দেখা থেকে লেখা

ছুটির দিনে কুমিল্লায় ভ্রমণপিপাসুদের ভিড়

গাজীউল হক সোহাগ
Thumbnail image

অগ্রহায়ণের সকাল। মিষ্টি রোদ। রোদমাখা সকালে কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কের লাগোয়া ময়নামতি রণ সমাধিক্ষেত্রে গিয়ে দেখা গেল, ঘুরতে এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী সুদীপ্ত অর্জুনের নেতৃত্বে একদল আইনজীবী ও সিলেটের পরিবেশবিদ আবদুল করিম চৌধুরী কিম। তাঁরা কমনওয়েলথ যুদ্ধ সমাধি কমিশনের তৈরি সমাধিক্ষেত্রের পুরোটাই ঘুরে দেখছেন। মুঠোফোনে ক্লিক করছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত ৭১৩ জন সৈনিকের কবরের নামফলক দেখছেন। কৃষ্ণচূড়া ও অলকানন্দাসহ নানা প্রজাতির ফুল ও গাছগাছালিতে ভরা এই সমাধিস্থল দেখে মুগ্ধ তাঁরা। জানালেন অনেক দিনের ইচ্ছেপূরণ হল। -শুধু সমাধিক্ষেত্র নয়, কুমিল্লার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো, বার্ড, শালবন বৌদ্ধবিহার, নব শালবন বৌদ্ধবিহার, ময়নামতি জাদুঘর, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্ক, ব্লু ওয়াটার পার্ক, ডাইনো পার্ক, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ও পুরাতন ক্যাম্পাস, লালমাই পাহাড়ের ত্রিপুরা পাড়া, বনবিভাগের বনছায়া ও লালমাই উদ্ভিদ উদ্যান, কুমিল্লা নগরের ধর্মসাগরপাড়, নগর উদ্যান, গোমতী নদীর পাড়, গোমতী নদীর বাঁধ ও ভারতীয় সীমান্তবর্তী বিবিরবাজার স্থলবন্দর এলাকায় হাজার হাজার ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণা দেখা গেছে। ছুটির দিনে গতকাল শুক্রবার মুখর ছিল কুমিল্লা শহর ও শহরতলির সব পর্যটন স্পটই।

বেলা বাড়ার পর কোটবাড়ির বিজিবি সেক্টর দপ্তরের পূর্বপাশের রূপবানমূড়া মন্দিরে গিয়ে দেখা গেল অষ্টম শতাব্দীর মন্দির। টিকেট কেটে ওই মন্দির দেখছেন ভ্রমণপিপাসুরা। মন্দিরের পশ্চিম অংশে সূর্যমুখী, জবা ও লজ্জাবতী গাছের ছড়াছড়ি। মন্দিরের উপরে ওঠে ছবি তুলছেন সিরাজগঞ্জের মেয়ে মৌ। রূপবানমূড়ার বিপরীত পাশে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট কলেজের পশ্চিমে ইটাখেলা মূড়া। সেখানেও বিশাল মন্দিও দেখছেন পর্যটকেরা। এটি সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর। কলেজের পাশে লতিকোট মূড়া। এখানে পর্যটক নেই। এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটি ঝোপ জঙ্গলে ভরা।

দুপুরে বার্ডের নীলাচল, বনকুটিওে ও ময়নামতি অডিটোরিয়ামে পর্যটকের দেখা মেলে।

তবে জুমার নামাজের পর শালবন বিহারে পর্যটকের উপস্থিতি দেখা গেছে বেশি। অষ্টম শতকে শালবন রাজার বাড়ি ছিল এই বিহার। বিহারে এই শীতে কসমস, গাঁদা, গোলাপসহ নানা প্রজাতির শীতের ফুল ফুটেজে। এটি সবচেয়ে লাভবান স্পট। সব মৌসুমে এখানে পর্যটক আসেন। তবে শীতে বেশি। ময়নামতি জাদুঘরে গিয়ে দেখা গেছে , পর্যটক গিজগিজ করছে। এখানে বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন খনন করে পাওয়া মূর্তি, কাঁসা, মাটির পাতিল ও রূপা রাখা আছে। জাদুঘরের অন্তত ২০ বছরের কর্মী হারুন অর রশীদ লিটন বলেন, আজকে থেকে পর্যটক বেশি আছে। শীত মৌসুম চলছে আসবে।

বিকেলে গোমতী নদীর তীরে গোধূলির রূপ দেখতে যান ভ্রমণপিপাসুরা। এদের বেশির ভাগই মোটরসাইকেল আরোহী। নদীর বাঁধের ওপরে আড্ডা দিতে দেখা গেছে জেনজি প্রজন্মের সন্তানদের। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বিবিরবাজার এলাকায়ও মানুষের ভিড়। পাসপোর্ট ভিসা ছাড়াই ভারত দেখছেন পর্যটকেরা। ছবি তুলছেন কেউ কেউ।

গোমতী বিলাসে নৌকায় চড়ছেন কেউ। কেউ নদীর চরে ঘাসের বুকে নিজেকে ছড়িয়ে বসেছেন। কেউ ফুচকা খাচ্ছেন। সন্ধ্যায় নগর উদ্যান, ধর্মসাগরপাড়ে হাজার হাজার মানুষের পদচারণা। রাতে কুমিল্লা টাউন হলের বিজয় মেলায় মানুষের ঝটলা। আর নগরের কান্দিরপাড়ে যানজট। সবমিলিয়ে গতকালের কুমিল্লা ছিল জনমানুষে লোকারণ্য।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এন এম রবীউল আউয়াল চৌধুরী বলেন, কুমিল্লায় বেড়াতে এলে সব ধরণের আনন্দ উপভোগ করা যায়। ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে জানা যায়। এখন পরীক্ষা শেষ সন্তানদের। অনেকে দলবল নিয়ে ঘুরতে আসেন। ঢাকা ও চট্রগ্রামের কাছে দিনে এসে দিনে ঘুরার এক সুন্দর জায়গা কুমিল্লা।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত