• কুমিল্লা সিটি করপোরেশন
  • কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
  • আদর্শ সদর
  • বরুড়া
  • লাকসাম
  • দাউদকান্দি
  • আরও
    • চৌদ্দগ্রাম
    • সদর দক্ষিণ
    • নাঙ্গলকোট
    • বুড়িচং
    • ব্রাহ্মণপাড়া
    • মনোহরগঞ্জ
    • লালমাই
    • চান্দিনা
    • মুরাদনগর
    • দেবীদ্বার
    • হোমনা
    • মেঘনা
    • তিতাস
  • সর্বশেষ
  • রাজনীতি
  • বাংলাদেশ
  • অপরাধ
  • বিশ্ব
  • বাণিজ্য
  • মতামত
  • খেলা
  • বিনোদন
  • চাকরি
  • জীবনযাপন
  • ইপেপার
  • ইপেপার
facebooktwittertiktokpinterestyoutubelinkedininstagramgoogle
স্বত্ব: ©️ আমার শহর

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. গাজীউল হক ভূঁইয়া ( সোহাগ)।

নাহার প্লাজা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০

ই-মেইল: [email protected]

ফোন: 01716197760

> কুমিল্লা জেলা
> চান্দিনা

নজর কাড়ছে চান্দিনার নজর মামুদ তিন গম্বুজ মসজিদ

আবু সাঈদ, চান্দিনা
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬: ০৩
logo

নজর কাড়ছে চান্দিনার নজর মামুদ তিন গম্বুজ মসজিদ

আবু সাঈদ, চান্দিনা

প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬: ০৩
Photo

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের মেহার গ্রামে ১০১ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে ব্রিটিশ স্থাপত্যশৈলীর এক অন্যতম নিদর্শন হাজি নজর মামুদ বাড়ি জামে মসজিদ। চুন, সুরকি আর চিনামাটি দিয়ে নির্মিত এই মসজিদটি শুধু ধর্মীয় উপাসনালয়ই নয় বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক জীবন্ত দলিল। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই মসজিদটির কারুকার্য এলাকার মুসল্লিদের হৃদয়ে বইয়ে দেয় এক অপার্থিব শান্তির পরশ।

শত বছর পূর্বে ১৯২৫ সালে মেহার গ্রামের ধর্মপ্রাণ দানবীর হাজি নজর মামুদ এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। তৎকালীন সময়ে নজর মামুদ পায়ে হেঁটে পবিত্র মক্কা শরিফে গিয়ে হজ পালন করেন। হজে থাকাকালীন তার মনে একটি মসজিদ নির্মাণ করার ইচ্ছে জাগে। তবে তৎকালীন সময়ে ব্রিটিশ শাসনামলে জমিদারি প্রথা চালু থাকায় জমিদার ভৈরব চন্দ্র সিংহের অনুমতি ছাড়া মসজিদ নির্মাণ করা ছিল দুরূহ। জনশ্রুতি আছে, জমিদার শ্রী ভৈরব চন্দ্র সিংহ কেবল মসজিদ নির্মাণের অনুমতিই দেননি বরং নিজে উপস্থিত থেকে মসজিদের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন। জমিদার ভৈরব চন্দ্র সিংহ এবং নজর মামুদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১০ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত হয় এই নান্দনিক এই মসজিদ। যা আজও স্থানীয় জনগণের মাঝে জমিদার ও হাজি সাহেবের সৌহার্দ্যের স্মৃতি স্বাক্ষর হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদটির নজরকাড়া কারুকার্যের পাশাপাশি রয়েছে প্রাকৃতিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। যা মসজিদটির কদর কয়েকগুণ বৃদ্ধি করেছে। তিন ফুট পুরো মসজিদের দেয়ালগুলো তৈরি হয়েছে চুন-সুরকির ঢালাই দিয়ে। দেওয়ালে পুরুত্বের কারণে বাইরের যেকোনো আবহাওয়ায় ভেতরে তেমন কোন প্রভাব পড়ে না। গরমের দিনে ভেতরে ঠান্ডা আর শীতের দিনে ভেতরে অনুভূত হয় গরম। দেওয়ালে খোদাই করে বসানো হয়েছে চিনামাটির বিভিন্ন রঙের ভাঙা টুকরো। যার ওপরে আলো পড়লে তা ঝিলমিল করে ওঠে। ভেতরে মিম্বরেও কারিগরের সুনিপুণ হাতের নজরকাড়া কাজ মুসল্লিদের দৃষ্টি কাড়ে।

শুধু মসজিদটি নির্মাণ করেই নজর মামুদ থেমে থাকেন নি। মসজিদের মুসল্লিদের অজু করার সুবিধার্থে তিনি ১২০ শতক জায়গা নিয়ে একটি পুকুর খনন করেন। যার পাকা ঘাট এখনো তাঁর স্মৃতি বহন করে আসছে। মসজিদের বিভিন্ন ব্যয়, ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেতন, পবিত্র শবে মেরাজ, শবে বরাত ও শবে কদরের রাতে মুসল্লিদের আপ্যায়নের খরচ বহন করার জন্য তিনি মোট ২৬৪ শতক জমি মসজিদের নামে ওয়াক্ফ করে গেছেন।

মেহার গ্রামের শাহ আলম জানান, মসজিদটিতে আগে ১০০-১২০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারতেন। ১০-১২ বছর আগে মুসল্লিদের জায়গা সংকুলান না হওয়ায় মসজিদটির সামনের দিকে সম্প্রসারণ করা হয়। বর্তমানে মসজিদে ২০০-২৫০ মানুষ একসাথে নামাজ আদায় করতে পারে।

সরকারি নথিপত্রে মসজিদটির নাম নিয়ে কিছু ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। কোথাও এটির নাম মেহার মধ্যপাড়া হাজি বাড়ি জামে মসজিদ, কোথাও মেহার রমিজ হাজি বাড়ির জামে মসজিদ নামে পরিচিত। তবে ইতিহাসের শেকড় ও স্থানীয় প্রবীণদের নিকট মসজিদটির নাম ‘হাজি নজর মামুদ জামে মসজিদ’ হিসেবেই সমাদৃত। কালের বিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক দালানকোঠা নির্মাণ হলেও চুন-সুরকি ও চিনামাটির তৈরি এই স্থাপত্যটি ইতিহাস ঐতিহ্যের এক মহান সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই স্থাপনা তৎকালীন হিন্দু-মুসলিমের এক মেলবন্ধনের সাক্ষী। নজর মামুদের নির্মিত এই মসজিদটি কেবল মেহার গ্রামের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের নিকটই নয় বরং এটি পুরো চান্দিনার মানুষের কাছেই সমাদৃত।

Thumbnail image

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের মেহার গ্রামে ১০১ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে ব্রিটিশ স্থাপত্যশৈলীর এক অন্যতম নিদর্শন হাজি নজর মামুদ বাড়ি জামে মসজিদ। চুন, সুরকি আর চিনামাটি দিয়ে নির্মিত এই মসজিদটি শুধু ধর্মীয় উপাসনালয়ই নয় বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক জীবন্ত দলিল। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই মসজিদটির কারুকার্য এলাকার মুসল্লিদের হৃদয়ে বইয়ে দেয় এক অপার্থিব শান্তির পরশ।

শত বছর পূর্বে ১৯২৫ সালে মেহার গ্রামের ধর্মপ্রাণ দানবীর হাজি নজর মামুদ এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। তৎকালীন সময়ে নজর মামুদ পায়ে হেঁটে পবিত্র মক্কা শরিফে গিয়ে হজ পালন করেন। হজে থাকাকালীন তার মনে একটি মসজিদ নির্মাণ করার ইচ্ছে জাগে। তবে তৎকালীন সময়ে ব্রিটিশ শাসনামলে জমিদারি প্রথা চালু থাকায় জমিদার ভৈরব চন্দ্র সিংহের অনুমতি ছাড়া মসজিদ নির্মাণ করা ছিল দুরূহ। জনশ্রুতি আছে, জমিদার শ্রী ভৈরব চন্দ্র সিংহ কেবল মসজিদ নির্মাণের অনুমতিই দেননি বরং নিজে উপস্থিত থেকে মসজিদের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন। জমিদার ভৈরব চন্দ্র সিংহ এবং নজর মামুদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১০ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত হয় এই নান্দনিক এই মসজিদ। যা আজও স্থানীয় জনগণের মাঝে জমিদার ও হাজি সাহেবের সৌহার্দ্যের স্মৃতি স্বাক্ষর হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদটির নজরকাড়া কারুকার্যের পাশাপাশি রয়েছে প্রাকৃতিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। যা মসজিদটির কদর কয়েকগুণ বৃদ্ধি করেছে। তিন ফুট পুরো মসজিদের দেয়ালগুলো তৈরি হয়েছে চুন-সুরকির ঢালাই দিয়ে। দেওয়ালে পুরুত্বের কারণে বাইরের যেকোনো আবহাওয়ায় ভেতরে তেমন কোন প্রভাব পড়ে না। গরমের দিনে ভেতরে ঠান্ডা আর শীতের দিনে ভেতরে অনুভূত হয় গরম। দেওয়ালে খোদাই করে বসানো হয়েছে চিনামাটির বিভিন্ন রঙের ভাঙা টুকরো। যার ওপরে আলো পড়লে তা ঝিলমিল করে ওঠে। ভেতরে মিম্বরেও কারিগরের সুনিপুণ হাতের নজরকাড়া কাজ মুসল্লিদের দৃষ্টি কাড়ে।

শুধু মসজিদটি নির্মাণ করেই নজর মামুদ থেমে থাকেন নি। মসজিদের মুসল্লিদের অজু করার সুবিধার্থে তিনি ১২০ শতক জায়গা নিয়ে একটি পুকুর খনন করেন। যার পাকা ঘাট এখনো তাঁর স্মৃতি বহন করে আসছে। মসজিদের বিভিন্ন ব্যয়, ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেতন, পবিত্র শবে মেরাজ, শবে বরাত ও শবে কদরের রাতে মুসল্লিদের আপ্যায়নের খরচ বহন করার জন্য তিনি মোট ২৬৪ শতক জমি মসজিদের নামে ওয়াক্ফ করে গেছেন।

মেহার গ্রামের শাহ আলম জানান, মসজিদটিতে আগে ১০০-১২০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারতেন। ১০-১২ বছর আগে মুসল্লিদের জায়গা সংকুলান না হওয়ায় মসজিদটির সামনের দিকে সম্প্রসারণ করা হয়। বর্তমানে মসজিদে ২০০-২৫০ মানুষ একসাথে নামাজ আদায় করতে পারে।

সরকারি নথিপত্রে মসজিদটির নাম নিয়ে কিছু ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। কোথাও এটির নাম মেহার মধ্যপাড়া হাজি বাড়ি জামে মসজিদ, কোথাও মেহার রমিজ হাজি বাড়ির জামে মসজিদ নামে পরিচিত। তবে ইতিহাসের শেকড় ও স্থানীয় প্রবীণদের নিকট মসজিদটির নাম ‘হাজি নজর মামুদ জামে মসজিদ’ হিসেবেই সমাদৃত। কালের বিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক দালানকোঠা নির্মাণ হলেও চুন-সুরকি ও চিনামাটির তৈরি এই স্থাপত্যটি ইতিহাস ঐতিহ্যের এক মহান সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই স্থাপনা তৎকালীন হিন্দু-মুসলিমের এক মেলবন্ধনের সাক্ষী। নজর মামুদের নির্মিত এই মসজিদটি কেবল মেহার গ্রামের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের নিকটই নয় বরং এটি পুরো চান্দিনার মানুষের কাছেই সমাদৃত।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

১

বিএনপির কেউ চাঁদাবাজি অনৈতিক কাজ করলে নির্দ্বিধায় অভিযোগ জমা দিতে বললেন সংসদ সদস্য

২

রমজানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-অফিসের সময়সূচি

৩

নাঙ্গলকোটে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত

৪

নজর কাড়ছে চান্দিনার নজর মামুদ তিন গম্বুজ মসজিদ

৫

দ্বীন মোহাম্মদের চিঠির জবাব দিলেন মনিরুল হক চৌধুরী

সম্পর্কিত

বিএনপির কেউ চাঁদাবাজি অনৈতিক কাজ করলে নির্দ্বিধায় অভিযোগ জমা দিতে বললেন সংসদ সদস্য

বিএনপির কেউ চাঁদাবাজি অনৈতিক কাজ করলে নির্দ্বিধায় অভিযোগ জমা দিতে বললেন সংসদ সদস্য

৭ ঘণ্টা আগে
রমজানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-অফিসের  সময়সূচি

রমজানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-অফিসের সময়সূচি

১০ ঘণ্টা আগে
নাঙ্গলকোটে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত

নাঙ্গলকোটে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত

১০ ঘণ্টা আগে
দ্বীন মোহাম্মদের চিঠির জবাব দিলেন মনিরুল হক চৌধুরী

দ্বীন মোহাম্মদের চিঠির জবাব দিলেন মনিরুল হক চৌধুরী

১৪ ঘণ্টা আগে