• কুমিল্লা সিটি করপোরেশন
  • কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
  • আদর্শ সদর
  • বরুড়া
  • লাকসাম
  • দাউদকান্দি
  • আরও
    • চৌদ্দগ্রাম
    • সদর দক্ষিণ
    • নাঙ্গলকোট
    • বুড়িচং
    • ব্রাহ্মণপাড়া
    • মনোহরগঞ্জ
    • লালমাই
    • চান্দিনা
    • মুরাদনগর
    • দেবীদ্বার
    • হোমনা
    • মেঘনা
    • তিতাস
  • সর্বশেষ
  • রাজনীতি
  • বাংলাদেশ
  • অপরাধ
  • বিশ্ব
  • বাণিজ্য
  • মতামত
  • খেলা
  • বিনোদন
  • চাকরি
  • জীবনযাপন
  • ইপেপার
  • ইপেপার
facebooktwittertiktokpinterestyoutubelinkedininstagramgoogle
স্বত্ব: ©️ আমার শহর

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. গাজীউল হক ভূঁইয়া ( সোহাগ)।

নাহার প্লাজা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০

ই-মেইল: [email protected]

ফোন: 01716197760

> কুমিল্লা জেলা
> কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

ভোটাধিকার থেকে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ: কুবিয়ানদের চোখে ত্রয়োদশ নির্বাচন

সাজিদুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১২: ০২
logo

ভোটাধিকার থেকে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ: কুবিয়ানদের চোখে ত্রয়োদশ নির্বাচন

সাজিদুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১২: ০২
Photo

দরজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। অনলাইন ও অফলাইন জুড়ে ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে নির্বাচনী আমেজ। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার অধীনে অনুষ্ঠিত একাধিক বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের পর এবারই প্রথম নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন হতে যাচ্ছে। ফলে এই নির্বাচন ঘিরে দেশের প্রতিটি অঙ্গনে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ, উত্তেজনা ও প্রত্যাশা। চব্বিশ পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে মানুষ কেমন নির্বাচন চায়, কেমন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রত্যাশা করে, সে প্রশ্ন ঘিরেই চলছে নানা আলোচনা।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় নির্বাচন নিয়ে রাজনীতিবিদ ও সাধারণ জনগণের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ভোটের পরিবেশ কেমন হবে, রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা কতটা দায়িত্বশীল হবে, নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে এবং এই নির্বাচনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে—এসব প্রশ্ন ঘিরেই শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও উদ্বেগ। তরুণ প্রজন্মের এই ভাবনাগুলোই তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কী ভাবছেন, তাঁরা কেমন নির্বাচন ও কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান—সেই চিত্রই তুলে ধরছেন আমার শহরের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি সাজিদুর রহমান।

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান সুইটি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ ও আগামী পাঁচ বছরের রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। জীবনে প্রথমবার জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় তিনি একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা করেন। অতীত নির্বাচনে কারচুপি ও ভোটাধিকার লঙ্ঘনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকৃত ভোটার যেন নিজের ভোট দিতে পারে এবং প্রার্থীর এজেন্ডা ও নীতির ভিত্তিতে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে একজন নারী ভোটার হিসেবে তিনি চান, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নারীর অধিকার বিষয়ে সচেতন হোক এবং রাষ্ট্র গঠনে নারী ও পুরুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হোক।

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী অন্তু দাশ বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তরুণ প্রজন্মের কাছে কেবল একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, বরং ভোটাধিকার বাস্তবে কতটা কার্যকর তা যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তাঁর মতে, ভোট মানে শুধু উপস্থিতি নয়, স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ। সেই সুযোগ কার্যকর না হলে তরুণদের রাজনীতি ও নির্বাচনের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া অস্বাভাবিক। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন চায়, যেখানে নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং ভোটাররা ভয় ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশে ভোট দিতে পারবে। ক্ষমতার পরিবর্তনের চেয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাই তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী ফিরোজ আল ফেরদৌস বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এমন একটি সরকারের প্রত্যাশা করেন, যেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত থাকবে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার দাবিও গুরুত্ব পাবে। যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, তাকে ভুল ও ত্রুটির জন্য জনসম্মুখে জবাবদিহি করতে হবে বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়নে গুণগত মানকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং শিক্ষাকে বাস্তব ও প্রয়োগযোগ্য করে তোলার ওপর জোর দেন তিনি। সব মিলিয়ে তিনি একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সরকারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শারমিন মেঘলা বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তিনি কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া হিসেবে নয়, বরং গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে দেখতে চান। দীর্ঘদিনের অনাস্থা, সহিংসতা ও অংশগ্রহণ সংকটের ধারাবাহিকতা ভেঙে এই নির্বাচন যেন একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করে এমন প্রত্যাশা তাঁর। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক আচরণ নিশ্চিত না হলে এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হবে সাধারণ মানুষ ও তরুণ প্রজন্ম। নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশে আইনের শাসন, শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী মাইনুল ইসলাম বলেন, আসন্ন নির্বাচন নিয়ে তার প্রত্যাশা যেমন রয়েছে, তেমনি বাস্তবায়ন নিয়ে কিছুটা সংশয়ও আছে। ছোটবেলা থেকে যে ধরনের নির্বাচন দেখে তিনি বড় হয়েছেন, সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এই দ্বিধার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে এবারের নির্বাচন নিয়ে তিনি আশাবাদী, যদিও সেই আশাবাদ পুরোপুরি নির্ভর করছে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর স্বচ্ছতার ওপর। তিনি এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন, যা হবে দুর্নীতিমুক্ত, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিপূর্ণ এবং পরমতসহিষ্ণু রাষ্ট্র, যেখানে ধর্মের অপব্যবহার করে কেউ ফায়দা লুটতে পারবে না এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম বলেন, তিনি একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চান, যেখানে নির্বাচন কমিশন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করে সব রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ দেবে এবং ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। তাঁর মতে, দেশের মোট জনসংখ্যার বড় অংশ তরুণ হওয়ায় নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি থাকা জরুরি। শুধু ভোটার হিসেবে নয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াতেও তরুণদের ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। তবে বড় কয়েকটি দল ছাড়া অন্যদের কাছ থেকে স্পষ্ট ইশতেহার না পাওয়ায় হতাশার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সব মিলিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাবনায় স্পষ্ট একটি বিষয়—তাঁরা ক্ষমতার পালাবদলের চেয়ে একটি বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের প্রত্যাশা, এই নির্বাচন যেন শুধু একটি রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা না হয়ে নতুন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তি শক্ত করার একটি বাস্তব সুযোগ হয়ে ওঠে।

Thumbnail image

দরজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। অনলাইন ও অফলাইন জুড়ে ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে নির্বাচনী আমেজ। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার অধীনে অনুষ্ঠিত একাধিক বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের পর এবারই প্রথম নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন হতে যাচ্ছে। ফলে এই নির্বাচন ঘিরে দেশের প্রতিটি অঙ্গনে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ, উত্তেজনা ও প্রত্যাশা। চব্বিশ পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে মানুষ কেমন নির্বাচন চায়, কেমন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রত্যাশা করে, সে প্রশ্ন ঘিরেই চলছে নানা আলোচনা।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় নির্বাচন নিয়ে রাজনীতিবিদ ও সাধারণ জনগণের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ভোটের পরিবেশ কেমন হবে, রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা কতটা দায়িত্বশীল হবে, নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে এবং এই নির্বাচনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে—এসব প্রশ্ন ঘিরেই শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও উদ্বেগ। তরুণ প্রজন্মের এই ভাবনাগুলোই তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কী ভাবছেন, তাঁরা কেমন নির্বাচন ও কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান—সেই চিত্রই তুলে ধরছেন আমার শহরের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি সাজিদুর রহমান।

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান সুইটি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ ও আগামী পাঁচ বছরের রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। জীবনে প্রথমবার জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় তিনি একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা করেন। অতীত নির্বাচনে কারচুপি ও ভোটাধিকার লঙ্ঘনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকৃত ভোটার যেন নিজের ভোট দিতে পারে এবং প্রার্থীর এজেন্ডা ও নীতির ভিত্তিতে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে একজন নারী ভোটার হিসেবে তিনি চান, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নারীর অধিকার বিষয়ে সচেতন হোক এবং রাষ্ট্র গঠনে নারী ও পুরুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হোক।

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী অন্তু দাশ বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তরুণ প্রজন্মের কাছে কেবল একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, বরং ভোটাধিকার বাস্তবে কতটা কার্যকর তা যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তাঁর মতে, ভোট মানে শুধু উপস্থিতি নয়, স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ। সেই সুযোগ কার্যকর না হলে তরুণদের রাজনীতি ও নির্বাচনের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া অস্বাভাবিক। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন চায়, যেখানে নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং ভোটাররা ভয় ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশে ভোট দিতে পারবে। ক্ষমতার পরিবর্তনের চেয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাই তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী ফিরোজ আল ফেরদৌস বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এমন একটি সরকারের প্রত্যাশা করেন, যেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত থাকবে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার দাবিও গুরুত্ব পাবে। যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, তাকে ভুল ও ত্রুটির জন্য জনসম্মুখে জবাবদিহি করতে হবে বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়নে গুণগত মানকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং শিক্ষাকে বাস্তব ও প্রয়োগযোগ্য করে তোলার ওপর জোর দেন তিনি। সব মিলিয়ে তিনি একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সরকারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শারমিন মেঘলা বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তিনি কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া হিসেবে নয়, বরং গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে দেখতে চান। দীর্ঘদিনের অনাস্থা, সহিংসতা ও অংশগ্রহণ সংকটের ধারাবাহিকতা ভেঙে এই নির্বাচন যেন একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করে এমন প্রত্যাশা তাঁর। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক আচরণ নিশ্চিত না হলে এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হবে সাধারণ মানুষ ও তরুণ প্রজন্ম। নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশে আইনের শাসন, শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী মাইনুল ইসলাম বলেন, আসন্ন নির্বাচন নিয়ে তার প্রত্যাশা যেমন রয়েছে, তেমনি বাস্তবায়ন নিয়ে কিছুটা সংশয়ও আছে। ছোটবেলা থেকে যে ধরনের নির্বাচন দেখে তিনি বড় হয়েছেন, সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এই দ্বিধার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে এবারের নির্বাচন নিয়ে তিনি আশাবাদী, যদিও সেই আশাবাদ পুরোপুরি নির্ভর করছে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর স্বচ্ছতার ওপর। তিনি এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন, যা হবে দুর্নীতিমুক্ত, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিপূর্ণ এবং পরমতসহিষ্ণু রাষ্ট্র, যেখানে ধর্মের অপব্যবহার করে কেউ ফায়দা লুটতে পারবে না এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম বলেন, তিনি একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চান, যেখানে নির্বাচন কমিশন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করে সব রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ দেবে এবং ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। তাঁর মতে, দেশের মোট জনসংখ্যার বড় অংশ তরুণ হওয়ায় নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি থাকা জরুরি। শুধু ভোটার হিসেবে নয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াতেও তরুণদের ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। তবে বড় কয়েকটি দল ছাড়া অন্যদের কাছ থেকে স্পষ্ট ইশতেহার না পাওয়ায় হতাশার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সব মিলিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাবনায় স্পষ্ট একটি বিষয়—তাঁরা ক্ষমতার পালাবদলের চেয়ে একটি বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের প্রত্যাশা, এই নির্বাচন যেন শুধু একটি রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা না হয়ে নতুন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তি শক্ত করার একটি বাস্তব সুযোগ হয়ে ওঠে।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

১

চট্টগ্রামে সিলিন্ডার বিস্ফারণে নিহত পাঁচজনকে বরুড়ায় দাফন

২

থানা-পুলিশকে ম্যানেজ করে গোমতীর মাটি কাটা হচ্ছে: হাসনাত

৩

বিজয়পুর বাজারে অভিযানে ৩১ হাজার টাকা জরিমানা

৪

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে মধ্যরাতে এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ

৫

বুড়িচংয়ে মাটিকাটার তিনটি ট্রাক জব্দ ও জরিমানা

সম্পর্কিত

চট্টগ্রামে সিলিন্ডার বিস্ফারণে নিহত পাঁচজনকে বরুড়ায় দাফন

চট্টগ্রামে সিলিন্ডার বিস্ফারণে নিহত পাঁচজনকে বরুড়ায় দাফন

১ দিন আগে
থানা-পুলিশকে ম্যানেজ করে গোমতীর মাটি কাটা হচ্ছে: হাসনাত

থানা-পুলিশকে ম্যানেজ করে গোমতীর মাটি কাটা হচ্ছে: হাসনাত

১ দিন আগে
বিজয়পুর বাজারে অভিযানে ৩১ হাজার টাকা জরিমানা

বিজয়পুর বাজারে অভিযানে ৩১ হাজার টাকা জরিমানা

১ দিন আগে
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে মধ্যরাতে এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে মধ্যরাতে এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ

১ দিন আগে