নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯৭৯ সাল থেকে আটটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ রেদোয়ান আহমেদ। এবার তিনি তরুণ প্রার্থী আতিকুল আলম শাওনের কাছে বিশাল ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। রেদোয়ানের হার ও শাওনের জয় নিয়ে কুমিল্লা জুড়ে আলোচনা চলছে। তরুণ শাওনকে সবাই বাহবা দিচ্ছেন। দল থেকে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন শাওন। এরপর দল তাঁকে বহিষ্কার করে। বহিষ্কারের খবর পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ লিখে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন।
গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ১০৫টি কেন্দ্রে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে চলে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সন্ধ্যার পর থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রের ফলাফল আসতে থাকতে থাকে উপজেলা কন্ট্রোল রুমে। বিজয়ী প্রার্থী আতিকুল আলম শাওন পোস্টাল ভোট ছাড়াই তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ৪৩ হাজার ১৮১ ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করেন।
ঘোষিত ফলাফলে আতিকুল আলম শাওন ১০৫ কেন্দ্রে ভোট পেয়েছেন ৯০ হাজার ৮১৯ ও পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ৮৭১। তিনি সর্বমোট ভোট পেয়েছেন ৯১ হাজার ৬৯০। ড. রেদোয়ান আহমেদ পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৯২৫ ভোট। পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ৫৮৪ ভোট। তিনি সর্বমোট ভোট পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৫০৯ ভোট। পোস্টাল ভোটসহ ‘কলস’ প্রতীকে ৯১ হাজার ৬৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন পঁয়ত্রিশ বছর বয়সি তরুণ নেতা আতিকুল আলম শাওন।
শাওন ২০১৮ সাল থেকে চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ৩দিন আগে হঠাৎ দল পরিবর্তন করে বিএনপিতে যোগদান করেন রেদোয়ান আহমেদ। তিনি বিএনপিতে যোগদানের সঙ্গে সঙ্গেই বিএনপির দলীয় মনোনয়নপত্র বাগিয়ে আনেন। পরবর্তীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েই নির্বাচনে অংশ নিতে হয় শাওনকে। প্রার্থী হওয়ার কারণে দলীয় পদও হারান শাওন। কিন্তু তাতেও বিচলিত হননি তিনি ও তার নেতাকর্মীরা। কঠিন মনোবল ধারণ করে ভোটযুদ্ধে নামেন তিনি।
শাওনের বিজয়ের নেপথ্যে রয়ছে বাবা মরহুম খোরশেদ আলম ও তার নিজ হাতে গড়া উপজেলা বিএনপি থেকে শুরু করে ওয়ার্ড কমিটির নেতাকর্মীদের পূর্ণ সমর্থন। দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার পরও কোনো নেতাকর্মী ছেড়ে যায়নি শাওনকে। সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় চারবারের সাবেক সংসদ সদস্যকে ধরাশায়ী করে বিজয় নিশ্চিত করেছেন আতিকুল আলম শাওন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার দপ্তরের নথি থেকে জানা গেছে, ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী রেদোয়ান আহমেদ ১৯ হাজার ৯০ ভোট পেয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হন। ১৯৮৬ সালের ৭ মে রেদোয়ান জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করে জয়ী হন। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি স্বতন্ত্র প্রার্থী রেদোয়ান ৫৪৮ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন বিএনপির প্রার্থী রেদোয়ান ৩৬৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর বিএনপির প্রার্থী রেদোয়ান ৮৭ হাজার ৩৬৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর রেদোয়ান লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি থেকে নির্বাচন করে মাত্র ১৪ হাজার ২৭৬ ভোট পান। ওই নির্বাচনে তিনি তৃতীয় হন। বিএনপির প্রার্থী খোরশেদ আলম ৫ হাজার ৫০৭ ভোটে পরাজিত হন। ভোটের দিন বেলা ১১ টায় নির্বাচন থেকে না সরলে ওই নির্বাচনে খোরশেদ আলম জয়ী হতেন বলে বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করছেন। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে রেদোয়ান আহমেদ এলডিপি থেকে ১৫ হাজার ৭৪৭ ভোট পেয়েছেন। এ পর্যন্ত আটটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন রেদোয়ান আহমেদ। এবার আবার তিনি বিএনপি থেকে আবারও প্রার্থী হয়েছেন।
বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর রেদোয়ান আহমেদের অনুসারীরা চান্দিনায় সংখ্যালঘুদের বাড়ি ঘরে হামলা, লুটপাট করে। রেদোয়ান ওই সময়ে সরকারি টাকা দিয়ে সড়ক করেন নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যেতে। চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ কলেজ ফাউন্ডেশনের নামে কয়েকজন শিক্ষককে হয়রানিরও অভিযোগ উঠেছে। নিজের প্রয়োজনে রেদোয়ান দলবদল করেন বারবার। এই কারণে দলের নেতাকর্মীরা এবার তাঁর পক্ষে নেই। ২৫ বছর পর তিনি আবার বিএনপির সুসময় মনে করে দলে ফিরেছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম শাওন বলেন, রেদোয়ান আহমেদ ২০০১ সালের নির্বাচনের পর প্রতিমন্ত্রী হন। মন্ত্রীত্ব হারানোর পর তিনি বিএনপিতে ছিলেন না। বিএনপিকে ফেলে তিনি এলডিপি করেন। তাঁর সঙ্গে বিএনপির কারও যোগাযোগ নেই। দলের নেতাকর্মীরা মামলা খেয়েছে। আমরা দেখেছি। উনি আমাদের পাশে ছিলেন না। এখন নেতাকর্মীরা উনারে ভোট দিতে চায় না। আমারে চায়। এই কারণে অস্বস্তিতে আছেন।
ডিগবাজি ও দল বদলে পটু রেদোয়ান: রেদোয়ান এ পর্যন্ত আটবার নির্বাচন করছেন। বিএনপি থেকে চারবার নির্বাচন করছেন। দুইবার জিতেছেন। একবার সামান্য ভোটে (৩৬৬) হেরেছেন। এলডিপি থেকে দুইবার নির্বাচন করে দুইবারই নূন্যতম ভোট পেয়ে জামানাত হারান। জাতীয় পার্টি থেকে একবার ও স্বতন্ত্র থেকে একবার ভোট করে জয়ী হন।

১৯৭৯ সাল থেকে আটটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ রেদোয়ান আহমেদ। এবার তিনি তরুণ প্রার্থী আতিকুল আলম শাওনের কাছে বিশাল ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। রেদোয়ানের হার ও শাওনের জয় নিয়ে কুমিল্লা জুড়ে আলোচনা চলছে। তরুণ শাওনকে সবাই বাহবা দিচ্ছেন। দল থেকে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন শাওন। এরপর দল তাঁকে বহিষ্কার করে। বহিষ্কারের খবর পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ লিখে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন।
গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ১০৫টি কেন্দ্রে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে চলে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সন্ধ্যার পর থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রের ফলাফল আসতে থাকতে থাকে উপজেলা কন্ট্রোল রুমে। বিজয়ী প্রার্থী আতিকুল আলম শাওন পোস্টাল ভোট ছাড়াই তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ৪৩ হাজার ১৮১ ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করেন।
ঘোষিত ফলাফলে আতিকুল আলম শাওন ১০৫ কেন্দ্রে ভোট পেয়েছেন ৯০ হাজার ৮১৯ ও পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ৮৭১। তিনি সর্বমোট ভোট পেয়েছেন ৯১ হাজার ৬৯০। ড. রেদোয়ান আহমেদ পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৯২৫ ভোট। পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ৫৮৪ ভোট। তিনি সর্বমোট ভোট পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৫০৯ ভোট। পোস্টাল ভোটসহ ‘কলস’ প্রতীকে ৯১ হাজার ৬৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন পঁয়ত্রিশ বছর বয়সি তরুণ নেতা আতিকুল আলম শাওন।
শাওন ২০১৮ সাল থেকে চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ৩দিন আগে হঠাৎ দল পরিবর্তন করে বিএনপিতে যোগদান করেন রেদোয়ান আহমেদ। তিনি বিএনপিতে যোগদানের সঙ্গে সঙ্গেই বিএনপির দলীয় মনোনয়নপত্র বাগিয়ে আনেন। পরবর্তীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েই নির্বাচনে অংশ নিতে হয় শাওনকে। প্রার্থী হওয়ার কারণে দলীয় পদও হারান শাওন। কিন্তু তাতেও বিচলিত হননি তিনি ও তার নেতাকর্মীরা। কঠিন মনোবল ধারণ করে ভোটযুদ্ধে নামেন তিনি।
শাওনের বিজয়ের নেপথ্যে রয়ছে বাবা মরহুম খোরশেদ আলম ও তার নিজ হাতে গড়া উপজেলা বিএনপি থেকে শুরু করে ওয়ার্ড কমিটির নেতাকর্মীদের পূর্ণ সমর্থন। দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার পরও কোনো নেতাকর্মী ছেড়ে যায়নি শাওনকে। সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় চারবারের সাবেক সংসদ সদস্যকে ধরাশায়ী করে বিজয় নিশ্চিত করেছেন আতিকুল আলম শাওন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার দপ্তরের নথি থেকে জানা গেছে, ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী রেদোয়ান আহমেদ ১৯ হাজার ৯০ ভোট পেয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হন। ১৯৮৬ সালের ৭ মে রেদোয়ান জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করে জয়ী হন। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি স্বতন্ত্র প্রার্থী রেদোয়ান ৫৪৮ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন বিএনপির প্রার্থী রেদোয়ান ৩৬৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর বিএনপির প্রার্থী রেদোয়ান ৮৭ হাজার ৩৬৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর রেদোয়ান লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি থেকে নির্বাচন করে মাত্র ১৪ হাজার ২৭৬ ভোট পান। ওই নির্বাচনে তিনি তৃতীয় হন। বিএনপির প্রার্থী খোরশেদ আলম ৫ হাজার ৫০৭ ভোটে পরাজিত হন। ভোটের দিন বেলা ১১ টায় নির্বাচন থেকে না সরলে ওই নির্বাচনে খোরশেদ আলম জয়ী হতেন বলে বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করছেন। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে রেদোয়ান আহমেদ এলডিপি থেকে ১৫ হাজার ৭৪৭ ভোট পেয়েছেন। এ পর্যন্ত আটটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন রেদোয়ান আহমেদ। এবার আবার তিনি বিএনপি থেকে আবারও প্রার্থী হয়েছেন।
বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর রেদোয়ান আহমেদের অনুসারীরা চান্দিনায় সংখ্যালঘুদের বাড়ি ঘরে হামলা, লুটপাট করে। রেদোয়ান ওই সময়ে সরকারি টাকা দিয়ে সড়ক করেন নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যেতে। চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ কলেজ ফাউন্ডেশনের নামে কয়েকজন শিক্ষককে হয়রানিরও অভিযোগ উঠেছে। নিজের প্রয়োজনে রেদোয়ান দলবদল করেন বারবার। এই কারণে দলের নেতাকর্মীরা এবার তাঁর পক্ষে নেই। ২৫ বছর পর তিনি আবার বিএনপির সুসময় মনে করে দলে ফিরেছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম শাওন বলেন, রেদোয়ান আহমেদ ২০০১ সালের নির্বাচনের পর প্রতিমন্ত্রী হন। মন্ত্রীত্ব হারানোর পর তিনি বিএনপিতে ছিলেন না। বিএনপিকে ফেলে তিনি এলডিপি করেন। তাঁর সঙ্গে বিএনপির কারও যোগাযোগ নেই। দলের নেতাকর্মীরা মামলা খেয়েছে। আমরা দেখেছি। উনি আমাদের পাশে ছিলেন না। এখন নেতাকর্মীরা উনারে ভোট দিতে চায় না। আমারে চায়। এই কারণে অস্বস্তিতে আছেন।
ডিগবাজি ও দল বদলে পটু রেদোয়ান: রেদোয়ান এ পর্যন্ত আটবার নির্বাচন করছেন। বিএনপি থেকে চারবার নির্বাচন করছেন। দুইবার জিতেছেন। একবার সামান্য ভোটে (৩৬৬) হেরেছেন। এলডিপি থেকে দুইবার নির্বাচন করে দুইবারই নূন্যতম ভোট পেয়ে জামানাত হারান। জাতীয় পার্টি থেকে একবার ও স্বতন্ত্র থেকে একবার ভোট করে জয়ী হন।