কুমিল্লায় জোড়া খুন
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন রিনথী ও তার মা তাহমিনা বেগম হত্যার এক বছর পূর্ণ হয়েছে গতকাল। এখন পর্যন্ত এই মামলার বিচারের কাজ চলছে ধীর গতিতে। ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর মা মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়।
আজ সোমবার জোহরের নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে এ মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে সুমাইয়ার সহপাঠী ও বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ সময় তাঁরা সুমাইয়া ও তাঁর মায়ের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেন।
জানা গেছে, গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা নগরের কালিয়াজুড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় সুমাইয়া ও তাঁর মা তাহমিনা বেগমকে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন বিষয়টি জানাজানি হলে ওই দিনই অভিযুক্ত মোবারক হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার ১ নম্বর আমলি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাতে জানা যায়, ঝাড়ফুঁকের সূত্রে সুমাইয়ার পরিবারের সঙ্গে মোবারকের পরিচয় হয়। ঘটনার আগে প্রায় এক মাস ধরে তিনি ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। জবানবন্দিতে তিনি জানান, সুমাইয়াকে ঝাড়ফুঁক দেওয়ার সময় ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। বিষয়টি তাঁর মা দেখে ফেলায় প্রথমে তাহমিনা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে সুমাইয়াকেও হত্যা করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের এক বছর পার হলেও এখনো শেষ হয়নি মামলার বিচারপ্রক্রিয়া। মামলায় এ পর্যন্ত পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। আরও চারজনের সাক্ষ্যগ্রহণ বাকি রয়েছে। আগামী ১৭ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন নিহত পরিবারের আইনজীবী।
বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতিতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন সুমাইয়ার সহপাঠীরা। তাঁরা দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সুমাইয়ার সহপাঠী মেহেদী হাসান শাহিন বলেন, আমাদের বান্ধবী সুমাইয়া ধর্ষণ ও হত্যার এক বছর হলেও এখনো মামলার কোনো দৃশ্যমান ফলাফল দেখা যায়নি। আমরা আশা করি, ধর্ষক যেন কোনোভাবেই ছাড় না পায়।
আরেক সহপাঠী মুনিয়া আফরোজ বলেন, পুরো একটা বছর শেষ হয়ে গেছে, সুমাইয়া ও তাঁর মায়ের হত্যাকাণ্ডের। আদালতে তারিখের পর তারিখ পিছিয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো রায় আমরা পাইনি। ভবিষ্যতে পাব কি না, তা নিয়েও সন্দিহান। তবুও আমরা বিচার বিভাগের ওপর ভরসা রাখতে চাই। দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানাই।
সুমাইয়ার সহপাঠী হুমাইরা তাসনিম প্রমি বলেন, আমরা প্রতিশোধ চাই না, কারও বিরুদ্ধে অন্যায় কিছু চাই না। আমরা শুধু চাই এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য সামনে আসুক এবং যারা দায়ী, তাদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
সুমাইয়ার বড় ভাই মো. আল আমিন বলেন, এখন পর্যন্ত চারজন সাক্ষী দিয়েছেন। পরবর্তী তারিখ আগামী মাসের ১৭ তারিখ। পরে আরও বিস্তারিত জানাতে পারব।
নিহত পরিবারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সোহেল হোসাইন বলেন, এখন পর্যন্ত পাঁচজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনটি শুনানি হয়েছে। আরও চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ বাকি রয়েছে। আগামী মাসের ১৭ তারিখ মামলার শুনানি রয়েছে। আশা করছি, এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম খুব দ্রুত শেষ হবে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন রিনথী ও তার মা তাহমিনা বেগম হত্যার এক বছর পূর্ণ হয়েছে গতকাল। এখন পর্যন্ত এই মামলার বিচারের কাজ চলছে ধীর গতিতে। ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর মা মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়।
আজ সোমবার জোহরের নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে এ মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে সুমাইয়ার সহপাঠী ও বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ সময় তাঁরা সুমাইয়া ও তাঁর মায়ের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেন।
জানা গেছে, গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা নগরের কালিয়াজুড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় সুমাইয়া ও তাঁর মা তাহমিনা বেগমকে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন বিষয়টি জানাজানি হলে ওই দিনই অভিযুক্ত মোবারক হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার ১ নম্বর আমলি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাতে জানা যায়, ঝাড়ফুঁকের সূত্রে সুমাইয়ার পরিবারের সঙ্গে মোবারকের পরিচয় হয়। ঘটনার আগে প্রায় এক মাস ধরে তিনি ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। জবানবন্দিতে তিনি জানান, সুমাইয়াকে ঝাড়ফুঁক দেওয়ার সময় ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। বিষয়টি তাঁর মা দেখে ফেলায় প্রথমে তাহমিনা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে সুমাইয়াকেও হত্যা করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের এক বছর পার হলেও এখনো শেষ হয়নি মামলার বিচারপ্রক্রিয়া। মামলায় এ পর্যন্ত পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। আরও চারজনের সাক্ষ্যগ্রহণ বাকি রয়েছে। আগামী ১৭ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন নিহত পরিবারের আইনজীবী।
বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতিতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন সুমাইয়ার সহপাঠীরা। তাঁরা দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সুমাইয়ার সহপাঠী মেহেদী হাসান শাহিন বলেন, আমাদের বান্ধবী সুমাইয়া ধর্ষণ ও হত্যার এক বছর হলেও এখনো মামলার কোনো দৃশ্যমান ফলাফল দেখা যায়নি। আমরা আশা করি, ধর্ষক যেন কোনোভাবেই ছাড় না পায়।
আরেক সহপাঠী মুনিয়া আফরোজ বলেন, পুরো একটা বছর শেষ হয়ে গেছে, সুমাইয়া ও তাঁর মায়ের হত্যাকাণ্ডের। আদালতে তারিখের পর তারিখ পিছিয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো রায় আমরা পাইনি। ভবিষ্যতে পাব কি না, তা নিয়েও সন্দিহান। তবুও আমরা বিচার বিভাগের ওপর ভরসা রাখতে চাই। দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানাই।
সুমাইয়ার সহপাঠী হুমাইরা তাসনিম প্রমি বলেন, আমরা প্রতিশোধ চাই না, কারও বিরুদ্ধে অন্যায় কিছু চাই না। আমরা শুধু চাই এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য সামনে আসুক এবং যারা দায়ী, তাদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
সুমাইয়ার বড় ভাই মো. আল আমিন বলেন, এখন পর্যন্ত চারজন সাক্ষী দিয়েছেন। পরবর্তী তারিখ আগামী মাসের ১৭ তারিখ। পরে আরও বিস্তারিত জানাতে পারব।
নিহত পরিবারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সোহেল হোসাইন বলেন, এখন পর্যন্ত পাঁচজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনটি শুনানি হয়েছে। আরও চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ বাকি রয়েছে। আগামী মাসের ১৭ তারিখ মামলার শুনানি রয়েছে। আশা করছি, এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম খুব দ্রুত শেষ হবে।