চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নারী সংক্রান্ত ঘটনাকে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে একাধিক বাড়িঘর দোকানে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আইনজীবীসহ উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শনিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের মাসকরা ও বাতিসা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বাতিসা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীর বাড়িতে মাদক ও অনৈতিক কাজ চলছিল। গত বৃহস্পতিবার রাতে পার্শ্ববর্তী কনকাপৈত ইউনিয়নের মাসকরা গ্রামের মিয়াধন কৃষি জমি দেখা শেষে ওই বাড়িতে গেলে সোনাপুর গ্রামের যুবকরা বাড়ি ঘেরাও করে তাকে মারধর করে।
যুবকদের অভিযোগ, মিয়াধন ও এক নারীকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করেছে। মিয়াধনকে মারধরের খবর শুনে মাসকরা থেকে ওই বাড়িতে ডাকাত প্রবেশ করেছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘোষণার জেরে স্থানীয়রা লাঠিসোঁটা নিয়ে এগিয়ে এসে সোনাপুরের যুবকদের ওপর আক্রমণ করে। এতে সোনাপুর গ্রামের যুবদল নেতা জাহিদুল ইসলাম মাসুম গুরুতর আহত হয়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার শেষে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। তাঁর অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। এর জের ধরে আহত জাহিদুল ইসলাম মাসুমের বন্ধু ডলবা গ্রামের মোহাম্মদ রুবেল, মো. রানা ও ছাতিয়ানী গ্রামের ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে সোনাপুর, ডলবা, বসকরা, ছাতিয়ানী, শ্রীপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কিশোর গ্যাংয়ের ৬০-৭০ জন অস্ত্রধারী যুবক পাটানন্দী গ্রাম হয়ে মাসকরায় যায়। তাদের সঙ্গে সোনাপুর গ্রামের একটি গ্রুপ একত্রিত হয়ে আক্রমণ করে ছয়টি দোকান ও অন্তত ২০টি বাড়িঘর ভাঙচুর করে। এ সময় তারা বেশ কয়েকটি খড়ের গাদায় অগ্নিসংযোগ করে। লুটপাট করা হয় হাঁস, মুরগিসহ ঘরের মূল্যবান জিনিস।
তাদের হামলায় কুমিল্লা বারের আইনজীবী মনির হোসেন পাটোয়ারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। হামলাকারীরা মুখোশ পরিহিত ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে মাসকরার লোকজন একত্রিত হয়ে সোনাপুর গ্রামের ছাদেক মিয়ার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এতে করে তাদের চারটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। বিকেল থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষটি রাত পর্যন্ত চলে।
খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করে। সংঘর্ষে ছাদেক মিয়ার পরিবারের চারটি ঘর পুড়ে যাওয়ায় বর্তমানে তাঁরা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে স্থানীয়রা জানায়।
জানা গেছে, হামলায় নেতৃত্ব দেয়া সহোদর ভাই রুবেল ও রানা চৌদ্দগ্রামের কিশোর গ্যাং লিডার। রুবেল ছাত্রলীগের পদধারী নেতা। ৫ আগস্টর পরবর্তী সময়ে নাশকতার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়। অপর ভাই স্থানীয় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে ভাঙচুর, লুটপাট, চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে চৌদ্দগ্রাম থানায়। এছাড়াও সহোদর দুই ভাই আইনজীবীর চেম্বার ভাঙচুরের ঘটনায় দায়েরকৃত দ্রুতবিচারের মামলারও আসামি। হামলার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সে স্বীকারও করেছে।
চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মেহেদী হাসান বলেন, ‘খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছি। এরআগেই আগুনে ঘর ও খড়ের গাদা পুড়ে ছাই হয়ে যায়’।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন বলেন, ‘সোনাপুর ও মাসকরার দফায় দফায় সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে করে কিছু বাড়িঘর পুড়ে যায়। ভাঙচুর করা হয় একাধিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি’।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নারী সংক্রান্ত ঘটনাকে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে একাধিক বাড়িঘর দোকানে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আইনজীবীসহ উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শনিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের মাসকরা ও বাতিসা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বাতিসা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীর বাড়িতে মাদক ও অনৈতিক কাজ চলছিল। গত বৃহস্পতিবার রাতে পার্শ্ববর্তী কনকাপৈত ইউনিয়নের মাসকরা গ্রামের মিয়াধন কৃষি জমি দেখা শেষে ওই বাড়িতে গেলে সোনাপুর গ্রামের যুবকরা বাড়ি ঘেরাও করে তাকে মারধর করে।
যুবকদের অভিযোগ, মিয়াধন ও এক নারীকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করেছে। মিয়াধনকে মারধরের খবর শুনে মাসকরা থেকে ওই বাড়িতে ডাকাত প্রবেশ করেছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘোষণার জেরে স্থানীয়রা লাঠিসোঁটা নিয়ে এগিয়ে এসে সোনাপুরের যুবকদের ওপর আক্রমণ করে। এতে সোনাপুর গ্রামের যুবদল নেতা জাহিদুল ইসলাম মাসুম গুরুতর আহত হয়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার শেষে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। তাঁর অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। এর জের ধরে আহত জাহিদুল ইসলাম মাসুমের বন্ধু ডলবা গ্রামের মোহাম্মদ রুবেল, মো. রানা ও ছাতিয়ানী গ্রামের ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে সোনাপুর, ডলবা, বসকরা, ছাতিয়ানী, শ্রীপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কিশোর গ্যাংয়ের ৬০-৭০ জন অস্ত্রধারী যুবক পাটানন্দী গ্রাম হয়ে মাসকরায় যায়। তাদের সঙ্গে সোনাপুর গ্রামের একটি গ্রুপ একত্রিত হয়ে আক্রমণ করে ছয়টি দোকান ও অন্তত ২০টি বাড়িঘর ভাঙচুর করে। এ সময় তারা বেশ কয়েকটি খড়ের গাদায় অগ্নিসংযোগ করে। লুটপাট করা হয় হাঁস, মুরগিসহ ঘরের মূল্যবান জিনিস।
তাদের হামলায় কুমিল্লা বারের আইনজীবী মনির হোসেন পাটোয়ারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। হামলাকারীরা মুখোশ পরিহিত ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে মাসকরার লোকজন একত্রিত হয়ে সোনাপুর গ্রামের ছাদেক মিয়ার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এতে করে তাদের চারটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। বিকেল থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষটি রাত পর্যন্ত চলে।
খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করে। সংঘর্ষে ছাদেক মিয়ার পরিবারের চারটি ঘর পুড়ে যাওয়ায় বর্তমানে তাঁরা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে স্থানীয়রা জানায়।
জানা গেছে, হামলায় নেতৃত্ব দেয়া সহোদর ভাই রুবেল ও রানা চৌদ্দগ্রামের কিশোর গ্যাং লিডার। রুবেল ছাত্রলীগের পদধারী নেতা। ৫ আগস্টর পরবর্তী সময়ে নাশকতার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়। অপর ভাই স্থানীয় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে ভাঙচুর, লুটপাট, চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে চৌদ্দগ্রাম থানায়। এছাড়াও সহোদর দুই ভাই আইনজীবীর চেম্বার ভাঙচুরের ঘটনায় দায়েরকৃত দ্রুতবিচারের মামলারও আসামি। হামলার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সে স্বীকারও করেছে।
চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মেহেদী হাসান বলেন, ‘খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছি। এরআগেই আগুনে ঘর ও খড়ের গাদা পুড়ে ছাই হয়ে যায়’।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন বলেন, ‘সোনাপুর ও মাসকরার দফায় দফায় সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে করে কিছু বাড়িঘর পুড়ে যায়। ভাঙচুর করা হয় একাধিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি’।