল্লায় আসেন। এর আগে আদনানের বাবা আলতাফ হুসাইন রাথার ছেলের সঙ্গে সাত মাস কুমিল্লায় ছিলেন। আদনানের বাবা জম্মু-কাশ্মীরে আপেলসহ বিভিন্ন ফলের বড় ব্যবসায়ী।

মা নিঘাত বেগম আমার শহরকে বলেন, আমার ছেলে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। সে পরীক্ষা দিতে চাইত না। আমি পরীক্ষার সময় তাঁর পাশে থাকতে এসেছি। ছেলেকে চোখে চোখে রেখেছিলাম। এখন আমি বাড়ি গিয়ে আদনানের বাবাকে কি জবাব দেব?

আদনান আলতাফ ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস প্রথমবর্ষে ভর্তি হন। প্রথম চূড়ান্ত পরীক্ষায় তিনি এক চান্সে পাস করেন। দ্বিতীয় চূড়ান্ত পরীক্ষায় তিনবারে পাস করেন। তৃতীয় চূড়ান্ত পরীক্ষা ২০২৫ সালের মে মাসে হয়। এতেও তিনি ফেল করেন। পরে নভেম্বর মাসেও ফেল করেন। মানসিক অসুস্থতা ও অন্যান্য কারণে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ভারতে নিয়ে চিকিৎসা করান। কিন্তু আদনানের কোনও পরিবর্তন হয়নি। মূলত করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সময় আদনান অনলাইনে ক্লাস করলেও পরীক্ষায় অংশ নেননি। তাঁর ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে চিকিৎসক হয়েছেন। অনেকে ইন্টার্ন শেষ করে চলে গেছেন। আদনান ছিলেন হতাশাগ্রস্ত।

ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাকিরুল ইসলাম বলেন, মেডিকেলের পড়ার চাপ সহ্য করতে পারেনি আদনান। যে কারণে তিনি হতাশাগ্রস্ত ছিলেন।
এদিকে আদনানের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হিমঘরের কার্যকারিতা না থাকার কারণে ঢাকায় লাশ রাখা হয়। ভারতীয় দূতাবাস এখন লাশ পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। লাশ নিয়ে দেশে ফিরবেন নিঘাত বেগম। ছেলেকে চিকিৎসক বানানোর স্বপ্ন তাঁর অধরাই থেকে গেল। তাঁর আরও একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে।

কুমিল্লার ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ভারতীয় নাগরিক আদনান আলতাফ কলেজ সংলগ্ন বিসমিল্লাহ হোটেলে সোমবার রাতে খাবার খেতে যান। এ সময় তিনি হোটেলে মুঠোফোন রেখে আসেন। পরে তিনি কলেজের শান্তি সুনীতি ছাত্রীনিবাসে তাঁর মায়ের সঙ্গে দেখা করতে যান। এ সময় তাঁর মা নিঘাত বেগম মুঠোফোন কোথায় জানতে চান? তখন আদনান জানায়, হোটেলে মুঠোফোন রেখে আসছে। তাঁর মা দ্রুত তাঁকে মুঠোফোন নিয়ে ছাত্রাবাসে যেতে বলেন। মুঠোফোন আনতে গিয়ে আর ফেরেননি আদনান। গত বুধবার ছিল তাঁর তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা। এদিন সকাল সাড়ে সাতটায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের পশ্চিম সিং এলাকায় একটি পুকুরে তাঁর লাশ ভাসতে দেখা যায়। সহপাঠীরা যখন পরীক্ষার হলে আদনান তখন পুকুরের পানিতে ভাসছে। বেলা ১১টায় তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। আদনানের আর পরীক্ষা দেওয়া হলো না।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজে গিয়ে ভারতের জম্মু-কাশ্মীর, মেঘালয়, মহারাষ্ট্র, কেরেলা, আসাম, মনিপুর, পশ্চিমবঙ্গ, গুজরাটের অন্তত ২১জন ছাত্রী ও ২৪জন ছাত্র, কলেজের শিক্ষক, পরিচালকদের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তাঁরা আদনান আলতাফ সম্পর্কে নানা ধরনের তথ্য দেন। পরে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে কর্মরত ভারতীয় হাইকমিশনারের সেকেন্ড সেক্রেটারি কনস্যুলার ও শিক্ষা মৃন্ময় কুমার সিং (এম কে সিং) সন্ধ্যায় ওই হোটেল ও পুকুর পরিদর্শন করেন।

আদনান আলতাফের মা নিঘাত বেগম ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের শান্তি সুনীতি হলে থাকতেন। ছেলে আদনান আলতাফ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। ওই কারণে তিনি কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ছাত্রীনিবাসের একটি কক্ষে থাকতেন। আদনান আলতাফ ছেলেদের ছাত্রাবাসে থাকতেন। ছেলের অসুস্থতার কারণে মা তাঁকে চোখে চোখে রাখতেন। গতকাল বুধবার ছিল আদনানের তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা। এ পরীক্ষা উপলক্ষে আদনানের মা জম্মু-কাশ্মীর থেকে কুমিল্লায় আসেন। এর আগে আদনানের বাবা আলতাফ হুসাইন রাথার ছেলের সঙ্গে সাত মাস কুমিল্লায় ছিলেন। আদনানের বাবা জম্মু-কাশ্মীরে আপেলসহ বিভিন্ন ফলের বড় ব্যবসায়ী।

মা নিঘাত বেগম আমার শহরকে বলেন, আমার ছেলে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। সে পরীক্ষা দিতে চাইত না। আমি পরীক্ষার সময় তাঁর পাশে থাকতে এসেছি। ছেলেকে চোখে চোখে রেখেছিলাম। এখন আমি বাড়ি গিয়ে আদনানের বাবাকে কি জবাব দেব?

আদনান আলতাফ ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস প্রথমবর্ষে ভর্তি হন। প্রথম চূড়ান্ত পরীক্ষায় তিনি এক চান্সে পাস করেন। দ্বিতীয় চূড়ান্ত পরীক্ষায় তিনবারে পাস করেন। তৃতীয় চূড়ান্ত পরীক্ষা ২০২৫ সালের মে মাসে হয়। এতেও তিনি ফেল করেন। পরে নভেম্বর মাসেও ফেল করেন। মানসিক অসুস্থতা ও অন্যান্য কারণে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ভারতে নিয়ে চিকিৎসা করান। কিন্তু আদনানের কোনও পরিবর্তন হয়নি। মূলত করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সময় আদনান অনলাইনে ক্লাস করলেও পরীক্ষায় অংশ নেননি। তাঁর ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে চিকিৎসক হয়েছেন। অনেকে ইন্টার্ন শেষ করে চলে গেছেন। আদনান ছিলেন হতাশাগ্রস্ত।

ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাকিরুল ইসলাম বলেন, মেডিকেলের পড়ার চাপ সহ্য করতে পারেনি আদনান। যে কারণে তিনি হতাশাগ্রস্ত ছিলেন।
এদিকে আদনানের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হিমঘরের কার্যকারিতা না থাকার কারণে ঢাকায় লাশ রাখা হয়। ভারতীয় দূতাবাস এখন লাশ পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। লাশ নিয়ে দেশে ফিরবেন নিঘাত বেগম। ছেলেকে চিকিৎসক বানানোর স্বপ্ন তাঁর অধরাই থেকে গেল। তাঁর আরও একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে।