আল্লামা ফজলুল করীমের ইন্তেকাল

দেবীদ্বার প্রতিনিধি
Thumbnail image

কুমিল্লা জেলার ঐতিহ্যবাহী দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেবীদ্বার উপজেলার ধামতী ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার শাইখুল হাদীস আল্লামা ফজলুল করিম (৮৬) গতকাল শুক্রবার রাত ১টায় নিজ বাড়ি চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলাধীন আশরাফপুর গ্রামে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তিনি ৫ পুত্র ও ২ কন্যা সন্তানসহ বহু আত্মীয় স্বজন, ভক্ত ও অসংখ্য ছাত্র রেখে গেছেন। বড় ছেলে মাওলানা আবু নছর আশরাফী হাজীগঞ্জ আহমদীয়া কামিল মাদরাসার হেড মুহাদ্দিস এবং দেশবরেণ্য আলিম ও জনপ্রিয় মুফাসসিরে কুরআন।

আল্লামা ফজলুল করীম কর্মজীবনে ১৯৬৩ সালে ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া ফাজিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ লাভ করেন। অল্প সময়েই অসাধারণ যোগ্যতাবলে যথেষ্ট সুনাম ও সুখ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৬৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল দারুল উলুম কামিল মাদরাসায় মুহাদ্দিস হিসাবে যোগদান করেন। অতঃপর ১৯৬৭ সালে সিলেটের সৎপুর কামিল মাদরাসায় হেড মুহাদ্দিস হিসেবে যোগদান করেন। সেখানে তিনি টানা সাড়ে নয় বছর হাদিস শাস্ত্রের পাঠদান করেন।

১৯৭৬ সালে কুমিল্লা দেবীদ্বার উপজেলার ধামতী ইসলামিয়া কামিল মাদরাসায় হেড মুহাদ্দিস হিসেবে গমন করেন। সাড়ে ২৭ বছর জনপ্রিয় শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে ধামতী মাদরাসার সুনাম সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মেধাবী ছাত্ররা ধামতী মাদরাসায় ভর্তি হতে শুরু করে। ধামতী মাদরাসা প্রতি বছর কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় গোটা দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্থান অধিকার করতে থাকে। অবশেষে তিনি ধামতী মাদরাসা থেকে ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অবসর গ্রহণ করেন। যোগ্য ও দক্ষ আলিম তৈরি করার লক্ষ্যে কঠোর পরিশ্রম করেন।

দীর্ঘ ৪১ বছরের শিক্ষকতার জীবনে বহু যোগ্য আলিম তৈরি করতে সক্ষম হন। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশ-বিদেশের স্কুল-কলেজ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসায় তাঁর অগণিত শিক্ষার্থী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরেও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক পদে নিয়োজিত তার হাতেগড়া শিক্ষার্থীরা। ছাত্রজীবন থেকেই ইমান ও আকিদার প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপসহীন। কোথাও ইসলাম বহির্ভূত কর্মকাণ্ড দেখলেই সাথে সাথে জোর প্রতিবাদ করতেন। শিরক-বিদয়াতের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর এবং সোচ্চার ছিলেন।

লেখালেখিতেও তাঁর সবিশেষ অবদান ছিল। জনসাধারণের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত শিরক-বিদয়াত ও কুসংস্কার দূর করতে রচনা করেন অনেক গ্রন্থ। তিন খণ্ডে রচিত 'বিদয়াত পরিচিতি ও বিদয়াতের পরিণতি' তারমধ্যে অন্যতম। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩ টায় চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলাধীন আশরাফপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত