রেদোয়ানের ডিগবাজি, কুমিল্লা-৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) থেকে পদত্যাগ করে আবারও বিএনপিতে যোগদান করেছেন রেদোয়ান আহমেদ। যোগদানের সঙ্গে সঙ্গেই তিনি কুমিল্লা-৭(চান্দিনা) আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। এ নিয়ে তিনি তিনবার বিএনপিতে আসাযাওয়ার মধ্যে আছেন। তাঁর বিএনপিতে ফেরায় চান্দিনা উপজেলা বিএনপির বড় একটি অংশ চরম ক্ষুব্ধ। তবে রেদোয়ানের অনুসারীরা এ নিয়ে মহাখুশি। তাঁদের ভাষ্য, ১৯ বছর পর রেদোয়ান বিএনপিতে ফেরায় এই আসনে বিএনপি আরও শক্তিশালী হবে। চান্দিনায় রেদোয়ানের হাতেই বিএনপি প্রতিষ্ঠা পায়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রেদোয়ান আহমেদ ৯৮ হাজার ৮০৬ ভোটের মধ্যে ১৯ হাজার ৯০ ভোট পেয়ে বিএনপিতে থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালের ৭ মে তিনি জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করে ৭৮ হাজার ৮৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি স্বতন্ত্র ভোট করে ৩১ হাজার ১৭৯ ভোট পান। ওই নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ৫৪৮ ভোটে পরাজিত করেন। ১০ বছর পর ১৯৯৬ সালে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো বিএনপিতে যোগদান করেন। ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে তিনি ২৬৬ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলী আশরাফের কাছে পরাজিত হন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর বিএনপি থেকে ৮৭ হাজার ৩৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ২০০১- ২০০৬ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রথম প্রতিমন্ত্রী হন। কিন্তু প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ ওঠে। পরে তাঁকে মন্ত্রীত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তাঁর মান ভাঙাতে চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ কলেজে এক জনসভা করেন বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কিন্তু এতেও মন গলেনি রেদোয়ানের। ২০০৬ সালে তিনি বিএনপি ছেড়ে নতুন দল গঠন করেন এলডিপি। এই দলের তিনি প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর এলডিপি থেকে নির্বাচন করে রেদোয়ান আহমেদ ১৪ হাজার ২৭৬ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। ওই নির্বাচনে রেদোয়ান বেলা ১১ টার দিকে নির্বাচনী মাঠ ছেড়ে দেন। আওয়ামী লীগের আলী আশরাফকে সমর্থন দেন বলে এলাকায় প্রচার আছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পেয়েছিলেন ৭৯ হাজার ৪৪০ ভোট ও বিএনপির প্রার্থী খোরশেদ আলম পেয়েছিলেন ৭৩ হাজার ৯৩৩ ভোট। রেদোয়ান না মিললে বিএনপির প্রার্থী জিততো বলে দলীয় নেতাকর্মীরা এখনও তাই মনে করছেন। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে রেদোয়ান আহমেদ চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। এতে রেদোয়ান ১৫ হাজার ৭৮৭ ভোট পান। এলডিপি থেকে দুইটি নির্বাচনে করে রেদোয়ান গড়ে ১৫ হাজার করে ভোট পান। এলডিপিতে গড়ে দুইবার নির্বাচন করে তিনি একেবারেই কম ভোট পান।
রেদোয়ান আহমেদ বিএনপি থেকে তিনবার নির্বাচন করে দুইবার জয়ী হন। জাতীয় পার্টি থেকে একবার ও স্বতন্ত্র থেকে একবার জয়ী হন। এলডিপি থেকে নির্বাচন করে তিনি দুইবারই পরাজিত হন। এবার আবার তিনি বিএনপির প্রার্থী।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিতিতে রেদোয়ান আহমেদ বিএনপিতে যোগ দেন। রেদোয়ান আহমেদ এলডিপির মহাসচিব ছিলেন।
রেদোয়ান আহমেদ বলেন, ‘আমরা যুগপৎ আন্দোলনে ছিলাম। বিএনপি তার শরিকদের আসন বণ্টনে ছাড় দেবে—এর সঙ্গে আমি একমত। কিন্তু আমার দলের চেয়ারম্যান অলি আহমেদ বিএনপির এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন। এলডিপির স্থায়ী কমিটির সিংহভাগ সদস্য ও সারা দেশে এলডিপির নেতা-কর্মীরা আমার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।’
রেদোয়ান আহমেদ বলেন, ‘আমি আশা করি, অলি আহমেদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় একমত হবেন। তবে অলি সাহেবে নির্বাচনে আসুক আর না আসুক, আমি বিএনপির সমঝোতায় একমত হয়ে নির্বাচন করব। আমি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিএনপিতে ছিলাম। সে জন্য আমি আজকে (গতকাল) বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছি এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।’
রেদোয়ান আহমেদ বলেন, এলডিপির অধিকাংশ স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সারা দেশে এলডিপির নেতা-কর্মীরা বিএনপিতে যোগ দিয়ে প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনে কাজ করবেন। ইতিমধ্যে আমার পদত্যাগপত্র এলডিপির চেয়ারম্যানের কাছে পাঠিয়েছি।
রেদোয়ান আহমেদকে স্বাগত জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তাঁর এই যোগদান ঘরের ছেলের ঘরে ফিরে আসার মতো। তাঁর যোগদান বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করবে।
এই যোগদান অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা গেছে। নেতাকর্মীরা উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয় এলডিপি নেতাকর্মীরাও ড. রেদোয়ান আহমেদের যোগদানকে স্বাগত জানিয়ে বিএনপির পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দেন।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) থেকে পদত্যাগ করে আবারও বিএনপিতে যোগদান করেছেন রেদোয়ান আহমেদ। যোগদানের সঙ্গে সঙ্গেই তিনি কুমিল্লা-৭(চান্দিনা) আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। এ নিয়ে তিনি তিনবার বিএনপিতে আসাযাওয়ার মধ্যে আছেন। তাঁর বিএনপিতে ফেরায় চান্দিনা উপজেলা বিএনপির বড় একটি অংশ চরম ক্ষুব্ধ। তবে রেদোয়ানের অনুসারীরা এ নিয়ে মহাখুশি। তাঁদের ভাষ্য, ১৯ বছর পর রেদোয়ান বিএনপিতে ফেরায় এই আসনে বিএনপি আরও শক্তিশালী হবে। চান্দিনায় রেদোয়ানের হাতেই বিএনপি প্রতিষ্ঠা পায়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রেদোয়ান আহমেদ ৯৮ হাজার ৮০৬ ভোটের মধ্যে ১৯ হাজার ৯০ ভোট পেয়ে বিএনপিতে থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালের ৭ মে তিনি জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করে ৭৮ হাজার ৮৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি স্বতন্ত্র ভোট করে ৩১ হাজার ১৭৯ ভোট পান। ওই নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ৫৪৮ ভোটে পরাজিত করেন। ১০ বছর পর ১৯৯৬ সালে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো বিএনপিতে যোগদান করেন। ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে তিনি ২৬৬ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলী আশরাফের কাছে পরাজিত হন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর বিএনপি থেকে ৮৭ হাজার ৩৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ২০০১- ২০০৬ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রথম প্রতিমন্ত্রী হন। কিন্তু প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ ওঠে। পরে তাঁকে মন্ত্রীত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তাঁর মান ভাঙাতে চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ কলেজে এক জনসভা করেন বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কিন্তু এতেও মন গলেনি রেদোয়ানের। ২০০৬ সালে তিনি বিএনপি ছেড়ে নতুন দল গঠন করেন এলডিপি। এই দলের তিনি প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর এলডিপি থেকে নির্বাচন করে রেদোয়ান আহমেদ ১৪ হাজার ২৭৬ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। ওই নির্বাচনে রেদোয়ান বেলা ১১ টার দিকে নির্বাচনী মাঠ ছেড়ে দেন। আওয়ামী লীগের আলী আশরাফকে সমর্থন দেন বলে এলাকায় প্রচার আছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পেয়েছিলেন ৭৯ হাজার ৪৪০ ভোট ও বিএনপির প্রার্থী খোরশেদ আলম পেয়েছিলেন ৭৩ হাজার ৯৩৩ ভোট। রেদোয়ান না মিললে বিএনপির প্রার্থী জিততো বলে দলীয় নেতাকর্মীরা এখনও তাই মনে করছেন। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে রেদোয়ান আহমেদ চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। এতে রেদোয়ান ১৫ হাজার ৭৮৭ ভোট পান। এলডিপি থেকে দুইটি নির্বাচনে করে রেদোয়ান গড়ে ১৫ হাজার করে ভোট পান। এলডিপিতে গড়ে দুইবার নির্বাচন করে তিনি একেবারেই কম ভোট পান।
রেদোয়ান আহমেদ বিএনপি থেকে তিনবার নির্বাচন করে দুইবার জয়ী হন। জাতীয় পার্টি থেকে একবার ও স্বতন্ত্র থেকে একবার জয়ী হন। এলডিপি থেকে নির্বাচন করে তিনি দুইবারই পরাজিত হন। এবার আবার তিনি বিএনপির প্রার্থী।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিতিতে রেদোয়ান আহমেদ বিএনপিতে যোগ দেন। রেদোয়ান আহমেদ এলডিপির মহাসচিব ছিলেন।
রেদোয়ান আহমেদ বলেন, ‘আমরা যুগপৎ আন্দোলনে ছিলাম। বিএনপি তার শরিকদের আসন বণ্টনে ছাড় দেবে—এর সঙ্গে আমি একমত। কিন্তু আমার দলের চেয়ারম্যান অলি আহমেদ বিএনপির এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন। এলডিপির স্থায়ী কমিটির সিংহভাগ সদস্য ও সারা দেশে এলডিপির নেতা-কর্মীরা আমার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।’
রেদোয়ান আহমেদ বলেন, ‘আমি আশা করি, অলি আহমেদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় একমত হবেন। তবে অলি সাহেবে নির্বাচনে আসুক আর না আসুক, আমি বিএনপির সমঝোতায় একমত হয়ে নির্বাচন করব। আমি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিএনপিতে ছিলাম। সে জন্য আমি আজকে (গতকাল) বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছি এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।’
রেদোয়ান আহমেদ বলেন, এলডিপির অধিকাংশ স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সারা দেশে এলডিপির নেতা-কর্মীরা বিএনপিতে যোগ দিয়ে প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনে কাজ করবেন। ইতিমধ্যে আমার পদত্যাগপত্র এলডিপির চেয়ারম্যানের কাছে পাঠিয়েছি।
রেদোয়ান আহমেদকে স্বাগত জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তাঁর এই যোগদান ঘরের ছেলের ঘরে ফিরে আসার মতো। তাঁর যোগদান বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করবে।
এই যোগদান অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা গেছে। নেতাকর্মীরা উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয় এলডিপি নেতাকর্মীরাও ড. রেদোয়ান আহমেদের যোগদানকে স্বাগত জানিয়ে বিএনপির পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দেন।